BD Nutritionists Zone

BD Nutritionists Zone better food, better nutrition

সব দোষ ভাতেরপর্ব -০১আমাদের অঞ্চলে ধান চাষ কবে শুরু হয়েছে জানেন? আজ থেকে নয় হাজার বছর পূর্বে ভারতীয় উপমহাদেশে ধানের চাষ শ...
07/12/2025

সব দোষ ভাতের
পর্ব -০১

আমাদের অঞ্চলে ধান চাষ কবে শুরু হয়েছে জানেন? আজ থেকে নয় হাজার বছর পূর্বে ভারতীয় উপমহাদেশে ধানের চাষ শুরু হয়।ভারতের উত্তর প্রদেশের লাহুরাদেওয়া নামক স্থানে খিস্টপূর্ব ৭০০০-৮০০০সালের পুরনো ধানের দানা ও খোসার চিহ্ন পেয়েছিলো। গঙ্গা নদীর উপত্যকায় খিস্টপূর্ব ৬০০০-৫০০০সাল থেকেই নিয়মিত ধান চাষ হতো।আগে মনে করা হতো হরপ্পা সভ্যতার শহরগুলোতে শুধু গম-যব চাষ হতো কিন্তু এখন প্রমাণিত যে খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০-১৯০০ সাল নাগাদ সেখানেও অনেক ধান চাষ হতো এবং ইট বানানোর জন্য ধানের খোসা ব্যবহৃত হতো।
এই অঞ্চলের মানুষ গঙ্গার তীরে বুনো ধান দেখতে পেয়ে প্রথমে শুধু কুড়িয়ে খেতো। এরপর তারা ধান বীজ বুনে জন্মানোর চেষ্টা করে ও সফল হয়। তাই এই অঞ্চলেই ধানের প্রথম চাষ আরম্ভ হয়।
আমাদের এখানকার বুনো ধান থেকে প্রথম যে ধান তৈরি হল ,সেটা ছিল লম্বা সরু দানার ,যেটা ইন্ডিকা ধানের আদি রূপ।তারপর অনেক পরে চীনের গোল মোটা জাপোনিকা ধানের সঙ্গে মিশে গিয়ে বর্তমানের ইন্ডিকা ধান(বাসমতী,সোনা মসুরি,গোবিন্দভোগ ইত্যাদি)এর স্বাদ আর চেহারা পেল।
ঋগবেদের শ্লোকে ব্রীহি দ্বারা ধানকে বুঝিয়েছে।এছাড়াও অর্থববেদ,শতপথ ব্রাহ্মণ এইসব গ্রন্থেও ধান বোনা,কাটা,মাড়াই করার মত বিষয়গুলোর নিয়ম-কানুন লেখা আছে। মৌর্যযুগে গ্রিক দার্শনিক মেগাস্থিনিস লিখেছেন এই দেশের মানুষ দিনে দুই বার ভাত খায়।আর কৌটিল্য অর্থশাস্ত্রে উল্লেখ আছে ধানই রাজ্যের সবচেয়ে বড় ফসল আর সবচেয়ে বেশি কর আসে ধান থেকে।এত কিছু লেখার কারণ হচ্ছে আমাদের সঙ্গে ধানের সম্পর্ক কত পুরাতন তা জানানো। আমাদের পূর্বপুরুষরা যে ভাত খেয়েই টিকে ছিলো এই বিষয়টা বোঝানো।
আমাদের মুখের লালায় একটা এনজাইম আছে যেটার নাম অ্যামাইলেজ। এই এনজাইমটি ভাত রুটি খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্টার্চতে গ্লুকোজে ভাঙতে আরম্ভ করে।এই এনজাইম তৈরির কারখানা হলো AMY1 নামের একটি জিন।যার তেহে যত বেশী AMY1 জিনের কপি ,তার দেহ তত বেশী এনজাইম উৎপন্ন করতে পারে এবং ভাত সহজে হজম করতে পারে।
আমাদের অঞ্চলের মানুষেরা ১১০০০ বছর ধরে ভাত খাচ্ছে ,তাই আমাদের দেহে AMY1 জিনের কপি বেড়ে গিয়ে ৮-১০ টা হয়ে গেছে।কিন্তু যারা কম শর্করা খেয়েছে (যেমন- উত্তর মেরুর ইনুইটরা শুধু মাছ মাংস চর্বি খায়) তাদের দেহে AMY1জিনের কপি মাত্র ২-৪ টা। দেখা যাচ্ছে আমরা জন্ম গ্রহণ করি ভাত হজমের সুপারপাওয়ার নিয়ে।
ভাত খাওয়ার কারণে আমাদের দাঁতের আকারও বদলে গেছে।দক্ষিণ এশীয়দের দাঁত গোঁড়া থেকে একটু ছোট আর চ্যাপ্টা ধরণের হয়ে গেছে কারণ ভাত চিবোতে বেশী জোর লাগে না। অন্যান্য কৃষি প্রধান অঞ্চলের জন্যেও এটা সত্য।
যারা ভাত-খোর তাদের অন্ত্রে Prevotella(প্রিভোটেল্লা) আর Ruminococcus( রুমিনোকক্কাস) নামের দুইটি ব্যাকটেরিয়ার গোষ্ঠী আছে ,ইউরোপের মানুষদের তুলনায় ৫-১০ গুণ বেশী থাকে।এই দুই দলই স্টার্চ ফাইবার ভাঙ্গার সুপার এক্সপার্ট ,অর্থাৎ ভাত রুটি শাকসবজি এরা দিবি্য হজম করে ফেলতে পারে।
ভাতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এতটা গভীর যে অনেক ধরণের খাদ্য গ্রহণের পরও যদি অল্প ভাত না খাওয়া হয় ,আমাদের মন ভরে না ,অস্থির লাগে।এর পিছনেও রয়েছে জৈবিক কারণ। ভাত খাওয়ার ফলে ইনসুলিন বেড়ে ট্রিপটোফ্যান মস্তিষ্কে যায় ,ফলে সেরোটোনিন বাড়ে।সেরোটোনিন হলো মন ভালো রাখার হরমোন।যখনই আমরা ভাত খাই ,তার ৩০-৪০ মিনিট পরই মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের ঝড় ওঠে,মন হঠাৎ হালকা ,শান্ত ও তৃপ্ত হয়ে যায়।গবেষণায় দেখা যায় ,যারা ছোটবেলা থেকে ভাত খেয়ে বড় হয়েছে ,তাদের মস্তিষ্কের সেরোটোনিন রিসেপ্টর ভাতের শর্করার প্রতি বেশি সংবেদনশীল থাকে।
আমরা যখন দুপুরে ভাত,ডাল ,মাছের তরকারি খাই বা ভাতের সঙ্গে অন্য কোন আইটেম ,তখন পেট ভরার সঙ্গে সঙ্গে চোখও ঢুলতে আরম্ভ করে।এটা আসলে অলসতা না, এটা আমাদের শরীরের পুরোনো অভ্যাস ,যেটা ১১০০০ বছর ভাত খাওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছে।ভাত খাওয়ার পরই রক্তে স্যুগার বেড়ে যায়,তখন অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয় এবং দেহে একটা গোপন মুইচ অন হয় যেটার নাম প্যারাসিম্প্যাথেটিক সিস্টেম।এই সুইচ চালু হলে শরীর আরাম মুডে চলে যায়। হৃদস্পন্দন হ্রাস পায়,হজমের গতি বাড়ে আর মিষ্টি ঘুমের ভাব চলে আসে।
জাপানিজ, চাইনিজ ,থাই ও ভিয়েতনামিরাও একই কারণে দুপুরে ভাত খেয়ে একটু ঘুমোয়। বাঙালির দুপুরের ভাত খাওয়ার পরের ঘুমের নাম”ভাত ঘুম”।তালিম তেলগু কন্নড়ে বলা হয় অন্নম খেয়ে ১৫-২০ মিনিটের থুক্কু তুক্কু।জাপানিজরা বলে গোহান(ভাত) খেয়ে ইনেমুরি।ইনেমুরি অর্থ অফিসেই ঘুম।চাইনিজরাও “উ ফান বা দুপুরের ঘুম”নেয় ভাত খাওয়ার পর। গবেষণায় দেথা গেছে ,যারা দুপুরে রুটি স্যান্ডউইচ সালাদ খায় তাদের রক্তের স্যুগার তত বাড়ে না ফলে তাদের তন্দ্রা ভাব আসেনা তাই দিব্যি কাজ করে যেতে পারে। বলা যেতে পারে আমাদের পূর্বপুরুষগণ দুপুরে ভাত খেয়ে আরাম করে শুয়েছে তাই সেটা আমাদের রক্ত-মগজে গেঁথে গেছে।
দেখা যাচ্ছে ভাত আমাদের হাজার বছরের পুরাতন খাবার এবং জেনিটিকভাবে আমরা স্টার্চ ভিত্তিক খাবার হজমে অভিযোজিত কিন্তু আধুনিক সময়ে ডায়াবেটিকস,স্থূলতা,হার্টের সমস্যাসহ বিভিন্ন Non-communicable রোগের জন্য ভাত গ্রহণকে দায়ী করা হচ্ছে।কিছু লোকের কথা শুনলে মনে হয় ভাত খেয়ে লোকজন পাপ করতেছে। আর ভাত বাদ দিতে বলা কোন বাস্তবসম্মত কথা না। আমাদের জানতে হবে আমাদের পূর্বপুরুষগণ কীভাবে ভাত খেয়েও সুস্থ ছিলেন,কোন পদ্ধতি অনুসরণ করে ভাত থেকে ভাল পুষ্টি পাওয়া সম্ভব।
পরের পর্বে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে। লেখাটি শেয়ার দিয়ে পাশে থাকুন
লেখক: Probal Kumar Mondal
#ভাত

দেশে এখন চাষবাসে হাইব্রিড বীজ (উচ্চ ফলনশীল) ব্যবহার হচ্ছে দেদার, খুলনার লক্ষ্মী রানী মণ্ডল এর ব্যতিক্রম। দেশি বীজ সংগ্রহ...
06/12/2025

দেশে এখন চাষবাসে হাইব্রিড বীজ (উচ্চ ফলনশীল) ব্যবহার হচ্ছে দেদার, খুলনার লক্ষ্মী রানী মণ্ডল এর ব্যতিক্রম। দেশি বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে চাষাবাদ করছেন। অনেক নারীকে শেখাচ্ছেন কিভাবে বীজ সংরক্ষণ করতে হয়। তাঁর সংগ্রহে আছে দেশীয় শাক-সবজি, ফুল-ফল, ধান ও ঔষধি গাছের প্রায় ৩৬৮ প্রজাতির বীজ।

লঙ্কা মরিচ আজ বাঙালির রান্নাঘরের একচ্ছত্র অধিপতি হলেও, সত্য হলো,এটি আমাদের নিজস্ব সম্পদ নয়। পঞ্চদশ শতকে ভাস্কো দা গামার ...
05/12/2025

লঙ্কা মরিচ আজ বাঙালির রান্নাঘরের একচ্ছত্র অধিপতি হলেও, সত্য হলো,এটি আমাদের নিজস্ব সম্পদ নয়। পঞ্চদশ শতকে ভাস্কো দা গামার পথ ধরে পর্তুগিজ বণিকেরা যখন এই লঙ্কা ভারতবর্ষে নিয়ে আসে, বাঙালি তখন দ্রুত তার ঝাল ও স্বাদে মুগ্ধ হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে বিদেশি এই মশলাটি আমাদের খাবারের প্রায় সব অংশ দখল করে নেয় এবং আজ মনে হয় যেন লঙ্কাই বাঙালির জন্মগত অধিকার। কিন্তু প্রশ্ন হলো—লঙ্কা আসার বহু আগেই বাঙালি ঝালের স্বাদ পেতো কী দিয়ে? এর উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের নিজস্ব বন-জঙ্গলে জন্মানো এক বিস্মৃত সম্পদে,পিঁপুল মরিচে (Long Pepper)।

লঙ্কা আসার আগে বাংলার রান্নায় ঝালের মূল উৎস ছিল দুটি,গোলমরিচ ও পিঁপুল। গোলমরিচ আসতো সুদূর মালাবার উপকূল থেকে, দাম ছিল বেশ চড়া, তাই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সেই সময়ে গ্রামীণ বাঙালির ভাতের থালায় ঝালের স্বাভাবিক উৎস ছিল পিঁপুল লতা। লঙ্কার মতো তীব্র না হলেও, পিঁপুলের ঝাল ছিল স্নিগ্ধ, সুগন্ধী এবং গভীর স্বাদযুক্ত,যা লঙ্কার ঝাঁঝের চেয়ে ভিন্ন এক রন্ধন-অভিজ্ঞতা দিত।

শুধু রান্নার উপাদান নয়, আয়ুর্বেদে পিঁপুল মরিচকে দেখা হয় এক মহৌষধ হিসেবে। চরক সংহিতা থেকে সুশ্রুত সংহিতা পর্যন্ত সব প্রাচীন গ্রন্থে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। বিখ্যাত আয়ুর্বেদিক মিশ্রণ ‘ত্রিকটু চূর্ণ’—যা শুকনো আদা, গোলমরিচ ও পিঁপুল দিয়ে তৈরি,এতে পিঁপুলের ভূমিকা অপরিহার্য। পুরনো কাশি, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট কিংবা যক্ষ্মায় পিঁপুল চূর্ণ মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে অসাধারণ উপকার হয়। বদহজম, গ্যাস, লিভারের সমস্যা, অগ্নিমান্দ্য কমাতে এটি কার্যকরী; এমনকি বাতের ব্যথা ও প্রদাহ কমাতেও এর জুড়ি নেই। দুধের সঙ্গে সামান্য পিঁপুল চূর্ণ মিশিয়ে খেলে অনিদ্রা দূর হয়, শরীর শান্ত হয়—এটিও আয়ুর্বেদে সুপ্রচলিত।

লঙ্কার আগ্রাসী বিস্তারের ফলে পিঁপুল তার প্রাচীন রাজত্ব হারিয়েছে। চাষ প্রায় বন্ধ, লতাগুলোর অস্তিত্ব এখন জঙ্গলের মধ্যে সীমিত। তবুও কিছু খাদ্য ঐতিহ্যে এর স্মৃতি এখনও বেঁচে আছে। পুরান ঢাকার বিখ্যাত নেহারির সেই রাজকীয় স্বাদ কিন্তু লঙ্কা থেকে নয়,বরং পিঁপুলের সুবাস থেকেই আসে। উত্তরবঙ্গের কিছু গ্রামীণ রান্নায় এখনও মাছের চচ্চড়ি বা সবজিতে পিঁপুল পাতা ও মরিচ ব্যবহারের রীতি টিকে আছে, যা খাবারের স্বাদে আনে এক ভিন্ন মাত্রা।

সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো যে মশলাটি এই উপমহাদেশ থেকেই বিশ্বে ছড়িয়েছিল, আজ আমরাই তার কদর ভুলে গেছি; অথচ ইউরোপ ও আমেরিকার প্রিমিয়াম রেস্তোরাঁয় Long Pepper দামী ‘এক্সোটিক স্পাইস’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এমনকি প্রয়োজন হলে আমরা আবার বিদেশ থেকেই আমদানি করছি আমাদেরই হারানো এই সম্পদ।

পিঁপুল মরিচ কেবল একটি মশলা নয়,এটি আমাদের রন্ধন, কৃষি, বনজ ঐতিহ্য এবং আদি খাদ্যসংস্কৃতির গল্প বহন করে। লঙ্কার ঝাঁঝালো আগ্রাসনের বহু আগেই বাঙালির রান্না ছিল জঙ্গলের সুবাস, বৈচিত্র্য ও স্বাস্থ্যগুণে সমৃদ্ধ। তাই এখনই সময় আমাদের এই হারিয়ে যাওয়া রত্নটিকে নতুন করে চিনে নেওয়ার, এর সংরক্ষণে সচেষ্ট হওয়ার এবং ব্যবহারিক গুরুত্ব ফিরে দেখার।

মায়ের দুধ শুধুমাত্র পুষ্টির উৎস নয়, এটি মায়ের সার্কাডিয়ান রিদমের (দৈনিক জৈবিক ছন্দ) সংকেতও বহন করে। সম্প্রতি একটি গব...
02/12/2025

মায়ের দুধ শুধুমাত্র পুষ্টির উৎস নয়, এটি মায়ের সার্কাডিয়ান রিদমের (দৈনিক জৈবিক ছন্দ) সংকেতও বহন করে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দিন ও রাতের বিভিন্ন সময়ে মায়ের দুধ সংগ্রহ করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পরিমাপ করেছেন।

তারা দেখতে পেয়েছেন যে:

★রাতে মেলাটোনিনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে,
★সকালের প্রথম ভাগে কর্টিসলের মাত্রা সর্বোচ্চ হয়,
★অন্যান্য উপাদান যেমন অক্সিটোসিন, ইমিউন প্রোটিন IgA এবং ল্যাকটোফেরিন সারা দিন-রাত প্রায় একই রকম স্থিতে থাকে।

এই সময়ভিত্তিক পার্থক্য থেকে বোঝা যায় যে, জীবনের প্রথম কয়েক মাসে যখন শিশুর ঘুম ও খাওয়ার ছন্দ এখনো গড়ে ওঠেনি, তখন মায়ের দুধ শিশুর অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি (body clock) তৈরিতে সাহায্য করতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, এক মাসের কম বয়সী নবজাতকরা এমন দুধ পান করে যাতে প্রতিরক্ষামূলক ইমিউন উপাদানের পরিমাণ বেশি থাকে। এটি তাদের প্রাথমিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মজবুত করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকার।

যেসব মা পাম্প করে দুধ সংরক্ষণ করেন, তাদের জন্য এই গবেষণা থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো: দুধ সংগ্রহের সময় (সকাল/দুপুর/রাত) লিখে রাখলে পরবর্তীতে সেই দুধ শিশুকে একই সময়ে খাওয়ানো যেতে পারে। অর্থাৎ সকালের দুধ সকালে, রাতের দুধ রাতে। এতে শিশু প্রাকৃতিক হরমোন ও জীবাণু-সংক্রান্ত সংকেতগুলো সঠিক সময়ে পাবে, যা তাদের ঘুম, বিপাক (metabolism) এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বিকাশে সহজ ও ভালো করতে পারে।
AI অনুবাদ
Probal Kumar Mondal

আমরা গরম কালে শীত পছন্দ করি আর শীতকালে গরম। আমরা আসলে কী চাই সেই বিষয়ে কনফিউশনে থাকি। শীতকালে আমরা স্নান করতে ভয় পাই।কেউ...
01/12/2025

আমরা গরম কালে শীত পছন্দ করি আর শীতকালে গরম। আমরা আসলে কী চাই সেই বিষয়ে কনফিউশনে থাকি। শীতকালে আমরা স্নান করতে ভয় পাই।কেউ শীতের ভয়ে স্নান না করে সপ্তাহ কেটে দেয়। আর অনেক বীরপুরুষ আছেন যারা স্নান করেন ঠিকই কিন্তু জল গরম করার পর। যারা ঠান্ডা জলে স্নান করেন তারা মহাপুরুষ।যারা ঠান্ডা জলে স্নান করেন,তাদের মতে স্নানের পর দেহ ও মনের ভিতর অন্য রকম প্রাণশক্তির সঞ্চার হয়। অনেকে হয়তো উনাদের মন্তব্যকে মানসিক প্রতিক্রিয়া ভাবতে পারেন কিন্তু তাদের এই কথার পিছনে রয়েছে ফিজিওলজিক্যাল কারণ ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি।
আমাদের দেহে দুই রকমের ফ্যাট থাকে। প্রথমটি হচ্ছে white fat বা সাদা ফ্যাট, যেটা দেহে এনার্জি হিসেবে জমা হয় এবং অতিরিক্ত জমা হলে ওবিসিটি সৃষ্টি করে।দ্বিতীয়টি হচ্ছে, বাদামী বা ব্রাউন ফ্যাট যা দেহে তাপ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। শিশুদের দেহে প্রচুর পরিমাণে ব্রাউন ফ্যাট থাকে। তাদের গলা, কাঁধ ও মেরুদন্ডের পাশে এই ফ্যাট জমা থাকে।নবজাতক শিশুর ওজনের ২-৫% ই ব্রাউন ফ্যাট থাকে। শিশুদের হাইপোথার্মিয়া(শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া) থেকে বাঁচাতে বাদামী ফ্যাট তাপ উৎপাদন করে। আর এই কারণেই নবজাতকদের জন্মের পরপরই মুছে, গরম কাপড়ে মুড়িয়ে মায়ের বুকে Skin to Skin রাখা হয় যাতে শিশুর দেহের ব্রাউন ফ্যাট আরও ভালোভাবে কাজ করে।
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাদামী ফ্যাট কমে যায় এবং সাদা ফ্যাটে রূপান্তরিত হয়।কিন্তু আধুনিক গবেষণা মতে, প্রাপ্ত বয়স্কদের দেহ থেকেও এটা একেবারে হারিয়ে যায় না। New England Journal of Medicine ২০০৯ সালে একটা গবেষণায় দেখায় যে প্রাপ্ত বয়স্কদের দেহেও ব্রাউন ফ্যাট নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে কিন্তু ঠান্ডা exposure দিয়ে এই ফ্যাটকে সক্রিয় করা যায় ও পরিমাণ বাড়ানো যায়।
বিভিন্ন স্টাডিতে দেখা গেছে, মাত্র ১৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রার ঘরে প্রতিদিন থাকার মাধ্যমে ব্রাউন ফ্যাট উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পায়।এমনকি ১৯°সেলসিয়াসের ঘরে থাকলেও ব্রাউন ফ্যাটের গ্লুকোজ গ্রহণের পরিমাণ ১২ গুণ বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘমেয়াদী ঠান্ডা পরিবেশে সাদা ফ্যাটও আস্তে আস্তে ব্রাউন ফ্যাটের বৈশিষ্ট্য ধারণ করতে আরম্ভ করে।এই ব্রাউন ফ্যাট এক্টিভেশন দেহের মেটাবলিজমকে ফাস্ট করে,শরীরকে উষ্ণ রাখে এবং ক্যালরি বার্ন বৃদ্ধি করে।
২০০০ সালে একটা গবেষণা হয়, সেটাতে সুস্থ পুরুষদের বিভিন্ন তাপমাত্রার পানিতে ১ ঘন্টা করে ডুবিয়ে রেখে প্লাজমা ক্যাটেকলামিন পরিমাপ করেছিলো।দেখা গেছে যারা ১৪°সেলসিয়াসে ডুবেছিলো তাদের নোরএপিনেফ্রিন ৫৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ডোপামিন হরমোনের ২৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০°C তেও বৃদ্ধি পায় কিন্তু পরিমাণে কম। কিন্তু ৩২°C তে কোন পরিবর্তন ঘটেনি।কিন্তু কথা হচ্ছে, আমরা ১ ঘন্টা স্নান করি না। তাহলে কী ৪-৫ মিনিটের ঠান্ডা পানির গোসল কোন কাজে আসবে?
হ্যাঁ আসবে কারণ ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে আসার প্রথম মিনিটেই নোরএপিনেফ্রিনের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।যদি পাঁচ মিনিটও ঠান্ডা পানিতে স্নান করেন, নোরএপিনেফ্রিন ২০০–৩০০% বাড়তে পারে।
নোরএপিনেফ্রিন ও ডোপামিন হরমোনদ্বয় আমাদের দেহ ও মনের সুস্থতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।নোরএপিনেফ্রিনকে বলা হয় দেহের Alert system। এটি বৃদ্ধির ফলে মানসিক ফোকাস, সতরবকতা ও এনার্জি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।ফলে ক্লান্তি, ব্রেইন ফগ ও মনমরা ভাব কমে যায় এবং সারাদিন দেহে একটা চাঙ্গা ভাব থাকে।এই হরমোন দেহের মেটাবলিজমও সক্রিয় করে, বিশেষ করে বাদামী ফ্যাটকে জ্বালারি বানিয়ে তাপ উৎপাদন করে ফলে তা ওজন নিয়ন্ত্রণ, ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি ও ফ্যার্ট পোড়ানের জন্য উপকারী হয়।এছাড়াও এটি মুড স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে, ফলে উদ্বেগ,টেনশন ও ডিপ্রেশনের লক্ষণ অনেকটাই হ্রাস পায়।
ডোপানিরে বৃদ্ধির ফলে জীবনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়, কাজ করার ইচ্ছে বৃদ্ধি পায়, সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।এছাড়া ডোপামিন শিখন ক্ষমতা, স্মৃতি ও মনোযোগও বৃদ্ধি করে যা আমাদের দৈনন্দিন কাজ,স্মৃতি ও মনোযোগে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।মেন্টাল হেলথের দিক থেকেও ডোপামিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর স্বাস্থ্যকর মাাত্রে আনন্দ, সন্তুষ্টি ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।কম ডোপামিনের কারণে সৃষ্ট সমস্যা যেমন অলসতা, অনাগ্রহ, বিষণ্নতা, উদ্যমহীনতা ইত্যাদিও কমে যায়।সুতরাং বলতে পারি, শীতল জলের স্পর্শ আমাদের দেহের অদৃশ্য ১০০০টি সুইচ টিপে দিয়ে আমাদের alert mood, energy level, mood ও ফোকাস কে একসঙ্গে সক্রিয় করে।
২০১৬ সালে একটা গবেষণায় [The Effect of Cold Showering on Health and Work: A Randomized Controlled Trial (2016) ] দেখা গেছে যে যারা হট টু কোল্ড স্নান করেছিল তাদের অফিস বা কর্মস্থলে অসুস্থতাজনিত ছুটি নেওয়া ২৯% কম ছিল। রাতে ঠান্ডা জলে স্নান করলে ঘুমও গভীর হয়।
তবে যাদের অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ,হার্টের সমস্যা,গর্ভাবস্থা চলতেছে তারা এড়িয়ে যাবেন।
তাই শীতকালে স্নানকে ভয় না করে নিয়মিত সকালে স্নান করে দেহ ও মনকে সুস্থ রাখুন।

লেখা: Probal Kumar Mondal
লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
#শীতকাল

প্রকৃতির ক্যালসিয়াম চক্র ভেঙে যাচ্ছে — ঝুঁকিতে মানুষের হাড়বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির তথ্য মতে ,দেশে প্রায় ৬ মিলিয়ন মান...
21/10/2025

প্রকৃতির ক্যালসিয়াম চক্র ভেঙে যাচ্ছে — ঝুঁকিতে মানুষের হাড়

বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির তথ্য মতে ,দেশে প্রায় ৬ মিলিয়ন মানুষ হাড়ক্ষয় রোগে ভুগতেছে।এদের মধ্যে যাদের বয়স পঞ্চাশের বেশী ,তাদের প্রতি দশ জনের নয় জনই নারী।
অর্থাৎ দেশে ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে যারা হাড়ক্ষয় বা অস্টিওপরোসিসে ভুগতেছেন তাদের ৯০%ই নারী।

আমাদের দেহের ৯৯% শতাংশ ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতে সঞ্চিত থাকে ,যা হাড়ের শক্তি ও গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।তাই ক্যালসিয়ামের অভাব হলে হাড় পাতলা হয়ে যায় ,যেটা পরে অস্টিওপরোসিস বা হাড়ক্ষয় রোগের রূপ ধারণ করে।
এছাড়াও ভিটামিন ডি এর অভাব, হরমোনের পরিবর্তন ,লাইফস্টাইল এই রোগে ভূমিকা রাখে।

আমাদের দেশে ঐতিহ্যগত ভাবে ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস বিভিন্ন ধরণের ছোট মাছ যেমন - মলা ,ঢেলা ,শিং ,টেংরা ,পুঁটি ,কাচকি,চাঁদা ইত্যাদি। এই মাছগুলো খাদ্য হিসেবে শৈবাল ,কাদা ,প্লাঙ্কটন ,পোকামাকড় ও শামুক ঝিনুকের টুকরা বা ডিম খায়। ঝিনুক ও শামুকের খোলসে থাকে ক্যালসিয়াম কার্বনেট যা প্রাকৃতিক ক্যালসিয়ামের উৎস। যখন মাছ শামুক বা ঝিনুকের ক্ষুদ্রাংশ গ্রহণ করে তখন ক্যালসিয়াম তাদের দেহে প্রবেশ করে। এই ক্যালসিয়ামই মাছের হাড়, আঁশ ও পেশি মজবুত করে। মানুষ যখন এই ছোট মাছ সম্পূর্ণ অর্থাৎ মাছাসহ খায় তখন দেহ সরাসরি Bioavailabe calcium বা জৈব ক্যালসিয়াম পায় ,যেটা মানবদেহ সহজে শোষণ করতে পারে। আর এই কারণেই ছোট মাছকে প্রাকৃতিক ক্যালসিয়াম ভান্ডার বলা হয়ে থাকে।

ঝিনুক ,কাঁকড়া ,শামুক ইত্যাদি জলজ প্রাণীকে অনেকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এই প্রাণীগুলো প্রকৃতিতে খনিজ ভারসাম্য রক্ষায়ও বড় ভূমিকা পালন করে।এরা তাদের খোলস তৈরির জন্য পানির ক্যালসিয়াম কার্বনেট ব্যবহার করে এবং এদের মৃত্যুর পর তাদের খোলস পানির তলদেশে জমে গিয়ে মাটিতে ক্যালসিয়াম ফিরিয়ে দেয়। মূলতঃ এভাবেই আমাদের প্রকৃতিতে ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য বজায় থাকে।
কিন্তু অতিরিক্ত দূষণ ,নদী ভরাট,প্লাস্টিক বর্জ্য আর জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝিনুক শামুকের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে ,যে কারণে ক্যালসিয়াম কার্বনেটের পুনর্গঠন কমে যাচ্ছে। ফলে ,মাছ ও অন্যান্য খাদ্য উৎসে ক্যালসিয়ামের পরিমাণও হ্রাস পাচ্ছে ।

প্রকৃতির ক্যালসিয়াম চক্রের এই পরিবর্তন মানুষের খাদ্যচক্রে প্রভাব ফেলতেছে।ফলে হাড় দুর্বল ,অস্টিওপোরোসিস ,জোড় ব্যথা ,দাঁতের ক্ষয়সহ নানা ক্যালসিয়াম স্বল্পতাজনিত রোগ বাড়তেছে।

পড়তে পড়তে ভাবতেছেন গরুর দুধ খেয়ে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করবেন?
গরু যেসব খাদ্য গ্রহণ করে সেসব আসে মাটি থেকে। প্রকৃতিতে যদি ক্যালসিয়াম কম হয় তবে সেটা গরুর খাদ্যেও কম হবে।
গরু যখন এই স্বল্প ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ ঘাস খায় তখন তার দেহে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম জমা হয় না ,যে কারণে গরুর হাড় ,দাঁত ও দুধ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমে যায়।যেহেতু দুধে থাকা ক্যালসিয়াম আসে গরুর খাদ্য থেকে তাই খাদ্যে ক্যালসিয়াম কমলে দুধেও কমবে।

যখন গরুর খাদ্যে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হয় তখন শরীর হাড়ে সঞ্চিত ক্যালসিয়াম ভেঙে রক্তে পাঠায় যেটাকে বলা হয় bone resorption। রক্তে আসা এই ক্যালসিয়াম দিয়েই গরু তার দুধে ক্যালসিয়াম লেভেল ঠিক রাখে। এটা মূলত নিজের বাছুরের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণের জন্য।মানুষের ক্ষেত্রেও এমনই ঘটে তাই দুগ্ধদানকারী মহিলাদের ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে বলা হয়।
যদি গরুর খাদ্যে ক্যালসিয়ামের অভাবে এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকে ,তখন গরুর হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মিল্ক ফিভার বা হাইপোক্যালসেমিয়া রোগ দেখা দিতে পারে।এই সময় গরুর শরীর কাঁপতে থাকে ,দাঁড়াতে পারে না ,এমন কি দুধ উৎপাদনও কমে যায়।

দেখা যাচ্ছে শামুক ঝিনুকের মত প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট করার কারণে গরু ও মানুষের হাড় ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছে।
সুস্থ থাকার মানে শুধু নিজে ভালো থাকা না ,আপনার চারপাশের সবকিছু ভালো রাখা।

Probal Kumar Mondal

মানুষের জন্য পারফেক্ট ডায়েট কোনটি? এই নিয়ে বছরের পর বছর বিতর্কের শেষ নেই। ইদানিং বাংলাদেশে কিটো ডায়েট অনেক জনপ্রিয় হয়েছে...
19/10/2025

মানুষের জন্য পারফেক্ট ডায়েট কোনটি? এই নিয়ে বছরের পর বছর বিতর্কের শেষ নেই। ইদানিং বাংলাদেশে কিটো ডায়েট অনেক জনপ্রিয় হয়েছে।আমার এই লেখায় কিটো ডায়েটের ধারণা মূলত কোথায় থেকে এসেছে তা জানানোর চেষ্টা করবো এবং সেই মতবাদের পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তিও দেখাবো।

পৃথিবীতে মানুষের পদচারণের আরম্ভ থেকেই কিটো ডায়েট বিদ্যমান। কিটো মূলত ডায়েট না,এটা আমাদের মেটাবলিজমের অবস্থা(metabolic state), যা মানুষের বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

মানুষের পূর্বের ধাপ হচ্ছে Primate,যারা মূলত শাকাহারী ছিলো। মানুষও শুরুতে শাকাহারী ছিলো কিন্তু আস্তে আস্তে শিকার আরম্ভ করে দিলে যাযাবরের ন্যায় জীবনযাপন আরম্ভ করে।

দুই মিলিয়ন বছর পূর্বে মানুষ প্রাণিজ খাদ্য গ্রহণ আরম্ভ করে।,যা ছিলো উচ্চ ক্যালরি ও প্রোটিন-চর্বি সমৃদ্ধ।

অল্প খাবারেই অধিক শক্তি আসতো বলে শাকসবজি জাতীয় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ হ্রাস পায়। তখন ফাইবার/ শাকসবজি কম গ্রহণের কারণে বর্তমানে মানুষের gut এর সাইজ ছোট। Gut ছোট হওয়ায় আমাদের হজম প্রক্রিয়ায় কম শক্তি ব্যয় হয়। যার ফলে ব্রেন বেশী শক্তি খরচ করার সুযোগ পায়, যে কারণে ব্রেনের সাইজ বড়। এজন্যই

বিশ্রামরত অবস্থায় মানুষের মস্তিষ্ক ২০% এনার্জি খরচ করে, অপরদিকে বানর,উল্লুক,বনমানুষের মস্তিষ্ক মাত্র ৮% শক্তি ব্যয় করে।

এ থেকে বলা যেতেই পারে মানুষের ব্রেন ও দেহ অধিক ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার দ্বারা চালিত হওয়ার জন্য বিবর্তিত হয়েছে।

অনেক প্রাণি আছে যারা ভিটামিন সি নিজেরাই উৎপন্ন করে। অনেক বেশী ভিটামিন সি উৎপন্ন করে বলে ভিটামিন-সি এর সমর্থনকারীও মেগাডোজে ভিটামিন সি খাইতে বলে। লিন্যাস পাউলিং মেগাডোজ ভিটামিন-সি এর প্রচারকারী।

আবার প্রাণিরা অসুস্থ হলে না খেয়ে থাকে। তাই ফাস্টিং এর সমর্থকরা প্রাণিদের উদাহরণ টেনে ফাস্টিং করতে বলে।

আমরাও দেখতে পারি কিটো ডায়েট কি প্রাণি জগতে বিদ্যমান কিনা।

কুকুর,ভাল্লুক মূলত কম শর্করা গ্রহণ করে, প্রোটিনের পরিমাণ বেশী। এরা gluconeogenesis প্রক্রিয়ায় প্রোটিনকে শর্করায় রূপান্তরিত করে রক্তের শর্করার মাত্রা ঠিক রাখে।

Hibernated bear,সহজ কথায় দীর্ঘদিন চুপচাপ শুয়ে থাকা ভাল্লুকেরও ketosis পর্যায় আসেনা।
অনেকে কিটো ডায়েটের কথা বলতে গেলে Eskimos আর Massai গ্রুপের উদাহরণ টেনে নিয়ে আসে কারণ তারা কার্বোহাইড্রেট কম গ্রহণ করে।১৯২৮ সালে Eskimos দের উপর একটা গবেষণা করা হয়।

যেসব Eskimos তাদের ঐতিহ্যগত খাদ্য (২৮০ গ্রাম প্রোটিন,১৩০ গ্রাম ফ্যাট, ৫৪ গ্রাম শর্করা) দৈনিক গ্রহণ করে তাদের-

বডি Ketosis যায় না, যদিও অধিক প্রোটিন ও ফ্যাট গ্রহণ করে।

এমনকি Eskimosরা ফাস্টিং করলেও mild ketosis হয়।

Eskimos দের CPT14 gene মিউটেশনের ফলে তারা high fal low carb এ অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই জিন মিউটেশন তাদের শিশুদের মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। কোন Eskimos শিশুর ব্লাড সুগার কমে গেলে কিটোন বডি ব্যবহারের উপকারিতা পায় না ফলে মারা যায়।যা Hypoketotic hypoglycemia নামে পরিচিত।

আরেক গবেষণায় দেখা যায় নিথারডাল ও তাদের পূর্বসূরিরা প্রচুর স্টার্চযুক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করতো কারণ তারা পূর্ব আফ্রিকা ও ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছিলো। নিথারডালদের ফসিলের দাঁত থেকে প্রাপ্ত ব্যাকটেরিয়ার উপর গবেষণা করে পাওয়া যায় যে ৬ লক্ষ বছর পূর্বে আমাদের পূর্বজরা শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করতো।

নিথারডালদের প্রাথমিক খাদ্য ছিলো মাংস,পরবর্তীতে ব্রেনের বাড়তি চাহিদা পূরণে শর্করা গ্রহণ শুরু করে।

গবেষকগণ প্রাচীন দাঁতের ফসিল ব্যাকটেরিয়ার DNA analysis করে ১২৪ টি জীবিত ও লুপ্ত স্তন্যপায়ী প্রাণীর দাঁতের ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে তুলনা করে,এই গ্রুপে নিথারডালদের দাঁতের ব্যাকটেরিয়াও ছিল।

ফলাফলে দেখা যায় যে, আধুনিক মানুষ ও নিথারডালদের মুখের ব্যাকটেরিয়া একই।

তবে একটি ব্যাকটেরিয়া গবেষকদের দৃষ্টি বেশী আকষর্ণ করে, যে নিজের খাদ্য হিসেবে মুখের স্যালিভার অ্যামাইলেজ এনজাইম গ্রহণ করে।

অ্যামাইলেজ স্টার্চযুক্ত খাদ্য থেকে স্যুগার নিষ্কাশনে সহায়তা করে।

মজার বিষয় হচ্ছে এই ব্যাকটেরিয়া শুধু মানুষ আর নিথারডালদের দাঁতেই পাওয়া গিয়েছে,যা

গরিলা,শিম্পাঞ্জির দাঁতে নেই।অতএব, প্রমাণিত হয় যে আমাদের আদি পুরুষের ডায়েটে স্টার্চ ছিলো।

বিষয় হচ্ছে আজ মিলিয়ন বা লক্ষ বছর পূর্বে শাক সবজি মাংস, আলু,গাজর যে খাবারই বলেন, সবই অনেক পুষ্টিকর ছিলো।

এখনকার দিনে প্রাণিজ বলেন আর উদ্ভিজ্জ বলেন, কোন খাবারই আগের মত না।

আগের পরিবেশ আর এখনকার পরিবেশ একি না।তাই এখন কি খাবো তা নির্ধারণ করার জন্য মিলিয়ন বছর পূর্বে কী খাওয়া হয়েছিলো তা চিন্তা করা কতটা সমুচিত হবে না।

আয়ুর্বেদিক নিউট্রিশনের ভাষায় প্রত্যেক ব্যক্তির দেহ বিভিন্ন ভাবে গঠিত তাই তাদের খাবারও হবে ভিন্ন।

নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে মস্তিষ্কের থাইরয়েড হরমোনগুলো আমরা কীভাবে ভয়ের স্মৃতি তৈরি করি, তার উপর আশ্চর্যজনকভাবে বড় ভূমিক...
19/10/2025

নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে মস্তিষ্কের থাইরয়েড হরমোনগুলো আমরা কীভাবে ভয়ের স্মৃতি তৈরি করি, তার উপর আশ্চর্যজনকভাবে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিজ্ঞানীরা আগেই জানতেন যে অ্যামিগডালা—মস্তিষ্কের একটি অংশ যা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে—তা বিপদ সংকেত, যেমন একটি ভীতিকর শব্দকে, খারাপ কিছুর (যেমন একটি আঘাত) সাথে সংযুক্ত করতে সাহায্য করে। তবে এই নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে অ্যামিগডালার মধ্যে থাকা থাইরয়েড হরমোনগুলো আসলে এই ভয়ের স্মৃতিগুলোকে সংরক্ষণ করতে সাহায্য করে।
গবেষকরা যখন ইঁদুরের মধ্যে থাইরয়েড হরমোনের কার্যকলাপ বাড়িয়েছিলেন, তখন ইঁদুরগুলো আরও শক্তিশালী ভয়ের স্মৃতি তৈরি করেছিল। যখন তারা এই কার্যকলাপ বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তখন স্মৃতিগুলো দুর্বল হয়েছিল।
দলটি আবিষ্কার করেছে যে একটি ভীতিকর অভিজ্ঞতার পরে, থাইরয়েড হরমোনের সাথে সম্পর্কিত কিছু জিন অ্যামিগডালাতে আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা এমন সংকেত চালু করে যা মস্তিষ্ককে আরও মানিয়ে নিতে সক্ষম করে এবং স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য প্রস্তুত করে তোলে। এমনকি সারা শরীরে কম থাইরয়েড মাত্রার ইঁদুরের ক্ষেত্রেও, শুধুমাত্র অ্যামিগডালার মধ্যে সরাসরি থাইরয়েড হরমোন যোগ করে তাদের ভয়ের স্মৃতির সমস্যা সমাধান করা গিয়েছিল।
বিষয়টি শুধু স্মৃতিতেই থেমে থাকেনি। এই মস্তিষ্কের অঞ্চলে অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন পাওয়ার পরে ইঁদুরগুলো আরও বেশি উদ্বিগ্ন আচরণ করছিল, তারা কম অন্বেষণ করছিল এবং সতর্কতার সাথে নড়াচড়া করছিল। এটি ইঙ্গিত দেয় যে থাইরয়েড হরমোনগুলো আমরা সাধারণভাবে কতটা ভীতু বা স্নায়বিক অনুভব করি, তার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এই অনুসন্ধানগুলো আকর্ষণীয় সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। পিটিএসডি (PTSD) আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসার সময় ডাক্তাররা সাধারণত থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করেন না, তবে হয়তো তাদের করা উচিত। যদি মানুষের মধ্যেও একই ধরনের ফলাফল দেখা যায়, তাহলে থাইরয়েড হরমোনের কার্যকলাপকে সামান্য পরিবর্তন করে আঘাতজনিত স্মৃতিগুলো কমানোর নতুন উপায় বেরিয়ে আসতে পারে। আরও গবেষণা প্রয়োজন, বিশেষ করে এটি দীর্ঘ সময় ধরে কীভাবে কাজ করে এবং এটি স্ত্রী প্রাণীদের উপর একইভাবে প্রভাব ফেলে কিনা তা দেখার জন্য।
গবেষণা পত্র 📄
DOI: 10.1038/s41380-024-02679-2

"ভূতের রাতে চৌদ্দ শাক ,রন্ধন করে মা ,       শুদ্ধ মনে দীপ জ্বালি ,ডাকি পূর্বজা।"এটি একটি লোক-কবিতার লাইন,সেখানে ভূত চতুর...
19/10/2025

"ভূতের রাতে চৌদ্দ শাক ,রন্ধন করে মা ,
শুদ্ধ মনে দীপ জ্বালি ,ডাকি পূর্বজা।"
এটি একটি লোক-কবিতার লাইন,সেখানে ভূত চতুর্দশীতে চৌদ্দশাক খাওয়ার কথা বলা হয়েছে।হিন্দুরা এখনো কালিপূজা বা ভূত চতুর্দশী উপলক্ষ্য চৌদ্দ শাক গ্রহণ করে আর পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে চৌদ্দটি প্রদীপ প্রজ্বলন করে ।
তবে চৌদ্দশাক গ্রহণের বিষয়টি শুধুমাত্রর একটি ধর্মীয় আচার ভাবলে ভুল হবে ,এটা ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রাচীন প্রথা যা আজও প্রাসঙ্গিক।
খাবারের মাধ্যমে রোগ সারানোর বিষয়টি আমাদের উপমহাদেশে অনেক আগে থেকেই প্রচলিত, যেটা চৌদ্দশাকের কনসেপ্টটা পড়লে সহজেই অনুধাবন করা যায়।

প্রবাদ আছে ,চৌদ্দশাক গ্রহণে নাকি কার্তিকের টান থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
কার্তিক মাস বা অক্টোবর নভেম্বর মাসে দিনের তাপমাত্রা কমতে থাকে ,বাতাস শুষ্ক হয় এবং রোগ জীবাণুর বিস্তার বাড়ে অর্থাৎ মানুষজন সিজনাল রোগে আক্রান্ত হতে আরম্ভ করে। প্রবাদে এই বিষয়টিকে কার্তিকের টান বলা হয়েছে।আর চৌদ্দশাক গ্রহণের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সিজনাল রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে প্রবাদটিতে।

বাংলার নব্য-স্মৃতিশাস্ত্রকার রঘুনন্দন (১৬ শতাব্দী) তাঁর অষ্টবিংশতি তত্ত্বের অন্যতম গ্রন্থ কৃত্যতত্ত্বে এই ভূত চতুর্দশীর উল্লেখ করে চৌদ্দ শাক খাবার কথা বলেছেন । তিনি লিখেছেন-
“ যিনি ভূত চতুর্দশীর দিনে চৌদ্দশাক সেবন করেন ,যমের আলয় তার কাছ থেকে অনেক দূরে।”

আবার অনেকের মতে চৌদ্দশাক বর্ষা ও শরতের সন্ধিক্ষণে খাওয়া হয় কার তখন প্রকৃতিতে স্নিগ্ধতা থাকে ,অতিরিক্ত আদ্রতা থাকে যেকারণে নানা রকমের জীবাণু সংক্রমণের প্রবণতা বেড়ে যায়।
আয়ুর্বেদ মতে , ঋতু পরিবর্তনের সময় দেহে টক্সিন বেড়ে যায় ,ফলে দেহের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এ কারণে হজম জনিত সমস্যা,ত্বকে অ্যালার্জি ,জ্বর সর্দি কাশিসহ বিভিন্ন প্রদাহজনিত রোগ বেড়ে যায়।
এই সময় চৌদ্দশাক গ্রহণের ফলে দেহ ভিন্ন ভিন্ন রস ,গন্ধ ও গুণ সম্পন্ন শাক একত্রে পায় ,ফলে দেহের পরিশোধন হয় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

বর্ষকালে শাক যথাসম্ভব কম গ্রহণ করে হয়।কারণ এই ঋতুতে জলাবদ্ধতা ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে মাটি ও পানিতে অনেক ব্যাকটেরিয়া ,পরজীবি ও ছত্রাক জন্মায়। যেহেতু শাকপাতা পানি বা মাটির সংস্পর্শে থাকে তাই এতে প্যাথোজেনিক অণুজীব লেগে থাকে। ফলে ঠিকমত ধোঁয়া না হলে বা সঠিক তাপমাত্রা তে রান্না না করা হলে পেটের সমস্যা হতে পারে।
আর্দ্র ও ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের পরিপাক শক্তি কম থাকে। বর্ষায় প্রচুর শাকসবজি খেলে গ্যাস, পেট ফোলা, হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেজন্য বর্ষার শেষে শরতের আরম্ভে চৌদ্দশাক গ্রহণের রীতি।

চৌদ্দ শাক হচ্ছে ১৪ প্রকারের শাক।আমরা সাধারণত শাক বলতে পাতা জাতীয় খাদ্য বুঝি কিন্তু চরক সংহিতা তে শাক বলতে পাতা ,ফুল ,ফল ,কন্দ সবই শাক। পালং শাক,পুঁইশাক এসব হচ্ছে পত্র শাক।লাউ ,কুমড়ো ,বেগুন এসব হচ্ছে ফলশাক। ওল কচু ,লাউ কুমড়োর ডেটাগুলো নালশাক। আলু ,ওল এসব কন্দশাক।
সাধারণত চৌদ্দশাক বলতে প্রধানত নিচের শাকগুলো বোঝানো হয় - ওল ,কেতকী ,বেতো ,কালকাসুন্দে, সরিষা,নিম,ধইঞ্চা ,নিম,শাঞ্চে ,গুলঞ্চ,পটোল পত্র,বল্লা ,হিঞ্চে ,সুষুনী শাক ,ভাঁট।এছাড়াও স্থানভেদে
আমরুল, কলমি,থানকুনি,ব্রাহ্মী, ঢেঁকিশাক,তেলকুচা, গিমা, কচু, কালমেঘ এই শাকগুলোও চৌদ্দশাকের তালিকায় পড়ে।
এসবের যেকোন চৌদ্দটি শাক নিয়ে চৌদ্দশাক রান্না করা যেতে পারে। কেউ চাইলে বেশীও গ্রহণ করতে পারবে।

চৌদ্দশাকের প্রতি উপাদানই ফাইবার সমৃদ্ধ যা পাচনতন্ত্র পরিষ্কার রাখে এবং কোলন ডিটক্স করতে সহায়তা করে। এছাড়াও এসব ফাইটো কেমিক্যালস, ভিটামিন ,মিনারেলসে ভরপুর যা দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

নিচে প্রতিটি শাকেরই অল্প গুণ কীর্তন করলাম।গুগল করে বিস্তারিত জেনে নিতে পারবেন।

ওল-
কথায় বলায় হয় ওল হচ্ছে চৌদ্দ শাকের মধ্যে প্রামাণিক কারণ ওল পাইলস রোগের জন্য বিশেষ ভাবে উপকারী।ওলের মূল অংশ অমরকন্দ হজমশক্তি বৃদ্ধি করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ,পেট ফাঁপার মত সমস্যা দূর করে।

কেতকী -
ডায়াবেটিকস রোগীদের জন্য বিশেষ ভাবে উপকারী কারণ এটা ব্লাড স্যুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

বেতো-
লিভারের রোগের জন্য বেতো শাক খুবই কার্যকর। আয়ুর্বেদ মতে এটা রুচিবর্ধক এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।

কালকাসুন্দে-
এটা কাশি ,হাঁপানি এসব রোগের জন্য খুবই উপকারী। আয়ুর্বেদে একে কাসনাশক বলা হয়ে থাকে।

সরিষা -
সরিষা পাতায় থাকে গ্লুকোসাইনোলেটস যা এন্টি ক্যান্সার গুণ সমৃদ্ধ। এটা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং দেহ গরম রাখে যা শীতের প্রাক মুহূর্তে দেহের প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করে।

নিম-
পিত্তজ চর্মরোগ কে নিয়ন্ত্রণ করে নিম যা আমরা সকলেই জানি।নিম হচ্ছে এন্টি ব্যাতটেরিয়াল ,এন্টি ফাংগাল।

ধইঞ্চা পাতা -
এটা হালকা ল্যাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে ,অন্ত্র পরিষ্কার রাখে।

শাঞ্চি শাক -
এই শাক হজমে সহায়ক,চোখের জন্য ভাল এবং দেহ ঠান্ডা রাখে। এটা আয়রন ও এন্টি অক্সিডেন্ট সম্পন্ন।আগের দিনে গ্রামে রক্তস্বল্পতা রোগের ট্রিটমেন্ট হিসেবে শাঞ্চি বা সাঁচি শাক খাওয়ার প্রচলন ছিল।

গোলঞ্চ পাতা -
এটা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, লিভার ও কিডনির কার্যকরিতা বৃদ্ধি করে। এই পাতার নির্যাস জ্বর ,বিশেষত টাইফয়েড ও ভাইরাল ফিভার কমাতে সহায়তা করে।

পটল পাতা -
এই পাতা হালকা তিতা ,কৃমিনাশক ও হজমকারক।চর্মরোগে বা ফুসকুড়িতে পটল পাতার বাটা লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

বল্লা -
এই গাছ ছোট বেলায় অনেক দেখতাম। এটার পাতা ও ফল উভয়ই উপকারী। কাশির জন্য উপকারী বলে এটাকে কফঘ্ন বলা হয়।

হিঞ্চে -
এই শাককে লিভার টনিক হিসেবে গণ্য করা হয়। এটা লিভারকে টক্সিন থেকে রক্ষা করে।

ভাঁট-

এই পাতার রস ডায়রিয়া ,চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টে উপকারী। এই শাক কৃমিনাশক ও চর্মরোগে নাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

শুশুনি শাক-

এটা স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ উন্নতকারী।এটি স্নায়ু শান্ত করে ,নিদ্রাহীনতা কমায় এবং মানসিক অস্থিরতা প্রশমিত করে।

প্রায় সব শাকই তিক্ত স্বাদ ও কষা রস বিশিষ্ট। আয়ুর্বেদ মতে ,তিক্ত ও কষা রস বিশিষ্ট খাদ্য দেহে জতে থাকে টক্সিন বের সরে দেয়।নিম ,গোলঞ্চ, কালকাসুন্দে শরীরের গভীর স্তর পরিষ্কার করে রক্ত, যকৃত ও অন্ত্র পরিশুদ্ধ করে।অন্যদিকে শুশুনি ,হিঞ্চে শাক মানসিক স্বস্তি দেয় এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।

আধুনিক পুষ্টি বিজ্ঞানের আলোকে বলতে গেলে-

তিক্ত কষা রস বিশিষ্ট ভেষজ গুলিতে ফাইটোকেমিক্যালস যেমন- ‌‌alkaloids, flavonoids, terpenoids, polyphenols থাকে যেগুলো আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য উপকারী। এসব শাকের এন্টি অক্সিডেন্ট কোষে জমে থাকা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস করে কোষের ধ্বংস প্রতিরোধ করে।এছাড়াও শাকের ডিটক্সিফাইং এজেন্টস লিভার কিডনিকে সক্রিয় করে বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশনে সহায়তা করে।

ঐতিহ্য অনুযায়ী, ভূত চতুর্দশীর দিনে চৌদ্দ ধরণের শাক গ্রহণের নিয়ম,যা পবিত্রতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতীক । তবে নিয়মিত ভোজনের জন্য সপ্তাহে ১৪ ধরনের শাক পর্যায়ক্রমে গ্রহণ করা যেতে পারে।

আগের দিনে গ্রামের মানুষ সহজেই অনেক পুষ্টিকর শাক খেতে পারতো কিন্তু কৃষির উন্নয়নের ফলে সেসব শাক আগাছানাশকের তোপে হারিয়ে গেছে।
নতুন প্রজন্ম হয়তো এত সব শাকের নাম জানেই না,আর জানার কথাও না।

লেখা-
প্রবল কুমার মন্ডল

Address

Dhaka
1000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when BD Nutritionists Zone posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram