Dr. Shohag SiNan

Dr. Shohag SiNan MBBS(DU), FCGP(FAMILY MEDICINE), CCD(BIRDEM),PGT(SURGERY).

15/01/2026

মাথা ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর গতকাল সকালে মৃত্যুবরণ করেছেন সরকারের একজন কর্মকর্তা । বয়স তাঁর কত হবে ? ধারণা করছি ৩৭ বা ৩৮ বৎসর হবে । এর চেয়ে বেশি নয় । হঠাৎ মৃত্যুর অনেক কারণ থাকলেও মানুষের সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকে । যাদের বয়স ৩০-এর আশেপাশে, তারা মনে করেন তাদের তেমন কোনো অসুখ বিসুখ হবে না । Evidence based medicine-এর ফলে আমরা জানতে পেরেছি, ৩০-এর আশেপাশে বয়সী নারীদের মধ্যে গর্ভজনিত জটিলতা, রক্তক্ষরণ এবং পুরুষদের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা তাদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলেও তাদের মধ্যে হার্ট এটাক এবং ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার হার একেবারে কম নয় ।

এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী ?
সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করার জন্য আজকাল জীবনাচরণের পরিবর্তন বা লাইফ স্টাইল মডিফিকেশন (Life style Modification) কে খুব গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ।
এগুলোর মধ্যে গুরুত্বের দিক দিয়ে ক্রমশ উপরে উঠে আসছে ঘুম । ঘুম মানে সুনিদ্রা (Sound sleep) । আরামদায়ক বিছানায়, নরম বালিশে লাইট নিভিয়ে গভীর ঘুম...... । সুনিদ্রা (Sound sleep) মানুষের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে, উচ্চ রক্তচাপ কমায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, মেজাজ ফুরফুরে রাখে, আচরণ ভাল রাখে । সুনিদ্রার অভাবে ব্লাড প্রেসার ও ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পায় । রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে । মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে, আচরণ খারাপ হয়, খাবার হজম ও পরিপাকে বিঘ্ন ঘটে, Cellular aging বাড়ে, দেহ-কোষ বুড়ো হয়ে যায় । ফলে অকালে বার্ধক্য আসে । আয়ু কমে ।

২য় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগহীন জীবন ।
ঘুমের অভাবে মানুষের শারীরিক ও মানসিক যে ক্ষতিগুলো হয়, উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা মানুষের সবগুলো ক্ষতি করে । একই বিষয় হওয়ায় লাভ ক্ষতিগুলোর আর পুনরাবৃত্তি করলাম না । ঝগড়াটে এবং বিষাক্ত আচরণের মানুষ থেকে দূরে থাকতে হবে । তাদের কথা এবং আচরণ অন্যদের মনঃকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় । এ থেকে ব্লাড প্রেসার এবং ডায়াবেটিস বাড়তে পারে ।

৩য় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শারীরিক পরিশ্রম / ব্যায়াম । সুনিদ্রার ফলে যে উপকারের কথা লিখেছি, শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করলেও সেই একই উপকার হয় ।

৪.
সুষম ও পুষ্টিকর খাবার (Balanced and Nutritious diet)।
খাবার গ্রহণের সময় আমরা এর স্বাদের কথা ভাবি । কিন্তু পুষ্টিবিদগণ বলেন, খাবার খাওয়ার সময় এর পুষ্টিমানের কথা ভাবুন । খাবার খাওয়ার আগে এর পুষ্টিমান কী, এর ভাল ও মন্দ দিকগুলো কী কী—সে কথা ভাবতে হবে । প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পরিমাণ ভিটামিন ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট (Micronutrient) গ্রহণ করতে হবে । এগুলোর অভাবে শরীরে নানা রোগ বাসা বাঁধে ।
চিনি (মিষ্টি), চর্বি, বাড়তি লবণ—এগুলোকে এখন শত্রুজ্ঞান করতে বলা হচ্ছে । যে খাবার আপনি খাবেন, তাতে বাড়তি চিনি বা লবণ থাকতে পারবে না ।

৫.
সুশৃঙ্খল জীবন যাপন (Discipline)
খাবার গ্রহণ, ঘুম, ঘুম থেকে জাগা, কাজ, বিশ্রাম, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা—এ সব ক্ষেত্রে অবশ্যই সুশৃঙ্খল হওয়া প্রয়োজন । বিশৃঙ্খল জ্জীবন যাপন করে দীর্ঘায়ু জীবন তো পাওয়া যাওয়াই না, নীরোগ দেহও পাওয়া যায় না ।

৬.
ওজন নিয়ন্ত্রণ
প্রত্যেক বয়স এবং উচ্চতার একটি ষ্ট্যাণ্ডার্ড ওজন আছে । এর চেয়ে বেশী ওজন হলেই নানা রোগ ডেকে নিয়ে আসে । ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, আরথ্রাইটিস, জিইআরডি-সহ নান অসুখ । এর পরিণামস্বরূপ অল্প বয়সে মৃত্যু ।

৭.
সুস্থ থাকতেই নিয়মিত মেডিক্যাল চেক আপ করা
উন্নত বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ৪০ বৎসর হওয়ার সাথে সাথে বেশ কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে উপদেশ দেওয়া হয় । এর অর্থ, রোগ হওয়ার আগেই রোগ প্রতিরোধ করা । যেমন ধরুন, ব্লাড প্রেসার, রক্তে গ্লুকোজ ও চর্বির পরিমাণ নির্ণয়, ইউরিক এসিডের মাত্রা, হার্ট, কিডনি ও চোখের জন্য কিছু পরীক্ষা । আমাদের দেশে যদি কাউকে এ ধরণের স্ক্রিনিং পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ ভুল বুঝবে । মনে করবে, অর্থ প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো হচ্ছে ।

বাঞ্ছারামপুরের ইউএনও-র মৃত্যুর কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, তিনি মাথা ব্যথায় ভুগছিলেন । সরকারের একজন অত্যন্ত দায়িত্বশীল কর্মকর্তা—যার উপর বহু ধরণের কাজের চাপ থাকে, তার মাইগ্রেন হওয়াই স্বাভাবিক । এর সাথে থাকতে পারে টেনশন জনিত মাথা ব্যাথা । আমি মনে করি, জেলা এবং উপজেলার অফিস প্রধানদের কাজের পরিমাণ কমানো উচিত । অপ্রয়োজনীয় প্রটোকল প্রদানও শান্তি ও বিশ্রামের প্রতিকূল ।

যে কথাটা আগে বলেছি, হঠাৎ মৃত্যুর বড় কারণ ব্রেন স্ট্রোক (মস্তিষ্কের একেবারে ভেতরে যেখানে ব্রেন স্টেম আছে, সেখানে রক্তক্ষরণ হওয়া), সাব-অ্যারাকনয়েড হিমোরেজ এবং হার্ট অ্যাটাক । এ থেকে বাঁচতে হলে কাজের চাপ কমাতে হবে । দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করতে হবে । রাত ৯টার পর পরই ঘুমাতে হবে । ঘুমের আদর্শ সময় হল রাত ৯টা থেকে ভোর ৪টা । রাত জেগে টিভি দেখা, টক শো শোনা, আড্ডা দেওয়ার মধ্যে কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণই বেশি ।

Zainal Abedin Tito

ইংল্যান্ডের সবচেয়ে জঘন্যতম জায়গা হচ্ছে হাসপাতালের ইমার্জেন্সি সেন্টার।  যেখানে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আমার, সে অবস্থাতেও ...
13/01/2026

ইংল্যান্ডের সবচেয়ে জঘন্যতম জায়গা হচ্ছে হাসপাতালের ইমার্জেন্সি সেন্টার। যেখানে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আমার, সে অবস্থাতেও ৬-৭ ঘন্টা বসায় রাখলো। বসায় যদি রাখবে তাহলে নাম আর্জেন্ট ট্রিটমেন্ট সেন্টার কেনো দেয়। দেখতেছে, শুনতেছে যে আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তাও কোনো এ্যাকশন নাই।
বার বার বলছি আমাকে একটু আগে দেখেন, না তারা নিয়ম কানুন মেনে সিরিয়াল অনুযায়ী দেখবে। তারপর প্রায় ৭ ঘন্টা পর ইনহেলার দিয়েছে। যেটা বাংলাদেশ থেকে আমি আগেই এনেছি। আর এই ইনহেলার কিনতে আরেক কাহিনি। সিরিয়াল দিয়ে ওষুধ কিনতে হয়েছে তাও ১৭ নাম্বার সিরিয়াল, সেখানেও ১.৩০ ঘন্টা বসা।

সত্যি বলতে আর যাই হোক আমাদের বাংলাদেশের ডাক্তার,চিকিৎসা ব্যবস্থা হাজার গুণ ভাল আছে আমার মতে। আর কার সাথে কি হয় জানি না, কিন্তু আমি শেষ ৫ দিন অনেক ভুগলাম। এক পর্যায়ে ভাবছিলাম বাংলাদেশ গিয়ে ট্রিটমেন্ট করাই।

এই দেশে এক প্রেগ্ন্যাসির সময় (তাও তাদের ডিপার্টমেন্ট আলাদা), বাচ্চারা আর ৫০ বছরের উপরে যারা আছে তারাই প্রায়োরিটি পায়। মাঝের সবাই ধইন্নাপাতা।

I always respect my Country doctors, you guys are best for me

- Farhima Faruque Turna

অথচ আমাদের দেশের মানুষ চিকিৎসা দিতে ২ মিনিটের জায়গায় ৫মিনিট দেরি হলেই ডাক্তারদের কলারে হাত দিতে দেরি করেনা। জীবনে বিদেশের চিকিৎসার মুখ দেখেনি তার মুখেও একবার শুনেছি বলে যে ‘বাংলাদেশী ডাক্তারদের অহংকারের শেষ নেই।’ ভাই আপনি নিজে কোনদিন বাইরের দেশে ডাক্তার দেখাননি তাহলে কিভাবে বুঝলেন বিদেশ মানেই সব সেরা??যারা এসব ভাবেন দয়া করে এই লেখাটা ৫ বার পড়বেন।

©️

আপনার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। ... ইন্নালিল্লাহি-ওয়া-ইন্না-ইলাহি-রাজি-উন।
30/12/2025

আপনার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। ... ইন্নালিল্লাহি-ওয়া-ইন্না-ইলাহি-রাজি-উন।

09/12/2025

**“আপনি চাইলেও এখন পেট্রোল পাম্প থেকে, সাথে গাড়ি না থাকলে, ১ লিটার অকটেন কিনতে পারবেন না! চেক করে দেখতে পারেন।

অথচ ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন না থাকলেও আপনি দামি দামি অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন বা যে কোন ওষুধ কিনতে পারবেন!

স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্য কখনোই সহ্য করা যাবে না
কারণ আমরা এই অনিয়ম পুষে রাখতে ভালোবাসি।

29/11/2025

বাংলাদেশে ডাক্তার কারা---

১/ আমি ডাক্তার.....
৩ বছর ডিপ্লোমা পড়েছি ম্যাটস এ, ১ বছর সদর হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করেছি, রেজিস্ট্রেশন দিয়েছে BMDC... তাই মেডিকেল এসিসট্যান্ট থেকে চিকিৎসক হয়ে গেছি! উপজেলা হাসপাতালগুলোতে আমরাই সকল চিকিৎসা দিই!!

২/ আমি ডাক্তার.....
ALTERNATIVE MEDICINE (হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদিক) পড়েছি ৫ বছর, ইন্টার্নশিপ করেছি। এখন হোমিও'র পাশাপাশি এ্যালোপেথিকও চিকিৎসা করি! সরকার আমাকে ফার্স্ট ক্লাস অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিছে হাসপাতালগুলোতে!!

৩/ আমি ডাক্তার....
ফিজিওথেরাপি পড়েছি, টুকটাক ওষুধের নাম জানি, হাইকোর্টে রিট করে ফিজিওথেরাপিস্ট থেকে ডাক্তার বনে গিয়েছি!!

৪/ আমিও ডাক্তার....
ক্লিনিকে অনেক বছর নার্স হিসাবে আছি। ডেলিভারী করাই আমরা, চিকিতসাও দিতে পারি!!

৫/ আমি ডাক্তার....
কারণ আমি মেডিকেল টেকনিশিয়ান। ল্যাবে টেস্ট করি, রিপোর্ট দেই, আর ডাক্তারি করতে পারবো না!!

৬/ আমি ডাক্তার... কারণ, আমি ওটি/ওয়ার্ড বয়!

৭/আমি ডাক্তার, কারণ আমি স্বাস্থ্য কর্মী। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা দিই। গ্রামের মানুষ আমাদের ডাক্তার বলেই জানে!!

৮/আমি ডাক্তার....
কারণ ৩ মাস কোর্স করেছি! সরকার আমাকে সিএইচসিপি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের বড় ডাক্তার আমরা!!

৯/ আমি ডাক্তার....
কারণ, আমি বড় ডাক্তারের চেম্বারের কম্পাউন্ডার!!

১০/ আমিও ডাক্তার....
কারণ, গলির মোড়ে একখান ঔষধের দোকান আছে আমার! গ্যাসের সমস্যা, পাতলা পায়খানা থেকে শুরু করে বাচ্চা না হওয়া পর্যন্ত সব চিকিতসাই দিই!!

১১/ আমি ডাক্তার....
কারণ, আমি ক্লিনিকের ম্যনেজার।

১২/আমি ডাক্তার....
কারণ, আমি ঔষুধ কোম্পানিতে চাকুরী করি।

১৩/ আমি ডাক্তার....
কারণ, আমি ১৫ বছর ধরে বাচ্চা ডেলিভারি করাই।

১৪/ আমি ডাক্তার....
কারণ, আমি পাড়ায় পাড়ায় খৎনা করাই।

১৫/ আমি সাংবাদিক ডাক্তার....
কারণ, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা ভুল কিনা আমিই বলতে পারি।

১৬/ আমি ডাক্তার.... যেহেতু আমি বাংলাদেশী।।

হীরক রাজার দেশে,
মানুষের স্বাস্হ্য নিয়ে যার যা খুশি তাই করতেছে..... তবুও আমরা সুস্থভাবে বেচে আছি, এটাই বড় কথা বলে মনে হয় আমার! 😱

Courtesy- Mubasshir Hasan Limon

26/11/2025

#সরকারী_হাসপাতালের_দালাল_সমাচার

আচ্ছা, অনেক ভারী আলোচনা না করে আসুন একটা গল্প বলি।

ধরেন, একটা জেলা সদর হাসপাতালে গেলেন।
গেলেন হাসপাতালটার জরুরী বিভাগে।

জরুরী বিভাগ হলো হাসপাতালের সবচেয়ে ডায়নামিক জায়গা। সব দিক থেকেই ডায়নামিক।

যেমনঃ এখানে সব সময় রোগীর ভিড় লেগেই থাকে। প্রচন্ড অসুস্থ রোগীরা সবার আগে এখানেই আসেন। সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগীরাও এখানে আসেন। ছোট ছোট বাচ্চাদের জটিল রোগ নিয়েও অভিভাবকরা দুপুর রাতে এখানেই আসেন। আবার গ্রামের মানুষজন মারামারি করে একে অন্যের মাথা ফাঁটিয়ে মামলার মতলব নিয়ে সদলবলে এখানে আসেন। মানে জরুরী বিভাগ আসলে রোগী দিয়ে সব সময় ভরা থাকবে। একটি ছোট্ট জায়গায় অনেক রোগী এক সাথে এসে সবার প্রয়োজন এক সাথে তুলে ধরলে কি একটা অবস্থা তৈরী হতে পারে আশা করি বোঝা যাচ্ছে।

এবার বেচারা ডাক্তার সাহেবের জন্যও জরুরী বিভাগ সুপার ডায়নামিক জায়গা। সবাই এসে বলে তার রোগী 'সিরিয়াস'। যে সাধারণ সর্দি কাশি নিয়ে এসেছে, সেও সিরিয়াস, আবার "২/৩ দিন ধরে পায়খানা ক্লিয়ার হচ্ছে না" সেই রোগীও বলে তার রোগ সিরিয়াস।

আসলে "সিরিয়াস" অবস্থায় থাকেন ডাক্তার সাহেব নিজে। কারণ রুম ভর্তি এক গাদা অসহিষ্ণু রোগী ও রোগীর স্বজন রেখে তিনি দ্বিতীয় কোন কাজের আর ফুরসৎ পান না। যেমনঃ তিনি ওয়াশ রুমে যেতে পারেন না, প্রয়োজনের সময় নাস্তা করতে পারেন না, এমনকি তার পরিবার থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোন ফোন এলে রিসিভও করতে পারেন না। একের পর এক রোগীকে তাদের কষ্ট থেকে উপশম দিয়ে চলাই তার কাজ।

তো ধরেন, আমাদের গল্পে, সেই জরুরী বিভাগে একজন ডাক্তার বসে রোগী দেখছেন। তাকে ঘিরে আছেন এক দল রোগী ও তার স্বজন। এর মধ্যে হঠাৎ একজন এসে বললেন, "স্যার আমার এই রোগীটা একটু সিরিয়াস, একটু দেখে দেন। লাগলে টেস্ট দিয়ে দেন। করায়ে নিয়ে আসি"। এই লাইনটা শোনা মাত্রই ডাক্তার সাহেব ঘাড় ঘুরিয়ে তাকান। কারণ গরীব জনপদের রোগীর তো টেস্ট করার ব্যাপারে আগ্রহ থাকতে পারে না।

আসলে রোগীর এই চরম হিতাকাঙ্খী মানুষটি রোগীর কেউ নন। তিনি ডায়াগনস্টিক ল্যাবের এজেন্ট বা ফিল্ড ম্যানেজার বা প্রমোশনাল ম্যানেজার বা এক্সেকিউটিভ। যে আহামরি নামেই তাকে ডাকি না কেন, সাধারণের ভাষ্যে তিনি একজন 'দালাল'!

এই শব্দটি অ্যাপোস্ট্রপি বা কোটেশন মার্কের মধ্যে রাখলাম, কারন 'দালাল' শব্দটি আমার তৈরী করা না। সাধারণ মানুষ ডায়াগনস্টিক এজেন্টদের এই নামেই সম্বোধন করেন বলে আমি স্বিতীয় কোন শব্দ আর খুঁজে পেলাম না। আমি তাদের পেশাকে অসম্মান করছি না। কিন্তু আর কোন উপযুক্ত শব্দ আমার জানা নেই। আমি আমার এই অপারগতা মেনে নিচ্ছি।

এই 'দালাল' শ্রেণীর পেশাজীবীদের একটি সুপরিচিত অভিনয় হলো, রোগীর কষ্টে 'উহু আহা' করা। এই উহু আহা করে তারা রোগী বা তার স্বজনদের সিমপ্যাথি অর্জনের চেষ্টা করেন। সিমপ্যাথিটা পেয়ে গেলে এই রোগী তার হাতের পুতুল হয়ে যায়।

জরুরী বিভাগে এসে চিকিৎসককে দিয়ে অনেক গুলো টেস্ট লিখিয়ে নিয়ে প্রাইভেট ল্যাবের এবং কমিশনের মাধ্যমে নিজের পকেট ভারী করে ফেলেন এই মহাপুরুষেরা।

প্রশ্ন করতে পারেন, ডাক্তার সাহেব কেন 'দালাল' এর কথায় টেস্ট লিখে দিবেন?

কারণ খুবই সিম্পল। একজন চিকিৎসক মেধায়-জ্ঞানে-দক্ষতায় যতোই সমৃদ্ধ হন না কেন, আদতে তিনি একা, একজন নিরীহ সরকারী কর্মচারী। রাষ্ট্র তার রক্ষায় কোন নিরাপত্তা আবরণী দেয় নাই।

ধরেন, জরুরী বিভাগের চিকিৎসক সাহেব, অপ্রয়োজনীয় টেস্ট লিখে দিলেন না। বিনিমিয়ে কি হবে? এই সুসংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট হাসপাতাল এলাকায় চিকিৎসককে নিয়ে কুৎসা রটানো শুরু করবে। চিকিৎসকের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। নারী চিকিৎসক হলে তার পোশাক ও চরিত্র নিয়েও টানাটানি শুরু হবে। চিকিৎসক জরুরী বিভাগের ভিতরে বসে নিরলসভাবে তার দায়িত্ব পালন করে হাঁপিয়ে উঠছেন, আর অন্যদিকে তার অজান্তেই হয়তো তার বিরুদ্ধে তৈরী হচ্ছে উত্তেজক পাবলিক সেন্টিমেন্ট।

"যস্মিন দেশে যদাচারঃ" যে দেশে যে নিয়ম আর কি! এই দেশে কিছু ক্ষেত্রে অনিয়মটাই নিয়ম।

সাধারণ জ্বরে ১ দিন ভোগা একজন রোগীর কোন টেস্টই আসলে প্রয়োজন নাই। তারপরো চিকিৎসক যদি টেস্ট লিখে না দেন, তিনি এই 'দালাল' দের মাধ্যমে পরিণত হবেন গণশত্রুতে। জ্বর যদি ৩-৫ দিনের বেশি হয়, একজন চিকিৎসক CBC, Dengue IgG+IgM, Urine RE, কখনো বা এন্টিজেন টেস্ট সহ আরো কিছু টেস্ট লিখে দেন।

কিন্তু এই সব টেস্টই তো সরকারী হাসপাতালে হয় এবং খুব সামান্য খরচে হয়। যেমনঃ Urine RE এই টেস্ট টা করতে সরকারী হাসপাতালে খরচ হয় ২০ টাকা। অথচ এই সকল টেস্ট ল্যাব প্রতিনিধিদের দৌরাত্ন্যে রোগীরা অনেক বেশি টাকা খরচ করে বাইরের ল্যাব থেকে করে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক সাহেব যদি ভুলেও 'দালাল' বাহাদুরের সামনে বলে ফেলেন যে হাসপাতালের ভিতর থেকে টেস্টগুলো করেন, তিনি আরেক দফা গণশত্রুতে পরিণত হবেন।

প্রশ্ন করতে পারেন, এদের বিরুদ্ধে কিছুই কি করার নাই? উত্তর হলোঃ 'না'
কারণ হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে রাষ্ট্র সেই ক্ষমতা কোন কালেই দেয় নাই, যে রোগীর স্বার্থে হাসপাতাল অথোরিটি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। মাঝে মাঝে জেলা বা উপজেলার প্রশাসনের বদান্যতায় ২/৪ জনকে আটক করা হয় অথবা বিশেষ অভিযানে হাতে নাতে ধরা গেলে কয়েকজন হয়তো ধরা পরে এবং সেগুলো নিউজে প্রচার হয় ঠিকই। কিন্তু এটি আসলে মহাসাগর থেকে ১ বালতি পানি তোলার মতোই।

ভুলে গেলে চলবে না, লক্ষ কোটি টাকার বাণিজ্য জড়িয়ে রয়েছে এই সিস্টেমকে ঘিরে। এই সিস্টেমের ফলভোগী অনেকেই। চাইলেই কি সবার ফল গাছে হাত দেওয়া যায়!

বরং চিকিৎসক সাহেব নিরীহ মানুষ। সারাজীবন কারো ক্ষতি করেন নাই, ধান্দাবাজি শেখেন নাই। পড়াশোনা করেছেন। দিনের সিংহভাগ সময় বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে পরে থেকেছেন। রাতের পর রাত জেগেছেন রোগীদের জন্য। নিজের মা-বাবা কে সময় না দিয়ে সময় দিয়েছেন অন্যের মা-বাবাকে।

নিরীহ মানুষরা অসম যুদ্ধে নামতে চাইবেন না, এটাই স্বাভাবিক। অসম যুদ্ধ, সেটা যুদ্ধ নয়, সেটা অন্যায়, সেটা অত্যাচার। হাসপাতাল কেন্দ্রিক কতিপয় অসাধু লোক তাই চিকিৎসকদের পিছনে লেগে থাকেন। তক্কে তক্কে থাকেন কিভাবে হাসপাতালে এসে একটা হট্টগোল বাঁধানো যায়। বাণিজ্যের সাথে সেবার যুদ্ধে, আদিমকাল থেকেই বাণিজ্যই জিতেছে।

তবে গণমাধ্যমে যদি আরো সংবেদনশীল হতো, পরিস্থিতি এতো ভয়াবহ হতো না। কিন্তু কতিপয় গণমাধ্যম অনলাইনে কোন প্রকার যাচাই-বাছাই বা সরেজমিনে তদন্ত ছাড়াই যখন একজন চিকিৎসকের বিশেষায়িত সেবাকে "ভুল চিকিৎসা" বলে নাগরিক দায়িত্ব পালন করেন, তখন এই সকল অসাধু সিন্ডিকেট আরো উৎসাহী হয়। আরো শক্তিশালী হয়। চিকিৎসকদের "গণশত্রু" বানাতে তাদের সুবিধা হয়।

যদি কখনো শোনেন হাসপাতাল এলাকার ফার্মেসীতে বা কোন ক্লিনিকের সস্তা আড্ডাখানায় সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিয়ে জমপেশ মুখরোচক আলোচনা হচ্ছে, ধরেই নিতে পারেন এই চিকিৎসকরা রোগীদের ভালোর জন্য কোন না কোন কাজ করছেন, যা এই বাণিজ্য সম্রাটদের স্বার্থে আঘাত হেনেছে।

যে চিকিৎসক টেস্ট লিখেন না বা কম টেস্ট লিখবেন, তিনি কেনই বা এদের চোখে ভালো হবেন? যে চিকিৎসক মুখের উপর প্রশ্ন করে বসেন "ভাই সাথের রোগী আপনার কে হয়?" সেই চিকিৎসক তো অবশ্যই খারাপ। যে চিকিৎসক বিনা প্রয়োজনে এন্টিবায়োটিক লিখলেন না, তার মতো খারাপ চিকিৎসক অত্র জেলায় আর একটিও নাই!!

তবে জেনে রাখুন, হাসপাতালে চিকিৎসক একা। বড্ড একা। তার সম্বল শুধু তার নলেজ আর স্কিল। এই নলেজ আর স্কিল অর্জন করতে তা বহু বিনিদ্র রজনী খরচ হয়েছে। এই নলেজ আর স্কিল তিনি অর্জন করেছেন আপনাদেরই জন্য। এই নলেজ আর স্কিল দিয়েই তিনি অজস্র রোগীকে সুস্থতার হাসি দিয়েছেন। মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন আপনারই কোন স্বজনকে।

কিন্তু চিকিৎসকের আর কোন সম্বল নাই। আর কোন অস্ত্র নাই। সে একা এবং অসহায়। একজন চিকিৎসকের মূল শক্তি তার রোগীরা। রোগীরা যদি দালালদের হাতে জিম্মী হয়ে পরেন, একই সাথে চিকিৎসকও জিম্মী হয়ে পরেন অসত্য প্রোপাগান্ডার কাছে।

সরকারী হাসপাতাল গুলোতে অনেক সমস্যা আছে, এটা সত্য কথা। কিন্তু এর দায় চিকিৎসকের না। তিনি এই অবস্থা তৈরী করেন নি।

বরং তিনিই সেই সৈনিক যিনি শত সীমাবদ্ধতার মাঝে থেকেও লড়াই করে চলেছেন। জরুরী বিভাগে তার বিশ্রাম নেই, তার আহারের সময় নাই, এক গ্লাস পানি খাওয়ার সময় নাই, প্রিয়জনের সাথে ১ মিনিট কথা বলার অবকাশ নাই, তিনি শুধু আপনার জন্যই সেখানে আছেন। তাই একজন চিকিৎসক আপনার সবচেয়ে বড় বন্ধু। তাকে সময় দিন, ধৈর্য্য ধরে তাকে সহযোগিতা করুন। তিনি আপনার জন্য নিজের সর্বোচ্চটা করবেন। কারণ তিনি আর কিচ্ছু শিখেন নি। শুধু এই একটা কাজই শিখেছেন। আপনার বা আপনার প্রিয় মানুষটার সেবা করার দুর্লভ ও মহিমান্বিত এই কাজ।

হাসপাতালে একজন চিকিৎসকের থেকে বেশি "আপন" আপনার আর কেউ নাই।

-
ডাঃ রাজীব দে সরকার
সার্জারী বিশেষজ্ঞ। গবেষক। কলামিস্ট

প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
20/11/2025

প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

20/11/2025

⚠️ সতর্কতা: প্রেসক্রিপশন ওষুধ পরিবর্তন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ ⚠️

🔴 কোনো ফার্মেসি দোকানদার যদি ডাক্তার কর্তৃক নির্ধারিত ওষুধ:
✅ পরিবর্তন করেন (ভিন্ন ওষুধ দেন)
✅ কোম্পানি পরিবর্তন করেন (অন্যান্য ব্র্যান্ডের ওষুধ দেন)
✅ বদনাম করেন (ডাক্তারের নির্ধারিত ওষুধ সম্পর্কে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন)

➡️ তাহলে এটি বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ।

🔹 এ ধরনের অপরাধের জন্য কী শাস্তি হতে পারে?

⚖ ড্রাগ আইন, ১৯৪০ এবং ঔষধ নীতি, ২০১৬ অনুযায়ী:
✔ ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
✔ ৫০,০০০ টাকা বা তার বেশি জরিমানা হতে পারে।
✔ ফার্মেসির লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে।
✔ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (DGDA) চাইলে ফার্মেসি সিলগালা করতে পারে।
✔ ফার্মাসিস্ট রেজিস্ট্রেশন বাতিল হতে পারে।

🔹 কেন এটি অপরাধ?

❌ ভুল ওষুধ বা কোম্পানি পরিবর্তনের ফলে রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে।
❌ কিছু ওষুধের কার্যকারিতা ভিন্ন হয়, যা মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
❌ ডাক্তার রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ওষুধ নির্ধারণ করেন, তাই পরিবর্তন করলে রোগীর ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।

❗আপনার করণীয়:

✔ কোনো ফার্মেসি দোকানদার যদি আপনার প্রেসক্রিপশনের ওষুধ পরিবর্তন করতে চান, কোম্পানি বদলান বা ওষুধ সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেন, তাহলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (DGDA)/উপজেলা প্রশাসন/ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানান।

🔄 সুস্থ থাকতে সচেতন হোন, নিয়ম মেনে ওষুধ কিনুন!
🔄নিজে বাঁচুন, অন্য প্রাণগুলোকেও বাঁচান।
©
সুত্রঃ

Collected

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ব্যতীত যত্রতত্র antibiotics বা antifungal সেবন করবেন না।প্রেস...
19/11/2025

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ
রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ব্যতীত যত্রতত্র antibiotics বা antifungal সেবন করবেন না।

প্রেস্ক্রিপশন ব্যতীত অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রয় আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
[সেকশন ৪০(ডি), ঔষধ ও কসমেটিকস আইন - ২০২৩]

ACT NOW:PROTECT OUR PRESENT,
SECURE OUR FUTURE

বিশ্ব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স সচেতনতা সপ্তাহ
(১৮ - ২৪ নভেম্বর, ২০২৫) সফল হোক।




ডাক্তারদের কাজ কি রোগী মারা???প্রতিটি মানুষ তার পেশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এই পেশার উপর ভর করে তার সংসার চলে। যে...
09/11/2025

ডাক্তারদের কাজ কি রোগী মারা???

প্রতিটি মানুষ তার পেশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এই পেশার উপর ভর করে তার সংসার চলে। যেমন একজন রাঁধুনী যদি রান্নাটা ভালো না করে তাহলে কেউ তাকে রান্নার জন্য ডাকবে না।

ডাক্তারদের প্রধান কাজ রোগীদের চিকিৎসা দেয়া। রোগী সুস্থ বা অসুস্থ হওয়া পুরোপুরি মহান সৃষ্টিকর্তার উপর নির্ভর করে। পৃথিবীর কোন ডাক্তার চায় না তার রোগী মারা যাক, কারন রোগী মারা গেলে ডাক্তারের কোন লাভ, প্রমোশন, আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। বরং রোগী খারাপ থাকলে আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, বই, গাইডলাইন পড়ি- এই রোগীর জন্য আর কি করা যায়? কি করলে রোগী সুস্থ হবে সে চেষ্টা করি।

আমাদের দেশে রোগী মারা গেলেই ডাক্তারের দোষ, রোগীর লোক বলেন- এই ডাক্তার রোগী মেরে ফেলছেন?? আরে এটা কোন কথা? ডাক্তার রোগী মারবেন কোন দুঃখে? যা হোক, আমার মনে হয় আমাদের দেশে যদি চিকিৎসা ব্যবস্থার ধাপগুলো ঠিকমতো কাজ করতো, রেফারেল সিস্টেম থাকতো তাহলে জটিল রোগীরা সর্বোচ্চ কেয়ার পেতো তখন মানুষের এসব অভিযোগ থাকতো না। তাই আমি মনে করি চিকিৎসা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস খুব জরুরী। মানুষ যে কোন সমস্যা হলেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না দেখিয়ে জিপি বা এমবিবিএস চিকিৎসক দেখান। জটিল রোগী হলে জিপি বা এমবিবিএস চিকিৎসক রেফার করলে তবেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর কাছে যাবেন। এতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপর চাপ কম হবে, জটিল রোগিগুলো পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাবে।

এসব পরিবর্তন সরকারী পদক্ষেপ ছাড়া সম্ভব নয়। তবে বর্তমানে যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তাদেরকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। কারন সরকার সকল চিকিৎসা সেবা সকল মানুষকে প্রদান করার ক্ষমতা রাখেন না। রংপুরে কিছুদিন পূর্বে এনজিওগ্রাম শুরু হয়েছে, এই এনজিওগ্রাম, রিং পড়ানো সেট আপের জন্য প্রচুর ইনভেস্ট করতে হয়। এই এনজিওগ্রাম রংপুরে শুরু হওয়ায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে রংপুরের মানুষ। কারন হার্ট এট্যাকের সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা হলো প্রাইমারী পিসিআই বা রিং পড়ানো।

যেসব রোগীর রিং পড়াতে হয় তারা অত্যন্ত ক্রিটিকাল রোগী, এই রোগীদের যে কোন সময় যে কোন কিছু হয়ে যেতে পারে। আবার রিং পড়ানোর সময়ও রোগীর Cardiac arrest এর ঝুঁকি থাকে। এসব কিছু বুঝেশুনে মেনে নিয়ে এনজিওগ্রাম এ যেতে হয়। যাহোক, রংপুর এ এনজিওগ্রাম এর যে নতুন দিগন্ত সূচনা হয়েছে সেটা যেন ব্যহত না হয় সেটা সবার খেয়াল রাখা উচিত। কারন এনজিওগ্রাম বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষতি রংপুরের মানুষেরই হবে।
Dr. Ratin Mandal

31/10/2025

Address

Dhanmondi
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Shohag SiNan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr. Shohag SiNan:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category

সুস্বাস্থ্যের লক্ষ্যে ই-স্বাস্থ্য

আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য স্বাস্থ্য বিষয়ক যেকোন জটিলতার সঠিক সমাধান এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবাকে আরও সহজতর করা। তৃণমূল পর্যায়ে ই-স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে আমরা চেষ্টা করছি।এখান থেকে যেকোন সময়, যেকোনো জায়গা থেকে অনলাইনেই প্রোফেশনাল ডাক্তারদের পরামর্শ নিতে পারবেন। সার্বিকভাবে এটিই হল আমাদের ই-স্বাস্থ্যসেবা।