14/10/2017
courtesy : Dr. Sabrina Abbas
ছোট্ট থেকেই শিশুর দাঁতের যত্ন নিন। দাঁতই শরীরের একমাত্র অংশ যা পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারেনা, regenerate করতে পারেনা। কিন্তু উন্নত ও advancing ট্যাক্নোলোজির সাহায্যে একে repair করা সম্ভব।অনেকের ভ্রান্ত ধারণা দুধ দাঁত এ পোকা(ক্ষয়),দাগ,নির্দিষ্ট বয়সের আগে পড়ে যাওয়া কোনো ব্যাপার না,পারমানেন্ট দাঁতে এটার কোনো এফেক্ট নাই। আবার অনেকে তাচ্ছিল্য করে বলেই ফেলেন-'আমরা ছোট্টবেলা চকলেট,মিষ্টি সব ই খেয়েছি, কিন্তু দাঁত ভালোভাবেই উঠেছে' কিংবা এত ছোট বাচ্চার ডেন্টিস্টের কাছে নেয়ার কি দরকার।ঘরে বসে ই নড়া দাঁত সুতা পেচিয়ে কিংবা কয়েকজন দফায় দফায় দাঁত এদিক সেদিক নড়িয়ে ফেলে দিলেই হয়। অনেক সময় নির্দিষ্ট সময়ের পর ও দাঁত পড়েনা।সেটাও অনেকে আমলে নেন না।
গর্ভাবস্থায় জেনারেল মেডিসিন ডাক্তার দ্বারা কোনো এন্টিবায়োটিক প্রেস্ক্রাইভড হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিন। কেননা,কিছু এন্টিবায়োটিক , যেমন -টেট্রাসাইক্লিন গ্রুপের এন্টিবায়োটিক শিশুর দন্ত গঠনে বিরূপ প্রভাব ফেলে।এর কারণে পরবর্তী তে malformed tooth কিংবা permanent teeth এ intrinsic stain হতে পারে
যার চিকিতসা সাধারনত ব্লিচিং,কম্পোসিট বিল্ডাপ কিংবা ভিনারিং।
দাঁতের যত্ন শুরু করা উচিত অন্তত Bottle feeding থেকেই।মাড়িতে দাঁত আসার পর bottle feeding কিংবা অন্য কোনো মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ানোর পর কাপড় দিয়ে মাড়ি ও দাঁত মুছে দেয়া উচিত।রাতে bottle feeding avoid করা উচিত। কেননা এ সময় দুধ বাচ্চা যে কাতে শোয় সেখানে জমে দন্ত ক্ষয়(caries) করতে পারে।co-operate করতে পারে এমন বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বাবা মা কিংবা বাচ্চা নিজেই খাওয়ার পর(সকালে ও রাতে অন্তত দু'বার) দাঁত পরিষ্কার করে নিবে দন্ত ক্ষয় প্রতিরোধের জন্য।
- নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে দাঁত কোনো কারণে (দূরঘটনা, ক্ষয় কিংবা অন্য কারনে) পড়ে গেলে ডেন্টিস্ট এর শরণাপন্ন হোন।তানাহলে অন্য দাঁত গুলো সরে এসে আকা বাকা দাঁত (crowding), midline shifting এরকম অনেক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
- দুধ (decidous)teeth এ ক্ষয় হলে ডেন্টিস্ট এর কাছে পরামর্শ মোতাবেক ফিলিং কিংবা পাল্পোটমি(Pulpotomy) /পাল্পেক্টমি(pulpectomy) করিয়ে নিন। এই দাঁত,পরবর্তীতে আসা পার্মানেন্ট দাঁতের স্থান সংরক্ষন করবে এবং সেই সাথে আকা বাকা দাঁত ওঠে প্রতিরোধ করবে। তবে কোনো কারণে দাঁতটি রাখা না গেলে দাঁতটি ফেলে দিয়ে(extraction) আপনার ডেন্টিস্ট ই প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন।একাধিক দাঁত ওঠানোর ক্ষেত্রে খাওয়া কথা বলা কিংবা বাচ্চার কনফিডেন্স রক্ষার জন্য Denture ইউজ করতে দিতে পারেন
-পারমানেন্ট দাঁতের ক্ষয়ের ক্ষেত্রে রুট ক্যানাল করে ক্যাপিং(capping) করে নিতে হতে পারে। ক্যাপ না করলে পরবর্তীতে দাঁত ভেংগে যেতে পারে।চিন্তা করুন একজন ১২/১৩ বছরের বাচ্চার মাড়ির দাত অল্প বয়সে ভেংগে গেলে ব্যাপারটা কেমন দাঁড়াবে?কিংবা ভেংগে যাওয়া দাঁতটা ফেলে দিলেন , বাকি দাঁতগুলো ও সরে এলো,ফলস্বরূপ দাঁত ফাকা ফাকা হয়ে যাবে।
-এসব ছাড়াও বাচ্চার যদি কোনো বদ অভ্যাস থাকে যেমন- Thumb Sucking, Tongue Thrusting etc,তাহলে তা ছোট বয়সেই প্রতিহত করুন।কেননা এই বদ অভ্যাস গুলো থেকে উচু দাঁত, উঁচু দাঁতের ফলশ্রুতিতে ঠোট ফাকা থাক,কথা বলতে সমস্যা, এরকম আরো অনেক সমস্যা হতে পারে।
-ঠোট কাটা কিংবা তালু কাটা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওরাল ম্যাক্সিলোফ্যাসিয়াল্ সার্জন কিংবা আমাদের দেশের ক্ষেত্রে দেশের একমাত্র সরকারি ডেন্টাল কলেজ-ঢাকা ডেন্টাল কলেজে যোগাযোগ করতে পারেন যেখানে বিনামূল্যে ঠোট/তালু কাটার চিকিতসা করা হয়।
**
উপরে উল্লেখিত প্রতিটি চিকিতসা (capping ছাড়া) মিরপুর -১৪ তে অবস্থিত দেশের একমাত্র সরকারী পূরনাঙ্গ ডেন্টাল কলেজ -'ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ' এ available.