02/04/2026
#হামের আক্রমণ, ভয় নয়, জানুন দ্রুত আরোগ্য ও নিরাপদ হোমিও সমাধান!
শরীরে লালচে র্যাশ, প্রচণ্ড জ্বর আর সর্দি-কাশি—হামের এই লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না। সঠিক যত্ন আর প্রাকৃতিক চিকিৎসায় আপনার সন্তানকে দ্রুত সুস্থ করে তুলুন।
#হাম হওয়ার ৫টি প্রধান কারণ-
১. মরবিলি ভাইরাস (Morbilli Virus):-
এটি হামের প্রধান কারণ, যা বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়।
২. শ্বাসপ্রশ্বাসের ড্রপলেট:-
আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে ভাইরাসটি সুস্থ মানুষের শরীরে ঢোকে।
৩. স্পর্শ:-
আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত রুমাল, জামাকাপড় বা তোয়ালে ব্যবহার করা।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব:-
ভিটামিন-এ এর ঘাটতি থাকলে হাম হওয়ার ঝুঁকি ও জটিলতা বাড়ে।
৫. টিকা না নেওয়া:-
সময়মতো এমএমআর (MMR) ভ্যাকসিন না নিলে সংক্রমণের সম্ভাবনা প্রবল থাকে।
#জরুরি ঘরোয়া টিপস (Care Tips)-
বিচ্ছিন্ন রাখা (Isolation):-
আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা ঘরে রাখুন যাতে পরিবারের অন্য কেউ সংক্রমিত না হয়।
বিশ্রাম:-
শরীরকে পুরোপুরি সেরে উঠতে পর্যাপ্ত ঘুমের সুযোগ দিন।
প্রচুর তরল পান:-
ডাবের জল, ফলের রস এবং প্রচুর জল পান করান যাতে ডিহাইড্রেশন না হয়।
ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার:-
গাজর, মিষ্টি কুমড়া ও সবুজ শাকসবজি দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করে।
উজ্জ্বল আলো এড়ানো:-
হামে চোখ খুব সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, তাই ঘর কিছুটা অন্ধকার বা মৃদু আলোয় রাখুন।
কুসুম গরম জল:-
সর্দি ও কাশির অস্বস্তি কমাতে কুসুম গরম জল দিয়ে মুখ ধোয়ান।
নিম পাতার জল:-
গোসলের জলে নিম পাতা মিশিয়ে নিন, এটি জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে।
জোর করে খাওয়ানো নয়:-
এই সময় খিদে কমে যায়, তাই অল্প অল্প করে সহজপাচ্য খাবার দিন।
পরিচ্ছন্নতা:-
আক্রান্তের নখ ছোট রাখুন যাতে র্যাশ চুলকালে ক্ষত না হয়।
আদা ও মধু:-
কাশি কমাতে সামান্য আদার রসের সাথে মধু মিশিয়ে খাওয়ান।
#হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ও প্রধান ৩টি করে লক্ষণ-
ঔষধের নাম লক্ষণ-
১. Pulsatilla- হামের প্রধান ঔষধ; তৃষ্ণাহীনতা। খোলা বাতাসে আরামবোধ | কাঁদুনে স্বভাব ও স্নেহ চায়।
২. Bryonia Alb- র্যাশ ঠিকমতো বের হতে না পারা। সামান্য নড়াচড়ায় কষ্ট বাড়ে। প্রচণ্ড জল তেষ্টা ও কোষ্ঠকাঠিন্য।
৩. Gelsemium- চোখ-মুখ ভারী ও ঝিমুনি ভাব। শরীর থরথর করে কাঁপা। পিপাসাহীনতা ও অত্যন্ত দুর্বলতা।
৪. Aconite Nap- হঠাৎ তীব্র জ্বর ও অস্থিরতা, প্রচণ্ড মৃত্যুভয় ও ছটফটানি, শুকনো ঠান্ডা বাতাসে বৃদ্ধি।
৫. Belladonna - মুখ ও চোখ লাল হয়ে যাওয়া। দপদপানি মাথা ব্যথা। র্যাশগুলো উজ্জ্বল লাল রঙের।
৬. Antim Crud- জিভে পুরু সাদা আস্তরণ, টক খাবার ও আচারের ইচ্ছা, রোদ বা আগুনের তাপ সহ্য হয়না।
৭. Arsenic Alb - মধ্যরাতে বৃদ্ধি ও অস্থিরতা, অল্প অল্প জল তেষ্টা, খুব বেশি দুর্বলতা ও মৃত্যুভয়।
৮. Apis Mel-
মৌমাছি কামড়ানোর মতো জ্বালা, হুল ফোটানো ব্যথা ও ফোলা, গরমে কষ্ট বাড়ে, ঠান্ডায় আরাম।
৯. Euphrasia-
চোখ দিয়ে গরম জল পড়া। চোখ লাল হওয়া ও জ্বালা, সর্দি কিন্তু নাকে জ্বালা নেই।
১০. Allium Cepa- নাক দিয়ে ঝাল জল পড়া, হাঁচি ও নাকে জ্বালা, চোখে জল কিন্তু জ্বালা নেই।
১১. Sulphur - গোসল করতে অনীহা ও চুলকানি। পায়ের তলায় জ্বালা। মিষ্টি খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা।
১২. Rhus Tox বৃষ্টির দিনে বা ঠান্ডায় বৃদ্ধি, অস্থিরতা ও গা-হাত-পা ব্যথা, নড়াচড়া করলে আরাম বোধ।
১৩. Hepar Sulph- পুঁজের প্রবণতা ও শীতকাতরতা। সামান্য ঠান্ডায় কাশি বাড়ে। স্পর্শকাতরতা।
১৪. Kali B**h - আঠালো ও সুতার মতো শ্লেষ্মা, বিন্দু পরিমাণ স্থানে ব্যথা, সর্দি বসার প্রবণতা।
১৫. Ipecac- অবিরত বমি বমি ভাব, পরিষ্কার জিভ। বুকে সাঁ সাঁ শব্দ ও কাশি।
১৬. Merc Sol- রাতে বৃদ্ধি ও প্রচুর ঘাম, মুখ দিয়ে লালা পড়া ও দুর্গন্ধ, জিভে দাঁতের ছাপ।
১৭. Phosphorus- লম্বা ও ছিপছিপে গড়ন। ঠান্ডা জল ও আইসক্রিম প্রিয়। একা থাকতে ভয় পাওয়া।
১৮. Calcarea Carb - মোটা ও ঘর্মাক্ত শিশু, মাথায় প্রচুর ঘাম ও শীতকাতর, ডিম খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা।
১৯. Lycopodium- বিকেল ৪-৮টায় বৃদ্ধি, পেটে গ্যাস ও গরম খাবার পছন্দ, ডান পাশে বেশি সমস্যা।
২০. Silicea- কানে পুজ হওয়া বা কানে ব্যথা, পায়ে দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম, খুব লাজুক ও ভিতু স্বভাব।
২১. Camphora- শরীর বরফের মতো ঠান্ডা হওয়া, র্যাশ হঠাৎ বসে গিয়ে শ্বাসকষ্ট, কাপড় ঢাকা নিতে চায় না।
২২. Morbillinum- হামের প্রধান প্রতিরোধক ঔষধ, সংক্রমণের সময় এটি জাদুর মতো কাজ করে, শরীরের ইমিউনিটি বাড়ায়।
২৩. Veratrum Vir - প্রচণ্ড জ্বর ও মাথায় রক্ত সঞ্চালন, জিভে লাল রেখা, নাড়ির গতি খুব দ্রুত।
২৪. Stramonium- অন্ধকারে ভয় ও আলোর তৃষ্ণা, জ্বরের ঘোরে ভুল বকা, অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি করা।
২৫. Zincum Met - পা সব সময় নাড়ানো, স্নায়বিক অবসাদ, র্যাশ বের হতে বাধা পাওয়া।
২৬. Coffea Cruda- অতিরিক্ত উত্তেজনায় ঘুম না হওয়া, সামান্য আওয়াজে কষ্ট বাড়ে, স্নায়বিক উত্তেজনা।
২৭. Ferrum Phos - জ্বরের প্রাথমিক অবস্থা, গাল দুটো মাঝে মাঝে লাল হয়, রক্তশূন্য ও দুর্বল শিশু।
২৮. Dulcamara- মেঘলা বা ড্যাম্প আবহাওয়ায় বৃদ্ধি, সর্দি ও কাশিতে আরাম, র্যাশগুলো বড় বড়।
২৯. Hyoscyamus- রাতের বেলা কাশি বাড়ে, অসংলগ্ন কথাবার্তা ও অস্থিরতা, কাপড় খুলে ফেলার প্রবণতা।
৩০. Carbo Veg - বাতাস পাওয়ার জন্য ছটফট করা, হজমের তীব্র সমস্যা ও গ্যাস, শরীর ফ্যাকাশে ও ঠান্ডা।
#রোগীর কেস টেকিং ও ঔষধ নির্বাচন-
সেবন বিধি (ডোজ):-
১ ফোঁটা সরাসরি জিভে বা সামান্য জলের সাথে মিশিয়ে দিনে ৩ বার (টানা ৩ দিন)।
চোখের জ্বালাপোড়া বেশি থাকলে Euphrasia 30C সাথে দেওয়া যেতে পারে।
(সতর্কতা: হামের সময় জ্বরের জন্য ঔষধ সেবনের আগে অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসক এর পরামর্শ নিন)
ডা. জিয়াউল হক
মাহিন হোমিও মেডিকেল
৮৮ কাঞ্চন টাওয়ার,
কাঁঠাল বাগান বাজার,
কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫
01707-956015