16/11/2025
একটা বিষয় দেখবেন মৌলিকভাবে নারীদের বাইরে যাওয়ায়, কাজ করায় পুরুষদের আপত্তি নেই।
ছোটো বাচ্চাদের স্কুলে, কোচিংয়ে, টিউশনে মায়েরা গিয়ে সারাদিন ৫/৭/৮ ঘন্টা বসে থাকে। স্বামী বদলি হয়ে বাইরে থাকলে বাজার করা থেকে বিল দেয়া, বৃদ্ধ শ্বশুর শ্বাশুরি নিয়ে হাসপাতালে দৌড়ানো থেকে সবকিছু মহিলারা করছে। গ্রামাঞ্চলে মুরগি পালা, ক্ষেতে কাজ থেকে শুরু করে ধান শুকানো, মাড়ানো, ক্ষেত থেকে সবজি তোলা, গরু ছাগল পালার মতো সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক কাজও মহিলারা করে। পুরুষদের এসবে আপত্তি নেই।
পুরুষদের আপত্তি শুধু এবং শুধুমাত্র নারী তার কাজের বিনিময়ে পেমেন্ট পেলে বা সম্পদে অংশ দাবী করলে।
যে পুরুষ হাউজওয়াইফ চায় সে যে তার বৌকে ঘরে সত্যিই রাণী বানিয়ে রাখতে চায় তা নয়। সে চায় তার বৌ তাকে আর তার ফ্যামিলিকে চিরজীবন একটা আনপেইড লেবার দেক, বাচ্চা পালার সময়ও কোনো পেইড হেল্পিং হ্যান্ড দাবী না করুক, এসব করার প্রয়োজনে তার বৌয়ের যত খুশি বাইরে দৌড়াতে হোক তাতে তার কোনো আপত্তি নেই। আপত্তি তার বৌয়ের কোনো যোগ্যতা প্রয়োগিত হয়ে পেমেন্টেড হলে। আনপেইড লেবারের জন্য নারী যতই খাটুক, যতই বাইরে যাক সেটা কখনো পুরুষের মাথাব্যথার কারণ হয়নি, ইনফ্যাক্ট ওটা কাজ হিসেবে গণ্যই হয় না।
ওয়াইফের এতোটা শ্রমসাধ্য কাজের রিকগনিশন হিসেবে তাকে মান্থলি একটা হ্যান্ডসাম অ্যামাউন্ট দিতে বলে দেখেন হাজব্যান্ডদের। নগদে আপনাকে বুয়ার সাথে তুলণা করে, গোল্ডডিগার শেমিং করে উল্টো করে ঝুলিয়ে দেবে। তার কাছে বৌকে রাণী করে রাখা মানে শুধুই মুখে মুখে রাণী বলা, রাণীর লাইফস্টাইল দেয়া না, বরং একটা ফ্রি চাকরাণী পাওয়া। এই চাকরাণীকে কখনো পে করা লাগে না, খাবার আর বছরে দু চারটা ড্রেস দিলেই হয়। বেশি কিছু চাইতে গেলে এমনভাবে শেমিং করা হয় যাতে আর কিছু ডিমান্ডের কনফিডেন্স চিরতরে শেষ হয়ে যায়।
মানুষকে ঘরে আর বাইরের হিসাব দিয়ে আলাদা করতে চাওয়াদের সন্দেহ করুন। এরা মানুষে মানুষে বিভেদ আর ঘৃণা সৃষ্টি করতে চায়। এদের মিষ্টি মিষ্টি কথা যতই সুন্দর শোনাক পেছনে নিয়ত খারাপ।