16/07/2022
খাবারে ওষুধিগুণাগুন
ডাঃ মোঃ মহিউদ্দিন
প্রভাষক, ভোলা ইসলামিয়া ইউনানী মেডিকেল কলেজ
---
মূত্র রোগে শিমুল মূল আর পাথরকুচি,
পুদিনা পাতায় বাড়ায় রুচি।
থানকুনি আর কলার মোচা খেলে,
পেটের পীড়ায় মুক্তি মিলে।
ঐ দেখা যায় শাপলা ফুল
ফুটেছে ঝিলে,
শোধন করে খেলে
শ্বেতপ্রদরে মুক্তি মিলে।
করোল্লা,জাম, তেলাকুচা,
আমপাতা,জলপাই পাতার রসে,
ডায়াবেটিস রোগীর
রক্তের সুগার থাকে বশে।
বাসক পাতা,আদা,
তুলসী পাতায় সর্দি কাশি কমে,
কালিজিরা আর মধুর কথা
কি আর বলব নিয়মিত খেলে
ভয় পেয়ে যায় যমে।
অর্জুনের ছাল চূর্ণ করে খেলে
হৃৎকম্প কমে
এ্যালোভেরার গুণে,
অনুপ্রাণিত হয় নারী গণে।
নিম পাতার রসে,
জীবাণুনাশক শক্তি আছে।
কাঁচা হলুদ আর নিমপাতা মিলে
খুঁজলি -প্যাঁচড়ায় দিলে,
খুব সহজে মুক্তি মিলে।
ভিজিয়ে রেখে
চিরতা পাতার রস খেলে,
রক্ত পরিষ্কার হয়
পেটের গ্যাস যায় চলে।
আমলকি,হরিতকি, বহেড়া চূর্ণ,
এই ত্রিফলার খুবই গুন
ঔষধিতে পরিপূর্ণ।
কোষ্ঠবদ্ধতা,আরুচি,শ্বাস,
কফনাশক রসুন,
কিডনি ও যকৃতের নানা রোগে
কার্যকরী বড়ই তার গুণ।
কোষ্ঠবদ্ধতা -কোষ্ঠকাঠিন্য হলে,
অতি দ্রুত আরোগ্য হবে
যদি খান ইসুবগুল জলে গুলে।
অর্শ, অনিয়মিত ঋতুস্রাব,
দুধ স্বল্পতায় অনন্তমূল,
তেমনি আবার সর্দি,কাশি
চোখ ওঠায় চুলের
বৃদ্ধিতে জবা ফুল।
উলটকম্বল শ্বেতপ্রদর
অনিয়মিত মাসিক,
বাধক বেদনা,হিতকর।
তেমনি আবার বটপাতার আঠা
বহুমূত্র রোগে বিশেষ ঔষধ
জরায়ুর দোষ নিবারক।
পিপাসা, হাঁপানি, কাশি, জ্বর,
বমি,প্রমেহ,ক্ষয় নাশক,
বহু গুণে গুণান্বিত
অতিপরিচিত বাসক।
বদহজম -পেটফাঁপা কমে
চিবিয়ে খেলে পান,
ক্রিমি,ব্রণ,বমিনাশে
খুবই উপকারী জাফরান।
সজনে পাতা,ছাল, শিকড় খেলে,
জ্বর, বহুমূত্র, গেঁটেবাত, কটিবাত
হাঁপানি রোগের মুক্তি মিলে।
প্রসাবে জ্বালা যন্ত্রনায়,
পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে
খেলে খুবই ফল দেয়।
পেঁপে পাতার রসে
ভিটামিনে ভরপুর,
নিয়ম মেনে খেলে
রক্তশূন্যতা হয় দূর।
আমাশয়, পিপাসায়,
রক্ত দোষ কৃমি দোষ
ভালো হয় ধাই ফুলে,
প্লীহা বৃদ্ধি যকৃত বৃদ্ধি
ভাল হয় সজনের মূলে।
সিজনাল পাকা ফলমূল
নিয়মিত খেলে,
রোগ প্রতিরোধ বাড়ায়
দেহের শক্তি মিলে।
সবুজ শাকসবজি ফলমূল
পুষ্টিকর রোগ প্রতিরোধে দরকার,
এসব খাবারের বিকল্প নাইতো আর।