01/01/2026
হার্ট অ্যাটাক অনেক সময় হুট করে হয় না; বরং শরীর এক মাস আগে থেকেই কিছু সূক্ষ্ম সংকেত দিতে শুরু করে। একে অনেক সময় 'প্রোড্রোমাল সিম্পটম' (Prodromal Symptoms) বলা হয়। সময়মতো এই লক্ষণগুলো শনাক্ত করতে পারলে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব।
হার্ট অ্যাটাক হওয়ার প্রায় এক মাস আগে শরীর যে লক্ষণগুলো দিতে পারে:
১. অস্বাভাবিক ক্লান্তি (Unusual Fatigue)
কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই যদি প্রচণ্ড ক্লান্তিবোধ করেন যা বিশ্রামেও কাটে না, তবে এটি হার্টের সমস্যার বড় লক্ষণ। ৭০% নারীর ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের আগে এই তীব্র ক্লান্তি দেখা যায়। এটি ঘটে কারণ হার্টে পর্যাপ্ত রক্ত চলাচল না হওয়ায় শরীরকে অতিরিক্ত খাটতে হয়।
২. ঘুমের সমস্যা বা অনিদ্রা (Sleep Disturbances)
হঠাৎ করে রাতে ঘুমে অসুবিধা হওয়া, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা ঘুমের মধ্যে প্রচণ্ড অস্থিরতা কাজ করাও পূর্বলক্ষণ হতে পারে।
৩. শ্বাসকষ্ট (Shortness of Breath)
অল্প হাঁটলে বা সামান্য পরিশ্রমেই যদি হাঁপিয়ে ওঠেন, তবে বুঝতে হবে ফুসফুসে পর্যাপ্ত রক্ত যাচ্ছে না। এটি হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার একটি প্রাথমিক সংকেত।
৪. বদহজম ও বমি ভাব (Indigestion or Nausea)
অনেকেই একে সাধারণ এসিডিটি মনে করে ভুল করেন। কিন্তু খাবার খাওয়ার পর অনবরত পেট ফাঁপা, বদহজম বা বমি ভাব হওয়া হার্ট অ্যাটাকের একটি নিরব সংকেত হতে পারে, বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে।
৫. বুকে চাপ বা ভারী অনুভূতি (Chest Pressure)
বুক ধড়ফড় করা বা বুকের মাঝখানে এক ধরনের অস্বস্তি, চাপ বা টানটান অনুভূতি হতে পারে। এটি কয়েক মিনিট স্থায়ী হতে পারে এবং থেমে থেমে ফিরে আসতে পারে।
৬. শরীরের অন্য অংশে ব্যথা (Radiating Pain)
ব্যথা শুধু বুকেই হবে এমন নয়; অনেক সময় এই ব্যথা চোয়াল, ঘাড়, পিঠ অথবা বাঁ হাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে চোয়াল বা পিঠের ব্যথা বেশি দেখা যায়।
৭. অতিরিক্ত ঘাম (Excessive Sweating)
ব্যায়াম বা গরম ছাড়াই হঠাৎ করে ঠান্ডা ঘাম বা ঘামাচির মতো ঘাম হওয়া হার্টের সমস্যার লক্ষণ। শরীর যখন ব্লক হওয়া ধমনী দিয়ে রক্ত পাম্প করার চেষ্টা করে, তখন স্নায়ুতন্ত্রের সক্রিয়তার কারণে এই ঘাম হয়।
৮. দুশ্চিন্তা বা ভীতি (Anxiety)
অকারণে খুব বেশি অস্থিরতা বা 'ভয়াবহ কিছু ঘটতে যাচ্ছে' এমন একটি মানসিক অনুভূতি অনেক রোগী হার্ট অ্যাটাকের আগে অনুভব করেন।
জরুরি পরামর্শ: যদি আপনি নিয়মিত এই লক্ষণগুলো অনুভব করেন, তবে দেরি না করে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের (Cardiologist) পরামর্শ নিন। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা পরিবারের কারো হার্টের সমস্যার ইতিহাস আছে, তাদের এই লক্ষণগুলো একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়।