07/07/2025
*ভিটামিন বি১২ সাপ্লিমেন্ট অন্যান্য ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট এর সাথে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে গ্রহণের নিয়ম:
*ভিটামিন বি১২ এবং ভিটামিন সি:
এই দুটি ভিটামিন একসাথে গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ ভিটামিন সি, ভিটামিন বি১২ এর শোষণকে বাধাগ্রস্ত করে।
*ভিটামিন বি কমপ্লেক্স:
ভিটামিন বি কমপ্লেক্স সাধারণত খাবারের সাথে গ্রহণ করা ভালো, যা হজমে সাহায্য করে এবং পেটের সমস্যা কমায়।
*অন্যান্য ভিটামিন:
ভিটামিন বি১২ অন্যান্য ভিটামিন যেমন ভিটামিন বি৯ (ফোলেট) এবং বি৬ এর সাথে একত্রে কাজ করে।
* ভিটামিন বি১২ এর প্রধান কাজগুলো হলো:
-স্নায়ু কোষের স্বাস্থ্য রক্ষা:
ভিটামিন বি১২ স্নায়ু কোষের চারপাশে একটি সুরক্ষা স্তর তৈরি করে, যা স্নায়ু সংকেত পরিবহনে সাহায্য করে এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা বজায় রাখে।
-লোহিত রক্তকণিকা তৈরি:
ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই রক্তকণিকা শরীরে অক্সিজেন পরিবহনে সহায়তা করে।
-ডিএনএ সংশ্লেষণ:
ভিটামিন বি১২ ডিএনএ তৈরিতেও সহায়তা করে, যা কোষের বৃদ্ধি এবং মেরামতের জন্য অপরিহার্য।
-মস্তিষ্কের কার্যকারিতা
ভিটামিন বি১২ মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং জ্ঞানীয় কার্যকলাপকে উন্নত করে।
-মেজাজ নিয়ন্ত্রণ:
ভিটামিন বি১২ এর পর্যাপ্ত মাত্রা মেজাজ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে।
-কোষের বিপাক:
ভিটামিন বি১২ শরীরে কোষের বিপাকক্রিয়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
-ভিটামিন বি১২ এর অভাবে ক্লান্তি, দুর্বলতা, স্নায়ুর সমস্যা, মানসিক সমস্যা এবং রক্তাল্পতা হতে পারে। তাই, শরীরে ভিটামিন বি১২ এর পর্যাপ্ত মাত্রা বজায় রাখা খুবই জরুরি।
*শরীরে বি-৯ এর কাজ:
ফলিক অ্যাসিডের অভাবে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন- রক্তাল্পতা, দুর্বলতা, স্নায়ুরোগ ইত্যাদি। তাই, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি।
* ভিটামিন বি৬, যা পাইরিডক্সিন নামেও পরিচিত, একটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন যা শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগে। এটি অ্যামিনো অ্যাসিড বিপাক, স্নায়ু স্বাস্থ্য, এবং লোহিত রক্ত কণিকা তৈরিতে সহায়ক। এটি মস্তিষ্কের সঠিক কার্যকারিতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভিটামিন বি৬ এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ:
-অ্যামিনো অ্যাসিড বিপাক:
ভিটামিন বি৬, কোএনজাইম হিসেবে কাজ করে অ্যামিনো অ্যাসিডের গঠন এবং ভাঙ্গনে সাহায্য করে।
-স্নায়ু স্বাস্থ্য:
এটি নিউরোট্রান্সমিটার (যেমন সেরোটোনিন ও ডোপামিন) তৈরিতে সহায়তা করে, যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
-লোহিত রক্ত কণিকা গঠন:
ভিটামিন বি৬ লোহিত রক্ত কণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা শরীরে অক্সিজেন পরিবহনে সহায়তা করে।
-রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা:
ভিটামিন বি৬ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতেও সাহায্য করে।
-শক্তি উৎপাদন:
এটি শরীরে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে।
-অন্যান্য কাজ:
ত্বক, চুল ও নখের স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও ভিটামিন বি৬ সহায়ক।
ভিটামিন বি৬ এর অভাব হলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন- দুর্বলতা, ক্লান্তি, ত্বকের সমস্যা, স্নায়ুর সমস্যা, রক্তাল্পতা, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি।
*উৎস :
সাপ্লিমেন্ট হিসেবে চাহিদা অনুযায়ী ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন বি-৯ বা ফলিক এসিড, ভিটামিন বি-৬ বা পাইরিডক্সিন গ্রহণ ছাড়াও খাদ্য থেকে এদের গ্রহণ করা যেতে পারে।
* ভিটামিন বি১২-র উৎস:
-প্রাণিজ কলিজা, বৃক্ক, বিভিন্ন জাতের সামুদ্রিক মাছ, গরুর মাংস, ফর্টিফাইড সিরিয়াল, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডিম, পনির, ইস্ট, দই, কাঁকড়া, মুরগির মাংস ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। কিছু উদ্ভিজ উৎস; যেমন- কাঠবাদাম, আখরোটে বি১২ পাওয়া যায়।
*ফলিক অ্যাসিড বা বি-৯ সমৃদ্ধ কিছু খাবারের তালিকা:
-সবুজ শাকসবজি: পালং শাক, ব্রকলি, বাঁধাকপি, লেটুস ইত্যাদি।
-শুকনো বিন এবং মটরশুঁটি: যেমন রাজমা, ছোলার ডাল, মসুর ডাল ইত্যাদি।
-ডিম: ডিমের কুসুমে ফলিক অ্যাসিড থাকে।
-সাইট্রাস ফল: কমলা, লেবু, আঙ্গুর ইত্যাদি।
-অন্যান্য ফল: কলা, অ্যাভোকাডো।
-দুগ্ধজাত দ্রব্য: দুধ, পনির, দই।
-শক্তিবর্ধক শস্য: রুটি, ময়দা, ভাত, সিরিয়াল ইত্যাদি।
-কলিজা: বিশেষ করে মুরগির কলিজাতে ফলিক অ্যাসিড পাওয়া যায়।
*ভিটামিন বি৬ সাধারণত বিভিন্ন ধরনের খাবারে পাওয়া যায়, যেমন:
মাংস (গরু, মুরগি, মাছ)
ডিম
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার
শস্য ও বীজ
কিছু ফল ও সবজি
* সতর্কতা:
-যদি আপনি অন্য কোনো ঔষধ সেবন করেন,
-যদি আপনার কোনো ভিটামিন ঘাটতি বা নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে,
-যদি আপনার কোনো বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে,
তাহলে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে অবশ্যই একজন ডাক্তারের এবং একজন ডায়েট কনসালটেন্ট এর পরামর্শ নিন।
ধন্যবাদ
ফারজানা রহমান
ডায়েট কনসালটেন্ট
কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার, উত্তরা-৭, ঢাকা
বি.ডি.এন, সেতারা, মিরপুর, ঢাকা
কর্ণধার, মাইন্ডফুল নিউট্রিশন & ইয়োগা
সেক্টর -৪, ঢাকা