22/09/2018
#পালং_শাক
এমারান্থাসি পরিবারভুক্ত এক প্রকার সপুষ্পক উদ্ভিদ। এটি জনপ্রিয় শাক ও সবজি। এর আদিবাস মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া। এটি একবর্ষজীবি উদ্ভিদ, তবে দ্বিবর্ষজীবি পালং গাছ হতে পারে যদিও বিরল। পালং গাছ ৩০ সেমি পর্যন্ত লম্বা হয়। বাংলাদেশে শীতকালে এর চাষ হয়। এর পাতা একান্তর, সরল, ডিম্বাকার বা ত্রিভূজাকার। এই পাতার আকার ২-৩০ সেমি লম্বা ও ১-১৫ সেমি চওড়া হতে পারে। গাছের গোড়ার দিকের পাতাগুলো বড় বড় এবং উপরের দিকের পাতাগুলো ছোট হয়। এর ফুল হলদেটে সাদা, ৩-৪ মিমি ব্যাসবিশিষ্ট হয়। এর ফল ছোট, শক্ত, দানাকৃতির ও গুচ্ছাকার। ফলের আকার আড়াআড়ি ৫-১০ মিমি; এতে বেশ কয়েকটি বীজ থাকে।
পালং শাকের বর্ণনার প্রাচীনতম নিদর্শন পাওয়া গেছে চীনে। সেখানে বলা হয়েছে, এই শাক নেপাল থেকে চীনে এসেছে (সম্ভবতঃ ৬৪৭ খৃঃ)
বয়সের ছাপ লুকানোর জন্য আমরা কতকিছুই না করি। মুখে দামি ক্রিম মাখা থেকে শুরু করে শাক-সবজির ন্যাচারাল ট্রিটমেন্টও নিচ্ছে অনেকে। অথচ শীতের সবজি পালং শাকেই আছে এন্টি-অক্সিডেন্ট। আর এন্টি-অক্সিডেন্টের কাজই হলো কোষের ক্ষয়রোধ করে শরীরকে তারুণ্যদীপ্ত এবং সুস্থ-সবল রাখা। অর্থাৎ বার্ধক্যকে জয় করতে পালং শাকের রয়েছে অনন্য ভূমিকা।
এছাড়া সহজলভ্য এ শাকটির রয়েছে অনেক খাদ্যগুণ। ভিটামিন 'ডি' ছাড়া বাকি সব ভিটামিনই এতে রয়েছে। বিশেষ করে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন 'ই' এবং ভিটামিন 'সি'র উৎস পালং শাক। প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, আয়রনসহ বেশকিছু প্রয়োজনীয় মিনারেল রয়েছে এতে।
পালং শাকের এন্টি-অক্সিডেন্ট মস্তিষ্কেও কোষগুলোকেও সতেজ এবং কর্মক্ষম রাখে। তাই মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও এর জুড়ি নেই। তাছাড়া পালং শাকের রয়েছে বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা। সব মিলিয়ে পালং শাক শীতের এক অসাধারণ সবজি!
#পালং শাক
পালংকে বলা হয় শাকের রাজা। রাজাই বটে! কেননা এই শাকের রয়েছে বহু গুণাগুণ। সারা পৃথিবীতেই অত্যন্ত সুপরিচিত পালং শাক। বর্ষার শেষে পালং শাকের চাষ করা হয় এবং শীতকালে শাক হিসেবে সংগ্রহ করা হয়।
পালং শাক অত্যন্ত পুষ্টিমানসমৃদ্ধ শাক। প্রতি ১০০ গ্রাম পালং শাকে আছে ২৩ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি, কার্বোহাইট্রেড ৩.৬ গ্রাম, আঁশ ৪.২ গ্রাম, চিনি ০.৪ গ্রাম, প্রোটিন ২.২ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ৪৬৯ মাইক্রোগ্রাম-৯৪০০১৪ ইউনিট, বিটাকেরোটিন, ৫৬২৬ মাইক্রোগ্রাম লিউটিন, জাঞ্ছিন ১২.১৯ মি. গ্রাম, ফোলেট (বি৯) ১৯৬ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন সি ২৮ মি. গ্রাম, ভিটামিন কে ৪৬৩ মাইক্রোগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৯৯ মি. গ্রাম, আয়রন ২.৭ মি. গ্রাম।
নতুন এক গবেষণায় পালং শাকের এ গুণের কথা উঠে এসেছে। পালং শাক মাত্রাতিরিক্ত খাদ্যস্পৃহা এবং ক্ষুধাবোধ কমাতে সাহায্য করে। আর এর মধ্য দিয়ে ওজন কমাতে সহায়তা করে পালং শাক।
পালং শাকে রয়েছে থাইলোকোয়েড নামের একটি উপাদান। মানব দেহে খাবার গ্রহণের পর যে পরিতৃপ্তির সৃষ্টি হয় তা দেখা দেয় বিশেষ হরমোনের কারণে। থাইলোকোয়েড এমন হরমোনের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়।
এ ছাড়া, চর্বি হজমের প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে। দুইয়ে মিলে খাদ্যস্পৃহা এবং ক্ষুধাবোধ উভয়ই কমে। এ সংক্রান্ত গবেষণা নিবন্ধ জার্নাল অব দ্যা আমেরিকান কলেজ অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত হয়েছে।
আমেরিকার লুজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের পেনিনংটন বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার এ গবেষণা চালিয়েছে। এ কাজে জড়িত অন্যতম গবেষক ফ্রাংক এল গ্রিনওয়ে বলেন, খাদ্যস্পৃহা এবং ক্ষুধাবোধ কমাতে সাহায্য করে থাইলোকোয়েড। তাই উচ্চরক্ত চাপ এবং অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে থাইলোকোয়েড।
এখানে অবশ্য একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ্য করা প্রয়োজন আর তা হলো, চিকিৎসক যদি কোনো কারণ আপনাকে পালং শাক খেতে নিষেধ করে থাকেন তা হলে এটি পড়ে তা খেতে যাবেন না। আসলে গবেষণা সংক্রান্ত এ সব খবর কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। তাই খাদ্য বা চিকিৎসা গবেষণা সংক্রান্ত কোনো খবর পড়েই তা পালন করতে মেতে উঠবেন না। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই গ্রহণ করবেন। না হলে মারাত্মক বিপদ দেখা দিতে পারে।
এবার এক নজরে জেনে নিন পালং শাকের গুণাগুণগুলো:
– পালং শাকে প্রচুর ফাভোনয়েড নামক এন্টি অক্সিডেন্ট থাকায় তা শরীরের অক্সিডেশন প্রক্রিয়া দূর করতে সাহায্য করে।
– পালং শাকে ১৩ প্রকার ফাভোনয়েডস আছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটা প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে খুবই কার্যকর।
– পালং শাকে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ এবং বিটা কেরোটিন থাকায় তা কোলেনের কোষগুলোকে রক্ষা করে।
– বাতের ব্যথা, অস্টিওপোরোসিস, মাইগ্রেশন, মাথাব্যথা দূর করতে প্রদাহনাশক হিসেবে পালং শাক কাজ করে।
– পালং শাক স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুবই কার্যকর।
– পালং শাকে প্রচুর আয়রন ও ভিটামিন ‘সি’ থাকায় রক্তস্বল্পতা দূর করতে খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
– পালং শাকে প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেলস থাকায় এটি মাসিকজনিত সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।
– পালং শাকে বিভিন্ন প্রকার ক্ষারীয় উপাদান থাকায় এটা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
– পালং শাক দাঁত ও হাড়ের ক্ষয়রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
---কম্পিউটার বাজার, চট্টগ্রাম
#পালং শাক
যেমন খেতে ভালো, তেমনি কাজেও দারুণ। পালং শাক খাওয়ার রয়েছে অনেক উপকারিতা। তাই খাদ্য তালিকায় অবশ্যই রাখুন পালং শাক। তাই চলুন জেনে নেই পালং শাকের কিছু অসাধারণ গুণগুলোর সম্পর্কে-
*** পালং শাকে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ এবং বিটা কেরোটিন থাকায় তা কোলনের কোষগুলোকে রক্ষা করে।
*** পালং শাকে ১৩ প্রকার ফাভোনয়েডস আছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটা প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে খুবই কার্যকর। পোস্টটি ভালো লাগলে অবশ্যই সেয়ার করে আপনার প্রফাইলে রাখুন।
*** পালং শাক দাঁত ও হাড়ের ক্ষয়রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য পালং শাক খুব উপকারী।
*** বাতের ব্যথা, অস্টিওপোরোসিস, মাইগ্রেশন, মাথাব্যথা দূর করতে প্রদাহনাশক হিসেবে পালং শাক কাজ করে।
*** পালং শাক স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুবই কার্যকর।
*** পালং শাকে প্রচুর আয়রন ও ভিটামিন ‘সি’ থাকায় রক্তস্বল্পতা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
*** পালং শাক পেট পরিষ্কার রাখতে অপরিহার্য। তাছাড়া রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে, দৃষ্টিশক্তিও বাড়ায়। পোস্টটি ভালো লাগলে অবশ্যই সেয়ার করে আপনার প্রফাইলে রাখুন।
*** কিডনিতে পাথর থাকলে, তা গুড়ো করতে সাহায্য করে। দেহ ঠাণ্ডা ও স্নিগ্ধ রাখে পালং শাক।
*** অনেকের মেদবৃদ্ধি ও দুর্বলতায় হাঁফ ধরে, তারা পালং পাতার রস খেলে উপকার পাবেন। পালং শাক কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
*** পালং শাকে প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেলস থাকায় এটি মাসিকজনিত সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।
#রূপচর্চা এবং স্বাস্থ্যরক্ষায় পালং শাক
শাক সবজি বলতেই পুষ্টিগুণে ভরপুর সেটা আমরা সবাই জানি। পালং শাকও এর ব্যতিক্রম নয়। ক্যারোটিন, এমিনো এসিড, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন এ, সি, কে, এবং বি কমপ্লেক্স, কী নেই এতে? বিভিন্ন পুষ্টি গুণে ভরপুর এই শাকটি যেমন আমাদের শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে শরীর ফিট রাখতে সাহায্য করে তেমনি রূপচর্চায়ও এর জুড়ি নেই। বাজারের ক্ষতিকর কেমিকেলের প্রোডাক্ট ব্যবহারের চাইতে প্রাকৃতিক জিনিস ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই আর তা যদি হয় প্রয়োজনীয় সব ভিটামিনে সমৃদ্ধ এমন একটি সবজি তাহলে তো কথাই নেই। তাই আমাদের স্বাস্থ্যরক্ষা এবং রূপচর্চায় পালং শাকের কিছু উপকারিতা সম্পর্কে আজ আপনাদের জানাবো।
ত্বক ও চুলের যত্নে পালং শাক:
- ব্রণের সমস্যা দূর করে স্বাস্থ্যজ্জ্বল ত্বক পেতে পালং শাক কার্যকরী ভুমিকা পালন করে। সেক্ষেত্রে পালং শাক দিয়ে ফেইস মাস্ক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। পরিমাণ মতো পালং শাক এবং পানি নিয়ে ব্লেন্ডারে ভালো মতো ব্লেন্ড করে নিন যেন মিশ্রণটি পেস্টের মতো হয়। এটি মুখে সমান ভাবে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। এরপর মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই ফেইস মাস্কটি ত্বকের রোমকুপে জমে থাকা ময়লা ভিতর থেকে পরিষ্কার করে ত্বক উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
- সুন্দর, মসৃণ ত্বক পেতে পালং শাক এবং অন্যান্য সবজি মিশিয়ে ভেজিটেবল জুস বানিয়ে খেতে পারেন। অর্ধেক টমেটো, ১/৪ শশা, একটি গাজর, আধা কাপ বাঁধাকপি এবং এক কাপ পালং শাক এবং পানি দিয়ে ভালো মতো ব্লেন্ড করে জুস তৈরি করুন। প্রতিদিন এক গ্লাস করে এই ভেজিটেবল জুস পান করুন আর পরিবর্তনটা নিজের চোখেই দেখতে পাবেন। এই জুসটি ব্রণ এবং ব্রণের দাগ দূর করে ত্বক ভিতর থেকে উজ্জ্বল করে তুলতে খুব উপকারী।
- পালং শাকের অনেক প্রয়োজনীয় উপকারিতার মধ্যে আরেকটি হচ্ছে নিয়মিত পালং শাক খাওয়ার মাধ্যমে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করতে পারেন নিজের ত্বক। পালং শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি যা সূর্যের ক্ষতিকারক আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। যার ফলে স্কিন ক্যান্সার এবং ত্বকে অসময়ে বার্ধক্যের ছাপ পড়া থেকে সহজেই নিজেকে নিরাপদে রাখা সম্ভব।
- আমাদের শরীরে এক ধরনের “ফ্রি র্যাডিকেলস” রয়েছে যা ত্বককে ড্যামেজ করে এতে বার্ধক্যের ছাপ ফুটিয়ে তোলে। তবে আপনার খাবারের তালিকায় পালং শাক রাখার মাধ্যমে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেন সহজেই। পালং শাকে থাকা এন্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি র্যাডিকেলস ধ্বংস করে এবং ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত পালং শাক খান এবং ত্বকের বার্ধক্যজনিত সমস্যা থেকে দূরে থাকুন।
- ৪-৫ টি পালং শাক প্রথমে পেস্ট করে এর সাথে ১ চা চামচ মধু এবং ২ চা চামচ লেবুর রস ভালো মত মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। এরপর মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কটি ত্বকের নিস্তেজ ভাব দূর করে ত্বক নরম এবং মসৃণ করে তোলে।
- পালং শাক চুলের বৃদ্ধি ত্বরাণ্বিত করতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। কারণ এতে রয়েছে ভিটামিন বি, সি এবং ই, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সহ আরও অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান যেগুলোর সবই চুলের বৃদ্ধিতে কার্যকরী ভুমিকা পালন করে থাকে। পালং শাকে থাকা আয়রন চুলের ফলিকলে অক্সিজেনের সরবরাহ ঠিক রাখে যার ফলে চুল ঠিক মতো বাড়ে এবং চুলের গোড়া শক্ত হয়।
- রুক্ষ এবং নিষ্প্রাণ চুলের জন্য আধা কাপ পালং শাক, ১ চা চামচ মধু এবং ১ চা চামচ অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেল নিয়ে ব্লেন্ডারে ভালো মতো ব্লেন্ড করুন। এরপর এই মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুলে সিল্কি ভাব আসবে।
- চুল পড়া রোধ করতে নিয়মিত পালং শাক খান। কারণ পালং শাকে থাকা ভিটামিন বি কমপ্লেক্স চুলের গোঁড়া মজবুত করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন এক গ্লাস পালং শাকের জুস খেতে পারেন। সেক্ষেত্রে ১ কাপ পালং শাক এবং পরিমাণ মতো পানি ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে জুস বানিয়ে পান করতে পারেন। খেতে একটু কষ্ট হলেও ফলাফল টা কিন্তু মধুর হবে। চাইলে পালং শাকের সাথে টমেটো, শশা বা অন্যান্য সবজি মিক্স করতে পারেন।
স্বাস্থ্যরক্ষায়:
- এনিমিয়া বা রক্তশুন্যতা প্রতিরোধে পালং শাক বেশ কার্যকরী ভুমিকা পালন করে। পালং শাকে থাকা প্রয়োজনীয় ভিটামিনস এবং নিউট্রিয়েন্টস শরীরের রক্তে লোহিত রক্ত কণিকা উৎপন্ন করতে সাহায্য করে যার ফলে রক্তশুন্যতায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় অনেকখানি।
- যেহেতু পালং শাক ফাইবারে সমৃদ্ধ তাই এটি নিয়মিত খাওয়ার মাধ্যমে পাকস্থলির বিভিন্ন সমস্যা যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য, বদ হজম ইত্যাদি সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
-গর্ভবতী মহিলাদের জন্য পালং শাক অত্যন্ত উপকারী। গর্ভে থাকা শিশুর ঠিক মতো বেড়ে উঠার জন্য পালং শাক প্রয়োজনীয় নিউট্রিয়েন্টস যোগায়। এছাড়াও নিয়মিত পালং শাক খাওয়ার মাধ্যমে মায়ের বুকের দুধের পরিমাণ এবং গুণমান অনেক বেড়ে যায়।
- পালং শাকে থাকা ভিটামিন এ এবং ক্যারিটনয়েডস দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যা থেকে রক্ষা করবে আপনাকে।
- নিয়মিত পালং শাক খান এবং হাই ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখুন। এটি হাই ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ কার্যকর।
লিখেছেন- নাহার
#এক পালং দিয়ে ৫ রকম স্ন্যাক্স তৈরির রেসিপি
স্বাদে ও পুষ্টিগুণে অনন্য পালং শাক এখন বাজারে পাওয়া যায় সারা বছরই। বড়দের জন্য তো বটেই, ছোটদের জন্যেও খুব উপকারী এই পালং শাক। দারুণ ব্যাপারটি হচ্ছে পালং শাক কেবল রান্না বা ভাজি করে খাওয়া যায় এমন না, এই শাক দিয়ে তৈরি করা যায় হরেক রকমের মুখরোচক স্ন্যাক্সও।
আজ জানিয়ে দিচ্ছি পালং শাক দিয়ে ৫ রকমের স্ন্যাক্স তৈরির খুব সহজ কিছু রেসিপি। তালিকায় আছে পালং কেক, পালং বার্গারের মতন দারুণ কিছু খাবারের বিস্তারিত প্রণালী।
পালং পাকোরা
পালং শাক কুচি কুচি করে কেটে নিন। তারপর পেঁয়াজ-মরিচ কুচি, মরিচ-ধনে-জিরা গুঁড়ো, সামান্য গরম মশলা গুঁড়ো, লবণ, একটি ডিম, চালের গুঁড়ো ও বেসন দিয়ে মেখে নিন ভালো করে। প্রয়োজনে পানি দেবেন, যদিও না লাগার সম্ভাবনা বেশি। মাখা মাখা করে মেখে ছোট ছোট বড়ার মতন ডুবো তেলে ভেজে নিন।
পালং শাকের প্যান কেক
পালং শাক কুচি করে কেটে হালকা ভাপিয়ে নিন। এবার দুধ, ডিম, মাখন ও ময়দা দিয়ে প্যানকেক ব্যাটার তৈরি করুন। চিনি দেবেন না শুধু, ঝাল প্যানকেক হবে। এর মাঝে ভাপানো পালং, পেঁয়াজ-মরিচ কুচি , লবণ ও আপনার পছন্দের মশলা দিয়ে গুলে নিন। প্যানে মাখন বা ঘি দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই প্যানকেক তৈরি করে পরিবেশন করুন।
পালং দিয়ে নুডুলস
প্যানে একটু তেল দিন, রসুন কুচি দিন । হালকা গন্ধ ছড়ালে পালং শাক দিয়ে দিন। শাক পানি ছেড়ে একটু ভাজা ভাজা হলে এর মাঝে অন্য সবজি ও নুডুলস দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই রান্না করে নিন।
পালং শাকের বার্গার
পালং শাকের কুচি ও চিকেন কিমা সমান পরিমাণে নিন। এর মাঝে সামান্য আদা-রসুন কিমা, গোল মরিচ গুঁড়ো, লবণ, সামান্য জায়ফল গুঁড়ো ও একটু টমেটো সস দিয়ে ভালো করে মেখে নিন। ডিম দেবেন না, পালং থেকেই অনেক পানি ছাড়বে। ভালো করে মেখে বার্গার প্যাটি আকারে গড়ে নিন। তেলে শ্যালো ফ্রাই করে পছন্দ মতো উপায়ে বার্গার তৈরি করে নিন।
পালং শাকের সমুচা/ পিঠা
এটা অনেকেই জানেন না যে পালং শাক দিয়ে খুব মজার সমুচা বা পিঠা তৈরি করা যায়। পালং শাক হালকা ভাপিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এরপর মোজারেলা বা ভালো কোনো চিজের সাথে মিক্স করে নিন। সাথে দিতে পারেন গোল মরিচ ও জায়ফল গুঁড়ো। দিতে পারেন সসেজ কুচিও। এরপর এই মিশ্রণ দিয়ে যেকোনো রকমের পিঠা বা সমুচা অনায়াসেই তৈরি করা যায়।
বাচ্চারা তো শাক-পাতা খেতে চায় না মোটেই। এই রেসিপিগুলো তাই বাচ্চাদের ক্ষেত্রে খুব কাজে আসবে।