06/07/2019
হিপোক্রেটিক শপথ । Hippocratic Oath
চিকিৎসাশাস্ত্রের ইতিহাসে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হিপোক্রেটিস (খ্রিস্টপূর্ব ৪৬০ থেকে ৩৭০)। তিনি কসের হিপোক্রেটিস বা দ্বিতীয় হিপোক্রেটিস নামেও পরিচিত। জন্ম প্রাচীন গ্রিসের ইজিয়ান সমুদ্রের কস দ্বীপে। জানা যায়, তিনি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে চিকিৎসাশাস্ত্র শেখাতেন। জোর দিতেন ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের এবং নানা রোগের বিভিন্ন মৌলিক তত্ত্বের ওপর। রোগ নির্ণয়ের জন্য তিনি অসুখের উপসর্গ খুঁজে বের করতেন। হিপোক্রেটিসকে চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক বলা হয়। তিনি শিখিয়ে গেছেন রোগের পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করার কিছু পদ্ধতি। তাঁর পদ্ধতি অনুযায়ী রোগীর চোখ ও চামড়ার রং, দেহের তাপমাত্রা, ক্ষুধা আছে কী নেই, মলমূত্রের বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করা যায়। হিপোক্রেটিস কুসংস্কারে বিশ্বাস করতেন না। তাঁর লেখা ‘অন দ্য সিক্রেড ডিজিজ’ বইয়ে এ বিষয়ে সচেতনতা এনে দেয়। বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি নেওয়ার সময় যে শপথ পাঠ করা হয় তা হিপোক্রেটিসের শিক্ষার সঙ্গে সংগতি রেখে। তাই এ শপথ হিপোক্রেটিক শপথ নামে পরিচিত।
শপথটির আধুনিক রূপের বাংলা পাঠ
আমি , আমার সর্বোচ্চ সামর্থ এবং বিচার দ্বারা এই প্রতিজ্ঞা রক্ষা করার শপথ নিচ্ছি :
আমি সেই পূর্বসূরী চিকিৎসকদের কঠোর সাধনা-লব্ধ বৈজ্ঞানিক উপলব্ধিসমূহকে শ্রদ্ধা করব যার খোঁজ অনুসরণ করে আমি খোঁজ দিচ্ছি, এবং এমন সমূহ জ্ঞান আমার এবং তাদের মধ্যে, যে এই পথে অগ্রণী হব, আনন্দমনে ভাগ করে নেব।
নিরর্থক-চিকিৎসা এবং চিকিৎসা-অসার বলে ভাবা মানসিকতা, এই দুইয়ের জালে বাঁধা থাকা রোগীর উপকারার্থে দরকারী সকল ব্যবস্থার প্রয়োগ করব।
আমি মনে রাখব চিকিৎসাশাস্ত্র এবং বিজ্ঞানে এক শিল্পগত সম্বন্ধ আছে এবং ভরসা, সহ-মর্মিতা এবং বোঝাপড়ায় হয়তো অস্ত্রোপচারের ছুরিটি বা ঔষধালয়ের ঔষধকে তলায় ফেলতে পারে।
“আমি জানি না” বলতে আমি লজ্জা করব না, না আমি আমার সহকর্মীকে জানাতে কুন্ঠিত হব যখন একজন রোগীকে আরোগ্য করতে অন্য কারোর দক্ষতার আবশ্যক হয়।
আমি আমার রোগীদের একান্ত-গোপনীয়তাকে সম্মান করব, কখনো তাঁরা তাঁদের সমস্যা সমূহ গোটা পৃথিবী জানুক বলে আমাকে না বলেন।সবচেয়ে বিশেষভাবে, জীবন এবং মৃত্যুর কথা জড়িত থাকা বিষয় সমূহে আমাকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
আমাকে যদি জীবন রক্ষা করতে দেওয়া হয় , ধন্যবাদ। কিন্তু জীবন নেওয়াটাও হয়তো আমার ক্ষমতার মধ্যেে আছে; আমার নিজের দুর্বলতার প্রতি সচেতন থেকে অতি অমায়িকভাবে এই ভীষন দায়িত্বর সম্মুখীন হতে হবে। সর্বোপরি , আমি ঈশ্বরের স্থানে খেলতে কখনোই যাব না।
আমি মনে রাখব যে, আমি জ্বরের একটি রেখাংকন, ক্যান্সারের একটি বাড়তে থাকা নমুনাকে চিকিৎসা না করে, করব একজন রোগী ব্যক্তিকে, যার রোগটি হয়তো তাঁর পরিবার এবং আর্থিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করে। আমার দায়িত্ব এই সম্পর্কিত সমস্যাগুলি, যদি আমি রোগীর পর্যাপ্ত যত্ন নিই।
আমি যখনই পারব, অসুখের প্রতিরোধ করব, কারণ প্রতিরোধ উপশম অপেক্ষা শ্রেয়।
আমি মনে রাখব যে আমার কাছে সকল মানব, যার মন এবং শরীর অথবা যার নয়, সবার প্রতি বিশেষ দায়বদ্ধতার সাথে আমি সমাজের একজন সদস্য হয়ে থাকব।
যদি আমি এই শপথ উল্লঙ্ঘন না করি, তবে আমি যাতে জীবন এবং কলাসমূহ উপভোগ করতে পারি, জীবিত থাকার সময়ে সম্মানিত হই, এবং তারপর যাতে মনে রোমন্থিত হই। আমি যাতে সবসময় আমার বৃত্তির উত্তম ঐতিহ্যসমূহের সংরক্ষণার্থে কাজ করি এবং আমি যাতে সুদীর্ঘ সময় তাঁদের রোগ-উপশম করার আনন্দ লাভ করতে পারি, যারা আমার সহায়তা আশা করবে।
তথ্যসূত্রঃ সঙ্কলিত