22/10/2025
ওজন কমলেও সিস্ট তো যায়নি, পিসিওএস এর সিম্পটমস গুলোও আছে, ব্লিডিং কম হচ্ছে কি করবো আপু?
পিসিওএস এর সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলেন। ডাক্তার বললেন ওজন কমান, ওজন কমালে ঠিক হয়ে যাবে। সাথে দিলেন কিছু মেডিকেশন( মেটফরমিন)।
আপনি একদম কোমড় বেধে নেমে পরলেন ওজন কমানোর যুদ্ধে। দিন রাত কম খেয়ে, দিনে অন এভারেজ ৭০০/৮০০ ক্যালরি নিয়ে ওজন কমিয়ে একদম হাড্ডিসার হয়ে গেলেন কিন্তু PCOS এর কোন ইমপ্রুভমেন্ট হলো না, হরমোন ঠিক হলো না বা বেলি ফ্যাটও সেই আগের জায়গায়ই রয়ে গেলো। এর কারন কি? ওজন কমালেই তো সব ঠিক হবার কথা, তাহলে ঠিক হলো না কেন?? আজকে এই বিষয়েই কথা বলবো।
আমাদের দেশে খুব প্রচলিত একটা মিথ হচ্ছে এই ফ্যাট খাস না, মোটা হয়ে যাবি। এই মিথ এতটাই প্রচলিত যে আমরা ডায়েট শুরু করলে প্রথমে যে খাবার টা কাট করি বা খাওয়া অফ করে দেই তার নাম ফ্যাট। ঘী, বাটার, গরুর চর্বি এগুলো দেখলে যেন তওবা পড়তে হয় আমাদের। এরপরে প্রোটিন খাওয়া কমাই এবং শেষে কার্ব। যারফলাফল খুবই লো ক্যালরিক একটা ডায়েট এবং প্রচুর মাসল লস । এখন প্রশ্ন আসতে পারে ফ্যাটের কি দরকার আসলে শরীরে। গুড এনিমেল ফ্যাট কেন খেতে হবে??
আমাদের শরীরে মূলত ৩ ধরনের হরমোন থাকে,
১) পেপটাইড হরমোন
২) এমাইন হরমোন
৩) স্টেরয়েড হরমোন
এইযে ৩ ধরনের হরমোন আছে এর মধ্যে আমাদের মেয়েদের শরীরের যে প্রধান ২ টা রিপ্রোডাক্টিভ হরমোন এস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন এবং ছেলেদের প্রধান রিপ্রোডাক্টিভ হরমোন টেস্টোস্টেরন এই স্টেরয়েড হরমোন এর অন্তর্ভুক্ত। স্টেরয়েড হরমোন সিন্থেসিস করার জন্য আমাদের দরকার হয় কোলেস্টেরল এর। কোলেস্টেরল এর একমাত্র ডায়েটারি সোর্স হচ্ছে এনিম্যাল ফ্যাট। যখনই আমরা ফ্যাট খাওয়া কমিয়ে দেই আমাদের শরীর এনাফ এস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন উৎপাদন করতে পারে না, যার ফলে আমাদের পিরিয়ড সাইকেল ওলট পালট হতে শুরু করে। প্রথমে যে বলেছিলাম ওজন কমে গেলেও পিরিয়ডের সমস্যা ঠিক হচ্ছে না কারন শরীর পর্যাপ্ত কোলেস্টেরল পাচ্ছে না ফলে সে হরমোন এ উৎপাদন করতে পারছে না।
ডায়েটারি ফ্যাট কিন্তু আমাদের ফার্টিলিটি বুস্ট করতেও সাহায্য করে। ওমেগা থ্রি এবং ওমেগা সিক্স ফ্যাটি এসিড শরীরের ইনফ্লামেশন কমায় যার ফলে পিরিয়ড নিয়মিত হওয়া শুরু করে।
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে লো ফ্যাট ডায়েট আমাদের ওভ্যুলেশন হতে বাধা দেয় যার ফলে পিরিয়ড অনিয়মিত হয়।
ভিটামিন এ,ডি,ই,কে এই ৪ টি ভিটামিন শরীরে শোষিত হতে ফ্যাটের দরকার পরে এবং এই ভিটামিন গুলো আমাদের হরমোনাল ফাংশন রেগুলেশনের জন্য দায়ী।
তাই ডায়েট করার সময় ফ্যাটকে ভয় পাওয়া যাবে না। ঘী,বাটার, বীফ ট্যালো, অলিভ অয়েল, ফ্ল্যাক্স সীডস, বাদাম, অন্য সীডস যোগ করুন। ডিরেক্ট কার্বোহাইড্রেট এর পরিমান কমিয়ে আনুন। ফ্যাটকে ভয় পেয়ে নয় ভালোবেসে সুস্থ থাকুন।
তবে পিসিওএস পেশেন্ট দের ক্ষেত্রে হরমোনের ব্যাপার টা পার্সন টু পার্সন খুব বেশি ভ্যারি করে। তাই আপনার যদি পিসিওএস থেকে থাকে তাহলে পরামর্শ থাকবে নিজে নিজে ডায়েট না করে অবশ্যই একজন প্রফেশনাল নিউট্রিশনিষ্ট এর সাজেশন নিয়ে প্রপার ডায়েট মেইনটেইন করা।
যারা প্রফেশনাল এর আন্ডারে ওজন কমাতে চাচ্ছেন তারা জয়েন করে ফেলতে পারেন আমাদের ওয়েট লস চ্যালেঞ্জ মিশন মাইনাস এ। রেজিষ্ট্রেশন লিংক কমেন্ট বক্সে।
সুমাইয়া শিলা
চাইল্ড এন্ড রিপ্রোডাক্টিভ নিউট্রিশন কনসালট্যান্ট
বিএস, পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।