07/10/2025
বর্তমান সময়ের খুবই সাধারন একটা সমস্যা হলো সন্তান ধারণে দেরি হওয়া কিংবা সন্তান একেবারেই না হওয়া। আসলে আমাদের স্ট্রেসে পরিপূর্ণ জীবন যাপন, অস্বাস্থ্যকর লাইফ স্টাইল, দূষিত পরিবেশ, ভেজাল খাবার, পর্যাপ্ত শারীরিক যত্নের অভাব ইত্যাদিই সন্তান ধারণে দেরী হওয়া বা সমস্যা সৃষ্টির প্রধান কারন। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন সঠিক খাদ্য পরিকল্পনার ও সঠিক সময়ে খাদ্য গ্রহণের। একইভাবে গর্ভাবস্থায় ও গর্ভধারনের পূর্বে একজন মায়ের সুস্থতার জন্য দরকার বিশেষ খাদ্য পরিকল্পনার। আমাদের প্রকৃতিতেই এমন কিছু খাবার রয়েছে যা নারী ও পুরুষ উভয়ের উর্বরতা বা Fertility বাড়াতে কাজ করে। এর পাশাপাশি আপনার শরীরে হরমোনের ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণেও কাজ করে।
আজ আমরা জানবো এমন কিছু খাবার ও খাদ্য উপাদান সম্পর্কে যা আপনার উর্বরতা বা Fertility বৃদ্ধি করবে।
ফার্টিলিটি নিউট্রিয়েন্টস
১) ভিটামিন ডিঃ
কাজঃ ভিটামিন ডি আপনার শরীরের যৌন হরমোন তৈরি করতে সাহায্য করে যা ডিম্বস্ফোটন এবং হরমোনের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করে।
উৎসঃ ডিম, চর্বিযুক্ত মাছ, দুগ্ধজাত খাবার এবং কড লিভার ওয়েল।
২) ভিটামিন ইঃ
কাজঃ পুরুষদের শুক্রাণুর স্বাস্থ্য এবং শুক্রাণুর গতিশীলতাকে উন্নত করে। এছাড়া এটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে যা শুক্রাণু এবং ডিম্বানুর ডিএনএ অখণ্ডতা রক্ষা করতে সহায়তা করে।
উৎসঃ সূর্যমুখী বীজ, বাদাম, জলপাই, পালং শাক, পেঁপে, সবুজ শাক।
৩) ভিটামিন সিঃ
কাজঃ ভিটামিন সি হরমোনের মাত্রা উন্নত করে এবং মহিলাদের উর্বরতা বাড়াতে সহায়তা করে , শুক্রাণুর গুণমান উন্নত করে এবং ডিএনএ কে ক্ষতির থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও ভিটামিন সি শুক্রাণুর একত্রে জমে থাকার প্রবনতা প্রতিরোধ করে শুক্রাণুকে গতিশীল করে তোলে। এটি গর্ভপাত এবং ক্রোমোসোমাল সমস্যার সম্ভাবনা কমাতেও সাহায্য করে।
উৎসঃএটি উদ্ভিদ এবং ফলের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে আমলকি,পেয়ারা,লাল মরিচ, ব্রকলি, ক্র্যানবেরি, বাঁধাকপি, আলু, টমেটো এবং সাইট্রাস ফল।
৪) লাইপোইক এসিডঃ
কাজঃ লাইপোইক এসিড একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা মহিলাদের প্রজনন অঙ্গ রক্ষা করতে সাহায্য করে, শুক্রাণুর গুণমান এবং গতিশীলতাকে উন্নত করে।
উৎসঃ আলু, পালং শাক এবং লাল মাংসে অল্প পরিমাণে পাওয়া যায়।
৫) ভিটামিন বি৬ঃ
কাজঃ হরমোন এবং রক্তে শর্করাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, প্রিমিনুস্ট্রয়াল সিনড্রোম কমায়।
উৎসঃ টুনা মাছ, কলা, টার্কি, লিভার, স্যামন, কড, পালং শাক, বেল মরিচ, শালগম শাক, রসুন, ফুলকপি, সরিষার শাক, সেলারি, বাঁধাকপি, ব্রোকলি, ক্যালে, ব্রাসেলস স্প্রাউট।
৬) ভিটামিন বি১২ঃ
কাজঃ শুক্রাণুর গুণমান এবং উৎপাদনকে উন্নত করে, ডিম নিষিক্তকরণে এন্ডোমেট্রিয়ামের আস্তরণকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে এবং গর্ভপাতের সম্ভাবনা হ্রাস করে।
উৎসঃ ঝিনুক, লিভার, ক্যাভিয়ার (মাছের ডিম), মাছ, কাঁকড়া, গলদা চিংড়ি, গরুর মাংস, ভেড়ার মাংস, পনির, ডিম।
৭) ফলিক এসিডঃ
কাজঃ গর্ভাবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনগুলির মধ্যে হলো ফলিক এসিড। এটি ভ্রূণের বিকাশে নিউরাল টিউব ত্রুটি, জন্মগত হার্টের ত্রুটি, ফাটল অঙ্গ, অঙ্গের ত্রুটি এবং মূত্রনালীর অসঙ্গতি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ফলিক অ্যাসিডের অভাব অকাল প্রসবের ঝুঁকি বাড়ায় এবং গর্ভাবস্থার জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
উৎসঃ বিভিন্ন ধরনের শাক যেমন,পুঁইশাক, পাটশাক, মুলাশাক, সরিষা শাক, পেঁপে, মটরশুঁটি, শিম, বরবটি, বাঁধাকপি, গাজর ইত্যাদি। বিভিন্ন ধরনের ডাল যেমন- মসুর, মুগ, মাষকালাই, বুটের ডাল ইত্যাদিতে ফলিক এসিড প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। এছাড়াও রয়েছে সরিষা, তিল, তিসি ও সূর্যমুখীর বীজে।
৮) সেলেনিয়ামঃ
কাজঃ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুকে ফ্রি র্যাডিক্যাল থেকে রক্ষা করে।এছাড়া এটি শুক্রাণু সৃষ্টির জন্যও প্রয়োজনীয়।
উৎসঃ লিভার, স্ন্যাপার, কড, হালিবুট, টুনা, সালমন, সার্ডিন, চিংড়ি, ক্রিমিনি মাশরুম, টার্কি, ব্রাজিল নাট।
৯) জিঙ্কঃ
কাজঃ মহিলাদের ক্ষেত্রে, জিঙ্ক প্রজনন সিস্টেমের সর্বোত্তম কার্যকারিতা বজায় রাখতে শরীরের 300 টি ভিন্ন এনজাইমের সাথে কাজ করে। পুরুষদের ক্ষেত্রে ,জিঙ্ক পুরুষের উর্বরতা বজায় রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিনারেলস হিসাবে বিবেচনা করা হয় ।
উৎসঃ গরুর কলিজা, ঝিনুক, গরুর মাংস, ভেড়ার মাংস, তিলের বীজ, কুমড়োর বীজ, দই, টার্কি, সবুজ মটর, চিংড়ি। এছাড়াও, রান্নার ফলে খাবারে থাকা জিঙ্কের অপচয় হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে জিঙ্ক দেহে সরবরাহ এর জন্য কিছু খাবার কাঁচাও খাওয়া যায়।
১০) অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিডঃ
কাজঃ ওমেগা-৩ অ্যাসিড শরীরের হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, সার্ভিকাল শ্লেষ্মা বাড়ায়, ডিম্বস্ফোটন বাড়ায় এবং শরীরের প্রজনন অঙ্গে রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে জরায়ুর গুণমান উন্নত করে।
উৎসঃ flax seed,চিয়া সিডস,আখরোট, স্যামন মাছ, সার্ডিনস, হালিবাট, চিংড়ি।
উপরে উল্লেখিত খাদ্য উপাদান ছাড়াও আপনার fertility diet এ পর্যাপ্ত পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, কোলেস্টেরল, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবার জাতীয় খাবার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে,কারন এগুলো আপনার শরীরকে সার্বিক ভাবে সুস্থ এবং রোগমুক্ত থাকতে সহায়তা করবে।
উপরে বর্নিত খাবারগুলো স্বাভাবিকভাবে আপনার উর্বরতা বৃদ্ধিতে কাজ করে।তবে যদি কারো স্পেসিফিক কোন প্রবলেম থাকে তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া উচিত।