04/05/2020
★আমলকির গুনাবলীঃ-
"আমলকি" - ডায়বেটিস, ক্যান্সার, হার্ট,
আলসার ছাড়াও হাজারো গুণের উপকারী।
আমলকি এমন একটি ফল যার মধ্যে রয়েছে
অনেক ভেষজ গুণ। যার অন্যনাম, আমলা,
ইংরেজিতে বলে Indian Gooseberry। ফল
থেকে শুরু করে পাতাও ওষুধরূপে ব্যবহার করা
হয়। প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ ভরপুর আমলকি। পুষ্টি
বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমলকিতে পেয়ারা ও
কাগজি লেবুর চেয়ে যথাক্রমে তিন গুণ ও দশ
গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। আমলকিতে
কমলা লেবুর চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি,
আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে
২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি
ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে।
এই আমলকি বিভিন্ন
অসুখ সারানো ছাড়াও রোগ প্রতিরোধক
ক্ষমতা গড়ে তুলতে দারুণ সাহায্য করে।
আমলকির গুণাগুণের জন্য আয়ুর্বেদিক ওষুধেও
এখন আমলকির নির্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে।
কি উপকার করে, এটাতে যাওয়ার আগে আসুন
জেনে নিই কি আছে এটাতে।
প্রতি ১০০ গ্রাম আমলকিতে যা আছেঃ
এনার্জি – ৪৪ কিলোক্যালোরি
কার্বহাইড্রেড – ১০ গ্রাম
ডাইয়েট্ট্ররী ফাইবার – ৪.৩ গ্রাম
প্রোটিন -১ গ্রাম
ফোলেটস্ – ৪.৩ এমসিজি
নিয়াসিন – ০.৩ মিগ্রাম
প্যানটোথেনিক এসিড – ০.২৮৬ মিগ্রাম
পাইরোডক্সিন – ০.০৮ মিগ্রাম
রিভোপ্লাবিন – ০.০৩ মিগ্রাম
থাইয়ামিন – ০.৪ মিগ্রাম
ভিটামিন এ – ২৯০ আইইউ
টোটাল ফ্যাট – ০.৫৮ গ্রাম
ক্যালসিয়াম – ২৫ মিগ্রাম
আয়রন – ০.৩১ মিগ্রাম
ভিটামিন সি – ২৭.৭ মিগ্রাম
সোডিয়াম – ১ মিগ্রাম
পটাশিয়াম – ১৯৮ মিগ্রাম
কপার – ০.০৭ মিগ্রাম
ম্যাগনেশিয়াম – ১০ মিগ্রাম
ম্যাঙ্গানিজ – ০.১৪৪ মিগ্রাম
ফসফরাস – ২৭ মিগ্রাম
জিংক – ০.১২ মিগ্রাম।
★ব্লাড সুগার ও ডায়াবেটিস:
আমলকি ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে
রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য
করে। প্রতিদিন মাত্র চা চামচের ৩/৪ ভাগ
আমলকি চূর্ণ সেবন করলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস
স্বাভাবিকে চলে আসে, যা ডায়াবেটিস এর
ঔষধ থেকেও বেশি কার্যকরী। যেভাবে
তৈরী করতে হবেঃ-
পরিমানমত জল ভাল করে
সিদ্ধ করে রুম তাপমাত্রায় ঠান্ডা করতে
হবে। ইত্যবসরে ২/৩টি আমলকি সাধারন জল
দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর
আমলকি কেটে ছোট ছোট টুকরো করে
জলে মিশাতে হবে, সাথে ২ চা চামচ
হলুদের গুঁড়াও মিশাতে হবে। মিশ্রণটি একটি
টাইট কন্টেনারে ভরে ১০ দিন রেখে দিতে
হবে। মাঝে মাঝে কন্টেনারটি একটু নাড়িয়ে
রাখতে হবে। ১০ দিন পর মিশ্রণ থেকে ২ চা
চামচ সকালে খালি পেটে খেয়ে নিতে হবে।
এভাবে ১০/১২ দিন পর দেখুন আপনার সুগার
লেভেল ম্যাজিক রেজাল্ট।
★কোলেস্টেরোল এন্ড হার্ট:
আমলকি ডায়াবেটিস রোগীর কোলেস্টেরল
লেভেলও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।
মাত্র ২১ দিন আমলকি চূর্ণ সেবনে খারাপ
কোলেস্টেরোল বিপদজনক মাত্রা থেকে
অর্ধেকে নেমে আসে। পাশাপাশি ভাল
কোলেস্টেরোল বেড়ে প্রায় ডাবল হয়ে যায়।
আর ট্রাইগ্লিসারাইডও অর্ধেকের বেশি
নেমে আসে।
★ক্যান্সার:
ক্যান্সার প্রতিরোধে আমলকি খুবই কার্যকর।
আমলকিতে আছে উচ্চ মাত্রার
এন্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে সুপারঅক্সাইড
ডিসমিউটাস (এসওডি), যা ফ্রি রেডিকেল
গঠনের বিরুদ্ধে কাজ করে। ইউরোপীয়ান
জার্নাল অব ক্যান্সার প্রিভেনশান এর ২০১১
সংখ্যাতে এটা প্রকাশিত হয়। আমলা
ক্যান্সার গবেষণা কেন্দ্র, কেরালার এক
গবেষণায় দেখা গেছে আমলকি ক্যান্সার
কোষকে অত্যন্ত সফলতার সাথে ধ্বংশ করে
দেয়। আমলকি মুলত ৬ ধরণের ক্যান্সারের
বিরুদ্ধে কাজ করে। ফুসফুসের ক্যান্সার,
কোলন ক্যান্সার, ওভারিয়ান ক্যান্সার,
ব্রেস্ট ক্যান্সার, সার্ভিক্যাল ক্যান্সার ও
লিভার ক্যান্সার।
★লিভার:
গবেষণায় দেখা গেছে, আমলকিতে একধরনের
বিশেষ উপাদান আছে, যা লিভারকে
অক্সিডেটিভ ক্ষতি (যা বিভিন্ন ধরণের
কেমিক্যাল ও অ্যালকোহল থেকে সৃষ্টি)
থেকে রক্ষা করে। এটা ফ্যাটি লিভারের
জন্য একটি শক্তিশালী রিমেডি।
একটুকরো
আমলা সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে
খালি পেটে খেলে লিভার সুস্থ থাকে।
★হজম সমস্যা, গ্র্রাস্ট্রিক আলসার:
আমলকি ফাইবার সম্বৃদ্ধ ফল। এটার ফাইবার,
ফলিপেনল ও জল মিলে এন্টিইনপ্লেমেটর
উপাদান তৈরী হয়, যা পরিপাকতন্ত্রকে
শক্তিশালি করে হজমে সাহায্য করে ও
স্টমাকে আসিডের ব্যালেন্স বজার রাখে।
এটা খাদ্য থেকে পুষ্টি শুষে নিয়ে শরীরের
সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। খাবারের সঙ্গে
আমলকির আচার খেলে হজমে সাহায্য করবে।
আমলকির টক ও তিক্ত স্বাদ হজমের
এনজাইমকে সক্রিয় করে তোলে। আমলকি
গ্রাস্ট্রিক থেকে পরিত্রাণ পেতে সাহায্য
করে। এসিডিটি দূর করা জন্য আমলকি
পাউডার দুধের সাথে মিশিয়ে দিনে দুই বার
খেতে হবে। অথবা সকালে খালি পেটে এ চা
চামচ আমলকির রস খেলে গ্যাস্টিকের সমস্যা
দূর হয়।
★ভিটামিন সি ঘাটতি জনিত রোগঃ
শরীরে ভিটামিন সি এর ঘাটতি মেটাতে
আমলকির জুড়ি নেই। ভিটামিন সি এর অভাবে
যেসব রোগ হয়, যেমন: স্কার্ভি, মেয়েদের
লিউকরিয়া, অর্শ প্রভৃতি ক্ষেত্রে আমলকি
খেলে উপকার পাওয়া যায়।
★প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি:
আমলকি প্রজনন টিস্যুসহ ৭ ধরণের টিস্যু উন্নত
করতে সাহায্য করে। ইহা শুক্রানু ও ডিম্বানু
বৃদ্ধি করে।
আরো একবার এক দেখে নেওয়া যাক এর মূল উপকারীতা গুলোঃ-
১)আমলকী চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি কেবল চুলের গোড়া মজবুত করে তা নয়, এটি চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।
২)এটি চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে ও পাকা চুল প্রতিরোধ করে।
৩)আমলকীর রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। এছাড়াও এটি পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে।
৪)এক গ্লাস দুধ বা জলের মধ্যে আমলকী গুঁড়ো ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দু'বার খেতে পারেন। এ্যাসিডেটের সমস্যা কম রাখতে সাহায্য করবে।
৫)আধা চূর্ণ শুষ্ক ফল এক গ্লাস জলেতে ভিজিয়ে খেলে হজম সমস্যা কেটে যাবে। খাবারের সঙ্গে আমলকীর আচার হজমে সাহায্য করে।
৬)প্রতিদিন সকালে আমলকীর রসের সঙ্গে মধু মিশে খাওয়া যেতে পারে। এতে ত্বকের কালো দাগ দূর হবে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।
৭)আমলকীর রস দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছড়াও চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন চোখের প্রদাহ। চোখ চুলকানি বা জল পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই দেয়।
৮)আমলকী চোখ ভাল রাখার জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িও ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
৯)এছাড়াও প্রতিদিন আমলকির রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত থাকে।
১০) আমলকীর টক ও তেতো মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়। রুচি বৃদ্ধি ও খিদে বাড়ানোর জন্য আমলকী গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেতে পারেন।
১১) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়।
১২) কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকী অনেক উপকারী।
১৩) ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমার জন্য আমলকীর জুস উপকারী।
১৪) শরীর ঠাণ্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশী মজবুত করে।
১৫) এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকীর আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে।
১৬) শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে।
১৭) লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে তুলে দাঁত ও নখ ভাল রাখে।
১৮) এর এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ফ্রি র্যাডিকালস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। বুড়িয়ে যাওয়া ও সেল ডিজেনারেশনের অন্যতম কারণ এই ফ্রি র্যাডিকালস।
১৯) সর্দি-কাশি, পেটের পীড়া ও রক্তশূন্যতা দূরীকরণে বেশ ভালো কাজ করে।
২০) ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।
★★★এই পেজের পোস্টগুলো
ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক বা কমেন্ট করুন।আপনার লাইক বা কমেন্ট আরও নতুন তথ্য উপস্থাপন করতে উৎসাহীত করবে।★★★