মিলনতত্ত্ব - Sisters Only

মিলনতত্ত্ব - Sisters Only This is the official page of the Bangladeshi Facebook community Group- "মিলনতত্ত্ব (Sex Education & Solution)"

(১) মিতু বরাবরই ঝামেলা এড়িয়ে চলা মানুষ। ওর হিসাবে, জীবন হতে হবে পানির মতো সোজা। কোনোকিছুতে বেশি প্যারা নিতে রাজি না মিতু...
01/05/2026

(১) মিতু বরাবরই ঝামেলা এড়িয়ে চলা মানুষ। ওর হিসাবে, জীবন হতে হবে পানির মতো সোজা। কোনোকিছুতে বেশি প্যারা নিতে রাজি না মিতু। অবশ্য একটা ক্ষেত্রে মিতু নিজের এই সূত্র থেকে যোজন যোজন সরে এসেছে। নিজের ক্যারিয়ারের চিন্তায় মিতু বরাবরই রিস্ক টেকিং এবং অ্যাডভেঞ্চারাস। ভীষণ পরিশ্রমী মিতু নিজের জবের ক্ষেত্রে কখনোই অল্পে তুষ্ট নয়। ওর লক্ষ্য থাকে কীভাবে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করা যাবে। সবাই যেখানে ফাঁকফোকর খোঁজে, মিতু সেখানে অফিস আওয়ারের আরও আধ ঘণ্টা আগে থেকেই নিজের ডেস্কে গিয়ে ফাইলপত্র গুছিয়ে নেয়। এত ডেডিকেশনের কারণে সমসাময়িক অনেককে টপকে মিতু খুব দ্রুতই উচ্চপদস্থ কর্মীদের দলে নিজের নাম লিখিয়ে নেয়।

অফিসে ওর প্রমোশন হয় ঠিক দু বছরের মাথায়, এবং সত্যিই ও এর যোগ্য হকদার। প্রচণ্ড খেটেছে মিতু। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে প্রতিটা ক্লায়েন্ট মিটিং এর প্রিপারেশন নিয়েছে। এমনকি গর্ভকালীন কোনো ছুটিও নেয় নি।

হ্যাঁ, মিতু প্রেগনেন্ট। বিয়ের পর প্রথম চার বছর ও এবং রাতুল, মানে মিতুর বর, দুজনের কেউই বাচ্চা নিতে চায় নি। ওরা চেয়েছিল দুজন মিলে কাপল লাইফটা এনজয় করবে। এর মাঝে মিতু খুব ভালো একটা জব পেয়ে যায়। আর সেদিকে ফোকাস করতে গিয়ে আরো ফ্যামিলি প্ল্যানিং এ আরো দু বছর দেরি হয়। তবে এখন মিতু প্রেগনেন্ট আর কিছুদিন পরেই ওর বেবি হওয়ার ডেইট।

ডক্টরের কাছে রুটিন চেক আপের সময় সব জেনে নেয় রাতুল আর মিতু। আল্ট্রাসাউন্ডের রিপোর্ট নরমাল। বেবির কোনো কমপ্লিকেশন নেই। ডক্টর পারভীন একজন খ্যাতনামা চিকিৎসক, গাইনী বিশেষজ্ঞ। দেশে তো বটেই, বাইরের দেশ থেকেও নানান সার্টিফিকেট আর অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত। উনার আন্ডারে মিতু বেশ নির্ভার বোধ করে।

দেখতে দেখতে ডেলিভারির সময় ঘনিয়ে আসে। পুরো গর্ভাবস্থায় মিতুর কোনো অসুস্থতা ছিল না। চাকরিও কন্টিনিউ করেছে মিতু। এবারের এপয়েন্টমেন্টে ডক্টর পারভীন বলেন, আর দেড় মাস পরেই ডেলিভারি ডেইট। যেহেতু কোনো কমপ্লিকেশন নেই, তাই নরমালেই ট্রাই করা যাবে। এ কথা শুনে মিতু বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ে। ও জানে বাচ্চা হওয়ার সময় প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এত কষ্ট করতে চায় না মিতু। ও ডক্টর পারভীনের দিকে তাকিয়ে বলে, আমি চাচ্ছি সিজারে ডেলিভারি করতে।

ডক্টর পারভীনের মতে, মায়েদের উচিত নরমাল ডেলিভারির ট্রাই করা। অন্যান্য ডাক্তারদের মত প্রয়োজন ছাড়া সিজার করার পক্ষপাতী নন তিনি। উনি মিতুকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন, মিতু, আপনি ভয় পাবেন না। সৃষ্টিকর্তা এভাবেই মায়ের বডিকে তৈরি করেছেন, যেন মায়েরা সহজে বাচ্চা ডেলিভারি করতে পারে। সাময়িক বিচারে নরমালে বেশি কষ্ট মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটাই বেশি উপকারী।

রাতুলও মিতুকে বোঝানোর চেষ্টা করল, দেখো, প্রয়োজন হলে আমরা অবশ্যই সিজার করব, কিন্তু ডাক্তার যেহেতু বলছেন, সব ঠিকঠাক আছে। তাহলে নরমালের ট্রাই করাই যায়, তাইনা?

কিন্তু মিতুর এক কথা সে সিজার-ই করবে। রাতুল একটু পীড়াপীড়ি করতেই ও বলে উঠল, আচ্ছা, তুমি কি টাকা খরচ করতে ভয় পাচ্ছো? ডোন্ট ওয়ারি, আমি নিজের টাকাতেই সিজার করাব। এ কথা শুনে রাতুলের মুখটা নিমিষেই কালো হয়ে যায়। ও খরচের কথা ভেবে না, বরং ডক্টর পারভীনের বক্তব্য শুনেই মিতুকে নরমাল করতে বলছিল। মিতু আবারও বলল, বাচ্চা জন্ম আমি দিব, আর আমি সিজারই করতে চাই।

এরপর আর কোনো কথা থাকে না। ডক্টর পারভীন মিতুর জন্য সিজারের এপয়েন্টমেন্ট ডেইট দেন, আর বলেন, সিজারের আগে যেন একবার এসে সব চেক করিয়ে নেয়।

মিতু বিজয়ীর বেশে হাঁটতে হাঁটতে চেম্বার থেকে বের হয়ে যায়।


(২) সোহেল কিছুদিন হলো নামাজ-কালাম শুরু করেছে। নার্গিস আগে থেকেই পর্দা করতো। বিয়ের পর সোহেলের অসহযোগিতার কারণে নিকাব করতে পারতো না, চিৎকার করে বাড়ি মাথায় তুলতো সোহেল।

নার্গিস সবার অলক্ষে চোখের পানি ফেলত আর আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাতো। স্বামীর চেচামেচির সামনে ওর কিছু করার নেই। নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে নার্গিস। তালাক নিলে বাপের বাড়িতেও জায়গা হবে না। তাই সোহেলের অন্যায় আচরণ আর রগচটা ব্যবহার মুখ বুজেই সহ্য করে ও।

বাচ্চা পেটে আসার পর অবশ্য নার্গিসের প্রতি সোহেলের আচরণে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আগে ওষুধপত্রও আনতে চাইতো না, এখন দেরি করে হলেও অন্তত ওষুধপত্র কিনে আনে। কিন্তু তার এক কথা, মরে গেলেও সিজার করাব না।

নার্গিস সোহেলের এসব কথাবার্তা শুনে চুপ করে থাকে। ও নিজেও তো নরমালেই চেষ্টা করতে চায়। মা-খালাদের মুখে শুনেছে নরমালে বাচ্চা হলে শরীর ঝরঝরে থাকে। তাছাড়াও আল্লাহ চাইলে ওর আরো সন্তান নেয়ার ইচ্ছা।

শ্বশুরবাড়ির সব কাজ নার্গিস একা হাতেই করে। ননদ ছোট, স্কুলে পড়ে। শাশুড়ি অসুস্থ, উনাকেও দেখাশোনা করতে হয়। সব সামলে নার্গিসের খুব দুর্বল লাগে। মনে হয় যেন ওর শরীরে আর একটুও শক্তি নেই। সোহেল সকালে বের হয়, রাতে ফিরে। ঘরে ফিরেও এদিক থেকে সেদিক দেখলে কথা শোনাতে ছাড়ে না।

আস্তে আস্তে নার্গিসের শরীর ভারি হতে থাকে। চোখের নিচে কালি পড়ে। পুষ্টিকর খাবার-দাবারের অভাবে চামড়া ফ্যাকাশে হতে শুরু করে। একদিন মনে সাহস জড়ো করে বলেই ফেলে, আমার শরীরটা আজকাল অনেক কাহিল লাগে। পাশের বাসার ভাবির থেকে শুনলাম একটা ছুটা বুয়া আসে, যদি দুইটা মাসের বুয়া জন্য রাখা যায়, তাহলে খুব উপকার হয়।

সোহেলের টাকাপয়সার অভাব আছে তেমন না, ধনী না হলেও স্বচ্ছলতা আছে। একটা কাজের লোক রাখা তার জন্য কঠিন কিছু না। কিন্তু গর্ভবতী বউয়ের মুখে কাজের লোকের কথা শুনেই সে তেড়ে ওঠে, সারাদিন ঘরে বসে শুয়ে থেকে সিজার করাইতে চাও? আমাদের মা-খালারা বাচ্চা পেটে নিয়ে কামকাজ করে নাই?

সোহেলের মা পাশের ঘর থেকে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। উনি নিজে চলাফেরা করতে পারেন না। ছেলের মেজাজের সাথে তিনি পরিচিত। জোরে আওয়াজ করে বলেন, বউমা সারাদিন কামকাজই করে। তুই একটা ছুডা বুয়া রাখ। এই সময়ে এত ধকল শইল্লে সয় না।

সোহেলও কম যায় না। চিৎকার করে বলতে থাকে, আম্মা, আপনে যা জানেন না তা নিয়া কথা কয়েন না। আমি কোনো ছুটা বুয়া রাখব না। নার্গিসের এখন শরীর নাড়ানো দরকার। নাহলে পরে সিজার করানো লাগবে। গরুছাগল নরমালে বাচ্চা দেয় না? ওদের বাচ্চা পেটে আসলে কি গোয়ালে বসায় রাখা লাগে?

নার্গিস ফ্যালফ্যাল করে সোহেলের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। ওর বলতে ইচ্ছা করে, ও কি গরুছাগল? কিন্তু সোহেলের নোংরা কথার ভয়ে ও কথাটা আবার গিলে নেয়। মনে মনে ভাবে, এই মানুষটার কারো প্রতি কোনো সম্মান নাই। না মায়ের সাথে, না বউয়ের সাথে।

একদিন প্রচণ্ড ব্যথা ওঠে নার্গিসের। সকাল থেকেই ও কাতরাতে থাকে। কোনোমতে সোহেলকে ফোন করে জানায়। সোহেলে অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে, ভীড় ঠেলে বাসায় পৌঁছাতে প্রায় বিকাল হয়ে যায়। এরপর নার্গিসকে নিয়ে হাসপাতাল যেতে যেতে সন্ধ্যা গড়ায়।

হাসপাতালে পৌঁছাতেই ডাক্তার চেক করে জানায়, নার্গিসের পানি অনেক আগেই ভেঙে গেছে। বাচ্চার অবস্থা শোচনীয়। এক্ষুণি সিজার করাতে হবে, তা নাহলে মা ও বাচ্চা উভয়ের জন্য রিস্ক।

ডাক্তার নার্সকে ডেকে ওটি রেডি করতে বলবে, ঠিক তখনই সোহেল তেড়েমেড়ে বলে ওঠে, নরমালে পারলে করেন, নাহয় আমি অন্য হাসপাতালে যাব। আমার বউকে সিজার করাব না, ব্যস।

সোহেলের উগ্র মেজাজ গোণার সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নেই। ডাক্তার-নার্স সবাই যার যার কাজে চলে যায়। সোহেল খিস্তিখেউড় দিতে দিতে আরেকটা সিএনজি খুঁজতে থাকে। নার্গিস সোহেলের হাত ধরে শেষ বারের মতো বলে, আপনে আমার সিজার করান। আমি আর সহ্য করতে পারতেসি না। কিন্তু সোহেল এক ধমক দিয়ে আবারও সিএনজি ডাকতে থাকে। ওদিকে নার্গিস এতক্ষণ কাতরানোর পর হঠাৎ করেই চুপ হয়ে যায়। মনে হয় বেহুঁশ হয়ে গেছে। সোহেল বেশি ভাড়াতে একটা ক্যাবে উঠে পড়ে।

নার্গিসের শরীর পুরোপুরি ছেড়ে দেয়। ক্যাবের ভাড়া মিটিয়ে কোনোরকমে হাঁচড়ে-পাচড়ে নার্গিসকে টেনে বের করে সোহেল। যে আশায় আরেক হাসপাতালে আসা, তা মাঠে মারা যায়। এখানকার ডাক্তার সাফ জানিয়ে দেয় পেশেন্ট শকে চলে গেছে, অবিলম্বে সিজার করাতে হবে। এদিকে সোহেলও দমার পাত্র নয়। সে নরমালেই বাচ্চা চায়। যা হয় হোক। এসব সিজারে সে বিশ্বাসী না। গরুছাগলের তো সিজার ছাড়াই বাচ্চা হয়। আজকালকার মেয়েদের যত নতুন ভঙ - সিজার করানো লাগবে। সব ষড়যন্ত্র। এইগুলা কানে দেয়ার কী আছে?

সোহেলের চোখের সামনে নার্গিস নিস্তেজ হতে থাকে। শ্বাসপ্রশ্বাস কমে যায়। সোহেলের গোয়ার্তুমি তবু যায় না। গলার রগ ফুলিয়ে হাসপাতালের স্টাফদের সাথে রাগারাগি করতে থাকে সে। আরো একটা হাসপাতালে নিবে, কিন্তু সেখানে পৌঁছে জানতে পারে নার্গিস আর বাচ্চা কেউই আর বেঁচে নেই। কষ্ট পেতে কখন যেন দুজনেরই রুহ পরপারে পাড়ি জমিয়েছে।

সোহেল এখনও গোঁয়ারের মতো ভাবে, বউ-বাচ্চার মৃত্যুতে তার কোনো দায় নেই। ওটি বয় আর পুরুষ ডাক্তারের সামনে শরীর খোলার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো।


(৩) তিন্নি ভীষণ স্বাস্থ্য সচেতন। বাচ্চা পেটে আসার পর থেকেই ও নিয়মিত ব্যায়াম করে, পুষ্টিকর ফলমূল আর খাবার-দাবার খায়। এসব নিয়ে অনেক বইপত্র ঘেটেছে। পরিচিত সবার সাথে কথা বলেছে। ও জানে, নরমাল ডেলিভারির কোনো বিকল্প নেই। ওর হাজবেন্ড শিহাবও ওকে সবসময় সাপোর্ট করে। দুজনেরই ইচ্ছা নরমাল ট্রাই করার।

ওরা অনেক খোঁজ নিয়ে ডক্টর সালেহার কথা জানতে পারে। উনি একজন নামকরা গাইনী বিশেষজ্ঞ। সমসাময়িক অসৎ অনেক ডাক্তারদের ভিড়ে একজন খাঁটি মানুষ। তিনি ডাক্তারি পেশাকে শুধু ব্যবসার নজরে দেখেন না, বরং কী করলে পেশেন্টের ভালো হবে সেটাই উপদেশ দেয়ার চেষ্টা করেন। তিন্নির বেশ কিছু বান্ধবী ডক্টর সালেহার আন্ডারে থেকে নরমালে ডেলিভারি করেছে, তাদের সবার অভিজ্ঞতাই চমৎকার। সেই ভরসায় তিন্নিও উনার কাছেই নিয়মিত চেক-আপ করায়।

দেখতে দেখতে তিন্নির চল্লিশ সপ্তাহ পার হয়ে যায়, কিন্তু ওর ব্যথা ওঠার কোনো নামগন্ধও নেই। খালি মাঝেমধ্যে পেটটা হালকা শক্ত হয়ে ওঠে। ডক্টর সালেহা ওকে আশ্বস্ত করে বলেন, অনেক সময় নরমাল পেইন উঠতে আরো দুই-এক সপ্তাহ বেশি সময় লাগতে পারে। আপনি ভয় পাবেন না, আর সাবধানে থাকবেন।

ডক্টর সালেহার কথাই সত্যি হয়। এর পরের সপ্তাহেই তিন্নির পেইন ওঠে। তীব্র ব্যথায় ছটফট করতে করতে ওরা হাসপাতালে এসে শোনে, ডক্টর সালেহা ইমার্জেন্সি কাজে ছুটি নিয়েছেন। তিন্নির সাথে ডাক্তারের আন্তরিক সম্পর্ক থাকায় ও ব্যথায় ছটফট করতে করতেই ফোন দেয়। কিন্তু জানতে পারে, তিনি এখন ঢাকার বাইরে আছেন। ফিরতে কমপক্ষে আরো একদিন লাগবে। উনি তিন্নিকে সাহস যুগিয়ে বেশ কিছু কথা বলেন।

এদিকে ব্যথা বাড়তে থাকে। তিন্নি কষ্টের মধ্যেও ভাবে, নরমাল ডেলিভারির সাইন ওর মধ্যে পুরোপুরি আছে। খানিক পরে একটা কেবিনে শিফট করা হয় ওকে। ওর স্বামী শিহাব পুরোটা সময় ওর পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। এরই মধ্যে দুইজন ডাক্তার চেক করে গেছে, তারা বলে রাস্তা মোটামুটি খুলেছে। আরেকটু খুলতে হবে। তিন্নির ব্যাথাও স্বাভাবিক নিয়মে আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে।

কয়েক ঘণ্টা পর শিফট বদল হয়। রাতের শিফটে ডাক্তার চেক-আপ করতে এসে জানায়, বাচ্চা পায়খানা খেয়ে নিয়েছে, এখনই অপারেশন করতে হবে।

অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিন্নি আর শিহাব মেনে নেয়। প্রায় আঠারো ঘণ্টা লেবার পেইন সহ্য করার পর তিন্নির সিজার হয়। জন্ম নেয় এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান। মেয়েকে কোলে নিয়ে তিন্নি ওর সব কষ্ট ভুলে যায়।

এক এক করে তিন্নি আর শিহাবের বাবা-মা, ভাইবোন, আত্মীয়-স্বজন বাচ্চা আর মাকে দেখতে আসে। ওদেরকে দেখাশোনা করার জন্য সবাই আছে দেখে শিহাবও নিশ্চিন্ত মনে কেবিন থেকে বের হয়। ফার্মেসি থেকে কিছু কেনাকাটা করতে হবে। ক্যান্টিনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শিহাবের কানে আসে, দুজন নার্স হাসাহাসি করছে আর বলছে, আজকে স্যারের মন ভালো, দুইটা সিজার করাইসে। ওই শুকনা আপাটার তো আর আধা ঘণ্টা হইলে এমনেতেই বাচ্চা হয়ে যাইতো। শুনেই পাশেরজন টিপ্পনী কাটে, দেইখাই বুঝছিলাম এরা মালদার পার্টি। স্যার সিজার না কইরা ছাড়বে না। বাচ্চার পায়খানার কথা শুনেই ওটিতে চইলা গেসে।

আরো কী সব কথা বলে দুইজন হাসাহাসি করতে থাকে। কিন্তু বাকি কথা আর শিহাবের কানে ঢোকে না। ওর মাথাটা হঠাৎ চক্কর দিয়ে ওঠে। টাকার জন্য ও পরোয়া করে না, কিন্তু এতো বড় জুলুম!

এক দৌড়ে ঐ দুইজন নার্সের কাছে ছুটে যায় শিহাব। কিন্তু দুজনেই এক কথায় সব অস্বীকার করে। এমন কোনো কথাই নাকি ওরা বলে নাই। ওরা নাকি ওদের আত্মীয়ের কথা বলছিল, যে অন্য হাসপাতালে ভর্তি। ঝামেলা দেখে কিছুক্ষণের ভেতরই চারপাশে আরো কয়েকজন স্টাফ আর ডাক্তার জড়ো হয়ে যায়। ওরা সবাই একজোট হয়ে শিহাবের সাথে হম্বিতম্বি করতে থাকে। হুংকার দিয়ে বলে, আপনার সমস্যা হলে অন্য হাসপাতালে চলে যান। এইখানে সিনক্রিয়েট করবেন না। এর মধ্যে এক ডাক্তার রিপোর্ট হাতে এগিয়ে আসে, সবাইকে ঠান্ডা করে বলে, দেখেন খালি খালি হইচই না করাই ভালো। এই দেখেন আপনার বউয়ের রিপোর্ট, সিজার না করলে আপনার বউ আর মেয়ে কেউই বাঁচতে পারতো না।

শিহাব জানে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সামনে ও বড় অসহায়। ক্ষমতার জোর ছাড়া এদের বিরুদ্ধে কিছুই করা যাবে না। ও নিজে সত্যিটা জেনেও প্রমাণ দিতে ব্যর্থ। যে ডাক্তাররা মিথ্যা বলে সিজার করাতে পারে, সামান্য রিপোর্ট বদল করে দেয়াটা তাদের জন্য ডালভাত। এখানে ইনসাফের কোনো আশা নেই। ও আচ্ছা, বলে চুপচাপ সরে যায় শিহাব, কিন্তু ওর বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে। আল্লাহর কাছেই বিচার দিয়ে রাখে ও। যারা তার স্ত্রী আর কন্যার উপর এই জুলুম করল, তাদেরকে ও কোনোদিনও মাফ করবে না।

এক শহরের তিনটি গল্প

~ আনিকা তুবা!

সদ্য মা হবেন যারা তাদের উপকারে আসবে ভেবে পোস্ট দেওয়া। অনেক বোন ইনবক্সে কেনাকাটা বা বাবুর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লিস্ট চেয়...
18/04/2026

সদ্য মা হবেন যারা তাদের উপকারে আসবে ভেবে পোস্ট দেওয়া। অনেক বোন ইনবক্সে কেনাকাটা বা বাবুর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লিস্ট চেয়েছিলেন, এটা তাদের জন্য।

আমি ডেলিভারির প্রায় দেড় দুইমাস আগেই এসব কিনে রেখেছিলাম—

ওয়েট টিস্যু
ইউরিন ম্যাট
নিমা বেশ কয়েকটা। কারণ গ্যাস প্রবলেমের জন্য ঘনঘন বমি করলে বা ঢেকুর তুললে হালকা দুধ বেরিয়ে জামা মেখে যেত।
নরম কটনের রুমাল
ডায়পার
নাভীর জন্য নেবানল পাউডার ও নাকের জন্য নরসল ড্রপ। আগেই মুখ খুলবেন না। বাবু হওয়ার পর যখন দরকার হবে তখন খুলবেন। নরসল ড্রপ মুখ খোলার পর ১ মাস ব্যবহার করা যায়।
নাভীর নেবানল পাউডার আমাকে বাবুর নাভী পরার পর ব্যবহার করার জন্য ডক্টর প্রেসক্রাইব করেছিলেন। তবে, বোন, ভাইজতাদের সূত্রে আমি আগে থেকেই জানতাম। এগুলো ওদের সময় ব্যবহার করতে দেখেছিলাম নাভী পরার পর। তাই, আগে থেকেই কিনে রেখেছিলাম। পরে ডক্টর আমার বাবুর জন্যও ব্যবহার করতে বলেন।

হেক্সোসল (হ্যান্ড রাবের জন্য ও সিজার হলে পরবর্তী ড্রেসিংয়ের জন্য)। দরকার না হলে এটারও মুখ আগে থেকে খুলবেন না।

অলিভ অয়েল, এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল, ভ্যাসলিন। (বাচ্চার হাত গলা রান ইত্যাদির ভাঁজে ভাঁজে দিতে হয় নাহলে ছিলে ফেঁড়ে যায়, ভ্যাসলিন আর তেল হাতে নিয়ে মিক্স করে দিলে বেশিক্ষণ কাজে দেয়।)

বাবুর প্রথম ৪-৫ দিনের কালচে হাগুর জন্য নরম কাপড়, যেগুলো ইউজ করার পর ফেলে দিয়েছিল। নেংটি ইউজ করি নি আমি, বাইরের কেনা নেংটিগুলো কোনো কাজের না। বাসায় বানিয়ে নিতে পারেন। আমি নেংটিও ইউজ করি না। কাপড় চারকোনা করে কেটে ইউজ করি। পুরো পা থেকে কোমড় পর্যন্ত ঢেকে থাকে। আর ভারী কাঁথা, শরীরের উপর ভার দেওয়ার জন্য। নাহলে বাচ্চা ঘুম থেকে কেঁপে কেঁপে আঁতকে ওঠে।

বেবি নেইল কাটার
গোসলের তোয়ালে
কোথাও যাওয়ার সময় ব্যবহারের জন্য ক্যাপ টাওয়েল

মিটেন সেট অর্থাৎ হাত পা মোজা মাথার টুপি। আল্লাহ না করুন বাচ্চার ঠান্ডা লাগলে অথবা শীতের সময় হলে, বৃষ্টির দিন ঠান্ডা পরিবেশ থাকলে এটা লাগবেই মাস্ট। নাহলে বাবুদের হাত পা ঠান্ডা হয়ে নীলচে আভা এসে যায়। তাই হাত পায়ের পাতা গরম রাখতে এটা দরকার হয়। কয়েকটা কিনে রাখতে পারেন। নাহলে অনেকসময় প্রসাব বা বমিতে ভিজে যায়, তখন আরেকটা পরিয়ে দেওয়া যায়। শীতের সিজনের সময় ৬-৭ সেট থাকলে ভালো হবে। কেননা তখন এগুলো ধুলে শুকাতে অনেক সময় লাগে। ১-২ দিনও লাগে। আর বাচ্চাদের গ্যারান্টি নেই, কোনোদিন একটাও নষ্ট হয় না, আবার কোনোদিন অনেকগুলো ভিজে নষ্ট হয়ে যায়।

সেট বিছানাগুলো তেমন ইউজফুল না। কারণ অনেকের বাবু এতে ঘুমায় আবার অনেকের বাবু ঘুমায় না। সেক্ষেত্রে বিছানা, বালিশ আলাদা কিনতে পারেন। মশারি অবশ্যই আলাদা কিনবেন। কারণ কিছুটা বড় হলে বাচ্চাকে বিছানা সেটের মধ্যে মশারি দিয়ে ঘুম পাড়ানো যায় না। অথবা বাবু বিছানায় না ঘুমালে এই মশারি আর ব্যবহার করা যায় না। তখন আবার মশারি কিনতে হয়। আব্বু বিছানার সেট কিনে দিয়েছিলো। কিন্তু, এসব সেটের সাথে যেই কোলবালিশ থাকে সেগুলো ফাইবারের হয়। অনেক পাতলা হালকা এবং ছোট। ফলে বাবু একটু নরলেই বালিশ সরে যায়। আর বাবু আঁতকে উঠে যায়। তাই, আবার ভারী করে শিমুল তুলোর কোলবালিশ বানাতে হয়েছে। এজন্য আমি বলবো বিছানা সেট কেনা একপ্রকার লস প্রজেক্ট। আলাদা করে মশারি, বালিশগুলো বানিয়ে বা দেখেশুনে কিনে নেওয়াই ভালো।

গোসলের বোল
ফিটার, দুধ না আসলে 'ব্রেস্ট পাম্পিং সেট'। আবার যাদের দুধের ফ্লো ভালো। বাবু খাচ্ছে না পেট ভরা বা ঘুমিয়ে আছে অথচ বুকে পেইন হচ্ছে, ভার হয়ে আছে তাদের জন্য এটা জরুরী। তখন ব্রেস্ট পাম্প করে দুধ বের করে রাখলে ব্যাথা কমে। এছাড়াও আমি দেখেছিলাম এভাবে ব্রেস্ট মিল্ক জমে থাকলে নাকি আস্তে আস্তে ফ্লো কমতে থাকে। এরফলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের সূত্রপাত হয়। বাচ্চাকে মিল্ক বাথ দেওয়ার জন্যও ব্রেস্ট পাম্প করে ফিটারে রেখে দেওয়া যায়।

সিজারিয়ানদের জন্য নার্সিং পিলো মাস্ট। নাহলে ব্যাথা নিয়ে বাচ্চাকে বেশিক্ষণ ধরে রাখা যায় না, খাওয়াতে অনেক কষ্ট হয়।

বাবু কোন সিজনে হবে তার উপর ডিপেন্ড করে জামাকাপড়।
কটনবাড ও তুলো

বাবুর তাহনিক করার জন্য খেজুর। আমি আজওয়া খেজুর একটা ছোট বক্সে ভরে নিয়েছিলাম।

৬ মাসের আগে বাবুর শরীরে কোনো লোশন সাবান শ্যাম্পু ব্যবহার নিষেধ। এগুলো দিবেন না। আর বেবি পাউডার, বেবি অয়েল তো একদমই না। বেবি পাউডার স্কিনের রন্থ্রগুলোকে ব্লক করে দেয়। বাবুকে সম্ভব হলে, বুকে দুধের ফ্লো ভালো থাকলে মিল্ক বাথ দিবেন। এটা ডায়পার র‍্যাশ, ঘামাচি বিবিধ সমস্যা থেকে বেস্ট প্রটেকশন দেয়। স্কিন সফট, ময়েশ্চারাইজড, ক্লিয়ার রাখে। যদিও প্রথম মাসে বাবুদের শরীরে ছোট ছোট গোটা উঠবেই, যেহেতু বাইরের পরিবেশের সাথে ওদের মানিয়ে নিতে সময় লাগে। এটা নরমাল। বাচ্চার শরীরে তেল দিলেও মাথায় দিবেন না। নাহলে মাথায় ঘা হবে।
একটা ঝুড়ি বা ব্যাগ অথবা বাবুর জিনিসপত্র রাখার জন্য পরিস্কার আলাদা জায়গা রাখবেন।

বাবুর মায়ের জন্য:
_________________

স্যানিটারি ন্যাপকিন। আমি সেনোরা রেগুলার প্যাডগুলো কিনে রেখেছিলাম। আরও কিনেছিলাম তুলো-ফিতার প্যাডগুলো। ডেলিভারির পর বেল্ট বা রাবারের প্যাড পরা যায় না। এই সময়ে ফিতা দিয়ে নিজের সুবিধানুযায়ী বেঁধে নেওয়ার জন্য তুলোর প্যাড ব্যবহার করতে হয়। ফার্মেসীতে ডেলিভারির প্যাড বললেই পাওয়া যেতে পারে।

নার্সিং ব্রা

বাবু হওয়া বাকি যাদের তারা মাস্ট দিনে তিনবার নিপলে ভ্যাসলিন ইউজ করবেন। বাবু হওয়ার পর খাওয়ানোর কারণে ফেঁটে গিয়েছিলো। তবুও বাচ্চাকে খাওয়াতে হয়েছে। কী যে অসহ্য ভয়ংকর ব্যাথা! প্রথম মাসেই এটা হয় আর এক-দুই সপ্তাহ থাকে ব্যাথা। এটার সম্মুখীন না হতে চাইলে ভ্যাসলিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এতে নিপল ফাঁটবে না অথবা ফাঁটলে তুলনামূলক পেইন কম হবে।

পেটে তেল মালিশ করার চেষ্টা করবেন।

চা পাতা কিনে রাখবেন, এটা ডক্টর সাজেস্ট করেছিলেন। ডেলিভারির পর তিন বেলা ডিম ও ৪ বেলা ঠান্ডা লিকার চা। দুধ চা খাওয়া নিষেধ। লিকার চা সিজারের সেলাই, জরায়ুমুখের সেলাই ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে দ্রুত রিকভার করার জন্য খেতে বলা হয়। এবং স্যুপ।

©কাশফিয়া দিশা

গতকাল এক রোগী এসেছেন চেম্বারে।এখন যেহেতু কমিউনিটি নিউট্রিশন নিয়ে ফিল্ড লেভেলে কাজ করি, চেম্বারে জনসাধারণকে কাউন্সেলিং কর...
07/04/2026

গতকাল এক রোগী এসেছেন চেম্বারে।এখন যেহেতু কমিউনিটি নিউট্রিশন নিয়ে ফিল্ড লেভেলে কাজ করি, চেম্বারে জনসাধারণকে কাউন্সেলিং করি এবং প্রায় প্রায় ট্রেইনার হিসেবে ট্রেনিং করাই, তাই প্রায় সর্বসাধারণের সাথে আমাকে কথা বলতে হয়। বিচিত্র ধরণের মানুষকে ম্যানেজ করতে হয়। নানান রঙ বেরঙের কথা আমাকে শুনতে হয়। সোজা কথায়, আমাকে ১২ রকমের মানুষকে বুঝে তাদের ম্যানেজ করতে হয়।

তো অদ্ভুত ব্যাপার হলো - গতকাল চেম্বারে এক দম্পতি এলেন। এসেই দম্পতিটির পুরুষ সঙ্গীটি ব্যস্ত হয়ে গেলেন মহিলা সঙ্গীটির পেট আমাকে দেখাবেন। মহিলা সঙ্গীটি একাধারে বিব্রত এবং লজ্জিত। আমি নিজেও কিছুটা বিব্রত বোধ করছি কারণ, আমার রোগীর শারিরীক কিছু পরীক্ষা করতে হলে, আমি এবং রোগী ছাড়া ঘরে আমি কাউকে রাখি না।

তো সেই পুরুষ ব্যক্তিটি জোড়াজুড়ি শুরু করলেন সকলের সামনেই নিজের স্ত্রীর পেট দেখাবেন। শেষ পর্যন্ত দেখলাম। বুঝলাম যে, প্রথম সন্তান জন্মদানের পর অতিরিক্ত চর্বি পেটে জমেছে যাতে করে তলপেট উচু হয়ে গেছে মহিলাটির। যেটা আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে।

তো পেট দেখিয়ে উঠে দাড়াতে না দাড়াতেই পুরুষ সঙ্গীটি বলা শুরু করলেন-" আমার বউ কে নিয়ে ম্যাডাম বড় বিপদে আছি,কোথাও যেতে পারি না। থ্রী পিস পড়লেও ওকে লাগে ১০ বাচ্চার মা, শাড়ি পড়লে পেট লাগে থলথলা। পেট হয়ে গেছে পানি ভরা বেলুনের মতো। এরকম দেখলে আর মন ভালো লাগে না (বলা বাহুল্য উনি বোধ হয় বলতে চাচ্ছিলেন এই ভদ্র মহিলাটিকে দেখে ওনার কোনো ফিলিংস হয় না)।

এই রকম বউ নিয়ে জনসম্মুখে যেতে পারি না ইত্যাদি আরো নানান ব্লা ব্লা ব্লা ব্লা। বলা সংগত, মহিলাটি ভীষণ বিব্রত হচ্ছিলেন। আমি দেখতে পেলাম ওনার চোখের কোনে অশ্রু জমে গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যে হয়তো লজ্জায় অপমানে কেদে ফেলতে পারেন।

তাই প্রসঙ্গ ঘোরানোর জন্য ওনার দৈনন্দিন রুটিন - খাবার সম্পর্কে জানতে চাইলাম৷ তাতেও লোকটি বাগড়া দিয়ে নিজের স্ত্রীর দুর্নাম করতে থাকলেন। তো ওনার সব কথা শুনে আরো যাচাই করতে গিয়ে ধরা পড়লো এই মহিলাটি দ্বিতীয় বার প্রেগন্যান্ট। এখন আমার সাদা মনের কাদা প্রশ্ন- কোনো ফিলিংস বউ কে দেখে না উঠা সত্ত্বেও ওনার বউ দ্বিতীয় বার প্রেগন্যান্ট হলেন কিভাবে????!!!!

এছাড়াও উনি নানা ভাবে বকর বকর করে যাচ্ছিলেন যার সারমর্ম ওনার বউ দেখতে একদম ই বিশ্রী। তখন আমি তাকে বললাম- আপনি যখন ওনাকে বিয়ে করে এনেছিলেন তখন কি উনি এমন ছিলেন? তখন লোকটি বললেন- না তখন তো স্লিম ছিলো, সুন্দর ছিলো। তো আমি তখন বললাম - তাহলে তো আপনার আর আপনার পরিবেশের সমস্যা। এবার লোকটির বিব্রত হবার পালা।

কিছুক্ষণ ভ্যাবাচেকা খেয়ে তাকিয়ে থাকার পর উনি আমতা আমতা করে বললেন- মানে? তখন আমি বললাম- আপনি নিজেই তো বললেন আপনার সংসারে আসার আগে উনি স্লিম ফিগার, সুন্দর ছিলেন। আপনার সংসারের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে ওনার এ অবস্থা হয়েছে, তাই নয় কি??!! ।

তখন লোকটি বেশ বিরক্ত। তো আমি বললাম শেষে যে - দেখেন উনি একজন মা হয়েছেন। ওনার শরীরের উপর দিয়ে নানান হরমোনাল ইস্যু গেছে, হয়তো বিভিন্ন স্ট্রেসে ওনার হরমোনাল ইমব্যালেন্স ও থাকতে পারে। তার ফলে ওনার ওজন কমছে না।

কিন্তু তিনি তো আপনার সন্তান জন্ম দিতে গিয়েই এ অবস্থায় এসেছেন।..... ইত্যাদি অনেক কথা বলার পর লোকটি বললেন - তবুও এখন ডায়েট চার্ট করে দেন, যেনো একবারে আগের মতো পাতলা হয়ে যায়। যাতে আমার আবার ফিলিংস হয় ওকে দেখলে। সাতখন্ড রামায়ণ পড়ার পর উনি বলছেন সীতা কার পিতা। আর কি বলবো, তাতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে রইলাম।

বুঝলাম, ১২ বছর কোনো কুকুরের বাকা লেজ সোজা পাইপের কাঠামোতে রেখে, আবার কাঠামোটা সরিয়ে ফেললে বাকা লেজ বাকাই থাকে, তা কোনো দিন সোজা আর হয় না।

©Aysha Siddika Maria

মেয়েদের শরীর প্রতি মাসে হরমোনাল ও শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। তাই পার্সোনাল হাইজিন শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা...
14/03/2026

মেয়েদের শরীর প্রতি মাসে হরমোনাল ও শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। তাই পার্সোনাল হাইজিন শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য নয়, বরং স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস এবং ফ্রেশ ফিলিং বজায় রাখার জন্যও অপরিহার্য। এখানে আমি এমন সব টিপস, টুলস এবং দৈনন্দিন অভ্যাস নিয়ে লিখেছি যা প্রতিটি মেয়ের ব্যাগে বা রুটিনে থাকা উচিত।

১. দৈনন্দিন বডি হাইজিন

দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতা শরীরকে ফ্রেশ রাখে, সংক্রমণ কমায় এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

এজন্য কিছু প্রয়োজনীয় টুলস দরকার সব মেয়েদের:
--বডি ওয়াশ / হালকা সাবান: pH balanced বা sensitive skin friendly সাবান ব্যবহার করা ভালো।
--লুফা, শাওয়ার স্পঞ্জ বা গ্লাভস: Dead skin cells সরাতে সাহায্য করে।
--ময়েশ্চারাইজার: গোসলের পরে হালকা ভেজা ত্বকে লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হয় না ত্বক অনেক সফট থাকে।

নিয়মিত অভ্যাস:
--প্রতিদিন গোসল করা।
--ঘাম বা ধুলো জমলে বেশি ফ্রেশ ফিলিং বজায় রাখতে গোসল করা।
--গোসলের পরে ত্বক ভেজা না রেখে ভালোভাবে শুকানো।

শাওয়ার ওয়াইপস (facial/ body wipes) ব্যাগে রাখলে বাইরে দ্রুত ফ্রেশ হওয়া যায়।

২. পিরিয়ড হাইজিন

পিরিয়ডের সময় শরীর সংবেদনশীল হয়। তাই এই সময় সঠিক হাইজিন বজায় রাখা খুব জরুরি।

প্রয়োজনীয় টুলস:
--স্যানিটারি প্যাড / ট্যাম্পন / মেনস্ট্রুয়াল কাপ – আপনার সুবিধা অনুযায়ী।
--ইন্টিমেট ওয়াইপস / fragrance-free wipes – বাইরে ব্যবহারের জন্য।
--হ্যান্ড স্যানিটাইজার – পাবলিক টয়লেটের পরে ব্যবহার করুন।

নিয়মিত অভ্যাস:
--প্যাড ৪–৬ ঘণ্টা অন্তর পরিবর্তন করা।
--ট্যাম্পন ৬–৮ ঘণ্টার বেশি রাখবেন না।
--মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করলে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
--টয়লেটে সবসময় সামনে থেকে পেছনের দিকে পরিষ্কার করা, ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এড়াতে।

পিরিয়ড প্যান্টি বা panty liner ব্যবহার করলে আরও ফ্রেশ ফিলিং থাকে।

৩. ইনটিমেট / জেনিটাল হাইজিন

ইনটিমেট এরিয়া সঠিকভাবে কেয়ার করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

প্রয়োজনীয় টুলস:
--pH balanced intimate wash – সংবেদনশীল ত্বকের জন্য।
--কটন আন্ডারওয়্যার – বাতাস চলাচল সহজ করে।
--হালকা ক্রিম / বার্ন প্রোটেকশন প্রোডাক্টস – চুলকানি বা সংক্রমণ এড়াতে।

নিয়মিত অভ্যাস:
--প্রতিদিন অন্তর্বাস পরিবর্তন করা।
--ভেজা বা tight পোশাক এড়ানো।
--গোসলের পরে শুকনো রাখা।
--সংক্রমণ বা অস্বস্তি হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।

বাইরে গেলে ব্যাগে ছোট intimate wipes রাখা ফ্রেশ ও নিরাপদ রাখে।

৪. চুল ও স্কাল্প হাইজিন

চুলের স্বাস্থ্য শুধু সৌন্দর্য নয়, স্বাস্থ্যও নিশ্চিত করে।

প্রয়োজনীয় টুলস:
--শ্যাম্পু & কন্ডিশনার: সপ্তাহে ২–৩ বার ব্যবহার।
--হেয়ার ব্রাশ / কং: চুল জটমুক্ত ও পরিষ্কার রাখতে।
--হেয়ার টাওয়েল বা কাপড়: চুল ভালোভাবে শুকানোর জন্য।

নিয়মিত অভ্যাস:
--ঘাম বা ধুলো জমলে চুল ধোয়া।
--চুল বন্ধ রাখতে হেয়ার টিস্যু বা পিন ব্যবহার করা।
--অন্য কারও হেয়ার ব্রাশ বা কম্ব ব্যবহার করবেন না।

Travel-size dry shampoo ব্যাগে রাখলে, ট্রাভেল বা ব্যস্ত দিনে চুল ফ্রেশ রাখতে সাহায্য করে।

৫. হাত ও পা হাইজিন

হাত ও পা সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখা সংক্রমণ কমায়।

প্রয়োজনীয় টুলস:
--সাবান / হ্যান্ড স্যানিটাইজার
--নেইল ক্লিপার, পেডিকিউর টুলস
--হ্যান্ড ও ফুটি কেয়ার ক্রিম

নিয়মিত অভ্যাস:
--খাবার খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়া।
--নখ পরিষ্কার রাখা ও নিয়মিত কাটা।
--পায়ের জুতো শুকনো ও পরিষ্কার রাখা।

বাইরে গেলে travel-size hand sanitizer এবং compact nail kit রাখা সুবিধাজনক।

৬. ওরাল হাইজিন

মুখের স্বাস্থ্য পুরো শরীরের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে।

প্রয়োজনীয় টুলস:
--টুথব্রাশ ও ফ্লোরাইড টুথপেস্ট
--ফ্লস বা dental picks
--মাউথওয়াশ

নিয়মিত অভ্যাস:
--দিনে ২ বার দাঁত মাজা।
--ফ্লসিং করে দাঁতের ফাঁকা পরিষ্কার রাখা।

ব্যাগে travel-size toothpaste ও toothbrush রাখলে বাইরে ও ট্রাভেলেও ফ্রেশ মুখ।

৭. বাইরে গেলে হাইজিন কিট

ফ্রেশ ফিলিং রাখতে ব্যাগে থাকা উচিত:
--২–৩ extra sanitary pads বা panty liners
--intimate wipes
--hand sanitizer
--টিস্যু / small towel
--toilet seat sanitizer spray (যদি পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করতে হয়)
এই ছোট হাইজিন কিট অনেক জরুরি মুহূর্তে স্বাচ্ছন্দ্য দেয়।

৮. অন্যান্য সাধারণ টিপস
--ওয়াটার বটল বা কাপ অন্য কারও সাথে শেয়ার না করা।
--পর্যাপ্ত পানি খাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা।
--ঘরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা-তোয়ালে, বালিশ ও বিছানা নিয়মিত ধোয়া।
--গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় অতিরিক্ত ঘাম ও ফাঙ্গাল ইনফেকশন এড়াতে কটন আন্ডারওয়্যার ব্যবহার।

নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া কোনো বিলাসিতা নয়। ছোট ছোট অভ্যাস যেমন:পরিষ্কার থাকা,সঠিক প্রোডাক্ট ব্যবহার ও নিয়মিত হাইজিন মেইনটেইন করা

এইগুলোই একজন নারীকে সুস্থ, ফ্রেশ, আত্মবিশ্বাসী এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন দেয়।

© 2026 Skin Talks by Farhana। All rights reserved. For educational purposes only. Based on research.

আমার একজন রোগী ভদ্রমহিলার ৫ নাম্বার বাবুর এ্যানোমালি স্ক্যানের ছবি এইটা। Hydrocephalus বাবুটার,ব্রেন টিস্যু নাই বললেই চল...
03/03/2026

আমার একজন রোগী ভদ্রমহিলার ৫ নাম্বার বাবুর এ্যানোমালি স্ক্যানের ছবি এইটা। Hydrocephalus বাবুটার,ব্রেন টিস্যু নাই বললেই চলে।

ভদ্রমহিলা ২ নাম্বার বাবুটা কনসিভ করেছিলেন ২০২০ এ।অই বাবুটারও Hydrocephalus ছিলো। terminate করে ফেলতে হয়েছিলো বাবুটা গর্ভের ৫ মাসেই।

৩ নাম্বার বাবুটা শর্ট সার্ভিক্স এর জন্য আরলি ডেলিভারি হয়ে গিয়েছিলো গর্ভের ৪/৫ মাসে।
৪ নাম্বার বাবুটারও hydrocephalus ছিলো।

terminate করে ফেলতে হয়েছিলো। ৫ বার গর্ভধারণ করলেন ভদ্রমহিলা।

কিন্তু কখনো মা ডাক শোনেন নাই,কোনো বাচ্চাকে বুকে নিতে পারেন নাই।

ওহ!!ওনার ১ নাম্বার বাবুর কথা তো বলি নাই।২০১৮ এ বিয়ের পরপরই প্রথম কনসিভ করেছিলেন ভদ্রমহিলা।তখন ভাবছিলেন,"আরেহ!! বাচ্চা পেটে আসা তো সোজা!এখন বাচ্চা "নিবো না"।"

এরপর আল্লাহ আরও চারবার ওনাদের "বাচ্চা নেয়া" র সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু বাচ্চা কোলে,বুকে আর দেন নাই।নিজের কাছে নিয়ে গেছেন আল্লাহ ওনার বাচ্চাদের।

আমি জানিনা কি মজা করার জন্য অনেকেই বিয়ের পরপর কনসিভ করলে সেই বাবু নষ্ট করেন।কি এমন মজা যা বাবু থাকলে করা যায় না,আল্লাহ জানেন।
আচ্ছা ফাইন!!বিয়ের পর অনেকে "মজা করবেন" দেখে বাচ্চা চান না,ওকে বা আমরা সবসময় আরেকটা জীবনের দায়িত্ব নেয়ার জন্য রেডি থাকি না(সবদিক থেকে রেডি না থাকলে বাচ্চা চাওয়া ঠিকও না) বা কোনো কাপল আজীবনেও বাবু নাও চাইতে পারেন।এই সবগুলোই খুব ওকে।

কিন্তু দুনিয়ায় এতো contraceptive থাকতেও তা ব্যবহার না করা ওকে না এবং এইটা খুবই unsmart move.

ভাই-বোনেরা আমার!!প্লিজ বাবু না চাইলে contraceptive ইউজ করেন।একটা জীবন,নিজের বাচ্চাকে নিজে মা ই রেন না,আল্লাহ ইচ্ছার বিরুদ্ধে এইভাবে যাইয়েন না।

আল্লাহ না করুক আজীবনেও হয়তো আল্লাহ আর আপনাকে আম্মা-আব্বা ডাক শুনাবেন না।
Abortion কইরেন না,প্লিজ🥺🥺একটু সচেতন হন contraceptive ব্যবহারে।এতো "মজা" দিয়ে কি করবেন ভাই!!?

©Iffat Zumaina Xayan

03/02/2026

#সাদা_স্রাব_এবং_আমাদের_ধারনা

অনেক তো গ্রাম্য কুসংস্কার শুনলাম ।এবার আপনাদের মনের একটা ধারনা দূর করি ,অনেকেই ভাবেন সাদা স্রাব হচ্ছে তাই শুকিয়ে গেছেন ।আসলেই কি তাই ?

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাদাস্রাবে যারা ভোগে একটু শুকনা হয় ।এর প্রধান কারন অপুষ্টি ।
"আপনার সাদাস্রাবের কারনে আপনি শুকিয়ে যাচ্ছেন দুর্বল হচ্ছেন ব্যপারটা এমন না ,আপনি দুর্বল এবং অপুষ্টিতে ভুগছেন বলেই সাদাস্রাব বেশি হচ্ছে "
অনেকেই বলেন ক্যালসিয়াম বের হচ্ছে ,শরীর ক্ষয় হচ্ছে এগুলা সম্পূর্ণ ভুল ধারনা ।মেয়েদের সাদা স্রাব মাসিকের আগে এবং পরে স্বাভাবিক । তবে চুলকালে গন্ধ হলে অতিরিক্ত হলে চিকিৎসা করা উচিত ।
এই পোষ্ট গর্ভবতীদের জন্য না কারন গর্ভবতীদের সাদাস্রাব হওয়ার কারনের মধ্যে হরমোন একটা কারন ।সেক্ষেত্রে চুলকানি এবং দুর্গন্ধ না থাকলে চিকিৎসা লাগে না ।

আর একটা বড় কথা যারা পারসোনাল হাইজিন মেইন্টেইন করবেন না ,পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবেন না তারা সাদাস্রাব (ইনফেকশন সহ ) ,দাদা ,কৃমি ,প্রসাবে ইনফেকশন এসবে বেশি ভুগবেন ।তাই বলে হাইজেন মেইন্টেইন করলেই যে হবে না এমন না ।মেইন্টেইন করলে কম হবে ।

আর মায়েরা থালার বড় মাছ শুধু স্বামী সন্তানকেই খাওয়াবেন না ।ঘরের মা শাশুড়ি এবং নিজেও সমান ভাগে খাবেন ।দিন শেষে ভোগান্তিটা আপনার ।আপনি সুস্থ থাকলে তাদের ভালো রাখতে পারবেন ।

-ডা. মাহমুদা মিতু

♦ ১৮ বছরের রোগী আসলো ৮ মাসের গর্ভ নিয়ে। ওনার সমস্যা ছিলো ওনি বেশি দূর্বল। মাথা ঘুরায়। যখন বললাম কেন আপনি ঠিক মত খান না। ...
10/11/2025

♦ ১৮ বছরের রোগী আসলো ৮ মাসের গর্ভ নিয়ে। ওনার সমস্যা ছিলো ওনি বেশি দূর্বল। মাথা ঘুরায়।

যখন বললাম কেন আপনি ঠিক মত খান না। বললো ম্যাডাম মানুষ তো খাবার সামনে রেখেও খেতে পারে না। আর আমি এক হতভাগী যে শাশুড়ীর ভয়ে খেতে পারি না।শুনে খুব কষ্ট লাগলো

রোগী বলে মা বাবা বেঁচে নেই রোগীর। শুশুর বাড়ী তেই থাকতে হয়।স্বামী বড়। বিদেশ থাকে।কিন্তু কোন টাকা দেয় না। জামাইকে কিছু বলতেও পারি না। কারন বিশ্বাস করে না।

রোগী আমাকে আরও বলে জানেন ম্যাডাম আমার ক্ষুধা লাগে অনেক কিন্তু আমার শাশুড়ী কাছে চাইলে বলে বেশি খাওয়া যাবে না। বাচ্ছা বড় হয়ে যাবে।

আমি রান্না করি শুশুর শাশুড়ী খায়, দেবর খায়। আমি সবার শেষে খেতে বসি কিন্তু আমি খেতে বসলে আমার শাশুড়ী খাবার সরিয়ে নিয়ে যায়। বলে এই সব মাছ, মাংস খাওয়া যাবে না।

আমি নুন দিয়ে পানি দিয়ে ভাত খাই। মাঝে আমার অনেক জ্বর ছিলো। কাশি ছিলো ডাক্তারের কাছে যাবো বলছিলাম। আমার শাশুড়ী কত কথা শুনালো। বলে এখনকার বউরা মুরব্বি মানে না। ডাক্তারের ঔষধ খাইয়ে বাচ্ছা মারতে চায়।পানি খাওয়া বন্ধ করে দিছিলো কাশি হয়েছে তাই।

রোগী বলে,জানেন ম্যাডাম আজ আট মাস ধরে আমি কোন মাছ,ডিম,মাংস খেতে পারি নি কারন আমার শাশুড়ী আমার সামনে বসে থাকতো। আমি কি খাই দেখবে।বাড়িতে কত মেহমান আসত ফল নিয়ে। কোনদিন খাইতে দিত না বলে ফল খাইলে নাকি বাচ্ছার ঠান্ডা লাগবে। পৃথিবীতে এমন মানুষ ও আছে যে, কেউ খেতে চায় কিন্তু কুসংস্কার জন্য খাইতে দেয় না।

রোগীর কিছু পরীক্ষা করতে দিলাম। রিপোর্ট পেয়ে দেখলাম বাচ্ছার ওজন অনেক কম। আর রোগীর অনেক বেশি রক্তশূন্যতা। হিমোগ্লোবিন ৭।

বললাম আজকে যে আসছেন ডাক্তারের কাছে আপনার শাশুড়ী কিছু বলে নাই?? বলে আমি লুকিয়ে টাকা জমিয়ে আসছি। আমি জানি আমি মরে গেলেও ডাক্তার দেখাতে পারবো না। মনে মনে বলি এই যুগে কুসংস্কার ভরপুর এমন শাশুড়ীও আছে তাহলে!!

ডা শারমিন সুলতানা বিথী

চেম্বারে প্রায়ই আমার ছোট বোনের বয়সী আপুরা দেখাতে আসে, যাদের বয়স হয়তো একুশ, বাইশ বা পচিশ।আমি দেখে অবাক হই, তাদের অনেকের এ...
07/11/2025

চেম্বারে প্রায়ই আমার ছোট বোনের বয়সী আপুরা দেখাতে আসে, যাদের বয়স হয়তো একুশ, বাইশ বা পচিশ।

আমি দেখে অবাক হই, তাদের অনেকের এগ কাউন্ট কমে গেছে ভয়ানকভাবে, AMH লেভেল ১ এর নিচে। গাইনোকলোজিস্ট সোজা বলে দিয়েছেন, পারলে দ্রুত বিয়ে করে বাচ্চা নাও অথবা, দ্রুত আইভিএফ ট্রাই করো। তোমার হাতে সময় বেশি নেই।

এরমধ্যে কিছু কেইস থাকে, প্রাইমারী ওভারিয়ান ইনসাফিসিয়েন্সির। এই আপুদের ওভারিগুলো যথেষ্ট পরিমান ম্যাচিউর হয় নি কোন এক কারনে, জিনেটিক্সের জটিল খেলায় তারা দুনিয়াতেই এসেছেন কম এগ কাউন্ট নিয়ে।

কিন্তু অনেকেই আছেন, যারা অতি অল্প বয়সে এগ কাউন্ট হারাচ্ছেন নিজেদের লাইফস্টাইলের জন্য।
শিক্ষাব্যবস্থার কারনে এখন পচিশের আগে বিয়ের সুযোগ খুবই কম, সন্তান নেয়ার গড় বয়স শহরাঞ্চলে এখন ২৫ পার হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে তা ২৮+।

কিন্তু মেন্সট্রুয়েশান শুরু হচ্ছে ৯-১০ বছর বয়সে, ফলে প্রতি সাইকেলের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মেয়েরা ওভাম হারাচ্ছে। সাইকেল শুরুর ১৫+ বছর পর তারা তাদের সে/ক্সুয়াল লাইফস্প্যান শুরু করছে এবং ১৮+ বছর পর কনসিভ করছে। ফলে, আগের চেয়ে অনেক লম্বা সময় ধরে ফার্টিলিটি ঠিক রাখার প্রয়োজন পড়ছে। গ্রামে এই সমস্যাটা অপেক্ষাকৃত কম কারন শহরে গ্যাপ যেখানে ১৫+ বছর, গ্রামে তা মাত্র ৮-৯ বছর।

তাই, যারা নিজের ক্যারিয়ার লম্বা করতে চান এবং ফার্টিলিটিও ধরে রাখতে চান তাদের নিয়মিত কয়েকটা কাজ করা উচিত।

১)যথাসম্ভব চিনি, আর্টিফিসিয়াল সুইটেনার এবং সয়বিন অয়েল এভয়েড করা
২)রাত জেগে পড়াশুনা না করে ভোরে উঠে পড়ার অভ্যাস করা
৩)দিনে ৮ ঘন্টা বসে থাকার প্রয়োজন হলে অন্তত ২ ঘন্টা হাটাচলা করা-বিভিন্ন জায়গায় হেটে যাবার অভ্যাস তৈরি করা
৪)ধু/মপান-এলকো/হল থেকে শতভাগ বিরত থাকা
৫)সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন ব্যায়ামের অভ্যাস করা
৬)যাদের ওজন বেশি তাদের ওজন স্বাভাবিক রেঞ্জে নিয়ে আসার জন্য লো কার্ব ডায়েট করা
৭)সন্ধ্যার পর থেকে কার্বোহাইড্রেট না খাওয়া
৮)সম্ভব হলে যথেষ্ট পরিমান টক জাতীয় ফল এবং হেলদি ন্যাচারাল প্রোটিন খেতে চেষ্টা করা

এই ব্যাপারগুলো নিজের অভ্যাসে নিয়ে আসুন।

জীবনকে আমরা অনেক বেশি কঠিন করে ফেলেছি প্রকৃতির বাইরে চলতে গিয়ে। আসুন প্রকৃতির নিয়মকে জানি ও বুঝি, আমরা তো প্রকৃতির বাইরের কেউ নই!!

Sajal's Diet Falsafa

বিয়ের পর অনেকেই তাড়াহুড়া করে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই বুঝতে পারেন না, আসলে কোন সময়টায় গর্ভধারণের...
11/10/2025

বিয়ের পর অনেকেই তাড়াহুড়া করে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই বুঝতে পারেন না, আসলে কোন সময়টায় গর্ভধারণের সুযোগ সবচেয়ে বেশি থাকে, আর কতদিন পর্যন্ত প্রাকৃতিকভাবে চেষ্টা করা উচিত।

যদি মেয়েদের বয়স ৩৫ বছরের নিচে হয় এবং দম্পতির কারো কোনো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা না থাকে, সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত নিয়মিত ও সুরক্ষাহীন দাম্পত্য জীবনের মাধ্যমেই গর্ভধারণ সম্ভব হওয়ার কথা। বিশেষ করে ওভ্যুলেশনের সময় সম্পর্ক স্থাপন করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

কিন্তু এক বছরের বেশি চেষ্টা করেও যদি ফল না আসে, তাহলে দেরি না করে একজন ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া দরকার। আর যাদের বয়স ৩৫ পার হয়ে গেছে, তাদের জন্য অপেক্ষার সময় আরও কম—মাত্র ছয় মাস বা তার কম চেষ্টা করেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সব থেকে ভালো হয় যদি প্রফেশনাল এর পরামর্শ নিয়েই শুরু করেন।

কারো যদি পলিসিস্টিক ওভারি (PCOS), এন্ডোমেট্রিওসিস, ফাইব্রয়েডের মতো সমস্যা থাকে, কিংবা পার্টনারের স্পার্ম কাউন্ট কম হয়, অথবা একাধিকবার গর্ভপাতের/মিসক্যারেজ অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে শুরু থেকেই বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া ভালো।একজন ভালো ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিষ্ট এর পরামর্শ নেয়া। মনে রাখতে হবে, ডাক্তার/নিউট্রিশনিষ্ট দেখানো মানেই যে অনেক টাকার চিকিৎসা নিতে হবে তা কিন্ত্য নয়—বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিছু বেইসিক টেস্ট আর লাইফস্টাইল পরিবর্তনই সমাধান এনে দেয়।
আরেকটা বড় বিষয় হলো খাবার। আমরা অনেক সময় বুঝিই না আমাদের প্লেটে থাকা কিছু সাধারণ খাবার ফার্টিলিটি বাড়াতে দারুণ কাজ করে।

যারা দ্রুত কনসিভ করতে চান, তাদের ডায়েটে কিছু স্পেশাল ফুড রাখা জরুরি –

ডিম – প্রতিদিন ২–৩টা, হাঁসের ডিম হলে সবচেয়ে ভালো। এতে ফার্টিলিটি’র জন্য দরকারি প্রায় সব নিউট্রিয়েন্ট থাকে।

ইলিশ মাছ – ভিটামিন ডি, কে আর ডিএইচএ এর দারুণ সোর্স, এক কথায় বাংলার স্যামন।

শাকসবজি – পালং, সরিষা, ব্রকোলি, বাঁধাকপি; প্রতিদিন অন্তত ২০০ গ্রাম খেতে হবে।

গরুর মাংস ও কলিজা – গ্রাস-ফেড গরু হলে নিউট্রিয়েন্ট বেশি থাকে এবং হরমোন ব্যালান্সে সাহায্য করে।

নারকেল – মিডিয়াম চেইন ফ্যাটি এসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, ফার্টিলিটি বুস্ট করে। নারকেলের বদলে এভোকাডো খাওয়া যাবে।

কিনোয়া – ডি-কাইরো ইনোসিটল এর ভালো উৎস, হরমোন ব্যালান্স করে।

বাকহুইট (ঢেমশি) – ন্যাচারালি ডি-কাইরো ইনোসিটল পাওয়া যায়; ইনসুলিন ও টেস্টোস্টেরন কমায়, প্রজেস্টেরন বাড়ায়।

সানফ্লাওয়ার সিড – ইস্ট্রোজেন-প্রজেস্টেরন ব্যালান্স রাখতে সাহায্য করে।

বুটের ডাল – ভিটামিন বি-৬ সমৃদ্ধ, স্পার্ম কাউন্ট আর এগ কোয়ালিটি বাড়ায়।

দারুচিনি – ব্লাড সুগার কন্ট্রোল করে, ডাইজেশন ভালো করে, ব্যাকটেরিয়া কমায়।

হলুদ – কারকিউমিন সমৃদ্ধ অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি; নারকেল তেল ও গোলমরিচের সাথে খেলে বেশি ইফেক্টিভ।

মনে রাখবেন আল্লাহ তায়ালা আমাদের খাদ্যের মধ্যে সব ধরনের নেয়ামত দিয়ে দিয়েছেন। আপনাকে শুধু তার দেয়া নেয়ামত ব্যাবহার করতে জানতে হবে।

Sumya Shila
Nutritionist

Address

Bir Uttam Qazi Nuruzzaman Sarak West, Panthapath
Dhaka
1205

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মিলনতত্ত্ব - Sisters Only posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category