07/04/2026
গতকাল এক রোগী এসেছেন চেম্বারে।এখন যেহেতু কমিউনিটি নিউট্রিশন নিয়ে ফিল্ড লেভেলে কাজ করি, চেম্বারে জনসাধারণকে কাউন্সেলিং করি এবং প্রায় প্রায় ট্রেইনার হিসেবে ট্রেনিং করাই, তাই প্রায় সর্বসাধারণের সাথে আমাকে কথা বলতে হয়। বিচিত্র ধরণের মানুষকে ম্যানেজ করতে হয়। নানান রঙ বেরঙের কথা আমাকে শুনতে হয়। সোজা কথায়, আমাকে ১২ রকমের মানুষকে বুঝে তাদের ম্যানেজ করতে হয়।
তো অদ্ভুত ব্যাপার হলো - গতকাল চেম্বারে এক দম্পতি এলেন। এসেই দম্পতিটির পুরুষ সঙ্গীটি ব্যস্ত হয়ে গেলেন মহিলা সঙ্গীটির পেট আমাকে দেখাবেন। মহিলা সঙ্গীটি একাধারে বিব্রত এবং লজ্জিত। আমি নিজেও কিছুটা বিব্রত বোধ করছি কারণ, আমার রোগীর শারিরীক কিছু পরীক্ষা করতে হলে, আমি এবং রোগী ছাড়া ঘরে আমি কাউকে রাখি না।
তো সেই পুরুষ ব্যক্তিটি জোড়াজুড়ি শুরু করলেন সকলের সামনেই নিজের স্ত্রীর পেট দেখাবেন। শেষ পর্যন্ত দেখলাম। বুঝলাম যে, প্রথম সন্তান জন্মদানের পর অতিরিক্ত চর্বি পেটে জমেছে যাতে করে তলপেট উচু হয়ে গেছে মহিলাটির। যেটা আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে।
তো পেট দেখিয়ে উঠে দাড়াতে না দাড়াতেই পুরুষ সঙ্গীটি বলা শুরু করলেন-" আমার বউ কে নিয়ে ম্যাডাম বড় বিপদে আছি,কোথাও যেতে পারি না। থ্রী পিস পড়লেও ওকে লাগে ১০ বাচ্চার মা, শাড়ি পড়লে পেট লাগে থলথলা। পেট হয়ে গেছে পানি ভরা বেলুনের মতো। এরকম দেখলে আর মন ভালো লাগে না (বলা বাহুল্য উনি বোধ হয় বলতে চাচ্ছিলেন এই ভদ্র মহিলাটিকে দেখে ওনার কোনো ফিলিংস হয় না)।
এই রকম বউ নিয়ে জনসম্মুখে যেতে পারি না ইত্যাদি আরো নানান ব্লা ব্লা ব্লা ব্লা। বলা সংগত, মহিলাটি ভীষণ বিব্রত হচ্ছিলেন। আমি দেখতে পেলাম ওনার চোখের কোনে অশ্রু জমে গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যে হয়তো লজ্জায় অপমানে কেদে ফেলতে পারেন।
তাই প্রসঙ্গ ঘোরানোর জন্য ওনার দৈনন্দিন রুটিন - খাবার সম্পর্কে জানতে চাইলাম৷ তাতেও লোকটি বাগড়া দিয়ে নিজের স্ত্রীর দুর্নাম করতে থাকলেন। তো ওনার সব কথা শুনে আরো যাচাই করতে গিয়ে ধরা পড়লো এই মহিলাটি দ্বিতীয় বার প্রেগন্যান্ট। এখন আমার সাদা মনের কাদা প্রশ্ন- কোনো ফিলিংস বউ কে দেখে না উঠা সত্ত্বেও ওনার বউ দ্বিতীয় বার প্রেগন্যান্ট হলেন কিভাবে????!!!!
এছাড়াও উনি নানা ভাবে বকর বকর করে যাচ্ছিলেন যার সারমর্ম ওনার বউ দেখতে একদম ই বিশ্রী। তখন আমি তাকে বললাম- আপনি যখন ওনাকে বিয়ে করে এনেছিলেন তখন কি উনি এমন ছিলেন? তখন লোকটি বললেন- না তখন তো স্লিম ছিলো, সুন্দর ছিলো। তো আমি তখন বললাম - তাহলে তো আপনার আর আপনার পরিবেশের সমস্যা। এবার লোকটির বিব্রত হবার পালা।
কিছুক্ষণ ভ্যাবাচেকা খেয়ে তাকিয়ে থাকার পর উনি আমতা আমতা করে বললেন- মানে? তখন আমি বললাম- আপনি নিজেই তো বললেন আপনার সংসারে আসার আগে উনি স্লিম ফিগার, সুন্দর ছিলেন। আপনার সংসারের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে ওনার এ অবস্থা হয়েছে, তাই নয় কি??!! ।
তখন লোকটি বেশ বিরক্ত। তো আমি বললাম শেষে যে - দেখেন উনি একজন মা হয়েছেন। ওনার শরীরের উপর দিয়ে নানান হরমোনাল ইস্যু গেছে, হয়তো বিভিন্ন স্ট্রেসে ওনার হরমোনাল ইমব্যালেন্স ও থাকতে পারে। তার ফলে ওনার ওজন কমছে না।
কিন্তু তিনি তো আপনার সন্তান জন্ম দিতে গিয়েই এ অবস্থায় এসেছেন।..... ইত্যাদি অনেক কথা বলার পর লোকটি বললেন - তবুও এখন ডায়েট চার্ট করে দেন, যেনো একবারে আগের মতো পাতলা হয়ে যায়। যাতে আমার আবার ফিলিংস হয় ওকে দেখলে। সাতখন্ড রামায়ণ পড়ার পর উনি বলছেন সীতা কার পিতা। আর কি বলবো, তাতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে রইলাম।
বুঝলাম, ১২ বছর কোনো কুকুরের বাকা লেজ সোজা পাইপের কাঠামোতে রেখে, আবার কাঠামোটা সরিয়ে ফেললে বাকা লেজ বাকাই থাকে, তা কোনো দিন সোজা আর হয় না।
©Aysha Siddika Maria