22/12/2025
♦♦SULPHUR(সালফার)♦♦
S= Slim (চিকন)
U= ugely (কুৎসিত)
L= lazy (অলস)
P = philosopher (দার্শনীক)
H = Hurrying (দ্রুতগামী)
U= unsocial( অসামাজিক)
R = Rudy ( অসভ্য)
একোনাইট ও সিপিয়ার ক্রনিক সালফার এবং সালফারের ক্রনিক সোরিনাম। অনেক সময় মনে আমরা ধারনা করি যে সাইকোসিস এর ক্ষেত্রে যেমন থুজা,সিফিলিসের ক্ষেত্রে যেমন মার্ক---সেইরুপ সোরার ক্ষেত্রে সালফার।ইহাকে এন্টিসোরিকের রাজা
বলা হয়।
গত আলোচনায় লাইকোর ত্রয়ী ঔষধ গুলো নিয়ে বলেছিলাম আজ সালফারের ত্রয়ী নিয়ে বলব।
Lyco>>>>Sulp>>>>Cal.Carb. It's trio Medicine. Sulp follows Lyco but Lyco dosen't follows Sulp.
>>প্রাথমিক পরিচয়ঃ গ্রাম্য ভাষায় ন্যাফথলিন বা গন্ধক, কবিরাজদের ভাষায় মাটি ( যা চর্মরোগের বাহ্যিক ক্ষেত্রে ব্যবহার করে) Sublimated sulphur, ব্রাইমস্টোন, ফ্লাওয়ার সালফার। মেটিরিয়া মেডিকাতে সালফার একটা greatest পলিক্রেষ্ট ঔষধ। এহাকে ঔষধের যুবরাজ বলা হয়ে থাকে এবং প্লোটোপ্লাজমের অন্যতম একটি উপাদান যেটা দেহের রোগকে শুধু আরোগ্য করে না বরং দেহের প্রতিটি টিস্যুকে লক্ষন জাগিয়ে তুলে আরোগ্যের পথে প্রচলিত করে থাকে। এটি একটি হলুদ রং এর খনিজ পদার্থ যার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকারের এসিড ফসফরিক, নাইট্রিক এসিড, সালফরিক এসিড, এবং বিভিন্নপ্রকার সার ঔষধ বোমা ও রাসায়নিক দ্রব্য তৈরী হয়।
>> History(ইতিহাস): এই হলুদ বর্নের গন্ধযুক্ত পদার্থ ( সালফার) প্রাচীনকালে দ্রুত চর্ম রোগকে আরোগ্য করার জন্য ব্যবহার হয়ে আসছিল । উদাহরণস্বরূপ, মিশরীয়রা চোখের পলকের প্রদাহ চিকিৎসার জন্য সালফার ব্যবহার করেছিল। এটি চুলকানি এবং ব্রণ থেকেও মুক্তি দেয়, এমনকি তারা সালফারকে চর্মরোগের সাবান হিসাবে ব্যবহার করত।
রোমানরা তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলিতে এই উপাদানটি একটি ধোঁকাবাজি এবং ব্লিচ হিসাবে ব্যবহার করেছিল। এটি জ্বললে এটি এসও ছেড়ে দেয়, গ্যাসগুলি কক্ষগুলিতে প্লাবিত হয়েছে, আর্দ্রতার সাথে মিশ্রিত হয় এবং একটি অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল পরিবেশ সরবরাহ করে এবং পোকামাকড় মারতে সক্ষম।
গ্রীকদের মতো রোমানরাও সালফারের উচ্চ দাহ্যতা আবিষ্কার করেছিল, এ কারণেই এটি আগুনের সমার্থক হয়ে উঠেছে। এর নীল শিখার রঙ অবশ্যই রোমান সার্কাসকে আলোকিত করেছে। এটা বিশ্বাস করা হয় যে গ্রীকরা তাদের অংশ হিসাবে, উদ্দীপনা তৈরির অস্ত্র তৈরিতে এই উপাদানটি ব্যবহার করেছিল।
পরবর্তিতে পুরানকৃর্তির রুপ উৎঘটন করতে গিয়ে ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিমান স্যার প্রথমে এহাকে মেডিসিন হিসাবে প্রুভিং করার জন্য উদ্বুদ্ধ হন এবং প্রুভিং কালে সালফারের যে সকল লক্ষন গুলো প্রাপ্ত হয় সে গুলোই মুলত বর্তমানে সালফারের উৎকৃষ্ট লক্ষন হিসাবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
>>Source (উৎস): এহা মুলত একটা খনিজ
>> Prover (প্রুভার): স্যার ডাঃ হ্যানিমান
>> Miasom (মায়াজম): এন্টি সোরিক++, সাইকোটিক+, সিফিলিটিক+, টিউবারকুলার+।
>>H.C.R (কাতরতা): গরমকাতর++, শীতকাতর+।
>>Location (ক্রিয়াস্হল): রক্ত সঞ্চালন ভেনাস, পোর্টেল, উদর, পরিপোষণ যন্ত্রসমূহ, মিউকাস মেমব্রেনস, সেরাস, রেকটাম, বুক, চামড়া, চর্মগ্রন্থি, মাথার তালু, সন্ধি, গ্রন্থিগুলো, স্নায়ুমন্ডলী, শ্বাসযন্ত্র।
>> Side ( পাশ): ডানপাশ, বামপাশ, ওপরে বামপাশ নিচে ডানপাশ, ডানপাশ হতে বামপাশ।
♦ Mental Symptoms (মানসিক লক্ষণ):
>> খিটখিটেঃ মেটিরিয়া মেডিকাতে খিটখিটানীর যদি প্রথম সারির মেডিসিন হিসাবে সালফার কে ধরা হয় তাহলে মনে হয় ভু্ল হবে না। তার শরীরে যেন ঝাল বেটে দেওয়া হয়েছে। ভাল কথাতে তার শরীর জ্বলে বিশেষ করে গরমের দিনে ত তার পাশে যাওয়া যায় না। সব সময় রাগ রাগ ভাব নিয়ে বসে থাকে।
>>AVARICE কৃপনঃ স্বভাবের দিক দিয়ে এই মানুষটি বড়ই কৃপণ ব্যক্তি সর্বদা লাভ ও লোকসানের কথা মাথায় রেখে চলাফেরা করে (TALKING BUSSINESS OF) ! দুই টাকা বা নিজের পরিশ্রম খরচা করার আগে ১০ বার ভাবে ও মেপে মেপে পা ফেলে (CONSCIENTIOUS ABOUT TRIEFLES)।
সেজন্য যেখানেই একটু সুযোগ সুবিধা বেশি পাবে বলে মনে করে .......সেখানেই সে তার মাথা ঢুকিয়ে দেয়। মাতব্বরি তার যেন শরীরে লেগে আছে।
এই জন্য সর্বদা চালাকি করে নিজের ধন সম্পত্তির মিথ্যা বড়াই করে বা লোকজনের সম্মুখে সৎ মানুষের পরিচয় দিয়ে অন্যর কাছ থেকে "ফায়দা " লোটার চেষ্টা করে। সে সব সময় সুযোগের সন্ধানে থাকে।
>>একগুঁয়েঃ কিছু কিছু মানুষ আছে যারা নিজে যেটা বোঝে তার বাইরে কেউ কিছু বুঝলে সহ্য করতে পারে না তেমনি সালফারের রোগী এমন ব্যক্তিত্বে উপমিত হয়ে গেছে যে তার কথার বাইরে সে অন্য মাতব্বরি সহ্য করতে পারে না। নিজেকে সব সময় বড় মনে করে এবং নিজের কথার প্রাধান্যটা বেশি দিতে চায়।
>> সামান্যেই ক্রোধ পরক্ষণে অনুতপ্তঃ সালফার গন্ধক থেকে তৈরি বিধায় তার রোগীর ভেতরে গন্ধকের কিছু গুনাবলী সুনির্দিষ্ট ভাবে পাওয়া যায়। গন্ধক যেমন একটু তাপ পেলে গেলে যায় আবার ঠান্ডা হলে জমাট হয় তেমনি সালফারের রোগী একটু সামান্য আবেগ জড়িত কথাতে ক্রন্দন করে আবার পরক্ষনে সে নিজে অনুতপ্ত হয়।
>> সামান্য জিনিষের মিথ্যা তারিফ করেঃ সালফারের মিথ্যা বলার প্রবনতা অধিক এবং সে এত সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে যে কোন জিনিসকে উপস্হাপন করে যে মনে হবে সত্য জিনিসটা যে সামনে তুলে ধরছেন। সালফারের বাচ্চারা সহপাঠীর সাথে খেলায় হেরে মারামারি করে বাসায় ফিরে এমন করে নিজের দোষ ডাকার জন্য অভিনয় করে যে মনে হয় সে একেবারে innocent তার ভেতরে কোন পাপের ছায়া নাই।
>>কিছুই ভালোলাগেনা আনন্দ পায়নাঃ রোগ ভোগ করা কালীন সময় সালফার বিমর্ষ থাকে তার মনে আমোদ, প্রমোদ বলে কিছু থাকে না সব সময় বন্ধ ঘরের ভেতরে চুপচাপ বসে থাকে মনে সুখ নাই তার। মনমরা ভাব তার ভেতরে।
>> গুছিয়ে রাখতে জানেনাঃ অগোছালো মানুষ যদি কখনো আপনার চোখের সামনে আসে তাহলে বুঝবেন ঐনি সালফার এর কিছু লেয়ার কভার করে বসে আছেন। সামান্য পরিমান গোছানো জিনিসটা তার ভেতরে পাবেন না সব সময় অগোছাল ভাব। সালফারের ঘরের ভেতরে প্রবেশ করার সাথে সাথে এমন একটা বিদঘুটে গন্ধ বের হবে তাতে আপনি বমি করে দিতে পারেন। আর বই পত্রের দিকে তাকাবেন দেখবেন তার বিছানার চারপাশ দিয়ে বই, জামা, কাপড় সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সে মনে হয় বন্য জীবন যাপন করছে।
>> নোংরা অথচ নিজেকে মহাজ্ঞানি মনেকরেঃ সালফারের অপর নাম নোংরা ( সরিনাম)। তার সবকিছুতেই নোংরা, তার শরীর নোংরা, তার কথা নোংরা, তার মন নোংরা, কাজ নোংরা সবকিছুতে নোংরা। মনে করেন সালফারের এক রোগী আপনার চেম্বারে এসে হাজির হল। সে এসেই চেয়ারে পা তুলে বসে গেল। হঠাৎ করে তার হাঁচি উঠল সাথে একটু সর্দ্দি বের হল সে জিব দিয়ে সেটার স্বাদ নিতে চেষ্টা করবে। আবার মাঝে মাঝে নিজের বগলের গন্ধ নিতে চায়। চেম্বারে টেবিলে একটা গ্লোবিউন্স দানা পড়ে থাকলে হয়ত সে চাইবে সবার অগচরে মুখের ভেতরে দিতে। সে এতই নোংরা যে তার শার্ট,প্যান্ট, জুতা একজন সুস্হ মানুষের সম্মুখে দিলে সে কখনো ব্যবহার করতে চাইবে না কিন্তু সালফার সেটা স্বনান্দে ব্যবহার করে থাকে।
>>স্বার্থপরঃ অধিক স্বার্থপরতা সালফারের আরো একটা বিশেষ লক্ষন। যেখানে স্বার্থ নাই সেখানে সালফার না। সব খানে স্বার্থের আঁচ খুঁজতে থাকে।
>>পরের দোষ খোঁজেঃ নিজের কাছে সালফার পাপহীন সে মনে করে তার মত ভাল মানুষ জগৎ এ আর কেউ নাই নিজে কোন দোষ করে না। সব সময় অপরের দোষ খুঁজতে ব্যস্ত থাকে। কে কি করল, কার বউ অন্যের সাথে চলে গেল এ নিয়ে সব সময় বিজি থাকে সে।
>>দ্রুতগতিশীলঃ যেকোন কাজ খুব তাড়াতাড়ি করাটা সালফারের আরো একটা বড় লক্ষন। সব কাজ দ্রুত করতে চায়(অরাম,আর্জনাই)।
>>তীক্ষ্ণ বুদ্ধিঃ প্রখর বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিত্বের অধিকারী সালফার। intellectually keen but physically very weak শারীরিক ভাবে দুর্বল হলে ও মানসিক ভাবে দারুন বুদ্ধিদিপ্ত ( লাইকো)
>> নাম ভুলেযায়ঃ সে দার্শনিক ঘরোনার মানুষ। নিজের জগৎকে ভুলে অন্য জগৎ নিয়ে ভাবে বিধায় মাঝে মাঝে নিজের নাম ঠিকানা পর্যন্ত ভুলে যায়। আইস্টাইন নিজেও তার বাসার ঠিকানা ভুলে যেতেন। হয়ত তিনি সালফারে অন্তুভূক্ত ছিলেন।
>>সর্বদাই খুটিনাটি লইয়া বকাবকিঃ তার যন্ত্রনায় বাড়ির মানুষ অস্থির্। তার হুকুম জারির ঠেলায় বাড়ির সকলে অস্হির হয়ে যায়।
>> সামান্য বস্তুকে অনেক কিছু মনে করে, ছেড়া নেকটা বা কাগজ মাথায় দিয়ে বলে আমি রাজা, বাদশা বা রাণী, সমস্ত বস্তুকেই সুন্দরদেখে।
>>স্বার্থপর,ভীরু অলস কোনো নিয়ম মেনে চলতে পারে না।
♦Characteristic Symptoms ( চরিত্রগত লক্ষন):
১. পায়ের তলা জ্বালার জন্য পা বিছানার বাহিরে রাখতে হয়।
২. উত্তম রুপে ধৌত করা সত্বেও শরীরের দুর্গন্ধ দূর হয়না। -(সোরিন)
৩. উঁচু বালিশে কপালে হাত না রাখিয়া ঘুমাতে পারেনা।
৪. ঠোঁট রক্ত বর্ণ (বেল, ল্যাকে, টিউবার)
৫. হাত - পা সরু ও পেটটি বড়।
৬. কোল-কুজো,সম্মুখ ঝুঁকে চলে।
৭. দিবাভাগে নিদ্রা আর রাত্রে নিদ্রা না হইয়া আচ্ছন্নভাব ও তন্দ্রা।
৮. সকল স্থানের স্রাবই হাজা কর , অত্যন্ত দুর্গন্ধ (টকগন্ধ) স্রাব দ্বার লাল বর্ণ হয়।
৯. মুখ গলা শুস্ক ক্রমাগত ঢোক গিলে।
১০. জিহ্বার মধ্য ভাগ সাদা, ধার গুলো ও ডগা লাল।
১১. দুর্গন্ধ মল,ঘর্ম বা স্রাব -টক বা অম্লগন্ধ যুক্ত
১২. রাত্রি দ্বিপ্রহরের পর রোগের বৃদ্ধি, বেলা ১১টায় উদরের মাঝে খালি বোধ ও জ্বালা।
১৩. পায়ের ডিম এবং পায়ের তলায় জ্বালা ও খিল ধরা।
১৪. সর্বগ্রাসী ক্ষুধা: কিন্তু দু-একগ্রাস আহার করিবার মাত্রই মনে হয় পেট পূর্ণ হয়ে গিয়েছে ,আর আহারে ইচ্ছা হয়না।
১৫. আহার কম পান অধিক।
১৬. যে কোনো পীড়ায় খাওয়ার জন্য ঘ্যানঘ্যান করে, মুখে খাওয়া লাগাইয়া রাখে।
১৭. বাহ্যে পাইলে আর এক মিনিট ও বিলম্ব সহ্য হয়না; তৎক্ষণাৎ টয়লেটে ছুটিতে হয়, না হয় কাপড় নষ্ট হয় (এলো)।
১৮. বাচ্চা পায়খানা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে।
১৯. খাইতে খাইতে পায়খানা করে।
২০. অত্যন্ত ক্ষুধা কেবল খাই খাই করে।
২১. পায়খানা করার পরেই কিছু খাওয়া চাই।
২২. মলে কেবল মাত্র পুঁজ, ময়লার গন্ধ থাকেনা।
২৩. অনেক রোগ ঘন ঘন পূনঃ প্রকাশিত হয়।
♦Peculiar Symptoms(অদ্ভুত লক্ষন): সংক্ষিপ্ত P.Q.R.S হিসাবে বিবেচিত লক্ষন নিয়ে আমরা অনেক সময় মেডিসিন সিলেক্ট করে থাকি। কারন এই অদ্ভুত লক্ষন যার মনে যত বেশি গেঁথে নিতে পারবে তত বেশি সে ডাক্তার সফলতা অর্জন করতে পারবে। রেপার্টরী বা মেটিরিয়া মেডিকাতে অদ্ভুত লক্ষনের মূল্যায়ন অনেক বেশি যার মধ্যে যে কোন একটি পেলেই সালফার বিবেচনা করা যেতে পারে ।
# সালফারের রোগী নোংরা ও অগোছানো প্রকৃতির । দেহের বিভিন্ন স্থানের গন্ধ শুকতে থাকে। তবে মনে রাখবেন "কেন্ট স্যার সালফার ও সরিনামের ভেতরে সামান্য পার্থক্য করে নিতে বলছেন সেটা হল "সালফার নোংরা থাকে অর্থাৎ সে স্বভাবগত ভাবে সে নোংরা আর সরিনাম নোংরা থাকতে চায় না তবে তার শরীর নোংরা হয়ে যায়। এবং সরিনাম শীত কাতর অপর পক্ষে সালফার গরম কাতর।
#ভোরে পায়খানার বেগে ঘুম থেকে ওঠে ভাঙ্গে (N.S)।
#পায়খানার রাস্তায় গড়গড়ানি শব্দ হয় ( আর্জেন্ট নাইট)।মলদ্বার ভিজা থাকে( পিউনিয়া)।
# তিন তালুতে জ্বালা ( হাত- পা ও মাথা )
# অলীক কল্পনা / নিজেকে অনেক বড় মনে করে।
# স্বার্থপর ও হিংসুক প্রকৃতির ( এটা ল্যাকেসিস এ ও আছে)
# মজার ব্যপার হল গরম ঘরে প্রবেশ করলে মুখমন্ডল হলুদ দেখায়।
# আঙ্গুলের মাথায় চাপড়া ওঠে ( নেট্রামেও এমন হয়) পায়খানার পর মলদ্বার হাজিয়া যায় । এটা ক্যামোমিলাতেও আছে । আবার মহিলাদের Menopause time - এ মাথার তালুতে জ্বালা লক্ষণে সালফার অপেক্ষা ল্যাকেসিস ভাল কাজ করে। তবে সিকেলি করের ভেতরে ও মাথার তালু জ্বালাটা ও পাবেন বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে।
# এক স্থানে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।
♦ At a glance of Sulphur( একনজরে সালফার): প্রথম দর্শনেই আমরা কিছু সময় আচ করি যে রোগী কোন ঔষধের দিকে ধাবিত হচ্ছে তেমন ভাবে সালফারকে এক নজর দেখে আমরা কিভাবে চিনব সেটা একটু দেখি।অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্ন,কুঁজো ব্যক্তি ,সামনের দিকে ঝুঁকে চলে ,বসলেও ঝুঁকে বসে ,উস্কুখুস্কু চুল ,নখগুলো বড় বড় ,নখকাটেনা ,যেখানে সেখানে থুতু ফেলে,বাচাল ,নিজেকে পন্ডিত মনে করে ,ঠোট লাল ,রক্তবর্ণ ,পেট বড় ,হাত-পা সরু ,হাত-মুখ না ধুয়ে খেতে বসে ,পচাগন্ধ শুকে ,অল্প বয়সে বৃদ্ধের ন্যায় আকৃতি ,জিহ্বার অগ্রভাগ লাল ও ত্রিকোণ লাল ,জিহ্বার সাদা ধারগুলো লাল ,ময়লা জামা পড়ে ,শরীর থেকে বিশ্রি গন্ধ নির্গত হয়।জিহ্বা সাদা।
♦সালফার ও সোরিনামের মধ্যে পার্থক্যঃ অনেক সময় নবীন বা প্রবীন ডাক্তার একটা ধোয়াশার মধ্যে পড়ে যায় সোরার এই দুই বসকে নিয়ে দুই জনই যেন যমজ ভাই কিন্তু তাদের পার্থক্য করে মাথার ঘাম ঝরাতে হয়। কিন্তু নিজের কথা গুলো মনে রাখলে হয়ত একটু ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
#সালফার স্নানে অনিচ্ছা- স্নানে বৃদ্ধি,
সোরিনাম স্নানে অনিচ্ছা, স্নানে উপশম ।
#সালফার গরম সহ্য করতে পারে না, শীতল বাতাস চায় ।
সোরিনাম শীত সহ্য করতে পারেনা, শীতের ভয়ে মাথায় কাপড় দিয়ে রাখে ।
#সালফার পিপাসার্ত বেশি; সোরিনাম কম ।
#সালফারের মল খুব কঠিন, সোরিনামের মল নরম কিন্তু বের হতে চায় না ।
#সালফারের রুগী ময়লা খুটে খায় না; সোরিনাম খুটে খায়, বাচ্চারা সর্দি টেনে খায় ।
#সালফার দুধ খেতে চায় না, হজম হয় না তাই । সোরিনামের এই সমস্যা নেই ।
#সালফারে চুলকানির পরে মামড়ি পড়ে না । সোরিনামে চুলকানির পর মামড়ি পড়ে ত্বক শক্ত হয়ে যায় ।
#সালফারে স্নানের পরেও মলিন দেখায় না । কিন্তু সোরিনামে স্নানেও পরিষ্কার দেখায় না ।
#সালফারে ক্ষুধা বেশি আছে । কিন্তু সোরিনামের ক্ষুধা অনেক বেশি এমনকি রাতে ঘুম থেকে উঠেও খেতে হয় ।
#সালফারে হতাশা আছে; কিন্তু হতাশায় ধর্মকর্ম নিয়ে অস্থির হয়ে যায় না । কিন্তু সোরিনামে এত হতাশ হয়ে যায় যে ধর্ম কর্ম নিয়ে অস্থির হয়ে যায়।
♦ কোন কোন রোগের উপর সালফার ক্রিয়া করেঃ এবার আলোচনা করব সালফার কোন কোন রোগের উপর ক্রিয়া করে সেই সম্পর্কে।
>>জ্বালা ( Burning) : হাতের তালু, পায়ের তলা এবং ব্রক্ষতালু অত্যন্ত উত্তপ্ত, বাতাস চাহে এবং ঠান্ডা মেঝের উপর শুইয়া থাকে, ঠোঁট এবং জিহবার অগ্রভাগ রক্তবর্ণ। চর্মরোগের ইতিহাস। ঘুম ভাঙ্গিলেই মলত্যাগের বেগ; কুজ দেহ, অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন।
>>Fever (জ্বর): বেলা ১০/১১ টা হইতে জ্বর বৃদ্ধি পায় হাতের তালু, পায়ের তলা ও ব্রক্ষতালু অত্যন্ত গরম, রোগী ঠান্ডা মেঝেতে শুইয়া থাকিতে ভালভাসে।
>>Bolis(ফোড়া): অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন স্বাভবের লোক। একসঙ্গে অনেক ফোড়া উঠে।
>>Dysentery(আমাশয়): কোন চর্ম্মরোগ বাধাপ্রাপ্ত হইয়া আমাশয়, অথবা যাহারা অত্যন্ত অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন তাহাদের আমাশয়ে ইহা অদ্ধিতীয় ঔষধ, ভোরবেলায় রোগের বৃদ্ধি, মলত্যাগের পরেও শান্তিলাভ ঘটে না; পিপাসা আছে। ঠোঁট রক্তবর্ণ।
>>Extremities হাত-পা সরু, পেটটি বড়:
ছেলেমেয়েরা খুব খেতে পারে, কিন্তু যেমন খায় তেমনি হজম করতে পারে না, ফলে দেহের পুষ্টিসাধন না হয়ে পেটটি বড় দেখায়। আবার বেশ হৃষ্ট-পুষ্ট ছেলে যে সালফার হতে পারে না এমন নহে। খাদ্য খায় কম কিন্তু জল খায় বেশি।
>>Aversion to milk(দুগ্ধে বৃদ্ধি): দুধ খাইতে চাহে না, খাইলে সহ্যও হয় না। মাংসেও অরুচি, মিষ্টি খাইতে ভালবাসে, কিন্তু অনেক সময় তাহাতে অনিচ্ছা বা তাহা অসহ্য হইতেও দেখা যায়। ঝাল, উগ্রদ্রব্য এবং মাদক-দ্রব্য খাইতে ভালবাসে। মাছ, ডিম ও মাংসে অনিচ্ছা।
>>Malaria fever(ম্যালেরিয়া জ্বর): শীত অবস্থায় পিপাসা থাকে না, উত্তাপ অবস্থায় নিদারুণ গাত্রতাপের সহিত রোগী অচেতন হইয়া পড়ে, বমি, উদরাময়, পিপাসা। শীত অবস্থায় জননেন্দ্রিয় বরফের মত শীতল।
>> cough( সর্দ্দি কাশি): পুরাতন সর্দ্দি-কাশির সহিত স্বরভঙ্গ, গলাভাঙ্গা, গলাধরা, অনবরত কাশি, নাসিকা দিয়ে রক্ত পড়ে, নাসিকা ফোলে, নাসিকার মধ্যে শুষ্ক পিচুটি বা মামডি পড়ে, নাসিকার ডগা হাজিয়া লালবর্ণ হয়।
>>ব্রঙ্কাইটীই বা শ্বাসনালীর প্রদাহ: এই পীড়ায় একটু পুরাতন অবস্থায় পূঁযের মত গয়ার উঠে, ফুসফুসে প্রচুর পরিমাণে শ্লেম্মা জমে, রোগী অত্যন্ত কাশে, কখনো কাশিতে কাশিতে বমি করিয়া ফেলে, কাশি শুইলেই বৃদ্ধি হয়।
>>Skin disease (চর্ম্মপীড়া): রোগী দেখিতে অত্যন্ত অপরিষ্কার ও কদাকার। হাত, মুখ, বাহুতে গর্মি গোটার ন্যায় ছোট ছোট ফোঁড়া হয় এবং খোসের মত ঘা হয়। ইহা ছাড়া কুঁচকী, স্তন, গ্রীবা বগল এবং ঘাড় যেখানে চামড়ার ভাঁজ থাকে, খোসপাঁচড়া, চুলকানি, একজিমা, কাউর, দাদ অত্যান্ত চুলকানি, চুলকাইবার সময় রতি ক্রিয়ার মত সুখঅনুভব এবং পরে ভয়ানক জ্বালা হয়। রাত্রিকালে ও স্নানে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়।
>>Eye disease (চক্ষুর পীড়া): প্রান্তদেশের ক্ষতবস্থা এবং তাহাতে জ্বালা। চক্ষুর মধ্যে তাপ এবং জ্বালাবোধ। (আর্সেনিক ও বেলেডোনা) চক্ষুর সমনে কালো কালো দাগ। পুরাতন চক্ষুপ্রদাহ, তাহার সাথে অত্যান্ত জ্বালা এবং চুলকানি।
>>Ear disease (কর্ণের পীড়া): কানের মধ্যে ঝাঁই ঝাঁই শব্দ। কোন ঔষধ প্রয়োগের পলে কান পাকা চাপা পড়িয়া যাওয়ার কুফল। বধিরতা, ইহার পূর্বে শ্রবণশক্তির অত্যধিক প্রাখর।
নাসিকার পীড়: ঘরের মধ্যে থাকিলে নাসিকা বন্ধ থাকে। কাল্পনিক দুরগন্ধ। পুরাতন শুষ্ক সর্দ্দি, শুষ্ক মামড়ী এবং ইহা হইতে সহজেই রক্ত বাহির হয়।
>>Abdomen (তলপেট) :চাপদিলে যথেষ্ট বেদনা অনুভূত হয়; অভ্যন্তরে মনে হয় যেন কাঁচাভাব এবং টাটানি-ব্যথা। পেটের মধ্যে যেন জীবন্ত কিছু নড়াচড়া করিতেছে।
>>Piles(অর্শ) : মলদ্ধার চুলকায় এবং জ্বালা করে; তলপেটে রক্তাধিক্য হেতু অর্শ । পুনঃপুনঃ মলত্যাগের বেগ হয় কিন্তু নিষ্ফল; মল কঠিন, শিশু মল ত্যাগ করিতে ভয় পায়, বেদনা হইবে বলিয়া। মলদ্ধারের চারদিক লাল বর্ণ; তাহার সথে চুলকানি। সকালবেলায় উদরাময়, বেদনাহীন, মলত্যাগ করার জন্য রুগীকে বিছনা হইতে উঠিয়া ছুটিতে হয়।
>>Diabetes( প্রমেহ): স্রাব পূঁজের ন্যায় হোক বা জলের মত হোক প্রমেহের সহিত যদি মুত্রত্যাগ কালে যন্ত্রনা থাকে। প্রমেহের প্রথম এই ঔষধ এতবেশি উপকারী নহে।
>>Male Genitalia (পুঃজননেন্দ্রিয়): লিঙ্গে সুই পোটানো যন্ত্রনা। শয্যা প্রহন করিলে লিঙ্গ চুলকাইতে থাকে। লিঙ্গ শীতল, শিথিল এবং যোন দুর্বলতা। আসাড়ে শুক্রক্ষরণ।
>>Female Genitalia (স্ত্রীজননেন্দ্রিয়): জননেন্দ্রিয় বাহিরের অংশ চুলকায়। যোনিপথে জ্বালা। ঋতুস্রাব অতি বিলম্বিত, ক্ষনস্থায়ী, পরিমানে অল্প এবং কষ্টকর। ঋতুস্রাবের পূর্বে শিরঃপীড়া অথবা ঋতুস্রাব হঠাৎ বন্ধ হইয়া যায়। স্থনের বোটা পাটাযুক্ত ও জ্বলে।
>>Emptyness (শূন্যবোধ): মাথা, বুক, পেটে-সর্বত্র শূন্যবোধ বা খালি মনে হওয়া। সব কিছুতে শূন্যতা। মানসিক দিক থেকেও মাঝে মাঝে শূন্যতা তাকে গ্রাস করে।
> Agg(বৃদ্ধি): নিস্পেষণে, স্পর্শে, সঞ্চালনে, জলীয়-বায়ুতে, উত্তাপে, স্নানে, শীতল পানে (পিপাসায় ) দুগ্ধ পানে, ঋতুকালে ও মধ্য রাত্রিতে। বেলা ১০/১১টায় ভয়ানক রাক্ষুষে ক্ষুধা।
> >Amel (হ্রাস): শুষ্ক বায়ুতে, দক্ষিণ পার্শ্বে শুইলে, শীতল জল প্রয়োগে।
>>Causition (কারণ): চর্মরোগ চাপা পড়া, অতিঃ গরম, মানসিক পরিশ্রম বংশগত ধাতুর দোষ।
>>Desire (ইচ্ছা): মিষ্টি, ইচ্ছা মাংস তরল খাবার গরম খাবার শাক সবজি 2 গ্রেড
1ম গ্রেড মাংস ডিম।
>>Aversion ( অনিচ্ছা): দুধ, টক, মিষ্টি, চর্বি কফি, ফল, রুটি 2 গ্রেড
3 গ্রেড মাছ মায়ের দুধ শাক সবজি
1ম গ্রেড দুধ।
>> inimical( শত্রুভাবাপন্ন): sulp follows lyc but lyco does not follow sulph.
>> used after ( পরবর্তি ব্যবহারর্য): একো, ইস্কুইলাস, এলু, এপিস, আর্স আয়োড, এটি- রুবেন্স, ব্রারাইটা কার্ব, বেল, ব্রায়ো, বার্বেরিস ভল।
>> Antidote( ক্রিয়ানাশক): একোনাইট, ক্যাম্ফার, আর্সে, ক্যামো, চায়না, কোনি, কষ্টিকাম, নাক্স, মার্ক, পলস, রাস, সিলি। সালফারের পরে লাইকোপোডিয়ম নিষিদ্ধ।
>>Potency and Dosage (শক্তি ও মাএা):রোগীর জীবনীশক্তি ও রোগীর রোগের ধরনঅনুযায়ী এর শক্তি নির্ধারন হয়ে থাকে। তবে কখনো সালফার উচ্চ শক্তি প্রথমে ব্যবহার করতে যাবেন না তাতে হীতে বিপরীত হতে পারে।
>> Warning (সতর্কীকরণ):
এই ঔষধ পুনঃপুন প্রয়োগ করতে নেই। এছাড়া টাইফয়েড,নিউমোনিয়া কিংবা অন্য সমস্ত পীড়ায় যেখানে রোগীর Vitality বা জীবনীশক্তি কিছু মাত্র নেই সেখানে সালফারের লক্ষণ থাকলে ও সালফারের উচ্চ শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ। কারণ ঔষধের ক্রিয়াজনিত বৃদ্ধির কারণে অনেক সময় রোগীর মৃত্য ঘটে।
>>বিঃ দ্রঃ ভুল ত্রুটি মার্জনীয়।©️