Dr. Nazia Binte Alamgir

Dr. Nazia Binte Alamgir Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Dr. Nazia Binte Alamgir, Doctor, Dhaka.
(1)

ডাঃ নাজিয়া বিনতে আলমগীর।
গাইনি ও প্রসূতি বিদ্যা বিভাগ।
(বিশেষ প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত ও অভিজ্ঞ -
উচ্চ ঝুঁকিপুর্ন মাতৃত্ব ব্যবস্থাপনা, সুস্থ ও নিরাপদ ডেলিভারি, বন্ধ্যাত্ব ও পরিবার পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনা)

29/04/2026

#সহবাসে_যোনিপথ_শুষ্ক_থাকা -(Dry Va**na)
কারন, করণীয়, চিকিৎসা।

বিবাহিত কাপলদের মাঝে এটা এখন একটা প্রায় সাধারণ সমস্যা।
ইদানীং প্রায়ই এই সমস্যা নিয়ে মেয়েরা চেম্বারে আসেন। এমন নয়,
আগে কখনো কারো এই সমস্যা হতো না। কিন্তু, এখনকার মেয়েরা সচেতন বেশি।
অন্যের সমস্যা শুনে, বুঝে, পড়াশোনা করে বুঝতে পারে এটা তার নিজের'ও একটা সমস্যা।
তাই, বহু বছরের বিবাহিত জীবনে ভুক্তভোগী নারীরাও এখন সমস্যা সমাধান করতে চান।

জানতে হবে,
এই ড্রাই ভ্যাজাইনা, সহবাসে অণীহা হবার একটি বড় কারন। এটা রোগ নয়। বরং বিভিন্ন ধরনের রোগের লক্ষ্মণ। যার জন্য বিবাহিত জীবনের যে পর্যায়েই সমস্যা ধরা পড়ুক, সঠিক কারন বের করে সমাধান করতে হবে।

"ড্রাই ভ্যাজাইনা" সমস্যা হয় নারীর।
কিন্তু অবশ্যই দম্পতিকে চেম্বারে এসে ডাক্তারের সাথে মূল সমস্যা বোঝা, চিকিৎসা ও করণীয় আলোচনা করতে হবে।

★★ লক্ষনসমুহ--

★যোনীপথে ও তলপেটে ব্যাথা, অস্বস্তি অনুভব।
★ জ্বালাপোড়া।
★ সহবাসের ইচ্ছা কমে যাওয়া।
★ সহবাসে ব্যাথা।
★ কখনো কখনো সহবাসে ব্লিডিং।
★ যোনীপথে চুলকানি।
★ ইউরিনে সংক্রমন/ইনফেকশন।
★ যোনীপথে ছিলে যাওয়া ও টনটন ব্যাথা অনুভব হওয়া।

★★ কারনসমুহ --

ইস্ট্রোজেন নামক নারী হরমোন শরীরে কম থাকা।
কিম্বা, হঠাৎ করে কমে যাওয়ার ফলে এই সমস্যা হয়ে থাকে।

কিছু স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কারন-
১। ওভুলেশনের পর (রেগুলার পিরিয়ডের ১২- ১৪তম দিন)
২। বেবি ডেলিভারির পর (হরমোন পরিবর্তন এর কারনে)
৩। ব্রেস্টফিডিং কালিন সময়ে (হরমোন পরিবর্তন এর কারনে)
৪। প্রি মেনোপজ/মেনোপজ (মাসিক বন্ধ হয়ে যাবার আগে ও পরে) হরমোন পরিবর্তন এর কারনে।

★অন্যান্য--
-- পলিসিস্টিক ওভারি ডিজিজ (PCOD)
-- হরমোন সমস্যা।
-- নারীর দীর্ঘ কালীন ধুমপানের অভ্যাস।
-- যেকোনো প্রয়োজন এ ডিম্বথলি অপারেশন করে ফেলে দেওয়া। (Oophorectomy)
-- ক্যানসার চিকিৎসা -- কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি।
-- ফাইব্রয়েড (জরায়ু টিউমার/এন্ডোমেট্রিওসিস (জরায়ু ইনফেকশন) ইত্যাদি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা মেডিসিন এর সাইড ইফেক্ট।
-- বারবার যোনিপথ ইনফেকশন।
-- দীর্ঘদিন চলা ডিপ্রেশন এর কিছু মেডিসিন এর সাইড ইফেক্ট।
-- সহবাসে ভয়, লজ্জা, সাইকোলজিক্যাল/মানসিক জড়তা।
-- স্বামী স্ত্রীর সহবাসে দুজনের সঠিক ইচ্ছে না থাকা।
-- জোরপূর্বক সহবাস।
-- সঠিকভাবে নারী সংগীকে শারীরিক ভাবে উত্তেজিত কর‍তে না চাওয়া, না পারা।
-- স্বামী-স্ত্রী এর মাঝে মানসিক দ্বন্দ্ব, সম্পর্ক ভালো না।
পারিবারিক কলহ, অশান্তি।
-- বিয়ের পূর্বে অন্য কোনো সম্পর্কে অভ্যস্ত।
ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিবাহ।
-- দুজন দুজনের প্রতি মানসিক আকর্ষণ না থাকা।

★ করণীয় --

প্রথম করণীয়,
এটা একটি সমস্যা। সেটা বুঝে নেওয়া।
স্বাভাবিক ভাবে যে সময়গুলিতে এমন থাকতে পারে, সেটাও সঠিক পরামর্শ ও চিকিৎসায় ঠিক হয়।
অন্যান্য সমস্যা আছে কি না, কাপলের নিজেদের মাঝে বোঝাবুঝির অভাব আছে কি না।
লুকায়িত সমস্যা আছে কি না।
সবকিছু নিয়ে সঠিক ডাক্তার এর কাছে একসাথে দুজন যাওয়া ও সমস্যা বিস্তারিত শেয়ার করা।

★ স্বামীর করণীয় --
স্ত্রী আপনার জীবন সংগী।
শুধুই বিছানার আনন্দ-সংগী নয়!
তাকে ভালোবাসুন।
তার ইচ্ছা-অনিচ্ছা, ভালো-খারাপ লাগার মূল্য দিন।
ক্লান্তি, শারীরিক ও মানসিক অবসাদ এ পাশে থাকুন।
রোগে, শোকে, নতুন পরিচয় এ, সংসার, পরিবার এর দায়িত্বে, ঝামেলায় অংশীদার হোন।
সে আপনার সেবা-দাসী নয়।
সহবাস-সুখ যেনো হয় পারষ্পরিক বোঝাপড়া, আনন্দের বিষয়।

★ স্ত্রীর করণীয় --
স্বামী আপনার জীবন সংগী।
তিনি আপনার সম্মান ও ভালোবাসার পাত্র।
কিন্তু প্রভু নন!
আপনি তার দাসী নন।
নিজ সমস্যা, ভয়, লজ্জা, অসুস্থতা, ক্লান্তি, অবসাদ অকপটে তার সাথে শেয়ার করুন।
প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য সময় নিন।
নিজেদের মাঝে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করুন।
সহবাস-সুখ যেনো হয় পারষ্পরিক বোঝাপড়া ও আনন্দের বিষয়।

প্রতিটি নারী ও কাপলের জন্য সমস্যার ধরন, সময়, কারন ভিন্ন হতে পারে।
তাই, প্রত্যেকের জন্য যার যার শারীরিক সমস্যা বের করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।

★ একজন গাইনোকলোজিস্ট এর সাহায্য প্রথমেই আপনার প্রয়োজন।
যিনি বিস্তারিত বুঝে আপনার রোগ ডায়গনোসিস করবেন। এবং পরবর্তী করণীয় বুঝিয়ে দেবেন।
★ ডেলিভারির পর, ব্রেস্টফিডিং কালীন সময়ে মা'কে যথাযথ ঘুম, রেস্ট, খাবার, যত্ন করতে হবে।
এতে সে স্বাভাবিকভাবেই সঠিক ফিটনেস ফিরে পাবে।
★ হরমোন সমস্যা, PCOD, জরায়ু ইনফেকশন, টিউমার ইত্যাদি সমস্যায় চিকিৎসারত নারীকে মানসিক সাপোর্ট দিতে হবে।
★ অনিয়মিত, অগোছালো জীবন যাপন করেন যে নারী তিনি নিজের খাবার, ঘুম, স্ট্রেস ঠিক করুন।
সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করুন। ধূমপান পরিহার করুন।
★ বারবার যোনিপথ ইনফেকশনকে অবহেলা করা যাবে না। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, নিয়ম মেনে চলতে হবে।
★ হরমোন সমস্যা, পুষ্টিহীনতা ইত্যাদির জন্য হরমোন স্পেশালিষ্ট ও নিউট্রিশনিস্ট এর সাহায্য নিতে হবে।
★ মানসিক সমস্যা, দুজনের ভুল বোঝা, ভুল ধারণা, দুজনের মতের ও মনের অমিল'কে একসাথে বসে সমস্যা শোনা, বোঝা৷
সমাধান বোঝা ও প্রয়োজনীয় কাউন্সিলর এর সাহায্য নিতে হবে।

★ শেষ কথা--
ড্রাই ভ্যাজাইনা কোনো রোগ নয়।
নারী জীবনের যেকোনো সময়ে, অবস্থায় এমন হতে পারে।
স্বাভাবিক সময় গুলিকে মেনে নেবার মানসিকতা থাকতে হবে।
অস্বাভাবিক কারনগুলির চিকিৎসা কালীন সময়ে জীবনসঙ্গীর সাপোর্ট থাকতে হবে।

কিন্তু এই সমস্যা অনেক রোগ ও ঝামেলার কারন মাত্র।
পারিবারিক, বৈবাহিক জীবনের অনেক অশান্তি, কলহ, ভুল বোঝাবুঝির কারন।

তাই,
রোগ ডায়গনোসিস ও চিকিৎসা নেবার পাশাপাশি,
পরষ্পরের সমস্যার প্রতি স্বামী স্ত্রী উভয়ের সহনশীল মানসিকতা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, সাপোর্ট থাকা অনেক বেশি জরুরি।

ধন্যবাদ ও ভালোবাসা

Just Delivered! আমি সবসময়ই মনে করি,৯-১০ মাস সন্তান'কে নিজ শরীরে ধারণ করে, বাচ্চার  প্রথম কান্না শোনা ও তাকে চোখে দেখার প...
28/04/2026

Just Delivered!

আমি সবসময়ই মনে করি,
৯-১০ মাস সন্তান'কে নিজ শরীরে ধারণ করে, বাচ্চার প্রথম কান্না শোনা ও তাকে চোখে দেখার প্রথম অধিকার মায়ের ও মায়ের 😘

ওটিতে শোয়া মা ও সন্তানের প্রথম সাক্ষাতের সুন্দর মুহুর্তগুলি বন্দী করেছেন, সন্তানের বাবা নিজে।
মায়ের মাথার কাছে দাড়িয়ে 😊

আমার আজকের ডেলিভারি করানো রাজকন্যা, ৫৫৫০ 🥰

ডা. নাজিয়া বিনতে আলমগীর।
গাইনি ও প্রসূতি বিদ্যা আলোচক, সার্জন।

20/04/2026

#কেস_স্টাডি_১
**na



অল্পবয়সী (১৯বছর) মেয়েটি খুব লাজুক ভংগীতে কাচুমাচু হয়ে আমার চেম্বারে এসেছে।

-- কি সমস্যা তোমার বলো?
(সে লজ্জায় আরো কুচকে গেলো! মুখ নীচু। বুঝলাম কখনো এ সমস্যা কারো সাথে শেয়ার করেনি। অচেনা চিকিৎসক এর কাছে সহজ হতে পারছে না)

এবার আমি তাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলাম।
বাড়ি কোথায়?- ঝিনাইদহ।
এখানে কোথায় থাকো- জিগাতলা।
আচ্ছা।
তোমার হাসব্যান্ড কি করেন?- তিনি ডাক্তার।
আচ্ছা। তিনি কিসের ডাক্তার?- হরমোন এর।
ওকে।
তাহলে তো ভালো।
এবার খুলে বলো, তোমার সমস্যাটা কি?

এবার কথা শুরু হলো।
আমার বিয়ে হয়েছে দেড় বছর।
সহবাস করতে পারি না।
ব্যাথা হয় অনেক। উনি চেষ্টা করেছেন।
বলেছেন আমার সমস্যা। জোর'ও করেছেন, অনেক ব্যাথা পেয়েছি। কিন্তু কিছু হয়নি। এজন্য প্রতিদিন আমাকে বকেন। গালি দেন। আমি ইচ্ছা করে করতে দেই না, এসব বলেন।
আমার অনেক ভয় লাগছে। আমি নিজের বাসায় চলে যাবো।
আপনি শুধু বলেন,
আমার এই সমস্যাটা কি অনেক বড়? কখনো সমাধান হবে না?

(এবার চোখের পানি বাধ মানলো না)
উনি বলছেন, আমি ইচ্ছা করে এসব করতেসি। উনি অন্য বিয়ে করবেন। আমি নাকি কাউকে সন্তুষ্ট করতে পারবো না! প্লিজ বলেন, আমার কি অনেক বড় দোষ??

আমার কাছে এসব বিষয় নতুন নয়।
প্রায় প্রতিদিন সহবাসের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা নিয়ে মেয়েরা আসে। কাপল আসে। বুঝিয়ে বলি। তারা বোঝে। সমাধান ও হয়।

কিন্তু এখানে আমি কিছুক্ষন বোবা হয়ে থাকলাম।
মেয়েটির হাসব্যান্ড নিজে একজন চিকিৎসক।
নতুন চিকিৎসক। পড়াশোনা করছেন।
তাও আবার হরমোন সমস্যা বিষয়েই!
কিন্তু,
এই সদ্য পাশ করা চিকিৎসক স্বামী গাইনি বিষয় এর কিছু কমন রোগ/সমস্যার বিষয় এ জানেন না!?

★ Dry Va**na --
(সহবাসে যোনিপথ শুষ্ক থাকা)
★ Vaginismus --
(যোনিপথে যেকোনো কিছু প্রবেশ করাতে নারীর যোনিপথ এর চারপাশের মাংশপেশির সংকোচন হয়। বাধা দেয়)
★ Frigidity --
(শারীরিক সহবাসের প্রতি ভয়- অতীত বাজে অভিজ্ঞতা, কম কিম্বা ভুল জ্ঞান, সহবাসের সময় সংগীর সাথে ইচ্ছা ও মনের মিল না হওয়া, সংগীর ভুল আচরণ, জোর করা, যথেস্ট উত্তেজিত করতে না চাওয়া ও না পারা ইত্যাদি)

একজন নির্বোধ, অবিবেচক, জ্ঞানহীন ডাক্তার ছেলে একটা অল্পবয়সী মেয়েকে সেই পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে সে বিশ্বাস করে নিয়েছে, এগুলি অনেক বড় সমস্যা।
এর সমাধান নেই।
সে কখনো কাউকে শারীরিক ভাবে সুখী করতে পারবে না!

অথচ,
আসল সত্য হলো প্রতিটি সমস্যার কারন আছে। সমাধান চিকিৎসা আছে। কাউন্সিলিং ও পরামর্শ অনুযায়ী চললে সঠিক ফলাফল আছে।
.......

আমার ইঞ্জিনিয়ার হাসব্যান্ড একজন পড়ুয়া ব্যাক্তি।
ছোটো বেলা থেকেই সে বুকিশ।
এমন বহু বিষয় এ সে জ্ঞান রাখে, যা সাধারণ বাংগালী ছেলেরা জানার প্রয়োজন মনে করে না।

Dry Va**na
Frigidity
Vaginismus

সমস্যা ও রোগগুলি মেডিকেল টার্ম।
চিকিৎসক না হয়েও সে এ বিষয় এ জ্ঞান রাখে। অনেক কারন জানে। এমনকি সমাধান'ও জানে।
আমি মুগ্ধ হই :)
হায়,
আমাদের দেশের তথাকথিত শিক্ষাব্যবস্থা!!!

একজন চিকিৎসক হয়ে নিজ জীবনসঙ্গির শারীরিক সমস্যা, রোগ বুঝতে না পারা। বোঝার জন্য অন্যের সাহায্য না চাওয়া। নিজের ইগো বজায় রাখবার জন্য ক্রমাগত সংগীকে নীচু দেখানো। মানসিক, শারীরিক অত্যাচার করা....

কোনো দেশের উচ্চশিক্ষা কাউকে উন্নত মানুষ বানাতে পারবে না।
দিনশেষে, শুধুমাত্র আপনার পারিবারিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ'ই মূল পরিচয়!

হয় তুমি মানুষ, আর নাহয় স্রেফ নির্বোধ
জন্তু-জানোয়ার! :/
.....

শেষ কথা,
Vaginismus একটি রোগ মাত্র।
সঠিক সময়ে রোগ ডায়গনোসিস, চিকিৎসা, কাউন্সিলিং, থেরাপি করা হলে সঠিক প্রতিকার পাওয়া যায়।
কিন্তু, ভুল জানা ও অবহেলায় স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন ব্যাহত, নষ্ট হয়।

ধর্মীয় কিম্বা সামাজিক ট্যাবু থেকে বের হয়ে এসে সঠিক জ্ঞান অর্জন করুন। সাহায্য নিন সঠিক চিকিৎসক এর। মানবিক হোন নিজ সংগীর প্রতি।

ডাঃ নাজিয়া বিনতে আলমগীর।
গাইনি ও প্রসূতি বিদ্যা আলোচক, সার্জন।
এডমিন,
Hello Audity....



15/04/2026

প্রেগন্যান্সি ডায়বেটিস এর কারনে অসচেতনতায় ২বার প্রেগন্যান্সি লস, পরবর্তীতে ২বার সাফল্য ও সুস্থ বাচ্চা প্রাপ্তি।
কতোটা ভয়াবহ প্রেগন্যান্সিতে ডায়বেটিস??
আসুন রোগীর ডেলিভারির আগে কিছু শুনে নেই।

ডা. নাজিয়া বিনতে আলমগীর।
গাইনি ও প্রসূতি বিদ্যা আলোচক, সার্জন।




13/04/2026

এক নারী প্রথমবার আমার চেম্বারে এসেছেন। বেশ লাজুক, বিনয়ী, কাচুমাচু মুখ।

আমি স্বভাবতই বসতে বলে জিজ্ঞেস করলাম, কি সমস্যার জন্য এসেছেন আপনি?
তিনি উত্তর দিলেন-
আপনি অভয় দিলে আমি কি বিস্তারিত আলোচনা করতে পারি??
আমি বেশ হাসলাম।
নিশ্চয়ই পারেন, যদি সেটা রোগ সংক্রান্ত হয়। অকারণ গল্প তো চেম্বারে করি না 🙂

তিনি অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন!
তারপর, ধীরে ধীরে বিস্তারিত আলোচনা হতে লাগলো। বিভিন্ন পুরোনো রোগের ইতিহাস শুনলাম। কারন, ভুল কি কি ছিলো, নতু৷ কি করা উচিত, করণীয়, প্রতিকার, জটিলতা আলোচনা হলো।
তিনি গল্প করছেন, আমি এক হাতে প্রেস্ক্রিপশন দেখছি আর কান তার দিকে, মনোযোগ দিয়ে শুনছি।

সময় পেরিয়েছে সম্ভবত ৩০ মিনিট। বাইরে আরো রোগী অপেক্ষমান। তাই বললাম, আপাতত এইটুকু। এরপর আমরা রিপোর্ট সহ বাকি আলোচনা করবো। ততোদিন নিয়ম অনুযায়ী চলুন ও ভালো থাকুন 🙂

কথা শেষ হলেও তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন। আমি জিজ্ঞাসা মুখে তাকালাম, দেখি তার চোখ ছলছল করছে৷ হাত বাড়িয়ে দিলো আমার হাত ধরবার জন্য!

"আমি এই সাধারণ রোগ'টি নিয়ে ৪ বছর ধরে ভুগছি। এর মাঝে প্রেগন্যান্ট হয়েছি। বেবি হয়েছে। এরপরেও বহুবার ডাক্তার দেখিয়েছি। হস্পিটালে ভর্তি'ও থেকেছি। গাদা গাদা এন্টিবায়োটিক খেয়েছি। বহু টেস্ট করিয়েছি। কেউ একবারো রিপোর্ট বুঝিয়ে বলেনি। প্রশ্ন করলে ধমক দিয়েছে! আজ অব্দি কেউ আমাকে এতোটা সময় নিয়ে দেখবে, বুঝিয়ে বলবে - আশাও করিনি! আমাদের দেশের কোনো ডাক্তার এভাবে সময় নিয়ে কথা বলতে দেয়। হিস্ট্রি শোনেন। আলাদা করে লিখতে দেন, আমি জানতাম'ও না! আমার চোখে দেখা এক অদ্ভুত বিস্ময় আপনি! এতোটা সময় দিলেন শুধু এই রোগের জন্য৷ জানিনা, জটিল রোগ হলে আপনি আর কি করেন?"

আমি হাত ধরে আশ্বাস দিলাম।
ভুল প্র‍্যাক্টিস, কমার্শিয়াল প্র‍্যাক্টিস সব জায়গায় আছে। আমরা চাইলেই তার বিরুদ্ধে দাড়াতে পারি, তাদেরকে বয়কট করে।

আমাদের দেশে রোগী মারা যায়, ডেলিভারির সময় বাচ্চা মারা যায়- অধিকাংশ কর্পোরেট হস্পিটালেও শিক্ষিত স্বজনেরা তার কারন জিজ্ঞেস করে সদুত্তর পায় না! কাউন্সিলিং হয় না। নুন্যতম দায় স্বীকার করেন না চিকিৎসক কিম্বা হস্পিটাল। মানবিক হন না তাদের প্রতি।

সময় এসেছে, ভুলের বিরুদ্ধে দাড়াবার।
সেটা আপনি আমি সবাই চাইলেই হবে। কে ভালো সার্ভিস দেবার নামে ব্যবসা করছে, কার দায়বোধ নেই, কারা রোগীবান্ধব নয়- আমরা সবাই জানি। তবুও "এটাই স্বাভাবিক" ভেবে নিয়েই আমরা চলছি!

শেষ কথা-
তিনি চোখের পানি মুছে বেরিয়ে গেলেন৷ তবে, স্বস্তি ও আশ্বস্ত মুখ নিয়ে। হয়তো যা আশা করে এসেছিলেন, তার চেয়েও বেশি কিছু সাথে নিয়ে।

আমি রোগীদের সাথে অতিরিক্ত কথা বলি। বলার সময় এটাও বলি, ইচ্ছা করেই মুখে বলছি যেনো আপনি কানে শোনেন। মনে রাখেন ও মেনে চলেন। কারো সেসব ভালো লাগে, কারো লাগে না। দিন শেষে সবার পছন্দের আমি হতে পারবো না।

আমার এসিস্ট্যান্টরা বলে, ম্যাডাম আপনি আরেকটু কম সময় নিয়ে দ্রুত রোগী দেখেন। তাহলে তো আরো বেশি দেখতে পারবেন! বলি, সেটা আমার দ্বারা সম্ভব নয় 😁
তবে আমি তো এমনই থাকবো, সবসময়।
২য় বার কেউ আমার কাছে আসুক কিম্বা না আসুক 😊

ডা. নাজিয়া বিনতে আলমগীর।
গাইনি ও প্রসূতি বিদ্যা আলোচক ও সার্জন।

আমার ৫৫৫০ তম গল্লু, আলহামদুলিল্লাহ 😘নুসরাত জাহান মিতু আমার সাড়ে ৩ বছরের পুরাতন রোগী। পরপর ২টি বাচ্চা এবরশন(৬ মাসে) হবার ...
12/04/2026

আমার ৫৫৫০ তম গল্লু, আলহামদুলিল্লাহ 😘

নুসরাত জাহান মিতু আমার সাড়ে ৩ বছরের পুরাতন রোগী। পরপর ২টি বাচ্চা এবরশন(৬ মাসে) হবার পর সঠিক কোনো কারন বের করতে না পারার জন্য তখন প্রেগন্যান্সি নিয়ে শুরুতেই চেক আপে এসেছিলো।
এবং, শুরু থেকেই প্রেগন্যান্সি ডায়বেটিস ধরা পরে।
আগের প্রেগন্যান্সির পুরো সময়ে ডায়বেটিস আন কন্ট্রোল্ড ছিলো, কারন সে নিয়ম অনুযায়ী খাওয়া, চলা করতে পারতো না। এরপরেও ৩৭ সপ্তাহ অব্দি অপেক্ষা করে আমরা আগেরবার সুস্থ একটা কন্যা সন্তান তার কোলে তুলে দিতে পেরেছিলাম। যে এখন মাশা আল্লাহ ৩ বছরের কিউট রাজকন্যা 😘

এবারের প্রেগন্যান্সির শুরুতেই তাই বিন্দুমাত্র দেরী না করে শুরু থেকেই সে চেক আপে চলে আসে। নিয়ম অনুযায়ী হরমোন, ডায়বেটিস চেক আপ। সঠিক খাবারের চার্ট মেনে চলা শুরু করে। এবং, ৩৭ সপ্তাহ অব্দি মোটামুটি ডায়বেটিস কন্ট্রোল রাখতে পেরেছিলো। কিন্তু, বেবি গ্রোথ খুব বাড়ছিলো না৷ সুগার ইনসুলিনেও অনিয়ন্ত্রন হচ্ছিলো। তাই, সব ব্যবস্থা নিয়ে এবারেও সুস্থ আরেকটি কন্যা সন্তান এসেছে 🥰

ডেলিভারির পর ২৪ ঘন্টা বেবির সুগার মনিটরিং ও প্রপার ফিডিং জরুরি হয় ডায়বেটিক মায়ের বেবি। যা আমার টীম প্রপারলি মেন্টেন করে। এবং আগামীকাল দুই কন্যার সাথে মায়ের হাসিমুখের ছবি দেখতে পাবো আমরা ইনশাআল্লাহ।

(ছবি তোলার সময়, মায়ের ঘুম ঘুম ভাব ছিলো। কিন্তু ম্যাডামের সাথে ছবি সে তুলবেই তাই জেগে কয়েকটি ছবি তোলা) 😁

ডা. নাজিয়া বিনতে আলমগীর।
গাইনি ও প্রসূতি বিদ্যা আলোচক, সার্জন।

10/04/2026

এক অতীব বড়লোক, সোশাল মিডিয়া সেলিব্রেটি ম্যাডাম দাত কেলিয়ে হাসতে হাসতে ভিডিওতে বলছেন,
জানেন, আমার না বার বার ইউরিন ইনফেকশন হয়। ভালোই হয়না, এতো ডাক্তার দেখালাম। তারা শুধু মেডিসিন দেয় আর পানি খেতে বলে।
এদেশে ডাক্তার দেখিয়ে কোনো লাভ নেই! লন্ডনেও ডাক্তার(জিপি) দেখিয়েছি, কোনো লাভ হয়নাই!
আসলে,
"আমাকে থাইল্যান্ড যেতে হবে। সেখানেই ভালো চিকিৎসা হয়!" 🥱😜

আপনারা ভেবে চিন্তে বের করুন কোন ম্যাডাম, এই ফাকে আমি কিন্তু চিকিৎসা জ্ঞান দেই 😎
....

রোগের নাম - Recurrent UTI
(বারংবার ইউরিনে ইনফেকশন)

রোগের কারন, চিকিৎসা, প্রতিকার সবই আছে। তবে, আমাদের অতি পন্ডিত রোগী ম্যাডামদের এতোকিছু বোঝা, শোনা, করার টাইম নেই! আর, এদেশের কমার্শিয়াল গাইনি স্পেশালিষ্টদের রোগ ডায়গনসিস, কাউন্সিলিং, সময় নিয়ে যথাযথ পরামর্শ, করণীয় বোঝানোর দায় নেই!

তাহলে, আসুন আমাদের অনেক সময় আছে। জ্ঞান বিলিয়ে ও অর্জন করে সময় সদব্যবহার করি।

-

Common Causes--

1. Inadequate Hydration (পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান না করা)
শীত, গরম, যেকোনো ঋতু হোক আমাদের এডাল্ট সুস্থ শরীরে পানির চাহিদা সবসময়ই এক। গড়ে দিনে ৩-৩.৫ লিটার। এর চেয়ে কম খাওয়ার অভ্যাস হলে, খাবার হজম হবে না। এসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়বে। শরীরের তাপমাত্রা বাড়বে। ইউরিন ইনফেকশন হতেই থাকবে।

2. Bad Hygiene (সঠিক নিয়মে ইউরিন ও যোনিপথ শুকনো, পরিষ্কার না রাখা)
গরমের ঘামে, সুতি ছাড়া বিভিন্ন ধরনের পোষাক পরার অভ্যাস, দীর্ঘ সময় এক কাপড়ে থাকা। বদল না করা। আন্ডারগার্মেন্ট চেঞ্জ না করা। ক্লিন না করে বার বার ব্যবহার করা। স্রাবে ভেজা কাপড় ব্যবহার করা।
ইউরিন ক্লিয়ার করার পর পরিষ্কার কাপড়, টিসু দিয়ে পায়ুপথ থেকে যোনিপথ মুছে ফেলার অভ্যাস না করা। সবসময় যোনিপথ ভেজা থাকা। বারবার ইনফেকশন এর বড় কারন।

3. Frequent Sexual Exposure (মাত্রাতিরিক্ত যৌণ সংগম)
- বহুবার সম্ভোগ।
-- আগে ও পরে ইউরিন ক্লিয়ার না করা।
-- বিভিন্ন পার্টনার পরিবর্তন।
-- পার্টনার এর ইনফেকশন থাকা ও চিকিৎসা না করানো।
-- কন্ডোম ব্যবহার না করা।

4. Menopause (পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়া)
৫০/৫৫ এর অধিক নারীদের জন্য এটা কমন। পিরিওড অফ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে নারী হরমোন শরীর থেকে কমে যেতে থাকে। যোনিপথে প্রয়োজনীয় জরুরি ব্যকটেরিয়া কমে যেতে থাকে। শুষ্ক যোনিপথ ইনফেকশন এর হার বাড়ায়।

5. Hormone Imbalances (শরীরে বিভিন্ন হরমোনের তারতম্য)
পলিসিস্টিক ওভারি রোগ।
হাইপো থাইরয়েড।
ইত্যাদি হরমোন রোগের রোগীরা বার বার ইনফেকশনে ভোগে বেশি।

6. Others Diseases -( অন্যান্য রোগ)
ডায়বেটিস (Type-2)
কিডনি রোগ।
মুত্রথলি, মূত্রনালীর বিভিন্ন পাথর, পলিপ ইত্যাদির কারনেও এসব রোগীরা বার বার ইউরিন ইনফেকশন আক্রান্ত হয়।

7. Residual Urine (প্রস্রাবের থলিতে ইউরিন রয়ে যাওয়া)
অনেকের'ই দ্রুত প্রস্রাবের বেগ হয়। কিন্তু তারা কখনই সম্পূর্ণ ক্লিয়ার করেনা। এতে ভেতরে যে ইউরিন জমে থাকে, তাতে বারবার সংক্রমণ হতে থাকে।

8. Antibiotic Resistant (কোনো এন্টিবায়োটিক কাজ না করা)
যত্রতত্র ডাক্তার দেখিয়ে, না দেখিয়ে।
ইউরিন কালচার টেস্ট না করিয়ে নিজ ইচ্ছামতো, যেকোনো অনভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বার বার বিভিন্ন ধরনের এন্টিবায়োটিক সেবন। কিন্তু কখনোই কোর্স কম্পলিট না করা। এতে শরীরে সব ধরনের এন্টিবায়োটিক কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ইনফেকশন হতেই থাকে।
......

ফিরে আসি,
বড়লোক ম্যাডামের "প্রচন্ড বিরক্তি" নিয়ে!
তিনি দিন রাত কাজ করেন! বিশ্রামের সুযোগ নেই। রাত ৩-৪টায় ফেসবুক লাইভ করেন। বছরে ১০-১৫ বার লন্ডন, দুবাই ইন্টারন্যাশনাল টুর করেন। খাবার, ঘুম, রেস্ট সবকিছুর অনিয়ম এসব ইনফেকশন বাড়াতেই থাকে।

এদেশ কেনো, পৃথিবীর কোনো দেশের চিকিৎসাই আপনাকে ভালো করবে না কারন, জ্ঞানহীন ও জ্ঞানিপাপীদের জন্য কোনো নিরাময় নেই! আগে মানসিক স্থিরতা ও সুস্থতা জরুরি!

শেষ কথা-
আপনারা সবাই নিশ্চয়ই বড়লোক নন!
পানির বদলে ক্রানব্যারি জুস খেয়ে দিন কাটান না!
জ্বর, সর্দি, ইউরিন ইনফেকশন এর জন্য থাইল্যান্ড সিংগাপুর যাওয়ার উপায়/প্রয়োজন'ও নিশ্চয়ই সবার নেই!

তাই,
রোগ থাকলে সঠিক ডাক্তার খুঁজে বের করুন। যিনি কমার্শিয়াল কম, কাউন্সিলিং করেন বেশি। সব রোগের জন্য মেডিসিন নয়, নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজন ও বেশি। আশা করি, ভুল থেকে শিক্ষা নেবেন।

সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।
ডা. নাজিয়া বিনতে আলমগীর
গাইনি ও প্রসূতি বিদ্যা আলোচক, সার্জন।

১৮ বছর আগে, ইন্টার্ন থাকাকালীন সময়ে প্রথম যে নরমাল ডেলিভারি করিয়েছিলাম আমি, সেই বাচ্চার বাচ্চার বাবা ছিলেন একজন কৃষক। স্...
11/03/2026

১৮ বছর আগে,
ইন্টার্ন থাকাকালীন সময়ে প্রথম যে নরমাল ডেলিভারি করিয়েছিলাম আমি, সেই বাচ্চার বাচ্চার বাবা ছিলেন একজন কৃষক।
স্বাভাবিক, সরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আমার সেই রোগী।

১৭ বছর আগে,
আমি প্রথম যে নারীর সিজারিয়ান সেকশন ডেলিভারি করিয়েছিলাম, তার স্বামী ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রী।
ডেলিভারি হয়েছিলো, মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মাতুয়াইল এ।

গতকাল, নগর মাতৃসদনে ৩ বেবি ডেলিভারি করালাম, যাদের পিতা সবাই রিকশাচালক।

জীবনের একটা বড় অংশ কেটেছে আমার, নিম্নআয়ের মানুষ, তাদের সংগ, তাদের জীবন, ভালো খারাপ লাগা, সম্মান, শ্রদ্ধা, অল্পে সন্তুষ্ট থাকা কিম্বা অনেক না পাওয়ার অভিযোগ শুনে।

বহুদিন পর সেই নষ্টালজিক সময়ে ফিরে গেলাম।
যারা অল্পশিক্ষিত, বোঝে কম, কিন্তু অল্পে খুশি ও শ্রদ্ধা ভালোবাসায় চিকিৎসকদের সম্মানিত করে।

ইফতারের আগে দ্রুত সময়ে ৩টি ডেলিভারি করার কারনে, কারো মায়ের সাথে ছবি তুলতে পারিনি। কিন্তু অপারেশন টেবিলে গল্প হয়েছে, কথা হয়েছে, তাদের তৃপ্ত মুখ আমাকে শান্তি দিয়েছে ❤️

৩টি বাচ্চাই পুত্র। সুস্থ হয়েছে ও মায়ের ভালো আছে আলহামদুলিল্লাহ।

১৭/১৮ বছর আগের ডেলিভারি করা বাচ্চারা আজ কোথায় সুস্থভাবে সুন্দর জীবনে আছে এটাই কামনা।
প্রতিটি সুস্থ নিরাপদ ডেলিভারি আমাকে নির্ভেজাল আনন্দ দেয় 😊

ডা. নাজিয়া বিনতে আলমগীর।
গাইনি ও প্রসূতি বিদ্যা আলোচক, সার্জন।

09/03/2026

#পুরুষেরগোপনযৌণসমস্যা




আজকে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি সাধারণত খোলা মনে স্পষ্টভাবে আমাদের কট্টরপন্থী সমাজ এসব প্রশ্ন করে না। তাই কখনো ভুল ঠিক ধারণা ও পায় না।

একজন সচেতন চিকিৎসক হিসেবে কথাগুলো সঠিক ও স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করলাম।
আশা করি, বিভিন্ন বয়সী পুরুষেতা সঠিক জ্ঞানলাভ করবেন। ভুল থেকে বেরিয়ে সুস্থ জীবন যাপন করবেন।

আমার কাছে বিভিন্ন সময়ে, পুরুষেরা নিজের গোপন সমস্যা নিয়ে ইনবক্সে উত্তর আশা করেন, সাজিয়ে উত্তর দিলাম।
............

প্রশ্ন- ১-আমরা সাধারণত পর্ণ ভিডিও- দেখি তাদের পেনিসের সাইজ অনেক লম্বা হয়ে থাকে, সেটা কি আবশ্যক পেনিস লম্বা হওয়া? নাকি তাদের ভিডিও বানানোর উদ্দেশ্যে বিষয়টা এইভাবে দেখানো হয়?

২। দেখা যায় একটা ভিডিও সাধারণত প্রায় ৩০-৪০ মিনিট হয়ে থাকে, মানে তাদের একবার সে-ক্সের সময় ধরা হয় প্রায় ৩০-৪০ মিনিট। এটা কি আসলেই সম্ভব কারণ সাধারণত আমাদের (আমার) বীর্য ৩-৭,৮ মিনিটেই বেরিয়ে আসে, তাহলে কি কোন সমস্যা হবে? বা এটা কি আমার অক্ষমতা এমন কিছু?

৩। ম্যাডাম, পর্ণ ভিডিও দেখা বা পর্ণ ভিডিওর প্রতি আসক্তি হয়ে যাওয়া কি সমস্যা?

৪। পর্ণ ভিডিও দেখে মাস্টারবেশন করা কি নিজের শরীরের জন্য ক্ষতিকর কিনা? অথবা মাসে সর্বোচ্চ কতবার করলে কোন সমস্যা নেই?

৫। দীর্ঘদিন মাস্টারবেশনের কারণে কি বিয়ের পরে কোন সমস্যা হয়? যদি সমস্যা হয়ে থাকে এর থেকে বাঁচার উপায় কি?
..................

সঠিক উত্তর -
আপনাদের প্রশ্নগুলোর জন্য ধন্যবাদ। এই বিষয়গুলো নিয়ে অনেক পুরুষই দ্বিধায় থাকেন, কিন্তু খোলামেলা আলোচনা করলে অনেক ভুল ধারণা দূর হয়ে যায়।

১. পর্ণ ভিডিওতে যা দেখেন, তা মূলত একটি মার্কেটিং বা ব্যবসার অংশ। সেখানে বিশেষ প্রক্রিয়ায় (যেমন সার্জারি বা ইনজেকশন) বড় সাইজের পেনিস আছে এমন অভিনেতা বাছাই করা হয়। বাস্তব জীবনে বা সুস্থ যৌন সম্পর্কের জন্য ওই বিশাল সাইজের কোনো প্রয়োজন নেই।
নারীর যোনির প্রথম ২-৩ ইঞ্চিতেই সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল স্নায়ু থাকে।

যৌন তৃপ্তির জন্য পেনিসের গড় দৈর্ঘ্য (৪-৬ ইঞ্চি) যথেষ্ট। পর্ণে যা দেখেন তা স্রেফ "বিনোদন" হিসেবে তৈরি করা হয়, এটি বাস্তবতার মানদণ্ড নয়।

উত্তর-২

পর্ণ ভিডিওর টাইমিং (৩০-৪০ মিনিট) সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এডিটেড। একটি ভিডিও ধারণ করতে কয়েক দিন সময় লাগে এবং ছোট ছোট অনেকগুলো ক্লিপ জোড়া দিয়ে বড় করা হয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে,
মূল সঙ্গম (ইন্টারকোর্স) সাধারণত ৫ থেকে ৭ মিনিট (আমাদের উপমহাদেশের শারীরিক কাঠামো অনুযায়ী) স্থায়ী হওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
আপনার ৫-৮ মিনিট সময়কাল একদম স্বাভাবিক রেঞ্জের মধ্যে পড়ে। তাই আপনার কোনো অক্ষমতা নেই, আপনি একদম সুস্থ।

উত্তর- ৩ --
পর্ণ ভিডিও আসক্তি কি সমস্যা?
হ্যাঁ, এটি একটি বড় সমস্যা হতে পারে। একে বলা হয়
"P**n Induced Dysfunction"।

এটি আপনার মস্তিষ্কের ডোপামিন সিস্টেমকে নষ্ট করে দেয়।
বাস্তব জীবন আর পর্দার অবাস্তব দৃশ্যের মধ্যে পার্থক্য করতে না পেরে অনেকে বিষণ্ণতায় ভোগেন।

এটি আপনার আসল পার্টনারের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে কারণ আপনার মস্তিষ্ক তখন অতি-উত্তেজক দৃশ্য ছাড়া সাড়া দেয় না। অবশ্যই যেকোনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে এই আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে হবে।

উত্তর- ৪

মাস্টারবেশন বা হস্তমৈথুন স্বাভাবিকভাবে শরীরের কোনো দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ক্ষতি করে না। তবে এটি যখন নেশায় পরিণত হয়, তখন মানসিক সমস্যা তৈরি করে।

কতবার করা স্বাভাবিক?
এর কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। তবে সপ্তাহে ১-২ বার বা মাসে ৪-৫ বার করাকে সাধারণত স্বাভাবিক ধরা হয়। যদি এটি আপনার পড়াশোনা, কাজ বা সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলে, তবে বুঝতে হবে আপনি নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন।

উত্তর-৫ --
বিয়ের পরের জীবন ও সমাধান
দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মাস্টারবেশনের ফলে শারীরিক ক্ষতির চেয়ে মানসিক ক্ষতি বেশি হয়।
অনেকে বিয়ের পর দ্রুত বীর্যপাত (Premature Ej*******on) বা লিঙ্গের শিথিলতার (Errectile Dysfunction) এর অভিযোগ করেন, যা মূলত দুশ্চিন্তা থেকে আসে।

প্রতিরোধের উপায়--
★ পর্ণ আসক্তি সম্পূর্ণ বন্ধ করুন।
★ নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার (ডিম, দুধ, বাদাম, সবজি, ফল) খাওয়া এবং রাতের পর্যাপ্ত ঘুম।
★ যেকোনো ফিজিওথেরাপিস্ট এর পরামর্শ অনুযায়ী, Kegel Exercise করতে পারেন, যা আপনার পেলভিক মাসল শক্ত করবে এবং টাইমিং বাড়াতে সাহায্য করবে।
★ নিয়মিত ব্যায়াম করুন যাতে শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন ঠিক থাকে।

আপনি যদি পর্ণ দেখার অভ্যাসটা কমিয়ে বাস্তবমুখী জীবনযাপনে মনোযোগ দেন, তবে বিয়ের পর স্বাভাবিক বৈবাহিক জীবন সুস্থ ও সুখের হবে। এবং এটাই সকলের কাম্য।

আপনার আজকের ভুল অভ্যাসের জন্য নিজে ভুক্তভোগী হবেন। স্ত্রী অসুখী কিম্বা সংসারে অশান্তি আসবে। জীবনে হতাশা বাড়বে।

সবাই সুন্দর, সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনের অধিকারী হোন।
নিজে সঠিক জ্ঞান অর্জন করুন, অন্যের সাথেও শেয়ার করুন।

ডা. নাজিয়া বিনতে আলমগীর।
গাইনি ও প্রসূতি বিদ্যা আলোচক, সার্জন।

08/03/2026

আমি এদেশে চিকিৎসা প্র‍্যাক্টিস করতে বসে, প্রতিদিন প্রচুর অসহনশীল ও অমানবিক স্বামীকে দেখি!

যেমন-
সম্পূর্ণ প্রেগন্যান্সিতে চেক আপে কখনো মেয়েটির সাথে আসেন না।
আসলেও ভেতরে আসার প্রয়োজন মনে করেন না। দায়সারা ভাবে বাইরে বসে থাকেন।
ভেতরে এসেও মুখ শক্ত করে বিরক্ত হয়ে বসে থাকেন, কিম্বা সারাক্ষণ স্ত্রীর বিভিন্ন খুত বের করতে থাকেন।
এতো টেস্ট কেনো করাতে হবে, বিরক্ত হন কিন্তু মেয়েটির যত্ন, খাবার, বিশ্রাম নিয়ে কোনো টেনশন নেন না।

"আপনি কি তার কোনো খোজ রাখেন?"
উত্তরে বলেন-
আমি সারাদিন বাইরে থাকি, এতো কিছুর খবর কখন রাখবো!
"স্ত্রীর শরীরে এতো সমস্যা কেনো? ঘরের সব কাজ কেনো তাকে করতে হচ্ছে? আগের বাচ্চার কেয়ার করার জন্য কাউকে খোজেন না কেনো?"
উত্তর--
কে বলছে এতো কিছু করতে! না করলেই পারে! বাচ্চা কে সামলাবে? আমার তো সময় নেই! আমার কাছে থাকে না! নিজেই কিছু খায় না, ঘরে কি খাবারের অভাব!?

অধিকাংশ মেয়ে তখন মাথা নীচু করে থাকে। কারন, সত্য বলার অধিকার হয়তো তার নেই। নিজ অধিকার চাওয়ার ক্ষমতা নেই। নিজের দুর্ভাগ্য মেনে নিয়েছে সে।
......

কিন্তু,
অনেক অনেক ভুল, অন্যায়, নেগেটিভ আচরণ এর ভীড়ে আমি জীবনে পজিটিভ ব্যাপার খুঁজে বেড়াই।
এবং, নির্দ্বিধায় তাদের সাধুবাদ দেই।
প্রশংসা করি। সমাজের চোখে চমৎকার উদাহরণ তৈরির সৃষ্টি করি।
এটা আমার চিকিৎসক হিসেবে ব্যাক্তিগত ভালোলাগা 😊
.....

এদেশের প্রতিটি মেয়ে তার সম্পূর্ণ প্রেগন্যান্সি জার্নি ও ডেলিভারির মুহুর্তে, স্বামীর কাছ থেকে এটুকু সুখের সংগ, ভালোবাসা, মায়া ও মানবিক আচরণ যেনো পায়, এইটুকু প্রত্যাশা 😊

সম্পূর্ণ অপারেশন এর সময়ে স্ত্রীর মাথায় ভরসার হাত রাখা স্বামী, বেবিকে দেখামাত্র আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। এমন সুখের মুহুর্তে দুজন একসাথে কাছাকাছি থাকাও বড় আনন্দের।

মহান উপর ওয়ালা এমন সুখ, প্রেম, ভালোবাসা প্রতি স্বামী স্ত্রীর মাঝে দিন, আমিন।

রোগী Ridita Islam ও তার স্বামী শুভ।
এই জুটি আমার শুরু থেকেই পছন্দের ছিলো।
কারন তাদের সুন্দর আচরণ, ভদ্রতাবোধ, বিনয় ও রোগী হিসেবে সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী মেনে চলার ইচ্ছা।

তাদের বেবির জন্মমুহূর্তে অপারেশন থিয়েটার থেকে।
(ভিডিও ধারন ও প্রকাশ করার অনুমতি নিয়ে, সুন্দর মুহুর্ত সবার সাথে শেয়ার করা)

ডা. নাজিয়া বিনতে আলমগীর।
গাইনি ও প্রসূতি বিদ্যা আলোচক, সার্জন।
এডমিন
Audity....



07/03/2026

Ridita Islam এর প্রথম সন্তান, রাজকন্যা মাশা আল্লাহ 😘
ইমারজেন্সি পেইন, ব্লিডিং সহ্য করার পর কোলে এসেছে আরাধ্য সন্তান।
বাবার চোখের কান্না আমরা অন্য ভিডিওতে দেখবো।
মা যে কষ্ট করে সন্তান'কে দুনিয়ায় আনে, আমার জন্য সবসময়ই মায়ের অধিকার অগ্রাধিকার পায়।
মায়ের মুখের প্রশান্তির হাসি 💙

শুক্রবার এর সন্ধ্যা।
ইফতার এর আগের মুহুর্ত।
জুনিয়র চিকিৎসক, নার্স, ওটি আয়া, এনেস্থিসিস্ট, শিশু ডক্টরসহ পুরো টীমকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা - দ্রুত ইমার্জেন্সি ম্যানেজ করে বেবির সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য।

ডা. নাজিয়া বিনতে আলমগীর।
গাইনি ও প্রসূতি বিদ্যা আলোচক, সার্জন।
এডমিন
Hello Audity....

06/03/2026

আমার নিয়মিত চেক আপের প্রেগন্যান্ট অসম্ভব লক্ষী রোগী Ridita Islam.

৩৬+ সপ্তাহে,
ইফতারের অল্প সময় আগে হঠাৎ রক্ত, পানি ভেংগে অতিরিক্ত ভয় পেয়ে যায়। দ্রুত হস্পিটালে এডমিট করানোর পর বোঝা যায়, প্লাসেন্টাল ম্যাচিওরিটির কারনে ফুল ভেংগে দ্রুত লেবারে চলে যাচ্ছে।
সুস্থ বেবি পেতে, দ্রুত ব্যবস্থা করা হয় সিজারিয়ান ডেলিভারির।

এনেস্থিসিয়া দেবার আগের কিছু মুহুর্তে যখন তার সাপোর্টিভ জীবনসঙ্গী পাশে দাড়িয়ে ভরসা দিচ্ছেন। স্ত্রীর প্রতি ব্যাথার সাথে সাথে তিনিও কাদছেন।
তার অসহনীয় ব্যাথা, শারীরিক কষ্ট, মনের ভয়, শংকা ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন - সে সময়ে তাদের অনুমতি নিয়ে আমার এই ভিডিও করা।

চমৎকার জীবনসঙ্গী প্রতিটি মেয়ের জীবনে আশীর্বাদ ও প্রাপ্য। উপরওয়ালা এই মধুর জুটিকে সবসময় প্রেমময় রাখুন, আমিন ❤️

এভাবেই ছড়িয়ে পড়ুক সমাজে সুন্দর মানবিক আচরণ।
ডা. নাজিয়া বিনতে আলমগীর।
গাইনি ও প্রসূতি বিদ্যা আলোচক, সার্জন।
এডমিন
Hello Audity....

(আপডেট - ভিডিওর ১৫ মিনিট পরেই তার সফল অপারেশন হয়েছে। মা, বেবি দুজনেই সুস্থ আছে আলহামদুলিল্লাহ। অপারেশন এর প্রায় পুরো সময় তার হাসব্যান্ড মাথার কাছে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন)

Address

Dhaka
1219.

Opening Hours

Monday 12:00 - 00:00
Tuesday 12:00 - 00:00
Wednesday 12:00 - 00:00
Thursday 12:00 - 00:00
Saturday 12:00 - 00:00
Sunday 12:00 - 00:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Nazia Binte Alamgir posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category