19/02/2026
#রমজানে_রোজা_রাখতে_পারবেন_না_যারা
প্রথমে সকল'কে মাহে রমযানের শুভেচ্ছা :)
অনেক অনেক প্রশ্ন!
অনেক অনেক জিজ্ঞাসা।
প্রেগ্ন্যান্সি, রোজা রাখতে পারবো কি?
ব্রেস্ট ফিড করাই, রোজা রাখা যাবে কি?
এই এই সমস্যা আছে, প্রব্লেম হবে কি রোযা রাখলে?
হুম।
আশা করছি,
কারা কারা রমযানে রোজা রাখলে ঝুঁকিপূরন হবে ও বিশেষ বিবেচনার না রাখা ভালো এর উত্তর সবাই খুঁজে পাবেন নীচের লেখায় :)
প্রেগন্যান্সি ---
মেয়েদের জীবনের খুব জটিল, ইম্পরট্যান্ট সময়।
সাধারণত সুস্থ, সবল, জটিলতাহীন যেকোনো প্রেগন্যান্ট মেয়ে রোজা রাখতে পারেন। এতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। যদি না নীচের জটিলতাপূর্ণ যেকোনো অবস্থার মাঝে আপনি না থাকেন।
কোন সে ব্যাপারগুলো?
আসুন জেনে নেই, রোজা রাখা প্রেগ্ন্যান্সিতে কি কি অবস্থায় ঝুঁকিপূরন ও জরুরি নয় --
১। ডায়াবেটিস
২। হাই ব্লাড প্রেশার
৩। অতিরিক্ত রক্তশূন্যতা, দূরবলতা,
৪। পানিশূন্যতা(ডিহাইড্রেশন) হবার ঝুঁকি,
৫। অতিরিক্ত ঘাম, কম খাবার অভ্যাস, লো ব্লাড প্রেশার।
৫। ইউরিন ইনফেকশন (UTI)
৬। ৩৭+ সপ্তাহের যেকোনো সময় (ডেলিভারি সময় কাছাকাছি)
৭। বেবি মুভমেন্ট হঠাত কমে যায়।
৮। অতিরিক্ত এসিডিটি, বমি, পেটে গ্যাস।
৯। এছাড়া, চিকিতসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়াগনোসিস করা যেকোনো হাই রিস্ক প্রেগন্যান্ট মা।
ডেলিভারি পরবরতী সময় (Lactating Period)---
১। ডেলিভারির পর প্রথম ৬মাস (বেবি শুধুমাত্র ব্রেস্ট করবে তাই)
২। ৬মাস পেরিয়ে গেলেও না খেয়ে থাকলে ব্রেস্ট মিল্ক কম হয়, এমন মায়েরা।
৩। ডেলিভারি সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, রক্তশূন্যতা, পুষ্টির ঘাটতি, লো ব্লাড প্রেশার আছে এমন মা।
৪। প্রেগ্ন্যান্সিতে হাই ব্লাড প্রেশার, ডায়াবেটিস ছিলো এখনো কন্ট্রোল হয়নি এমন মা।
অন্যান্য শারীরিক সমস্যা---
১। অনিয়ন্ত্রিত হাই ব্লাড প্রেশার, ডায়াবেটিস, হারট, কিডনী ডিজিজ এর রোগী (যারা মেডিসিন নিচ্ছেন)
২। অপারেশন এর রোগী (যারা সম্পুরন শারীরিক ফিট নন, মেডিসিন নিচ্ছেন)
৩। অধিক বয়সী যেকেউ (যারা লং টাইম না খেয়ে থাকতে পারেন না)
৪। না খেয়ে থাকলে ব্লাড সুগার, ব্লাড প্রেশার কমে যায় এমন যেকেউ।
৫। ইনফেকশন এর ট্রিটমেন্ট নিচ্ছেন (টিবি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, ডেংগু, ইউরিন ইনফেকশন) এমন যেকেউ।
৬। খুব অল্পবয়সী শিশু (১১এর কম)
৭। লং টাইম খোলা জায়গায়, রোদে কাজ করেন, হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা আছে এমন যেকেউ।
রমযানে মেডিসিন নেবার নিয়ম ---
# সকালের মেডিসিন সেহরীতে
দুপুরের ইফতারে
রাতের ডিনারে।
(তবে, এন্টিবায়োটিকস ও অন্যান্য ওষুধ যা টাইম মেন্টেন করে খেতে হয় তাদের জন্য এটা প্রযোজ্য নয়)
# রোযা কোন কোন মেডিসিন নিলে নষ্ট হয় না --
-ইনসুলিন।
-নাকে, চোখে ব্যাবহার করার স্প্রে।
-ইনহেলার।
-স্কিনে ব্যাবহার করার মলম, ক্রিম, ওয়েনমেন্ট।
-যেকোনো ভ্যাক্সিন, জরুরি ইঞ্জেকশন।
-সাপোজিটরি, ক্যাথেটার।
# প্রয়োজনে রক্তদান, ল্যাব টেস্ট করার জন্য রক্ত দেয়া ইত্যাদিতেও রোজা নষ্ট হয়না।
আশা করি,
কিছু বেসিক ধারনা সবার মাঝে দিতে পেরেছি।
সবাই সুস্থ থাকবেন, সুন্দর থাকবেন।
রমযানের পবিত্রতা ছড়িয়ে যাক সবার মাঝে।
আমিন :)
ডা. নাজিয়া বিনতে আলমগীর।
গাইনি ও প্রসূতি বিদ্যা আলোচক, সার্জন।
এডমিন
Hello Audity....