Alternative Cure: Ruqyah and Hijamah, Bangladesh

Alternative Cure: Ruqyah and Hijamah, Bangladesh Ruqyah And Hijamah

আপনার শরীরে থাকা  #জিন_ও_যাদু_আপনার_শারীরিক__কি_কি_ক্ষতি_করে?  জিন যাদুর প্রভাবে আপনার শরীরের প্রতিটি অংগ প্রত্যংগ ক্ষতি...
25/02/2026

আপনার শরীরে থাকা #জিন_ও_যাদু_আপনার_শারীরিক__কি_কি_ক্ষতি_করে?

জিন যাদুর প্রভাবে আপনার শরীরের প্রতিটি অংগ প্রত্যংগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে প্রাথমিকভাবে চামড়া ও চুলের উপর প্রভাব বেশি পড়ে যার ফলে মনোবল ভেংগে যায় মানুষের এবং অন্যদের কাছে হেয় প্রতিপন্ন হয়। তারপর আক্রমণ আসে সাধারণত ব্রেন, লিভার, ইউট্রাস এবং হার্টের উপর। তবে সর্ব প্রথম আপনার নার্ভাস সিস্টেমের ওপর আঘাত হানবে এই শয়তানগুলো। একই সাথে আপনার আশাপাশের সবার সাথে সম্পর্ক খারাপ সহ অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ করে দেয়া, পারিবারিক অশান্তি ও কমবেশি সবাই ভুক্তভোগী হওয়া খুব কমন ব্যপার।

📛মানুষিক পারিবারিক বা অর্থনৈতিক ক্ষতি বাদে শারীরিক ভাবে অনেক বড় ক্ষতি করে থাকে এই জিন যাদু, তবে বিশেষ কিছু প্রকারের যাদু না হলে এর জন্য একটা লম্বা সময় লাগে। আর এই বড় ক্ষতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় ছোট ছোট ধারাবাহিক শারীরিক ক্ষতি। তার মাঝে সবচেয়ে কমন ভাবে যে ক্ষতি করে তা হল ক্রনিক ইনফ্লেমেশন তৈরি করা। মানে আপনার শরীরে ক্ষত তৈরি করা এবং তা সুস্থ হতে না দেয়া। বারবার ক্ষত সৃষ্টি করা। এর ফলে কি কি সমস্যা হচ্ছে বা হতে পারে তা আগে জেনে নিন।

⏩Daytime fatigue or lack of motivation/ শরীর ভার হয়ে থাকা এবং কিছু করতে না চাওয়া।
Frequent acidity or cracks on your tongue/ জিহবায় এবং মুখে ঘা হওয়া আর প্রচুর গ্যাসের সমস্যা তৈরি হওয়া
Burning sensations in your chest/ বুকে জ্বালা পোড়া, ব্যাথা ও অস্থিরতা তৈরি হওয়া।
Regular skin issues like pimples or rashes/ চেহারা সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাওয়া, চোখের নিচে কালি, চামড়া কুচকানো বা দাগ তৈরি হওয়া, চুলকানি খোসা পাচড়া বা পিম্পল ইত্যাদি হওয়া।
Sudden weight changes/ ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া অস্বাভাবিক ভাবে।
Looking older than your actual age/ অকালে বুড়িয়ে যাওয়া, চুল পাকা বা ঝড়ে পড়া।

এছাড়াও সবসময় জ্বরজ্বর ভাব, গা ব্যথা, খিটখিটে মেজাজ, ভুলে যাওয়া, মনযোগ হারিয়ে ফেলা, আলঝেইমার, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ইত্যাদি হওয়া আর এর ফলাফল হিসেবে ক্যান্সার, ব্রেইন স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, লিভার কিডনি ফেলিউর সহ মৃত্যুর মুখোমুখি চলে যেতে থাকা।

আর ক্রনিক ইনফ্লেমেশন নিয়ে আরো জানতে ডকুমেন্টস গুলো দেখতে পারেন। https://docs.google.com/document/d/172lDpASwP9s1eeGis2QhrEHSA90yuOp7cODP0NPvc6E/edit?usp=sharing

🔴জিন যাদুর জন্য যখন একই জায়গায় বারবার আঘাত আসে তখন আমাদের শরীর তার হিলিং প্রসেস বা শ্বেত রক্ত কনিকা দিয়ে তা ঠিক করতে চায়। কিন্তু জিন তো তা হতে দিবে না। ফলাফল আমাদের শরীরের রক্ষা কবজ এই শ্বেত রক্ত কনিকা ধীরে ধীরে আমাদের সুস্থ কোষ খেতে বা ধ্বংস করতে শুরু করে।

✅রাসূল (সা.) বলেছিলেন:
“মানুষ তার পেটের চেয়ে নিকৃষ্ট কোনো পাত্র পূর্ণ করে না। আদম সন্তানের জন্য কয়েক লোকমাই যথেষ্ট, যা তার পিঠ সোজা রাখবে। তবে যদি সে খেতেই চায়, তবে এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ নিঃশ্বাসের জন্য নির্ধারণ করুক।”

সূত্র: [তিরমিজি: 2380; ইবন মাজাহ: 3349; হাদিসটি সহীহ]
দুর্বল হাদিস হিসেবে প্রচলিত:

> "المعدة بيت الداء، والحمية رأس كل دواء"

“পেট (পাকস্থলী) সকল রোগের ঘর, আর পরিমিতি (খাদ্যনিয়ন্ত্রণ) প্রতিটি চিকিৎসার মূল।”
এটি ইমাম বায়হাকী ও অন্যদের মাধ্যমে বর্ণিত, কিন্তু দুর্বল হাদিস।
🔺আর আধুনিক বিজ্ঞান বলে আমাদের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ রোগের উৎস এই পেট। তাই পেটের জন্য আল্লাহর রাসুল আমাদের সতর্ক করে গিয়েছেন। পেটের যাদুর সাথে বিষের সম্পর্ক স্থাপন করে আল্লাহর রাসুল বুঝিয়ে দিয়েছেন পেটে যাদু থাকা আর বিষ থাকা অনূরূপ।
“যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে আজওয়া খেজুর থেকে সাতটি খেজুর খাবে, সে দিন তার উপর বিষ ও যাদু কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।”

সহীহ বুখারি, হাদিস: 5768, সহীহ মুসলিম, হাদিস: 2047
> "الْعَجْوَةُ مِنَ الْجَنَّةِ، وَفِيهَا شِفَاءٌ مِنَ السُّمِّ."

“আজওয়া খেজুর জান্নাত থেকে এসেছে, এবং এতে বিষের জন্য আরোগ্য রয়েছে।”
সুনান ইবন মাজাহ: 3452 (দুর্বল সনদে এসেছে, তবে বহু ইমাম এটির অর্থ গ্রহণযোগ্য বলেছেন)

❇️এছাড়া মধু, সোনা পাতা পেটের চিকিৎসার জন্য এবং মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের ঔষধ হিসেবে রাসুলুল্লাহ সাঃ বলে গিয়েছেন।

⁉️প্রশ্ন করতে পারেন, ক্রনিক ইনফ্লেমেশন নিয়ে আলোচনায় পেট নিয়ে এত কথা কেন। উত্তর হচ্ছে এই ক্রনিক ইনফ্লেমেশন এর সবচেয়ে বেশি আস্তানা হচ্ছে পেট। পেটের গাট লেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ইনফ্লেমেশন তৈরি হয় এবং এই ইনফ্লেমেশন এবং তা ঠেকাতে আমাদের এন্টিবডি ও শ্বেত রক্ত কনিকা আমাদের রক্ত হয়ে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। তাহলে আমাদের গাট লেয়ার কেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়?

🚷পেটে যদি যাদু থাকে তবে পেট বা আমাদের অভ্যন্তরীণ সিস্টেম বুঝে এখানে এমন কিছু আছে যা থাকার কথা না। ফলে সে তার বাহিনী পাঠায় ওই 'আনওয়ান্টেড ফরেন এলিমেন্ট' নিউট্রিলাইজ করতে। পেট বা পাকস্থলী তার এসিড অতিরিক্ত ক্ষরণ করে যাতে সেই বস্তু হজম হয় বা বের হয়ে যায়। কিন্তু জিন তা বের হতে দিবে না। ফলাফল অতিরিক্ত পেটের এসিড আমাদের স্টোমাক ওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ফলাফল হিসেবে প্রাথমিকভাবে আলসার ও আইবিএস হয়। পরবর্তীতে হয়ত এ থেকেই পাকস্থলী ক্যান্সার বা কোলন ক্যান্সার হয়ে যেতে পারে।

⭕🛐লজ্জাস্থানে বা জরায়ুতে যাদু থাকলে সেখানে ক্ষত থেকে টিউব নষ্ট, বারংবার অস্বাভাবিক সিস্ট, বাচ্চা না হওয়া, অক্ষমতা, অনিয়মিত পিরিয়ড, অস্বাভাবিক ব্যথা, রক্তক্ষরণ ইত্যাদি তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে টিউমার থেকে ক্যান্সার হতে পারে।

🔴বুকে বা গলায় যাদু থাকলে আপনার থাইরয়েড, ফুসফুস, হৃদপিন্ড ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাকস্থলীর উপরিভাগে থাকলে আপনার লিভার, প্লিহা ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে।সবচেয়ে ক্ষতিকর কথা তো এই যে আপনার রক্তে এই শ্বেত রক্ত কনিকার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার নানা জটিলতায় আপনার রক্ত ঘণ হয়ে যেতে পারে যা হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। আর এই কণিকাগুলো আপনার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অর্গান যদি ধ্বংস করা শুরু করে তাহলে কিছু বুঝে উঠার আগেই আপনার গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হবে। এই পোস্টে তো সমস্যার স্বরূপ আমি কমিয়ে বলছি। বাস্তবতা কিন্তু আরো ভয়াবহ।

🟢এ থেকে বের হতে অবশ্যই প্রপার রুকইয়াহর পাশাপাশি মেডিক্যাল ইস্যু হলে তার প্রপার ট্রিটমেন্ট নিতে হবে। মাঝেমধ্যে অন্তত ৬ মাস পরপর চেকাপ করা উচিত। হেলদি লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্যকর খাবার সাথে ব্যায়াম করবেন। সুন্নাহ মেনে চলবেন। চিকিৎসায় কোন অবহেলা করবেন না। জিন যাদুর জন্য হোক বা যে কারণে হোক এই ক্রনিক ইনফ্লেমেশন আপনাকে শেষ করে দিতে পারে। এটা নিয়ে আজ কয়েক বছর বলে আসছি, আজ ব্যখ্যা সহ বললাম। আশা করি সতর্ক হবেন ইনশাআল্লাহ।

 #ঘরে_জিনের_উৎপাতের_লক্ষণযেসব ক্ষেত্রে ঘরে জিনের ভয়াবহ উৎপাত হয়, সেখানে সাধারণত স্বাভাবিক অশান্তি বা ছোটখাটো অস্বস্তির চ...
23/02/2026

#ঘরে_জিনের_উৎপাতের_লক্ষণ

যেসব ক্ষেত্রে ঘরে জিনের ভয়াবহ উৎপাত হয়, সেখানে সাধারণত স্বাভাবিক অশান্তি বা ছোটখাটো অস্বস্তির চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক ও রহস্যজনক ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও জানা ঘটনার আলোকে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো পেলে বলা যেতে পারে ঘরে জিনের আক্রমণ আছে :

🟥১. স্পষ্টভাবে দৃষ্টিগোচর হওয়া বা উপস্থিতি টের পাওয়া

অন্ধকারে বা অর্ধেক আলোতে ছায়ামূর্তি দেখা

হঠাৎ করে এক মুহূর্তের জন্য অদ্ভুত আকৃতির কিছু দেখা এবং মুহূর্তেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া

আয়নায় বা জানালার কাঁচে অদ্ভুত কিছু প্রতিফলিত হওয়া

সাপ বা এ জাতীয় বিভিন্ন প্রাণী দেখা

🟥২. মানুষের ওপর শারীরিক আক্রমণ

গভীর রাতে শরীরে কেউ চেপে বসেছে বলে অনুভব করা
অকারণে গায়ে আঁচড়, কামড়, বা নীলচে দাগ পড়ে যাওয়া

কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়া
মানুষের মাঝে অস্বাভাবিক ক্ষমতা প্রকাশ পাওয়া

🟥৩. ঘরের জিনিসপত্র নড়াচড়া করা বা ভেঙে যাওয়া

টেবিল, চেয়ার, আলমারি বা খাট নিজে থেকেই কাঁপতে থাকা

ঘরের দরজা-জানালা প্রচণ্ড শব্দ করে বন্ধ বা খুলে যাওয়া

দেয়ালে বা ছাদে কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই জোরে ধাক্কাধাক্কির শব্দ হওয়া

বটি, ছুরি গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি জিনিস ছুড়ে মারা

🟥৪. ভয়াবহ ও অতিপ্রাকৃত শব্দ শোনা

কারো কথা বলার, ফিসফিস করার, বা কান্নার শব্দ পাওয়া

হঠাৎ করেই ঘরের বিভিন্ন জায়গা থেকে অদ্ভুত শব্দ আসা

রাতের বেলা নিস্তব্ধতার মাঝে কানের কাছে কেউ শ্বাস নিচ্ছে এমন অনুভব হওয়া

প্রতিদিন একই সময়ে পানির শব্দ বা গোসল করার শব্দ বা মসলা পেষার শব্দ বা ঘ্রাণ পাওয়া

🟥৫. বিদ্যুৎ ও আগুনের রহস্যজনক সমস্যা

ঘরের লাইট বা ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র নিজে নিজে অন-অফ হয়ে যাওয়া

বারবার ফিউজ উড়ে যাওয়া বা আগুন ধরে যাওয়া

নির্দিষ্ট স্থানে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো

মোবাইল সহ অন্যান্য ডিভাইস বিশেষ করে কাজে যখন যা লাগবে তা নষ্ট হওয়া বা না পাওয়া। নেটওয়ার্ক উইক থাকা প্রয়োজনীয় সময়ে।

🟥৬. দুর্গন্ধ বা অদ্ভুত গন্ধ পাওয়া

হঠাৎ করেই ঘরে জ্বলন্ত কিছু, পচা গন্ধ, বা মরচে ধরা লোহার গন্ধ পাওয়া

এই গন্ধ সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ে আসে এবং অদৃশ্যভাবে মিলিয়ে যায়

🟥৭. ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন ও মানসিক অস্থিরতা

পরিবারের সবাই একই ধরনের ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখা

স্বপ্নে কোনো দানব বা কালো ছায়ামূর্তি দ্বারা আক্রমণের শিকার হওয়া

ঘুমের মধ্যে কাউকে কথা বলতে শোনা বা ধাক্কা দেওয়া অনুভব করা

🟥৮. পরিবারের সদস্যদের আচরণ পরিবর্তন

হঠাৎ করেই কেউ মারাত্মক রাগী, দুঃখী, বা উদাসীন হয়ে যাওয়া

ঘরের কোনো সদস্যের আচরণ একেবারে বদলে যাওয়া বা তার মধ্যে অন্য কেউ ভর করেছে বলে মনে হওয়া

নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, বা ইবাদতের সময় প্রচণ্ড অস্থিরতা বা অসহ্য লাগা

🟥৯. ঘরের পশুপাখির অস্বাভাবিক আচরণ

বিড়াল বা কুকুর নির্দিষ্ট জায়গায় একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা বা অকারণে চিৎকার করা

পোষা পাখি হঠাৎ করেই ভয় পেয়ে উড়ে যাওয়া বা মারা যাওয়া

🟥১০. মৃত্যুর ঘটনা ও অসুস্থতা বেড়ে যাওয়া

ঘরে একের পর এক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়া এবং কোনো ওষুধে কাজ না করা

পরিবারের সদস্যরা কোনো অজানা কারণে আত্মহত্যার চিন্তা করা বা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া

ঘরের মধ্যে গৃহপালিত পশুর অস্বাভাবিক মৃত্যু

🟥১১. অদ্ভুত আওয়াজ শোনা
• হঠাৎ করে দেয়ালে টোকা দেওয়ার শব্দ
• ফিসফিস বা কানের কাছে কথা বলার অনুভূতি
• দরজা-জানালা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও হাঁটার বা আসবাবপত্র সরানোর শব্দ

🟥১২. জিনিসপত্র হারিয়ে যাওয়া বা নড়াচড়া করা
• ব্যবহারের জিনিসপত্র হঠাৎ পাওয়া না যাওয়া এবং কিছু সময় পর অন্য জায়গায় পাওয়া
• আলো নিজে নিজে জ্বলে ওঠা বা বন্ধ হয়ে যাওয়া, সুইচ অন অফ হওয়া, আগুন লাগা ইত্যাদি

🟥১৩. শরীরে অস্বাভাবিক অনুভূতি
• রাতে ঘুমানোর সময় শরীরে ভারী কিছু চাপ অনুভব করা
• প্রচণ্ড ভয় পাওয়া বা শ্বাস বন্ধ হয়ে আসার মতো অনুভূতি
• ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখা বা কেউ আক্রমণ করছে এমন অনুভূতি

🟥১৪. পরিবেশ ভারী লাগা
• নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় অকারণে ভয় লাগা বা শীত শীত অনুভব হওয়া
• একা থাকলে সবসময় কারো উপস্থিতির অনুভূতি হওয়া

🟥১৫. ধর্মীয় কার্যকলাপে বাধা আসা
• কুরআন তেলাওয়াত বা আজানের সময় অস্বস্তি বোধ করা
• নামাজ পড়তে গিয়ে মনোযোগ হারিয়ে ফেলা বা অলসতা আসা

🟥১৬. পরিবারের মধ্যে হঠাৎ কলহ বৃদ্ধি
• কোনো কারণ ছাড়াই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ বেড়ে যাওয়া
• ঘরের মধ্যে অস্বাভাবিক রাগ বা হতাশার পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া

🟥১৭. পশুপাখির অদ্ভুত আচরণ
• বিড়াল বা কুকুর হঠাৎ অকারণে এক জায়গায় তাকিয়ে গর্জন করা
◑অজানা অচেনা বিড়াল কুকুর পাখি বা অস্বাভাবিকভাবে পোকামাকড় বেড়ে যাওয়া
• পোষা পাখি ভয়ে অস্থির হয়ে যাওয়া

🟥১৮. শরীরে বা ঘরে ভালো গন্ধ আসা
• কড়া সুগন্ধি, আতর, গন্ধযুক্ত ফুল, বা অদ্ভুত ধোঁয়ার গন্ধ পাওয়া
ইত্যাদি।

💠প্রতিকার ও করণীয়
যদি এসব লক্ষণ দেখা যায়, তবে নিম্নলিখিত উপায়ে প্রতিকার করা যেতে পারে:
✅ঘরে যাদু থাকলে তা খুজে বের করে নষ্ট করতে হবে। যাদু ও জিনের জন্য রুকইয়াহ চালিয়ে যেতে হবে।
✅ ঘরে নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত করা (বিশেষ করে সুরা আল-বাকারাহ, সুরা ফালাক, সুরা নাস)। ফরজ ইবাদত ও হেফাজতের মাসনুন আমল অবশ্যই করতে হবে।
✅ ফজরের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়া
✅ বাসায় আজান দেওয়া এবং বেশি বেশি দরুদ শরিফ পড়া
✅ বিশুদ্ধ আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা
✅ সন্দেহজনক কোনো কিছু ঘটলে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে রাকির কাছে যাওয়া।

আপনি কি এমন কোনো ঘটনার সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন?

অন্ধ আনুগত্যের জাদু: যখন মানুষের ইচ্ছাশক্তি বন্দি হয়ে যায়আসলে, সব জাদু মানুষের শরীরকে আঘাত করে না। কিছু জাদু সরাসরি মানু...
22/02/2026

অন্ধ আনুগত্যের জাদু: যখন মানুষের ইচ্ছাশক্তি বন্দি হয়ে যায়

আসলে, সব জাদু মানুষের শরীরকে আঘাত করে না। কিছু জাদু সরাসরি মানুষের মন, সিদ্ধান্ত আর ব্যক্তিত্বকে দখল করে নেয়। মজার ব্যাপার হলো, এমনই এক ভয়ংকর জাদুর নাম - অন্ধ আনুগত্য বা ইচ্ছাশক্তি কেড়ে নেওয়ার জাদু।

দেখুন, রুকইয়াহ চিকিৎসায় বহুবার দেখা গেছে - একজন সচেতন মানুষ হঠাৎ বদলে যায়। নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। একজন নির্দিষ্ট মানুষের কথার বাইরে কিছুই বুঝতে চায় না। সে জানে সে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তবু প্রতিরোধ করার শক্তি পায় না।

তবে হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রে এই জাদু করা হয় ভালোবাসার নামে। কেউ কাউকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। স্বামীকে, স্ত্রীকে, বা কোনো মানুষকে “বশে” রাখার জন্য। কিন্তু এর ফল কখনোই ভালো হয় না।

আসলে, এই জাদু ধীরে ধীরে মানুষের মস্তিষ্কে আঘাত করে। বিচার-বুদ্ধি দুর্বল করে। শেষ পর্যন্ত মানুষ মানসিক ভারসাম্য হারাতে শুরু করে। আর যে ব্যক্তি এই জাদু করায় - সে ভাবে সে জিতেছে। কিন্তু বাস্তবে শাইত্বান তখনই তাকে নিজের খেলায় টেনে নেয়। জিনের আক্রমণ, অজানা রোগ, অস্থিরতা - এগুলো তার জীবনে ঢুকে পড়ে একে একে।

সত্যি বলতে, জাদু কোনো সমাধান নয়। এটা ধ্বংসের দরজা। ইসলামে জাদু করা বা করানো সরাসরি কুফরি। এটা শুধু সম্পর্ক নষ্ট করে না, আখিরাতও ধ্বংস করে।

তাই, আজ যদি কারো আচরণ হঠাৎ বদলে যায়, যদি সে কারো কথার বাইরে চলতে না পারে, নিজের ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে ফেলে - তাহলে অবহেলা নয়, সচেতনতা দরকার। চিকিৎসা আছে। কিন্তু দেরি করলে ক্ষতি গভীর হয়।

মানে, সবচেয়ে বড় চিকিৎসা হলো - কুরআন, তাওবা আর আল্লাহর দিকে ফেরা। কারণ কোনো বন্ধন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া টেকে না।

©Md. Sultan Mahmud Ashraf

রমজানে কি সব জিন বন্দী থাকে? নাকি কিছু কিছু জিন? এ নিয়ে আছে আমাদের মধ্যে ধোয়াশা। তবে উত্তর সহজ ভাবে হল সব জিন অবশ্যই বন্...
20/02/2026

রমজানে কি সব জিন বন্দী থাকে? নাকি কিছু কিছু জিন? এ নিয়ে আছে আমাদের মধ্যে ধোয়াশা। তবে উত্তর সহজ ভাবে হল সব জিন অবশ্যই বন্দী থাকে না। তাহলে আসুন উত্তর খোজা যাক।

এর উত্তর পাবার আগে ছোট্ট কুইজ:
🟥আপনি কি জানেন ইবলিশ শয়তান কোন যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল?
জি, বদরের যুদ্ধে।

🟢আল্লাহ বদরের যুদ্ধ সম্পর্কে কুরআনে জানিয়েছেন

[৮:৪৮] আল আনফাল

وَإِذ زَيَّنَ لَهُمُ الشَّيطانُ أَعمالَهُم وَقالَ لا غالِبَ لَكُمُ اليَومَ مِنَ النّاسِ وَإِنّي جارٌ لَكُم فَلَمّا تَراءَتِ الفِئَتانِ نَكَصَ عَلى عَقِبَيهِ وَقالَ إِنّي بَريءٌ مِنكُم إِنّي أَرى ما لا تَرَونَ إِنّي أَخافُ اللَّهَ وَاللَّهُ شَديدُ العِقابِ

আর যখন শয়তান তাদের জন্য তাদের আমলসমূহ সুশোভিত করল এবং বলল, ‘আজ মানুষের মধ্য থেকে তোমাদের উপর কোন বিজয়ী নেই এবং নিশ্চয় আমি তোমাদের পার্শ্বে অবস্থানকারী’। অতঃপর যখন দু’দল একে অপরকে দেখল, তখন সে পিছু হটল এবং বলল, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের থেকে মুক্ত, নিশ্চয় আমি এমন কিছু দেখছি, যা তোমরা দেখছ না। অবশ্যই আমি আল্লাহকে ভয় করি এবং আল্লাহ কঠিন আযাবদাতা’।

🟥 এ আয়াতের তাফসিরে কি বলা আছে তা জানুন।
তাফসির : আলোচ্য প্রথম আয়াতে বদর যুদ্ধে শয়তানের কিছু কার্যকলাপের প্রসঙ্গ এসেছে। শয়তান মক্কার কোরাইশদের প্রতারিত করে মুসলমানদের মোকাবিলায় নামিয়েছে এবং বিভিন্নভাবে তাদের ধোঁকায় ফেলেছে।

তাফসিরে মা'আরেফুল কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে : শয়তানের এই প্রতারণা ছিল কোরাইশদের মনে ওয়াসওয়াসা বা কুমন্ত্রণা দিয়ে কিংবা মানুষের আকৃতি ধারণ করে সরাসরি কথাবার্তা বলার মাধ্যমে। এখানে উভয় সম্ভাবনাই বিদ্যমান। আল্লামা ইবনে কাছির (রহ.) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, শয়তান কাফিরদের কাজকর্ম, ইচ্ছা-উদ্দেশ্য মোহনীয় করে দেখায়। তাদের এই বলে লালায়িত করে যে আজ কেউ তোমাদের পরাজিত করতে পারবে না। সে কুরাইশদের মন থেকে তাদের পুরনো শত্রু বনু বকরের আক্রমণের ব্যাপারে ভয়ভীতি দূর করে দিয়েছে।
বনু বকরের সরদার সুরাকা ইবনে মালিকের আকৃতি ধারণ করে তাদের অভয় দিয়েছে। সাহায্যের মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু বদর যুদ্ধে ফেরেশতাদের উপস্থিতি দেখে সে পলায়ন করেছে। পরে জানা গেছে যে সুরাকা সেখানে আসেনি।
🟢[১] মুশরিকরা যখন মক্কা থেকে রওনা দিল তখন তাদের দুশমন গোত্র বানী বাকার বিন কিনানার পক্ষ থেকে তাদের আশঙ্কা ছিল যে, তাদেরকে পিছন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সুতরাং শয়তান বানী বাকার বিন কিনানার একজন সর্দার সুরাকা বিন মালেকের রূপ ধরে এল এবং সে তাদেরকে শুধু বিজয়ের সুসংবাদই দিল না; বরং তাদের সহযোগিতা করার পূর্ণ আস্থা দিল। কিন্তু যখন মুসলিমদের পক্ষে ফিরিশতা দ্বারা আল্লাহর মদদ তার পরিদৃষ্ট হল, তখন সে সকলকে ছেড়ে পিছন ফিরে পলায়ন করল।
🟢[২] আল্লাহর ভয় তার অন্তরে আর কি সৃষ্টি হবে? তবে তার দৃঢ়-বিশ্বাস হয়ে গিয়েছিল যে, মুসলিমদের জন্য আল্লাহর বিশেষ সাহায্য রয়েছে; মুশরিকরা তাদের সামনে টিঁকে থাকতে পারবে না।
🟢[৩] হতে পারে এটা শয়তানের কথার একাংশ। আর এটাও হতে পারে যে, এটা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে পৃথকভাবে নতুন বাক্য ছিল।
সর্বাত্মক প্রস্তুতি সহকারে মক্কা সেনাবাহিনী যখন অগ্রগমনে উদ্যত এমতাবস্থায় কুরাইশদের মনে পড়ে গেল বনু বাকর গোত্রের কথা। বনু বাকর গোত্রের সঙ্গে তখন তারা ছিল যুদ্ধরত। এ কারণে তাদের আশঙ্কা হল যে, হয়ত বনু বাকর পিছনে থেকে তাদের আক্রমণ করবে এবং ফলে দুই জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডের মধ্যে তাদের নিপতিত হতে হবে। এ ধারণা তাদেরকে যুদ্ধের সংকল্প থেকে বিরত রাখার মতো মানসিক পরিবেশ সৃষ্টি করল। কিন্তু এমন সময়ে অভিশপ্ত ইবলীস শয়তান বনু কিনানাহ গোত্রের নেতা সুরাক্বাহ ইবনু মালিক ইবনু জু’শুম মুদলিজীর রূপ ধরে প্রকাশিত হল এবং বলল, ‘আমিও তোমাদের বন্ধু এবং আমি তোমাদের নিকট এ বিষয়ের জামিন হচ্ছি যে, বনু কিনানাহ তোমাদের বিরুদ্ধাচরণ করবে না কিংবা কোন অশোভনীয় কাজও করবে না।’সুরাক্বাহ ইবনু মালিকরূপী অভিশপ্ত ইবলীস শয়তান বনু কিনানাহর ব্যাপারে জামিন হওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করায় কুরাইশগণ আশঙ্কামুক্ত হয়ে মক্কা থেকে বেরিয়ে পড়ল। আল্লাহ তা‘আলা যেমনটি বলেন,
‏(‏بَطَرًا وَرِئَاء النَّاسِ وَيَصُدُّوْنَ عَن سَبِيْلِ اللهِ‏)‏ ‏[‏الأنفال‏:‏47‏]‏
‘‘তারা শক্তিমত্তায় গর্বিত হয়ে জনগণকে (নিজেদের শক্তিমত্তা) দেখাতে দেখাতে আল্লাহর পথে বিঘ্ন সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নিজেদের গৃহ হতে বহির্গত হলো।’ (আল-আনফাল ৮ : ৪৭)

এ পর্যন্ত আশা করি ক্লিয়ার যে ইবলিশ এ যুদ্ধ সংগঠিত হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত ছিল। যদিও বলতে পারেন এখানে আয়াতে কি সরাসরি ইবলিশ শয়তান এর কথা বলা হয়েছে? উত্তর হল নানা তথ্যের ভিত্তিতে তাফসির কারক আলেম ওলামারা এটাই বুঝেছিলেন।

🟥এছাড়া আল্লাহ ইবলিশকে কেয়ামতের আগ পর্যন্ত অবকাশ বা ছাড় দিয়েছিলেন। রমজান মাসে তাকে বন্দী থাকতে হবে এমন জানা যায় নি আয়াতে।
[১৫:৩৬] আল হিজর

قالَ رَبِّ فَأَنظِرني إِلى يَومِ يُبعَثونَ

সে বলল, ‘হে আমার রব, তাহলে আমাকে অবকাশ দিন সে দিন পর্যন্ত, যেদিন তাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে’।

[১৫:৩৭] আল হিজর

قالَ فَإِنَّكَ مِنَ المُنظَرينَ

তিনি বললেন, ‘তুমি নিশ্চয় অবকাশপ্রাপ্তদের একজন’।

[১৫:৩৮] আল হিজর

إِلى يَومِ الوَقتِ المَعلومِ

‘নির্ধারিত সময়ের দিন পর্যন্ত’।

🟥এবার আরেকটি প্রশ্ন। কবে বদরের যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল?
বদরের যুদ্ধ (আরবি: غزوة بدر) ২ হিজরির ১৭ রমজান (১৭ মার্চ ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দ) মদিনার মুসলিম ও মক্কার কুরাইশদের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধ।

🟢মানে রমজান মাসে❗? তাহলে রমজানে কি জিন শয়তান বা ইবলিশও বন্দী থাকে না?
উত্তর হচ্ছে সাধারণ জিন এবং উপরের আলোচনা অনুযায়ী ইবলিশ শয়তানও বন্দী থাকে না। এটা প্রমাণিত হয়েছে। তাহলে হাদিসে বলা কথার ব্যখ্যা কি হতে পারে?

🟥আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন রমজান উপস্থিত হয়, জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের সব দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুষ্ট শয়তানদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়।’ (মুসলিম, হাদিস : ১০৭৯)
এর ব্যখ্যা হিসেবে হাদিস বিশারদগণ নানা মত দিয়েছেন। যেমন:

এক. কাজি ইয়াজ (রহ.) বলেন, শয়তান শিকলে আবদ্ধ থাকার অর্থ আক্ষরিক ও রূপক উভয় অর্থেই হতে পারে। রূপক অর্থে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, রমজানে শয়তানের ধোঁকা-প্রবঞ্চনার হার কমে যায়, অন্যায় কাজ কম হয় এবং মানুষের মধ্যে আল্লাহর বিধান পালনের প্রতি আগ্রহ প্রবল থাকে। এ অর্থে উল্লিখিত হাদিসে বাস্তব জীবনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যার বাস্তবতা আমরা সবাই স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করে থাকি। (ইকমালুল মুলিম : ৪/৬)
আর আক্ষরিক অর্থ গ্রহণ করা হলে হাদিসের অর্থ হলো, মানুষ পাপ করে দুই কারণে—১. তার কুপ্রবৃত্তি ও বদ-অভ্যাসের কারণে; ২. শয়তানের প্ররোচনায়। রমজানে শয়তান বন্দি থাকলেও কুপ্রবৃত্তির কারণে মানুষ পাপ করে থাকে। (ফাতহুল বারি : ৪/১১৪)
দুই. আল্লামা আইনি (রহ.) বলেন, শয়তানকে ওই সব রোজাদার থেকে দূরে আবদ্ধ রাখা হয়, যারা রোজার আদব ও শর্ত সঠিকভাবে পালন করে। কিন্তু যারা সেসবের ধার ধারে না, তাদের থেকে শয়তানকে আবদ্ধ না-ও রাখা হতে পারে। (উমদাতুল কারি : ১০/২৭০)
তিন. রমজানের আগে কৃত পাপের প্রভাবে মানুষ পাপ করে থাকে। যেমন একটি লোহা দীর্ঘক্ষণ আগুনে রাখার পর তা থেকে বের করা হলেও বেশ কিছুক্ষণ তার প্রভাব বাকি থাকে, একইভাবে গাড়ির চাকা দীর্ঘ সময় চলার পর থামানো হলেও কিছুদূর পর্যন্ত চলতে থাকে; ঠিক তেমনি ১১ মাসের পাপের প্রভাবে রমজানেও কারো কারো কাছ থেকে পাপ হয়ে থাকে।
চার. কোনো কোনো হাদিস ব্যাখ্যাকারী বলেছেন, রমজানে সব শয়তানকে বন্দি করা হয় না, অতিরিক্ত দুষ্ট শয়তানকে বন্দি করা হয়। তাই অন্য শয়তানদের প্ররোচনায় মানুষ পাপ করে। (ফাতহুল বারি : ৪/১১৪)
পাঁচ. মহান আল্লাহ কোরআনের সুরা নাসে বান্দাদের মানুষ শয়তান ও জিন শয়তান উভয় থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন, যারা মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দিয়ে থাকে। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে মানুষের মধ্যেও এক ধরনের শয়তান রয়েছে, যারা মানুষকে কুমন্ত্রণা দিয়ে থাকে। রমজানে জিন শয়তানকে বন্দি রাখা হলেও মানুষরূপী শয়তানদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
ছয়. কারো কারো মতে, রমজানে বন্দি থাকার কারণে শয়তানের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ বন্ধ থাকলেও পরোক্ষ হস্তক্ষেপ বন্ধ থাকে না। তাই মানুষ পাপ করে। (বিস্তারিত দেখুন : শরহুন নববী আলা মুসলিম : ৭/১৮৭, শরহুস সুয়ূতি আলা মুসলিম : ৩/১৮৩, মিরকাতুল মাফাতিহ : ৪/১৩৪১, ফয়জুল বারি : ৪/৩২৭)

🟥তবে বাস্তবতায় দেখা যায় অনেক মানুষের শরীরে জিনের আসর বা জিনের উপস্থিতি এই রমজান মাসে দেখা যায়। আর কুরআন এবং দলিল অনুযায়ী শয়তান রমজানে মুক্ত ছিল এবং সে বদরের যুদ্ধে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছিল।

🟥তাহলে রমজানে জিন শয়তান বন্দী থাকে এর ব্যখ্যা কি হবে?
অবশ্যই আল্লাহ এ সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন। এছাড়া কুরআনের একটা আয়াতের দিকে আপনাদের জানাতে চাই।

[৩৮:৩৫] ছোয়াদ

قالَ رَبِّ اغفِر لي وَهَب لي مُلكًا لا يَنبَغي لِأَحَدٍ مِن بَعدي إِنَّكَ أَنتَ الوَهّابُ

সুলাইমান বলল, ‘হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন এক রাজত্ব দান করুন যা আমার পর আর কারও জন্যই প্রযোজ্য হবে না। নিশ্চয়ই আপনি বড়ই দানশীল।

[৩৮:৩৬] ছোয়াদ

فَسَخَّرنا لَهُ الرّيحَ تَجري بِأَمرِهِ رُخاءً حَيثُ أَصابَ

ফলে আমি বায়ুকে তার অনুগত করে দিলাম যা তার আদেশে মৃদুমন্দভাবে প্রবাহিত হত, যেখানে সে পৌঁছতে চাইত।

[৩৮:৩৭] ছোয়াদ

وَالشَّياطينَ كُلَّ بَنّاءٍ وَغَوّاصٍ

আর (অনুগত করে দিলাম) প্রত্যেক প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী শয়তান [জিন] সমূহকেও

[৩৮:৩৮] ছোয়াদ

وَآخَرينَ مُقَرَّنينَ فِي الأَصفادِ

আর শেকলে আবদ্ধ আরও অনেককে।

🟢এখানে সবশেষ আয়াতে আল্লাহ পাক সুলায়মান আ: কে শিকলে আবদ্ধ জিনদের উপর কর্তৃত্ব দিয়েছিলেন। এ জিনগুলো আগে থেকেই শিকলে আবদ্ধ ছিল এমন সম্ভাবনা প্রবল। এরা ভয়াবহ রকম ক্ষতিকর ও অবাধ্য যে তাদের বেধে রাখা হয়। আল্লাহ এর সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন।

🟥এরা যেহেতু আগে থেকেই শিকলে তাদের ভয়াবহ প্রকৃতি ও অবাধ্যতার জন্য আবদ্ধ, তাই হয়ত রমজান মাসে এই জিনেদের সম্পূর্ণভাবে বন্দী করা হয়ে থাকে। আর সাধারণ জিনেদেরও তো ইবাদত করার হুকুম আমাদের মতই এই মাসে। তারা বন্দী থাকলে কিভাবে তা করতে পারে?

✅তবে এ সম্পর্কে আল্লাহ এবং তার রাসুল সা: সবচেয়ে ভালো জানেন। এখানে আমাদের কুরআন এবং হাদিস থেকে পাওয়া তথ্যে সম্পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করা আবশ্যক। এ সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য আলেমদের মত সবার আগে গ্রহণ করতে হবে।

যাদু করে মানুষকে হত্যা করা সম্ভব?  জি অবশ্যই সম্ভব। কিন্তু এর জন্য আল্লাহর হুকুম এবং তার হায়তের সীমার উপর নির্ভর করে। অব...
19/02/2026

যাদু করে মানুষকে হত্যা করা সম্ভব? জি অবশ্যই সম্ভব। কিন্তু এর জন্য আল্লাহর হুকুম এবং তার হায়তের সীমার উপর নির্ভর করে। অবশ্যই মালাকুল মউত আল্লাহর হুকুমে জান কবজ করে কিন্তু ওই ব্যাক্তির মারা যাবার কারণ যাদু হলে তা স্বাভাবিক মৃত্যু বলার সুযোগ নেই। এবং এর দায়ভার যাদুকর বা জুলুমকারী বা যাদু ক্রয়কারী এড়াতে পারবে না।
মৃত্যু তার নির্ধারিত সময়েই নির্ধারিত স্থানেই আসবে। যাদু হোক বা না হোক।

[৩:১৫৪] আল ইমরান

ثُمَّ أَنزَلَ عَلَيكُم مِن بَعدِ الغَمِّ أَمَنَةً نُعاسًا يَغشى طائِفَةً مِنكُم وَطائِفَةٌ قَد أَهَمَّتهُم أَنفُسُهُم يَظُنّونَ بِاللَّهِ غَيرَ الحَقِّ ظَنَّ الجاهِلِيَّةِ يَقولونَ هَل لَنا مِنَ الأَمرِ مِن شَيءٍ قُل إِنَّ الأَمرَ كُلَّهُ لِلَّهِ يُخفونَ في أَنفُسِهِم ما لا يُبدونَ لَكَ يَقولونَ لَو كانَ لَنا مِنَ الأَمرِ شَيءٌ ما قُتِلنا هاهُنا قُل لَو كُنتُم في بُيوتِكُم لَبَرَزَ الَّذينَ كُتِبَ عَلَيهِمُ القَتلُ إِلى مَضاجِعِهِم وَلِيَبتَلِيَ اللَّهُ ما في صُدورِكُم وَلِيُمَحِّصَ ما في قُلوبِكُم وَاللَّهُ عَليمٌ بِذاتِ الصُّدورِ

তারপর তিনি তোমাদের উপর দুশ্চিন্তার পর নাযিল করলেন প্রশান্ত তন্দ্রা, যা তোমাদের মধ্য থেকে একদলকে ঢেকে ফেলেছিল, আর অপরদল নিজরাই নিজদেরকে চিন্তাগ্রস্ত করেছিল। তারা আল্লাহ সম্পর্কে জাহিলী ধারণার ন্যায় অসত্য ধারণা পোষণ করছিল। তারা বলছিল, ‘আমাদের কি কোন বিষয়ে অধিকার আছে’? বল, ‘নিশ্চয় সব বিষয় আল্লাহর’। তারা তাদের অন্তরে লুকিয়ে রাখে এমন বিষয় যা তোমার কাছে প্রকাশ করে না। তারা বলে, ‘যদি কোন বিষয়ে আমাদের অধিকার থাকত, তাহলে আমাদেরকে এখানে হত্যা করা হত না’। বল, ‘তোমরা যদি তোমাদের ঘরে থাকতে তাহলেও যাদের ব্যাপারে নিহত হওয়া অবধারিত রয়েছে, অবশ্যই তারা তাদের নিহত হওয়ার স্থলের দিকে বের হয়ে যেত। আর যাতে তোমাদের মনে যা আছে আল্লাহ তা পরীক্ষা করেন এবং তোমাদের অন্তরসমূহে যা আছে তা পরিষ্কার করেন। আর আল্লাহ তোমাদের অন্তরের বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত’।

[৩:১৫৬] আল ইমরান

يا أَيُّهَا الَّذينَ آمَنوا لا تَكونوا كَالَّذينَ كَفَروا وَقالوا لِإِخوانِهِم إِذا ضَرَبوا فِي الأَرضِ أَو كانوا غُزًّى لَو كانوا عِندَنا ما ماتوا وَما قُتِلوا لِيَجعَلَ اللَّهُ ذلِكَ حَسرَةً في قُلوبِهِم وَاللَّهُ يُحيي وَيُميتُ وَاللَّهُ بِما تَعمَلونَ بَصيرٌ

হে মুমিনগণ, তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা কুফরী করেছে এবং তাদের ভাইদেরকে বলেছে- যখন তারা যমীনে সফরে বের হয়েছিল অথবা তারা ছিল যোদ্ধা (অতঃপর নিহত হয়েছিল)-‘যদি তারা আমাদের কাছে থাকত, তবে তারা মারা যেত না এবং তাদেরকে হত্যা করা হত না’। যাতে আল্লাহ তা তাদের অন্তরে আক্ষেপে পরিণত করেন এবং আল্লাহ জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন। আর তোমরা যা কর আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা।

18/02/2026

[৩:৭] আল ইমরান

هُوَ الَّذي أَنزَلَ عَلَيكَ الكِتابَ مِنهُ آياتٌ مُحكَماتٌ هُنَّ أُمُّ الكِتابِ وَأُخَرُ مُتَشابِهاتٌ فَأَمَّا الَّذينَ في قُلوبِهِم زَيغٌ فَيَتَّبِعونَ ما تَشابَهَ مِنهُ ابتِغاءَ الفِتنَةِ وَابتِغاءَ تَأويلِهِ وَما يَعلَمُ تَأويلَهُ إِلَّا اللَّهُ وَالرّاسِخونَ فِي العِلمِ يَقولونَ آمَنّا بِهِ كُلٌّ مِن عِندِ رَبِّنا وَما يَذَّكَّرُ إِلّا أُولُو الأَلبابِ

তিনিই তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছেন, তার মধ্যে আছে মুহকাম আয়াতসমূহ। সেগুলো কিতাবের মূল, আর অন্যগুলো মুতাশাবিহ্। ফলে যাদের অন্তরে রয়েছে সত্যবিমুখ প্রবণতা, তারা ফিতনার উদ্দেশ্যে এবং ভুল ব্যাখ্যার অনুসন্ধানে মুতাশাবিহ্ আয়াতগুলোর পেছনে লেগে থাকে। অথচ আল্লাহ ছাড়া কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে পরিপক্ক, তারা বলে, আমরা এগুলোর প্রতি ঈমান আনলাম, সবগুলো আমাদের রবের পক্ষ থেকে। আর বিবেক সম্পন্নরাই উপদেশ গ্রহণ করে।

১] مُحكَمَات (সুস্পষ্ট দ্ব্যর্থহীন) সেই আয়াতসমূহকে বলা হয় যাতে যাবতীয় আদেশ-নিষেধ, বিধি-বিধান, মাসলা-মাসায়েল এবং ইতিহাস ও কাহিনী আলোচিত হয়েছে; যার অর্থ স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন এবং যেগুলো বুঝতে কোন প্রকার অসুবিধা হয় না। আর مُتَشَابِهَات (রূপক) আয়াতগুলো এর বিপরীত। যেমন, আল্লাহর সত্তা, ভাগ্য সম্পর্কীয় বিষয়াদি, জান্নাত ও জাহান্নাম এবং ফিরিশতা ইত্যাদির ব্যাপার। অর্থাৎ, এমন বাস্তব জিনিস যার বাস্তবতা উপলব্ধি করতে মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি অপারগ অথবা যে ব্যাপারে এমন ব্যাখ্যা করার অবকাশ বা তাতে এমন অস্পষ্টতা ও দ্ব্যর্থতা থাকে যে, তার দ্বারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তি ও ভ্রষ্টতায় ফেলা সম্ভব হয়। এই কারণেই বলা হচ্ছে যে, যাদের অন্তরে বক্রতা থাকে, তারাই অস্পষ্ট আয়াতগুলোর পিছনে পড়ে থাকে এবং সেগুলোর মাধ্যমে ফিৎনা সৃষ্টি করে। যেমন খ্রিষ্টানদের অবস্থা; কুরআন ঈসা (আঃ)-কে আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রসূল বলেছে। এটা একটি পরিষ্কার ও দ্ব্যর্থহীন কথা। কিন্তু খ্রিষ্টানরা এটাকে বাদ দিয়ে কুরআনে যে ঈসা (আঃ)-কে 'রুহুল্লাহ' এবং 'কালিমাতুল্লাহ' বলা হয়েছে, সেটাকেই নিজেদের ভ্রষ্ট আকীদার দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছে। অথচ তা ভুল। অনুরূপ অবস্থা বিদআতীদেরও; কুরআনের সুস্পষ্ট আকীদার বিপরীত বিদআতীরা যে ভ্রান্ত আকীদা গড়ে রেখেছে, তাও এই 'মুতাশাবিহাত' (অস্পষ্ট) আয়াতগুলোর ভিত্তিতেই। আবার কখনো নিজেদের দার্শনিক চিন্তাধারার কঠিন পেঁচ দ্বারা 'সুস্পষ্ট' আয়াতগুলোকে 'অস্পষ্ট' বানিয়ে ফেলে। (আল্লাহ আমাদেরকে এ কাজ হতে পানাহ দিন।) পক্ষান্তরে সঠিক আকীদা অবলম্বি মুসলিম 'সুস্পষ্ট' আয়াতগুলোর উপর আমল করে এবং 'অস্পষ্ট' আয়াতগুলোর ব্যাপারে সন্দেহ হলে, সেগুলোকে 'সুস্পষ্ট' আয়াতগুলোর আলোকে বুঝতে চেষ্টা করে। কেননা, কুরআন 'সুস্পষ্ট' আয়াতগুলোকেই কিতাবের 'মূল অংশ' বলে আখ্যায়িত করেছে। এর ফলে তারা ফিৎনা থেকে বেঁচে যায় এবং আকীদার বিভ্রান্তি থেকেও রেহাই পায়। আল্লাহ আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমীন। [২] 'তা'বীল'-এর এক অর্থ হল, কোন জিনিসের আসল প্রকৃতত্ব, তত্ত্ব ও তাৎপর্য। এই অর্থের দিকে খেয়াল করে 'ইল্লাল্লা-হ' পড়ে থামা জরুরী। কারণ, প্রত্যেক জিনিসের আসল প্রকৃতত্ব স্পষ্টভাবে কেবল মহান আল্লাহই জানেন। 'তা'বীল'এর দ্বিতীয় অর্থ হল, কোন জিনিসের ব্যাখ্যা, অর্থপ্রকাশ এবং পরিষ্কারভাবে তা বর্ণনা করা। এই অর্থের দিক দিয়ে 'ইল্লাল্লা-হ' পড়ে না থেমে [وَالرَّاسِخُوْنَ فِي الْعِلْمِ] পড়ে থামা যায়। কারণ, গভীর জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তিরাও সঠিক ব্যাখ্যা এবং সুস্পষ্ট বর্ণনা দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। 'তা'বীল'এর এই উভয় অর্থ কুরআনে কারীমে ব্যবহূত হয়েছে। (ইবনে কাসীর থেকে সারাংশ)

রমজানে কেন রুকইয়াহ করবেন? [৩:১৩] আল ইমরানقَد كانَ لَكُم آيَةٌ في فِئَتَينِ التَقَتا فِئَةٌ تُقاتِلُ في سَبيلِ اللَّهِ وَ...
18/02/2026

রমজানে কেন রুকইয়াহ করবেন?

[৩:১৩] আল ইমরান
قَد كانَ لَكُم آيَةٌ في فِئَتَينِ التَقَتا فِئَةٌ تُقاتِلُ في سَبيلِ اللَّهِ وَأُخرى كافِرَةٌ يَرَونَهُم مِثلَيهِم رَأيَ العَينِ وَاللَّهُ يُؤَيِّدُ بِنَصرِهِ مَن يَشاءُ إِنَّ في ذلِكَ لَعِبرَةً لِأُولِي الأَبصارِ

নিশ্চয় তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে দু’টি দলের মধ্যে, যারা পরস্পর মুখোমুখি হয়েছিল। একটি দল লড়াই করছিল আল্লাহর পথে এবং অপর দলটি কাফির। তারা বাহ্যিক দৃষ্টিতে তাদেরকে ওদের দ্বিগুণ দেখছিল। আর আল্লাহ নিজ সাহায্য দ্বারা যাকে চান শক্তিশালী করেন। নিশ্চয় এতে রয়েছে চক্ষুষ্মানদের জন্য শিক্ষা।

রমজান মাস শ্রেষ্ঠ মাস। দোয়া কবুল ও নাজাত পাওয়ার মাস। একজন অসুস্থ, যাদু ও জুলুমের স্বীকার মাজলুম রোজাদারের দোয়া ও সুস্থতা লাভের প্রচেষ্টা ইন শা আল্লাহ বৃথা যেতে পারে না।

হযরত আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
ثلاثة لا ترد دعوتهم الامام العادل، والصائم حتى يفطر، ودعوة المظلوم، تحمل على الغمام، وتفتح لها ابواب السماوات، ويقول الرب عز وجل : وعزتى لانصرنك ولو بعد حين.
وقال الترمذى : هذا حديث حسن.
তিন ব্যক্তির দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না (অর্থাৎ তাদের দুআ কবুল করা হয়) ন্যায়পরায়ন শাসকের দুআ; রোযাদার ব্যক্তির দুআ ইফতারের সময় পর্যন্ত ও মজলুমের দুআ।তাদের দুআ মেঘমালার উপরে উঠিয়ে নেওয়া হয় এবং এর জন্য সব আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। তখন আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, আমার ইয্যতের কসম! বিলম্বে হলেও অবশ্যই আমি তোমাকে সাহায্য করব।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৮০৪৩; সুনানে তিরমিযী, হাদীস : ৩৫৯৮; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ১৭৫২; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৩৪২৮।

🟥এ সময় রুকইয়াহ করার মাধ্যমে সুস্থতা লাভের নেক রাস্তা অবলম্বন করলে ইনশাআল্লাহ দোয়া কবুলের পাশাপাশি বিপুল বিনিময় লাভ করতে পারবেন আল্লাহর কাছ থেকে কেননা রুকইয়াহর প্রতিটি কাজ কুরআন, সুন্নাহ ও জায়েজ ভিত্তিক এবং রুকইয়াহ এর মূল হল কুরআন এবং দোয়া। এবং উদ্দেশ্যও নেক। ফলে পুরষ্কারও বিপুল পাবেন ইনশাআল্লাহ।

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
كل عمل ابن آدم يضاعف الحسنة بعشر أمثالها إلى سبعمائة ضعف، قال الله تعالى : الا الصوم فإنه لى وانا أجزى به يدع شهوته وطعامه من أجلى.
মানুষের প্রত্যেক আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয়। একটি নেকীর সওয়াব দশ গুণ থেকে সাতাশ গুণ পর্যন্ত।আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, কিন্তু রোযা আলাদা।কেননা তা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর বিনিময় প্রদান করব।বান্দা একমাত্র আমার জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং পানাহার পরিত্যাগ করেছে।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১৫১ (১৬৪); মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৯৭১৪
🟥রোযাদারের দুআ কবুল হয় অতএব রুকইয়াহ এর দোয়াও ইনশাআল্লাহ কবুল হবে এবং আল্লাহ আপনার বিপদ ও কষ্ট দূর করে পরিপূর্ণ সুস্থতা দান করতে পারেন। আল্লাহর ওয়াদা, বিলম্বে হলেও তিনি সাহায্য করবেন! আর কি চাই আপনার? তাই দোয়া ও রুকইয়াহ চালিয়ে যান খুব জোরেশোরে।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
إن للصائم عند فطره لدعوة ما ترد.
قال البوصيرى : اسناده صحيح.
ইফতারের সময় রোযাদার যখন দুআ করে, তখন তার দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (অর্থাৎ তার দুআ কবুল হয়)।-সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ১৭৫৩
হযরত আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
ثلاثة لا ترد دعوتهم الامام العادل، والصائم حتى يفطر، ودعوة المظلوم، تحمل على الغمام، وتفتح لها ابواب السماوات، ويقول الرب عز وجل : وعزتى لانصرنك ولو بعد حين.
وقال الترمذى : هذا حديث حسن.
তিন ব্যক্তির দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না (অর্থাৎ তাদের দুআ কবুল করা হয়) ন্যায়পরায়ন শাসকের দুআ; রোযাদার ব্যক্তির দুআ ইফতারের সময় পর্যন্ত ও মজলুমের দুআ।তাদের দুআ মেঘমালার উপরে উঠিয়ে নেওয়া হয় এবং এর জন্য সব আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। তখন আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, আমার ইয্যতের কসম! বিলম্বে হলেও অবশ্যই আমি তোমাকে সাহায্য করব।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৮০৪৩; সুনানে তিরমিযী, হাদীস : ৩৫৯৮; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ১৭৫২; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৩৪২৮
হযরত আবু হুরায়রা রা. র্বণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
الصائم لا ترد دعوته،
وهذا الحديث اسناده حسن قاله الشيخ محمد عوامة
রোযাদারের দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৮৯৯৫

🟥রোযা হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দেয়। তাই এই সময়ে আপনার মনে থাকা শয়তানের কুপ্রভাবে বা মানবিক দূর্বলতায় যদি অন্যদের প্রতি কোন বিদ্বেষ বা হিংসা জন্ম নিয়ে থাকে যা আপনার দোয়া কবুল বা সুস্থতার পথে বাধা তবে রমজানেই পুরো মাস রয়েছে আপনার অন্তর পরিষ্কার করে দোয়া করার জন্য যখন আপনার জন্য আল্লাহ অশেষ রহমত আর নেয়ামতের দুয়ার খুলে রেখেছেন। এ সুযোগ কোন ভাবেই হারাবেন না।
صوم شهر الصبر وثلاثة أيام من كل شهر يذهبن وحر الصدر،
وقال المنذرى : ورجاله رجال الصحيح، ورواه احمد وابن حبان والبيهقى الثلاثة من حديث الأعرابى ولم يسموه، (اى ابن عباس)
হযরত ইবনে আববাস রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, সবরের মাসের (রমযান মাস) রোযা এবং প্রতি মাসের তিন দিনের (আইয়্যামে বীয) রোযা অন্তরের হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দেয়। -মুসনাদে বাযযার, হাদীস : ১০৫৭; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৩০৭০; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৬৫২৩


🟥আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম এই রমজান এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে সব কিছুই পাওয়া সম্ভব।

[১০:১০৭] ইউনুস

وَإِن يَمسَسكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلا كاشِفَ لَهُ إِلّا هُوَ وَإِن يُرِدكَ بِخَيرٍ فَلا رادَّ لِفَضلِهِ يُصيبُ بِهِ مَن يَشاءُ مِن عِبادِهِ وَهُوَ الغَفورُ الرَّحيمُ

‘আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোন ক্ষতি পৌঁছান, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহের কোন প্রতিরোধকারী নেই। তিনি তার বান্দাদের যাকে ইচ্ছা তাকে তা দেন। আর তিনি পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু’।

হাদিসে এসেছে:
عن أبى أمامة قال : قلت يا رسول الله! مرنى بعمل قال : عليك بالصوم فإنه لا عدل له قلت : يا رسول الله! مرنى بعمل قال : عليك بالصوم، فانه لا عدل له.
হযরত আবু উমামা রা. বর্ণনা করেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে কোনো আমলের আদেশ করুন। তিনি বললেন, তুমি রোযা রাখ, কেননা এর সমতুল্য কিছু নেই। আমি পুনরায় বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে কোনো নেক আমলের কথা বলুন, তিনি বললেন, তুমি রোযা রাখ, কেননা এর কোনো সমতুল্য কিছু নেই।-সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস : ১৮৯৩; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২২১৪০; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৩৪২৫; সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস : ২৫৩৩

🟥রোযা জাহান্নাম থেকে রক্ষাকারী ঢাল ও দুর্গ। জিন শয়তান তো চায় আপনাকে আল্লাহর রাস্তা থেকে দূরে সরিয়ে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যেতে। অনেক সময় ইবাদতও করতে দেয় না, মানুষের সাথে ভালো আচরণ করতে দেয় না জিন শয়তান। এগুলোর মাধ্যমে আপনাকে হতাশ করে আরো বেশি আল্লাহর রাস্তা থেকে দূরে সরানোর প্রচেষ্টায় লিপ্ত জিন শয়তান প্রতি মূহুর্তে। তাই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রাপ্তি ও জাহান্নামের থেকে বাচার জন্য জিন শয়তান ও যাদু থেকে মুক্তি লাভ করে নাজাত পাওয়াই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। এই গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতময় মাহে রমজান কাজে লাগিয়ে আপনি জিন শয়তান ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির প্রচেষ্টা করবেন ইনশাআল্লাহ।
হযরত জাবির রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
قال ربنا عز وجل : الصيام جنة يستجن بها العبد من النار وهو لى وانا أجزى به.
وهذا حديث صحيح بطرقه وشواهده، قاله الشيخ شعيب الارنؤوط
আমাদের মহান রব ইরশাদ করেছেন- রোযা হল ঢাল। বান্দা এর দ্বারা নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবে। রোযা আমার জন্য আর আমিই এর পুরস্কার দিব।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৪৬৬৯; শুয়াবুল ঈমান বাইহাকী, হাদীস : ৩৫৭০
উসমান ইবনে আবিল আস রা. বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,
الصيام جنة من النار كجنة احدكم من القتال،
রোযা হল জাহান্নাম থেকে রক্ষাকারী ঢাল, যুদ্ধক্ষেত্রে তোমাদের (শত্রুর আঘাত হতে রক্ষাকারী) ঢালের মত।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৬২৭৮; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস : ২১২৫; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৩৬৪৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ১৬৩৯
হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
الصيام جنة، وحصن حصين من النار
রোযা হল (জাহান্নাম থেকে পরিত্রান লাভের) ঢাল এবং সুরক্ষিত দুর্গ।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস-৯২২৫; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস-৩৫৭১

🟥রোযাদারের সকল গুনাহ মাফ হয়ে যায় এটা জানার পর গুনাহমুক্ত হয়ে আমাদের জিন যাদুর বিরুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য নিয়ে যুদ্ধ করা উচিত।

[২৫:৫২] আল ফুরকান

فَلا تُطِعِ الكافِرينَ وَجاهِدهُم بِهِ جِهادًا كَبيرًا

সুতরাং তুমি কাফিরদের আনুগত্য করো না এবং তুমি কুরআনের সাহায্যে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সংগ্রাম কর।

হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
من صام رمضان ايمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه،
যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমযান মাসের রোযা রাখবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।- সহীহ বুখারী, হাদীস : ৩৮, ২০১৪; সহীহ মুসলিম ৭৬০(১৬৫); মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৭১৭০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৮৯৬৮
হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
ان الله عز وجل فرض صيام رمضان وسننت قيامه، فمن صامه وقامه ايمانا واحتسابا خرج من الذنوب كيوم ولدته أمه.
আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর রমযানের রোযা ফরয করেছেন, আর আমি কিয়ামুল লাইল অর্থাৎ তারাবীহ’র নামাযকে সুন্নত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমযানের সিয়াম ও কিয়াম আদায় করবে, সে ঐ দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে যেদিন সে মায়ের গর্ভ থেকে সদ্যভূমিষ্ঠ হয়েছিল।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস-১৬৬০, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস-৭৭৮৭, মুসনাদে বাযযার, হাদীস-১০৪৮, সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস-২২০১, সুনানে নাসায়ী, হাদীস-২৫১৮

🟥রোযা গুনাহের কাফফারা। অতএব আপনি যদি মনে করেন আপনি বিপুল গুনাহগার, আল্লাহ মাফ করবেন না তবে জেনে রাখুন আপনি ভুলের মাঝে আছেন। রোজা রেখে গুনাহ মাফ করিয়ে নেয়ার মত শ্রেষ্ঠ সময় এই রমজান ছাড়া কি আর পাবেন? হয়ত এই গুনাহ আপনার সুস্থতার পথে বাধা কিংবা আপনি পরীক্ষার মাঝে আছেন। তাই এই সময় কাজে লাগিয়ে একই সাথে রুকইয়াহ ও দোয়া করে আপনার জীবনকে পরিপূর্ণ করতে পারেন।
রোযা গুনাহের কাফফারা হওয়া কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে প্রমাণিত। আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন প্রকার গুনাহের কাফফারা স্বরূপ রোযার বিধান নাযিল করেছেন। যেমন ইহরাম অবস্থায় (অসুস্থতা বা মাথার কষ্টের কারণে) মাথা মুন্ডানোর কাফফারা স্বরূপ (২:১৯৬), কোন যিম্মী বা চুক্তিবদ্ধ কাফেরকে ভুলক্রমে হত্যার কাফফারা স্বরূপ (৪:৯২), কসমের কাফফারা স্বরূপ (৫:৮৯) এবং যিহারের কাফফারা স্বরূপ (৫৮:৩-৪); আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বিভিন্ন মেয়াদে রোযার হুকুম দেওয়া হয়েছে। তাই সহজেই বোধগম্য যে, রোযা বান্দার পাপসমূহকে ধুয়ে-মুছে রোযাদারকে পরিশুদ্ধ করে।
[৪:১০৬] আন নিসা

وَاستَغفِرِ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ كانَ غَفورًا رَحيمًا

আর তুমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

[৪:১১০] আন নিসা

وَمَن يَعمَل سوءًا أَو يَظلِم نَفسَهُ ثُمَّ يَستَغفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفورًا رَحيمًا

আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে কিংবা নিজের প্রতি যুলম করবে তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, সে আল্লাহকে পাবে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

হযরত হুযায়ফা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
فتنة الرجل فى اهله وماله ونفسه وولده وجاره تكفرها الصلاة والصيام والصدقة والأمر بالمعروف والنهى عن المنكر.
মানুষের জন্য তার পরিবার, ধন-সম্পদ, তার আত্মা, সন্তান-সন্ততি ও প্রতিবেশী ফিতনা স্বরূপ। তার কাফফারা হল নামায, রোযা, দান-সদকাহ, সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫২৫, ১৮৬৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২৮৯২-২৬, মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৩২৮০, সুনানে তিরমিযী, হা. ২২৫৮

🟥তাই রুকইয়াহ ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চান প্রবলভাবে অন্যান্য ইবাদতের পাশাপাশি গুরুত্ব দিয়ে। ইনশাআল্লাহ আপনি সফল হবেন।

[৯:১৫] আত তাওবাহ্

وَيُذهِب غَيظَ قُلوبِهِم وَيَتوبُ اللَّهُ عَلى مَن يَشاءُ وَاللَّهُ عَليمٌ حَكيمٌ

আর তাদের অন্তরসমূহের ক্রোধ দূর করবেন এবং আল্লাহ যাকে চান তার তাওবা কবুল করেন। আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
রমযান হল খালেস ইবাদতের মৌসুম। তাই এ মাসের সময়গুলো যতটা সম্ভব ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ কাছাকাছি হবার সাথে সাথে আপনার সমস্যার সমাধান পাওয়ার জন্য চেস্টা করবেন। আল্লাহ সফলতা দানকারী।

Address

Dhaka
1217

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Alternative Cure: Ruqyah and Hijamah, Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Alternative Cure: Ruqyah and Hijamah, Bangladesh:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

রুকইয়ার মাধ্যমে যেই সকল রোগের ট্রিটমেন্ট হয়

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ আপনাদের সকলের দোয়ার বরকতে অনেকদিন যাবত ( রুকইয়াহ ) চিকিৎসা করে আসছি। যাদের সরাসরি রুকইয়াহ পরামর্শ প্রয়োজন তারা কন্টাক্ট নাম্বার অথবা ইনবক্সে যোগাযোগ করতে পারেন। রুকইয়ার মাধ্যমে যেই সকল রোগের ট্রিটমেন্ট হয় ১/ জ্বিনের স্পর্শ । ২/ বাতাস লাগা। ৩/ উপরি সমস্যা। ৪/ বাসা বাড়ীতে জ্বিনের সমস্যা। ৫/ কানে অদ্ভুত আওয়াজ শোনা। ৬/ কালো যাদু। ৭/ জ্বীনের মাধ্যেমে পাগল বানানোর যাদু। ৮/ অদৃশ্য আওয়াজ শোনার যাদু। ৯/ শারিরিক অসুস্ত বানানোর যাদু। ১০/ বিয়ে না হওয়া বা আটকে রাখার যাদু। ১১/ স্বামী এবং স্ত্রীর মাঝে যাদু। ১২/ স্বামীকে বশ করার যাদু। ১৩/ রক্ত স্রাবের যাদু। ১৪/ গর্ভের সন্তান নষ্ট করার যাদু। ১৫/ বদনজরের সমস্যা। ১৬/ বাচ্চাদের বদনজর ইত্যাদি