04/01/2026
☘️ শুভ সকাল।
আশাকরি সবাই সুস্থ আছেন। আপনাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য কে ভালো রাখতে নিয়মিত স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করবো। তাই স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ পেতে চোখ রাখুন আমাদের এই পেইজে।
🔰 বয়স বাড়লেও মস্তিষ্ক সচল রাখার উপায়ঃ-
🔸 রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে:
উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়, যা মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে এবং ডিমেনশিয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। তাই রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
🔸 ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করতে হবে:
ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ মস্তিষ্কের কোষ ধ্বংস করে এবং স্মরণশক্তি দুর্বল করে। তাই ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে হবে।
🔸 নিয়মিত ব্যায়াম করা:
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম রক্তপ্রবাহ বাড়ায় এবং সেটা মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। হাঁটাহাঁটি করা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, যোগব্যায়াম মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায়।
যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন তাদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি এক-তৃতীয়াংশ কম।
🔸 পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ:
মস্তিষ্ককে সচল রাখতে পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
যেমন—সবুজ শাকসবজি, বাদাম, বীজ, সামুদ্রিক মাছ, বেরি ফল ও অলিভ অয়েল ইত্যাদি। এছাড়াও ‘মাইন্ড ডায়েট’ অনুসরণ করলে মস্তিষ্কের বয়সজনিত ক্ষয় কমে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ে।
🔸 সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে:
যারা একাকীত্বে ভোগেন, ডিপ্রেশনে ভোগেন তাদের মস্তিষ্কের ধূসর পদার্থ(Grey matter) কমে যায়, যার ফলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ২৬%-২৮% বেড়ে যায়। তাই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে হবে, অতিরিক্ত দু:শ্চিন্তা থেকে দূরে থাকতে হবে, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
🔸 বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম:
নিজের চিন্তাভাবনাকে সচল রাখতে নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করতে হবে। যেমন নতুন ভাষা শেখা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, বই পড়া, গল্প লেখা, মুভি দেখা ইত্যাদি। এধরনের কাজ মস্তিষ্কের নিউরনগুলো সক্রিয় রাখে এবং বয়সের সাথে সাথে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে না।
🔸 নিয়মিত যৌন জীবন বজায় রাখতে হবে:
অনেকেই যৌন জীবনের গুরুত্ব ভুলে যান বয়স বাড়লে, কিন্তু এটি শুধু সম্পর্ক নয়, মস্তিষ্কের জন্যও উপকারী। যৌন তৃপ্তি ডোপামিন হরমোন নিঃসরণ করে, যা মানসিক ও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা ও মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
🔸 পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে:
ঘুমের সময় মস্তিষ্ক বিশ্রামের সময় পায়, যা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমায়। দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা টানা গভীর ঘুম প্রয়োজন।
যারা দিনে ৫ ঘণ্টার কম ঘুমান তাদের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ এবং মৃত্যুঝুঁকি ২.৪ গুণ বেড়ে যায়।
🔸 মস্তিষ্কের খেলা খেলতে হবে:
স্মরণশক্তি ও চিন্তাশক্তি বাড়াতে পাজল, দাবা, স্যুডোকু বা স্মৃতিশক্তি নির্ভর খেলা খেলতে হবে। যদিও এগুলো ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ করে না, তবে এটি আপনার বুদ্ধির পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণের কাজ করে।
❇️ বি. দ্রঃ- আপনাদের যে কোন স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন-
ডা: বিনায়ক রঞ্জন বসু
BHMS(DU)
Gov. Reg. No:H-1275
Mobile No: 01715-520220 (WhatsApp, imo)