15/12/2025
মাসিকজনিত আয়রনের ঘাটতি কেন অবহেলা করা ঠিক নয় ।
অনেক নারীই মাসিকের সময় দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা ক্লান্তিকে স্বাভাবিক ভেবে নেন । কিন্তু এসব লক্ষণ অনেক সময় আয়রনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয় । সময়মতো খেয়াল না করলে এটি ধীরে ধীরে গুরুতর অ্যানিমিয়ায় রূপ নিতে পারে ।
মাসিকের সময় কী ঘটে ❓
মাসিক হলে শরীর থেকে রক্ত বের হয় । সেই রক্তের সঙ্গে আয়রনও হারিয়ে যায় । আয়রন হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য খুব দরকারি । হিমোগ্লোবিনই আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয় । আয়রন কমে গেলে শরীর ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না ।
কেন ঘাটতি তৈরি হয়❓
মাসিকের পর শরীর নতুন রক্ত তৈরি করতে চায় । এর জন্য প্রচুর আয়রন লাগে । কিন্তু খাবারে আয়রন কম থাকলে শরীর সেই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করতে পারে না ।যাদের পিরিয়ড বেশি দিন চলে বা রক্তপাত খুব বেশি হয়, তাদের ঝুঁকি আরও বেশি ।
যেসব ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া জরুরি....
১.পিরিয়ড যদি সাত দিনের বেশি থাকে ।
২ খুব বেশি রক্তপাত হয় ।
৩.দুই ঘণ্টার মধ্যেই প্যাড বা কাপ ভিজে যায় । এগুলো স্বাভাবিক নয় এবং আয়রন ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে ।
আয়রন কমে গেলে যে লক্ষণগুলো দেখা যায়....
১. সব সময় ক্লান্ত লাগা ।
২. মাথা ঘোরা বা শ্বাস নিতে কষ্ট ।
৩. সামান্য কাজেই দুর্বল হয়ে পড়া ।
৪. চুল পড়া বা নখ ভেঙে যাওয়া ।
৫. ত্বক ফ্যাকাশে দেখানো ।
৬. মনোযোগ কমে যাওয়া । এগুলোকে স্বাভাবিক ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয় ।
কীভাবে আয়রনের অভাব পূরণ করবেন❓
খাবারে আয়রনসমৃদ্ধ জিনিস রাখুন, যেমন লাল মাংস, ডিম, কলিজা, পালং শাক, মসুর ডাল, বীট, কিসমিস, খেজুর, কালোজিরা । ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সাহায্য করে তাই লেবু, কমলা, পেয়ারা আয়রনযুক্ত খাবারের সঙ্গে খেতে পারেন । খাবারের এক ঘণ্টা আগে বা পরে চা কফি এড়িয়ে চলুন । কারণ এগুলো আয়রন শোষণ কমায় ।
হিমোগ্লোবিন খুব কম হলে, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে আয়রন ট্যাবলেট খাবেন না । সঠিক ডোজ জানা জরুরি ।
কখন অবশ্যই ডাক্তার দেখাবেন ❓
১. পিরিয়ড হঠাৎ বেশি বা দীর্ঘ হলে ।
২. বারবার মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা হলে ।
৩. আগের তুলনায় মাসিকের ধরনে পরিবর্তন এলে ।
৪. গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে ।
নারীদের মাসিকজনিত আয়রন ঘাটতি খুব সাধারণ সমস্যা । কিন্তু অবহেলা করলে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে । নিজের শরীরের কথা শোনা এবং যত্ন নেওয়াই হলো সুস্থ থাকার প্রথম ধাপ ।