02/01/2026
আজকের সমাজে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য দেখা যায়। যারা তথাকথিত “জেনারেল এডুকেশন”-এ শিক্ষিত, তারা নিজেরা কখনো সাহস করে ইমামতি করতে রাজি নন; অথচ মাদরাসা থেকে শিক্ষা নেওয়া একজন আলেম যখন ইমামতি করেন, তখন তাঁর সম্মান, মর্যাদা ও ন্যায্য হাদিয়া (সম্মানী) দেওয়ার ক্ষেত্রে কার্পণ্য করা হয়।
মনে রাখতে হবে—
মাদরাসার ছাত্র হওয়া মানেই কম যোগ্য হওয়া নয়।
বরং দ্বীনের জ্ঞান অর্জনকারী হওয়ায় তার মর্যাদা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত উচ্চ।
📖 কুরআনের আলোকে আলেমের মর্যাদা
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“আল্লাহ তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, তাদের মর্যাদা বহু স্তরে উন্নীত করবেন।”
(সূরা আল-মুজাদিলা: ১১)
আরেক জায়গায় বলেন—
“জেনে রাখো, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে তারাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে, যারা জ্ঞানী।”
(সূরা ফাতির: ২৮)
যে ব্যক্তি মানুষকে সালাত পড়ান, কুরআন শোনান, তাকওয়ার পথে পরিচালিত করেন—তাকে অবহেলা করা কি আল্লাহর কাছে তুচ্ছ বিষয়?
হাদীসে এসেছে—
“কোনো শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করো।”
(ইবন মাজাহ: ২৪৪৩)
ইমাম যদি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন, তবে তার ন্যায্য সম্মানী দেওয়া শরঈ দায়িত্ব। এটিকে দয়া বা অনুগ্রহ ভাবা বড় ভুল।
⚖️ সম্মান না পেলে ইমামতির দায়িত্ব নেওয়া—একটি নৈতিক প্রশ্ন
যখন কোনো সমাজ বা কিছু অহংকারী মানুষ—
ইমামকে তুচ্ছ জ্ঞান করে
ন্যায্য সম্মানী দেয় না
শুধু “মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ড” বলে অবমূল্যায়ন করে
তখন আত্মসম্মান রক্ষার্থে সেই জায়গায় ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণ না করা বিদ্রোহ নয়, বরং নিজের ইজ্জত ও দ্বীনের মর্যাদা রক্ষা করা।
ইমামতি কোনো বাধ্যতামূলক চাকরি নয়; এটি একটি আমানত। আর যেখানে আমানতের কদর নেই, সেখানে সরে দাঁড়ানো অনেক সময় হিকমাহ।
🔔 শেষ কথা
ইমাম ও আলেমরা ভিক্ষুক নন।
তারা দ্বীনের খাদেম।
তাদের অবমূল্যায়ন আসলে দ্বীনের অবমূল্যায়ন।
যারা সম্মান দিতে জানে না,
যারা ন্যায্য হক আদায় করে না—
তাদের অহংকারের বোঝা বহন করার দায়িত্ব একজন আলেমের নয়l
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হক বোঝার এবং হক আদায় করার তাওফিক দিন। আমিন।