Mental Health Counseling and Guidance Centre

Mental Health Counseling and Guidance Centre “No disaster strikes except by permission of Allah. And whoever believes in Allah - He will guide his heart. And Allah is Knowing of all things.” [64:11]

02/01/2026

আজকের সমাজে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য দেখা যায়। যারা তথাকথিত “জেনারেল এডুকেশন”-এ শিক্ষিত, তারা নিজেরা কখনো সাহস করে ইমামতি করতে রাজি নন; অথচ মাদরাসা থেকে শিক্ষা নেওয়া একজন আলেম যখন ইমামতি করেন, তখন তাঁর সম্মান, মর্যাদা ও ন্যায্য হাদিয়া (সম্মানী) দেওয়ার ক্ষেত্রে কার্পণ্য করা হয়।

মনে রাখতে হবে—
মাদরাসার ছাত্র হওয়া মানেই কম যোগ্য হওয়া নয়।
বরং দ্বীনের জ্ঞান অর্জনকারী হওয়ায় তার মর্যাদা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত উচ্চ।

📖 কুরআনের আলোকে আলেমের মর্যাদা
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“আল্লাহ তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, তাদের মর্যাদা বহু স্তরে উন্নীত করবেন।”
(সূরা আল-মুজাদিলা: ১১)

আরেক জায়গায় বলেন—
“জেনে রাখো, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে তারাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে, যারা জ্ঞানী।”
(সূরা ফাতির: ২৮)

যে ব্যক্তি মানুষকে সালাত পড়ান, কুরআন শোনান, তাকওয়ার পথে পরিচালিত করেন—তাকে অবহেলা করা কি আল্লাহর কাছে তুচ্ছ বিষয়?

হাদীসে এসেছে—
“কোনো শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করো।”
(ইবন মাজাহ: ২৪৪৩)
ইমাম যদি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন, তবে তার ন্যায্য সম্মানী দেওয়া শরঈ দায়িত্ব। এটিকে দয়া বা অনুগ্রহ ভাবা বড় ভুল।

⚖️ সম্মান না পেলে ইমামতির দায়িত্ব নেওয়া—একটি নৈতিক প্রশ্ন
যখন কোনো সমাজ বা কিছু অহংকারী মানুষ—
ইমামকে তুচ্ছ জ্ঞান করে
ন্যায্য সম্মানী দেয় না
শুধু “মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ড” বলে অবমূল্যায়ন করে
তখন আত্মসম্মান রক্ষার্থে সেই জায়গায় ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণ না করা বিদ্রোহ নয়, বরং নিজের ইজ্জত ও দ্বীনের মর্যাদা রক্ষা করা।

ইমামতি কোনো বাধ্যতামূলক চাকরি নয়; এটি একটি আমানত। আর যেখানে আমানতের কদর নেই, সেখানে সরে দাঁড়ানো অনেক সময় হিকমাহ।

🔔 শেষ কথা
ইমাম ও আলেমরা ভিক্ষুক নন।
তারা দ্বীনের খাদেম।
তাদের অবমূল্যায়ন আসলে দ্বীনের অবমূল্যায়ন।
যারা সম্মান দিতে জানে না,
যারা ন্যায্য হক আদায় করে না—
তাদের অহংকারের বোঝা বহন করার দায়িত্ব একজন আলেমের নয়l

আল্লাহ আমাদের সবাইকে হক বোঝার এবং হক আদায় করার তাওফিক দিন। আমিন।

01/01/2026

ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ছিলেন তাওহীদের এক জীবন্ত নিদর্শন। তিনি একা একটি জাতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন—রাজা নমরূদ, তার রাজসভা, তার মূর্তিপূজা ও তার রাজনৈতিক ক্ষমতার সামনে। অথচ ইবরাহীম (আ.)-এর কাছে কোনো বাহিনী ছিল না, ছিল না কোনো রাজনৈতিক শক্তি। ছিল শুধু আল্লাহর উপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল।

যখন তাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হলো, তখন আল্লাহ তাআলা আগুনকেই আদেশ করলেন—
“হে আগুন! তুমি ইবরাহীমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।”
(সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৬৯)
ফলাফল কী হলো?
আগুন একটি চুলও পোড়াতে পারল না। কারণ আগুন পোড়ায় আল্লাহর হুকুমে, নিজ ক্ষমতায় নয়।
প্রশ্ন আসে—
যিনি আগুনকে ঠাণ্ডা করতে পারেন, তিনি কি চাইলে নমরূদকে ধ্বংস করতে পারতেন না?
যিনি আসমান-যমীনের মালিক, তিনি কি ইবরাহীম (আ.)-কে রাজনৈতিক ক্ষমতা দিয়ে বিজয়ী করতে পারতেন না?
নিশ্চয়ই পারতেন।
তবুও আল্লাহ তা করেননি।
কেন?
কারণ ইসলাম প্রতিষ্ঠা প্রথমে ক্ষমতার মাধ্যমে নয়, ঈমান ও সত্যের সাক্ষ্যের মাধ্যমে।
ইবরাহীম (আ.) নিজ হাতে মূর্তিগুলো ভেঙে দিলেন—
“তিনি বড় মূর্তিটি ছাড়া সবগুলো ভেঙে ফেললেন, যাতে তারা তার দিকে ফিরে আসে।”
(সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৫৮)
এটি ছিল রাজনৈতিক কৌশল নয়, ছিল তাওহীদের দাওয়াত।
এরপর তিনি দেশত্যাগ করলেন—
“আর ইবরাহীম বললেন, ‘আমি আমার রবের দিকে হিজরত করছি। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’”
(সূরা আল-আনকাবূত ২৯:২৬)
আজকের বাস্তবতা ও ভ্রান্ত ধারণা
আজ অনেকেই বলে—
“ইসলাম কায়েম করতে হলে রাজনৈতিক ক্ষমতা চাই, রাষ্ট্রক্ষমতা চাই।”
কিন্তু ইবরাহীম (আ.)-এর জীবন আমাদের কী শিক্ষা দেয়?
তিনি ক্ষমতা চাননি, সত্য বলেছেন
তিনি রাজনীতির আশ্রয় নেননি, আল্লাহর উপর ভরসা করেছেন
তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা খোঁজেননি, হকের পক্ষে একাই দাঁড়িয়েছেন
রাসূলুল্লাহ ﷺ-ও প্রথম মক্কী জীবনে কোনো রাষ্ট্রক্ষমতা ছাড়াই তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছেন।
ক্ষমতা এসেছে পরে, ঈমান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরিণতিতে—শর্ত হিসেবে নয়।

উপসংহার
ইসলাম কখনো রাজনৈতিক ক্ষমতার মুখাপেক্ষী ছিল না।
ক্ষমতাই বরং ইসলামের ন্যায়পরায়ণতার মুখাপেক্ষী।
ইবরাহীম (আ.) আমাদের শেখান—
আগুনে পড়েও ভরসা রাখতে হয় আল্লাহর উপর,
ক্ষমতার সিঁড়ি বেয়ে নয়—সবর, তাওহীদ ও ত্যাগের পথেই আসে আল্লাহর নুসরাহ।
আজ ইসলামকে রাজনৈতিক শক্তির বন্দি ভাবা কতটা বিভ্রান্তিকর—তা ইবরাহীম (আ.)-এর আগুনই আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

30/12/2025

অনেক সময় দেখা যায়, একজন খাঁটি ও নেক পুরুষের রিজিক, দায়িত্ব বা কর্মক্ষেত্র এমনভাবে নির্ধারিত হয় যে তিনি একজন নারীর অধীনে কাজ করেন—সে নারী ধার্মিক হোক বা অধার্মিক। এটি কোনো লজ্জা বা অসম্পূর্ণতার বিষয় নয়; বরং এটি আল্লাহর ফয়সালাl

আমরা ইতিহাসে দেখি—
🔹 রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে নবুয়ত প্রাপ্তির আগেও এবং পরেও হযরত খাদিজা (রাঃ)-এর ব্যবসার ব্যবস্থাপনায় ছিলেন। খাদিজা (রাঃ) ছিলেন একজন মহীয়সী নারী, আর রাসূল ﷺ ছিলেন তাঁর অধীনে বিশ্বস্ত ও আমানতদার কর্মী। এতে রাসূল ﷺ- এর মর্যাদা কখনো কমেনি।

🔹 আবার ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর জীবনে আমরা দেখি, তিনি আজিজের স্ত্রীর (জুলেখা) প্রাসাদে বসবাস করছিলেন।
আল্লাহ বলেন:
“আর সে (ইউসুফ) বলল: হে আমার রব! কারাগার আমার কাছে অধিক প্রিয়, তাদের আহ্বানের চেয়ে…”
(সূরা ইউসুফ: ৩৩)
ইউসুফ (আ.)-এর পরীক্ষা ছিল কঠিন, কিন্তু ধৈর্য ও তাকওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করেছেন।

📖 আল্লাহ তাআলা বলেন—
“আর তোমাদের কেউ কেউকে আমি অন্যদের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ করেছি—তোমরা কি ধৈর্য ধারণ করবে?”
(সূরা আল-ফুরকান: ২০)

অতএব, কোনো পুরুষ যদি কোনো নারীর অধীনে চাকরি করে বা দায়িত্ব পালন করে, তা তার ঈমান, মর্যাদা বা পুরুষত্বের ঘাটতি নয়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা—ধৈর্য, চরিত্র ও তাকওয়ার পরীক্ষা।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“মুমিনের সব বিষয়ই কল্যাণকর। সে যদি সুখ পায়, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে—তা তার জন্য কল্যাণ। আর যদি কষ্ট পায়, ধৈর্য ধারণ করে—তাও তার জন্য কল্যাণ।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৯৯)
🔹 তাই নিজেকে অভিশাপ দেবেন না
🔹 নিজের তাকদীরকে ঘৃণা করবেন না
🔹 নারীর অধীনে কাজ করাকে অপমান ভাববেন না
বরং—
✔ নেক চরিত্র বজায় রাখুন
✔ দায়িত্বে আমানতদার হোন
✔ আপনার নারী বস—তিনি যতই কঠিন হোন—তার সাথে ভদ্রতা ও ইনসাফ বজায় রাখুন
✔ আর আল্লাহর কাছে দোয়া করুন

🤲 কারণ সত্যিকারের সম্মান আসে মানুষের কাছ থেকে নয়, আল্লাহর কাছ থেকে।

📖 আল্লাহ বলেন—
“নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান সে-ই, যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।”
(সূরা আল-হুজুরাত: ১৩)

সময় এলে আল্লাহ নিজেই সম্মান তুলে দেবেন—ঠিক যেমন তিনি দিয়েছেন তাঁর প্রিয় বান্দাদের।
সুতরাং ধৈর্য ধরুন, সৎ থাকুন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন।

24/12/2025

নিশ্চয়ই বর্তমান যুগে শিক্ষিত নারীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন, মানবসেবা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে কাজ করছেন। ইসলাম জ্ঞান অর্জন ও হালাল পেশায় নারীর অংশগ্রহণকে সম্মান করে। সমাজ ও উম্মাহ গঠনে কর্মজীবী নারীদের অবদান অত্যন্ত মূল্যবান।
একই সঙ্গে এমন বহু শিক্ষিত নারী আছেন, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বাহিরের চাকরি না করে ঘর, পরিবার ও সন্তান লালন-পালনকে বেছে নিয়েছেন। দুঃখজনকভাবে আমরা অনেক সময় তাদের “শুধু গৃহিণী” বলে অবহেলা করি। অথচ বাস্তবে তারাই সমাজের সবচেয়ে মূল্যবান হীরা। কারণ একজন মা-ই সন্তানের প্রথম শিক্ষক; তার হাতেই গড়ে ওঠে আগামী দিনের ন্যায়পরায়ণ মানুষ ও সমাজ পরিবর্তনকারী নেতৃত্ব।

আল্লাহ তাআলা বলেন—
“হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা করো।”
(সূরা আত-তাহরীম, ৬৬:৬)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
“তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে… নারী তার স্বামীর ঘর ও সন্তানের ব্যাপারে দায়িত্বশীল।”
(সহিহ বুখারি: ২৫৫৪, সহিহ মুসলিম: ১৮২৯)

আর মায়ের মর্যাদা সম্পর্কে তিনি ﷺ বলেছেন—
“তোমার মা, তোমার মা, তোমার মা—তারপর তোমার পিতা।”
(সহিহ বুখারি: ৫৯৭১, সহিহ মুসলিম: ২৫৪৮)

🔹 কর্মজীবী নারীদের জন্য পর্দার গুরুত্ব
ইসলাম যেমন নারীর কাজকে সম্মান করে, তেমনি কর্মক্ষেত্রে পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখার ওপরও জোর দেয়। পর্দা নারীর সম্মান, নিরাপত্তা ও তাকওয়ার প্রতীক। চাকরি করা কখনোই পর্দা পরিত্যাগের কারণ হতে পারে না।

আল্লাহ তাআলা বলেন—
“আর মুমিন নারীদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে, তাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে এবং তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে… এবং তারা যেন তাদের ওড়না বক্ষদেশের ওপর টেনে দেয়।”
(সূরা আন-নূর, ২৪:৩১)

আরও বলেন—
“হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিন নারীদের বলো—তারা যেন তাদের ওপর তাদের জিলবাব ঢেকে নেয়। এতে তারা পরিচিত হবে এবং কষ্ট পাবে না।”
(সূরা আল-আহযাব, ৩৩:৫৯)

অতএব যারা চাকরি করছেন, তাদের জন্য জরুরি হলো—হালাল পরিবেশে কাজ করা, পর্দা রক্ষা করা, শালীন আচরণ বজায় রাখা এবং আল্লাহকে সন্তুষ্ট রাখার নিয়ত করা। আর যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ঘরে থেকে সন্তান ও পরিবার গড়ে তুলছেন—তারা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবার-পরিজনের কাছে উত্তম।”
(তিরমিজি: ৩৮৯৫)

কর্মজীবী নারী ও গৃহিণী—উভয়েই সম্মানিত। কিন্তু যারা নিঃশব্দে ঈমানদার প্রজন্ম তৈরি করছেন, তারা সমাজের অদৃশ্য স্তম্ভ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

23/12/2025

নিশ্চয়ই জীবনের অর্থ ও মৃত্যুর তাৎপর্য না বুঝতে পারার কারণেই অনেক মানুষ লক্ষ্যহীনভাবে জীবন কাটায়। তারা ভাবে—জন্ম, জীবন আর মৃত্যু সবই কেবল দৈনন্দিন ঘটনার ধারাবাহিকতা। কিন্তু আল্লাহ তাআলা আমাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন—জীবন কোনো অর্থহীন ভ্রমণ নয়; বরং এটি একটি গভীর উদ্দেশ্যপূর্ণ পরীক্ষা।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন—
“তিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন—কে তোমাদের মধ্যে কর্মে উত্তম।”
(সূরা আল-মুলক, ৬৭:২)

এই আয়াত আমাদের চোখ খুলে দেয়। জীবন শুধু বেঁচে থাকা নয়, আর মৃত্যু শুধু শেষ হয়ে যাওয়া নয়। জীবন হলো আমল করার সুযোগ, আর মৃত্যু হলো হিসাবের দরজায় পৌঁছে যাওয়া। যে ব্যক্তি জীবনের উদ্দেশ্য বোঝে না, সে দুনিয়ার মোহে ডুবে যায়; আর যে বোঝে, সে প্রতিটি নিঃশ্বাসকে অর্থপূর্ণ করে তোলে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“বুদ্ধিমান সে ব্যক্তি, যে নিজেকে সংযত রাখে এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য কাজ করে।”
(তিরমিযি, হাদিস: ২৪৫৯)

এই হাদিস আমাদের শেখায়—জীবনের প্রকৃত সার্থকতা ভবিষ্যতের (আখিরাতের) জন্য প্রস্তুত হওয়াতেই। যার জীবনে আখিরাতের চিন্তা নেই, তার জীবন হয় দিশাহীন; আর যার জীবনে আল্লাহর সন্তুষ্টিই লক্ষ্য, তার জীবন হয়ে ওঠে শান্তিময় ও অর্থবহ।

মৃত্যুর স্মরণ আমাদের হতাশ করার জন্য নয়; বরং জীবনের সঠিক অর্থ উপলব্ধি করানোর জন্য। তাই আসুন, আমরা লক্ষ্যহীন জীবন না বেছে নিয়ে আল্লাহর দেওয়া উদ্দেশ্যকে বুঝে, সেই উদ্দেশ্যের আলোকে জীবন গড়ে তুলি—ইহকাল ও পরকালের সফলতার!

21/12/2025

অনেক মানুষ আজ অহংকারে ডুবে থাকে। তারা মনে করে—ধন-সম্পদই সবকিছু। অর্থ, ক্ষমতা আর প্রভাবের জোরে তারা নিজেদের অমর ভাবতে শুরু করে। কিন্তু তারা ভুলে যায়—এই সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক অস্থায়ী আমানত।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন—
“নিশ্চয়ই মানুষ সীমালঙ্ঘন করে, কারণ সে নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে।”
(সূরা আল-আলাক: ৬–৭)
সমূদ জাতির দিকে তাকালেই আমরা এই অহংকারের পরিণতি দেখতে পাই। তারা ছিল শক্তিশালী, ধনী ও উন্নত সভ্যতার অধিকারী। পাহাড় কেটে তারা ঘর বানাতো। কিন্তু সেই শক্তি ও সম্পদ তাদের আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বাঁচাতে পারেনি।
আল্লাহ তাদের কাছে পাঠিয়েছিলেন তাদের এক কল্যাণকামী নবী— সালেহ (আলাইহিস সালাম)। তিনি তাদের সত্যের পথে ডাকলেন, অহংকার ছেড়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে বললেন। কিন্তু তারা নবীকে অস্বীকার করলো, আল্লাহর নিদর্শন উটনীকে হত্যা করলো এবং সীমালঙ্ঘনে লিপ্ত হলো।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“অতঃপর তারা তাদের প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করল এবং তাঁর রসূলদের অবাধ্যতা করল।”
(সূরা হুদ: ৫৯)
ফলে এক ভয়াবহ আযাব তাদের ধ্বংস করে দিল। তাদের ধন-সম্পদ, শক্তি—কিছুই কাজে আসেনি।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।”
(সহিহ মুসলিম: ৯১)
এই কাহিনি আমাদের জন্য এক স্পষ্ট শিক্ষা—সম্পদ কখনোই মর্যাদার মানদণ্ড নয়। প্রকৃত সম্মান হলো আল্লাহভীতি, বিনয় ও আনুগত্যে।
আজ সময় এসেছে নিজেকে প্রশ্ন করার—আমরা কি আমাদের স্রষ্টাকে ভুলে যাচ্ছি না তো? অহংকারের পথ পরিহার করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই হলো প্রকৃত সফলতা।
“আর আল্লাহই সর্বশক্তিমান, প্রজ্ঞাময়।”
(সূরা ইবরাহীম: ৪)

18/12/2025

কখনো কখনো আপনার নিজের রক্তই দুঃসময়ে ঢাল হয়ে দাঁড়ায়, আবার কখনো সেই একই রক্ত ভিন্ন ভিন্নভাবে আপনাকে কষ্ট দেয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর জীবনেই আমরা এর স্পষ্ট উদাহরণ পাই।

চাচা আবু তালিব ঈমান গ্রহণ না করলেও সারাজীবন রাসূল ﷺ–কে রক্ষা করেছেন—কুরাইশদের নির্যাতনের সামনে তিনি ছিলেন শক্ত প্রাচীর। অন্যদিকে আরেক চাচা আবু লাহাব ছিলেন প্রকাশ্য শত্রু—কটূক্তি, ষড়যন্ত্র ও অবমাননার প্রতীক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর বিরুদ্ধে স্পষ্টভাবে নাযিল করেন:

> “ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দুই হাত, আর সে নিজেও ধ্বংস হোক।”
(সূরা আল-মাসাদ, ১১১:১)

আবু তালিব সম্পর্কে রাসূল ﷺ বলেছেন—তিনি দুনিয়ায় আমাকে রক্ষা করেছেন; আখিরাতে তাঁর শাস্তি লাঘব হবে।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২০৯)

এ থেকে শিক্ষা একটাই—রক্তের সম্পর্কই শেষ সত্য নয়। সত্য হলো আল্লাহর পথে অটল থাকা।
আল্লাহ বলেন:

“যদি আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেন, তবে কেউই তোমাদের পরাজিত করতে পারবে না।”
(সূরা আলে ইমরান, ৩:১৬০)

আরও বলেন:

“যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট।”
(সূরা আত-তালাক, ৬৫:৩)

মানুষ বদলাতে পারে, সম্পর্ক রূপ পাল্টাতে পারে—কিন্তু আল্লাহর পথ কখনো প্রতারণা করে না। আল্লাহর পথে থাকলে শেষ পর্যন্ত বিজয় আপনারই।

14/12/2025

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার, আর কাফিরের জন্য জান্নাত।”
— (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৬৮৩১)

এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর হাদীসটি আমাদের জীবনের বাস্তবতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। একজন মুমিন এই দুনিয়াতে অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে জীবনযাপন করে। তার জন্য হালাল–হারাম আছে, নৈতিকতা আছে, সংযম আছে, দায়িত্ব আছে। সে চাইলেই সব কিছু করতে পারে না—কারণ সে জানে, আল্লাহ তাকে দেখছেন এবং প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে।

অন্যদিকে, যে ব্যক্তি আখিরাতে বিশ্বাস করে না বা আল্লাহর বিধান মানে না, তার কাছে এই দুনিয়াই যেন সর্বোচ্চ ভোগের জায়গা। সে মনে করে, এখানেই সব শেষ—তাই ভোগই তার লক্ষ্য।

এই হাদীস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—

মুমিনের কষ্ট, ধৈর্য, সংযম—সবই সাময়িক

আসল শান্তি ও পুরস্কার অপেক্ষা করছে আখিরাতে

দুনিয়ার আরাম দেখে হতাশ হওয়ার কিছু নেই

আল্লাহর কাছে সফলতা দুনিয়ার বিলাসে নয়, আখিরাতের মুক্তিতে|

যখন জীবন কষ্টকর মনে হয়, তখন এই হাদীসটি আমাদের আশার আলো দেখায়—
এই দুনিয়া যদি কারাগার হয়, তবে জান্নাত অবশ্যই সামনে অপেক্ষা করছে।

13/12/2025

!বেকারত্ব!
প্রতিদিন মনে হয়—নিজের মূল্য কোথায়? ভবিষ্যৎ কী? এই সময়টা বিশেষ করে বিবাহিত পুরুষদের জন্য আরও বেশি কষ্টকর। সংসারের দায়িত্ব, পরিবারে চাপ, সমাজের প্রত্যাশা—সবকিছু মিলিয়ে ধৈর্য রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। আর শত্রুরা এই দুর্বল সময়টা দেখে আনন্দও পায়।

কিন্তু একজন মুমিন জানে—সময় মানুষের হাতে নয়, সময় আল্লাহর হাতে।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন—
“নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।”
📖 সূরা আল-ইনশিরাহ (৯৪): আয়াত ৫–৬

এই আয়াত আমাদের বারবার আশ্বস্ত করে—কষ্ট কখনো একা আসে না। আল্লাহ কষ্টের সাথেই স্বস্তির সময় নির্ধারণ করে রেখেছেন।

আর আল্লাহ আরও বলেন—
“আর যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট।”
📖 সূরা আত-তালাক (৬৫): আয়াত ৩

আপনি হয়তো চাকরি হারিয়েছেন, কিন্তু রিজিক হারাননি। কারণ রিজিক কোনো অফিস, বস বা প্রতিষ্ঠানের হাতে নয়—রিজিক একমাত্র আল্লাহর হাতে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“মুমিনের অবস্থা আশ্চর্যজনক। তার সব অবস্থাই কল্যাণকর। যদি তার সুখ আসে, সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে—এটা তার জন্য কল্যাণ। আর যদি তার দুঃখ-কষ্ট আসে, সে ধৈর্য ধারণ করে—এটাও তার জন্য কল্যাণ।”
📚 সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ২৯৯৯

আজ আপনি ধৈর্যের পরীক্ষায় আছেন। এই ধৈর্যই কাল আপনার সম্মান, মর্যাদা এবং অবস্থান পরিবর্তনের কারণ হবে—ইনশাআল্লাহ।

মনে রাখবেন—
🔹 এই অবস্থা স্থায়ী নয়
🔹 আপনার সময় আসবে
🔹 আল্লাহ কখনো দেরি করেন না, তিনি সময়মতোই দেন

সময়টা আল্লাহ আগেই লিখে রেখেছেন।
আজ কষ্ট, কাল স্বস্তি—এই আল্লাহর ওয়াদা।

ধৈর্য ধরুন, চেষ্টা চালিয়ে যান, দোয়া ছাড়বেন না।
ইনশাআল্লাহ আপনার বেকারত্ব একদিন সম্মানে রূপ নেবে।

10/12/2025

একজন মানুষের একটি হাত নেই—কিংবা দু’হাতই নেই—তবুও সে হাসছে।
তবুও সে আশা করছে।
স্বপ্ন দেখছে।
আগামীর প্রতি বিশ্বাস রেখে এগিয়ে যাচ্ছে।

জীবনের মানে সে খুঁজে পায় সবকিছু ঠিক আছে বলে নয়,
বরং কারণ—সে ব্যথার চেয়ে উদ্দেশ্যকে বড় করে দেখে।

আমাদের চারপাশে অসংখ্য মানুষ আছে
যারা হাঁটতে পারে না, দেখতে পারে না, শুনতে পারে না,
অথবা ভিন্ন কোনো প্রতিবন্ধকতার সাথে জীবন কাটাচ্ছে—
তবুও তারা প্রতিদিন নিজেদের মতো করে
পথ তৈরি করছে, স্বপ্ন তৈরি করছে,
জীবনের মানে খুঁজে নিচ্ছে।

কিন্তু আমাদের দিকে তাকান…
আমাদের তো সবই আছে—
হাত আছে, পা আছে, চোখ আছে, স্বাস্থ্য আছে,
সুযোগ আছে, সামর্থ্য আছে…
তারপরও আমরা অনেকেই বলি,
“জীবনের কোনো অর্থ খুঁজে পাই না।”

সমস্যা আমাদের অভাবে নয়,
সমস্যা হলো—আমরা যা আছে, তা মূল্যায়ন করি না।

কৃতজ্ঞতা জীবনের মানে খুঁজে দেয়।
পরিশ্রম জীবনের দিক নির্ধারণ করে।
আর উদ্দেশ্য জন্মায় যখন আমরা অভিযোগ বন্ধ করে
বাঁচতে শুরু করি।

আজ একবার থামুন—
নিজের জীবনে কী কী আছে একবার দেখুন।
আপনি ভাবার চেয়েও বেশি আশীর্বাদপ্রাপ্ত।

সেগুলো ব্যবহার করুন।
মূল্য দিন।
জীবনকে জীবন্ত করে তুলুন।

জীবন সুন্দর—
যদি আপনি তা দেখতে শিখেন।

05/12/2025

ফিরাউন ধ্বংস হলো… কিন্তু মুসা (আ.) কেন সিংহাসনে বসলেন না?

ফিরাউনকে আল্লাহ যখন পানিতে ডুবিয়ে ধ্বংস করলেন, তখন মুসা আলাইহিস সালাম চাইলে সহজেই মিসরের সিংহাসন দখল করতে পারতেন। জনগণ তাঁকে ভালোবাসত, ফিরাউন নিঃশেষ, আর শক্তি-ক্ষমতা সব তাঁর হাতে চলে এসেছিল।
কিন্তু তবুও তিনি সিংহাসনে বসেন নি—কেন?

কারণ নবীগণের মিশন কখনোই ক্ষমতা দখল নয়—
তাঁদের লক্ষ্য মানুষকে আল্লাহর পথে ফেরানো। শাসন বা রাজত্ব তাঁদের কাছে উদ্দেশ্য নয়; বরং দায়িত্ব, amanah।
মুসা (আ.) রাজনৈতিক ‘রাজা’ হয়ে সিংহাসন দখলে আগ্রহী হননি। কারণ তিনি জানতেন:

🔹 সত্যিকারের পরিবর্তন সিংহাসন দিয়ে আসে না — আসে মানুষের আত্মার পরিশুদ্ধির মাধ্যমে।
🔹 ক্ষমতা নয়, মানুষকে আল্লাহর পথে ফেরানো নবীর মিশন।

আজকের যুগে অনেকেই ‘ইসলাম’–এর নাম ব্যবহার করেন—
ধর্মের আবেগ, মানুষের বিশ্বাস, কোরআন–হাদিসের বাণী—সবকিছু রাজনৈতিক সিঁড়ি বানিয়ে ক্ষমতার দিকে ওঠার জন্য।

প্রশ্ন হলো—

তারা কি সত্যিই ইসলামের জন্য কাজ করবে,
নাকি শুধু ক্ষমতার জন্য ‘ইসলামি নাটক’ চালিয়ে যাবে?

যেখানে মুসা (আ.) ক্ষমতাকে লক্ষ্য নয়, বরং দায়িত্ব হিসেবে দেখেছিলেন,
আজ সেখানে অনেকেই ক্ষমতাকেই লক্ষ্য বানিয়ে ইসলামকে কেবল টুল, স্লোগান, আবেগ–ব্যবসা বানিয়ে ফেলছে।

মনে রাখবেন,
🔸 ইসলাম কোনো রাজনৈতিক ব্র্যান্ড নয়।
🔸 ক্ষমতায় আসা নয় — আল্লাহর কাছে ফিরে আসাই মূল লক্ষ্য।
🔸 যারা সত্যকারে ইসলামকে ভালোবাসে, তারা আল্লাহ কে ভয় করে; ক্ষমতার লোভে ধর্মকে বিক্রি করে না।

শেষ কথা,
আজকের রাজনীতিতে ইসলামের নাম যারা ব্যবহার করেন, তারা কি এই শিক্ষা মনে রাখবেন?

02/12/2025

আবূ সাঈদ আল-খুদরী ও জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত—
রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“বনী ইসরাঈলের মধ্যে প্রথম ধ্বংস শুরু হয়েছিল এভাবে যে— অভাবী লোকের স্ত্রী তার স্বামীকে এমন কিছুতে বাধ্য করত (যেমন জামা-কাপড় বা অতিরিক্ত সাজসজ্জার সামগ্রী), যেগুলো সে দেখত যে ধনী নারী তার স্বামীর উপর চাপিয়ে দিচ্ছে।”
(সহিহ, সিলসিলা: 594)

মনে রাখবেন
➥ অন্যকে দেখে অতিরিক্ত দাবি চাপিয়ে দেওয়া সংসারে চাপ, অসন্তুষ্টি ও দূরত্ব সৃষ্টি করে।
➥ আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রত্যেককে ভিন্ন রিজিক, ভিন্ন অবস্থা দিয়েছেন—তুলনা নয়, কৃতজ্ঞতাই শান্তির পথ।
➥ একজন মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য পরস্পরের ওপর অযৌক্তিক দাবি আরোপ করা ইসলামী আদবের পরিপন্থী।
তুলনা নয় — কৃতজ্ঞতা, ধৈর্য ও সহজ জীবনই বরকত আনে।
নিজের সাধ্যের বাইরে চাপ সৃষ্টি নয়; বরং পরস্পরকে সহনশীলতা, সহযোগিতা ও দোয়ার মাধ্যমে টেকসই শান্তি গঠন করা উচিত।

Address

11, Nawab Street, Wari
Dhaka
1203

Opening Hours

Monday 09:00 - 13:00
16:00 - 21:00
Tuesday 09:00 - 13:00
16:00 - 21:00
Wednesday 09:00 - 13:00
16:00 - 21:00
Thursday 09:00 - 13:00
16:00 - 21:00
Saturday 09:00 - 13:00
16:00 - 21:00
Sunday 09:00 - 13:00
16:00 - 21:00

Telephone

+8801751000586

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mental Health Counseling and Guidance Centre posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Mental Health Counseling and Guidance Centre:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram