24/11/2012
প্রসঙ্গঃ Aphthous Ulcer প্রতিরোধ ও প্রতিকার-
Aphthous Ulcer জিনিসটা কি? এটি কি কি কারনে হয়? এবং এটা হলে কি কি উপসর্গ পাওয়া যায়?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তো জানা হয়ে গেছে। এখন বাকি আছে, সবচাইতে গুরুত্তপূর্ণ প্রশ্ন।
* Aphthous Ulcer কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়?
* প্রতিরোধ সম্ভব না হলে, এর প্রতিকার কি?
আমরা জানি প্রতিকার এর চাইতে প্রতিরোধই উত্তম। তাই প্রথমে জানবো প্রতিরোধের উপায়।
# প্রথমতো, যদের শারীরিক দূর্বলতা বা, অপুষ্টি জনিত কারনে বার বার এই ধরনের ঘা ফিরে ফিরে আসছে, তাদের জন্য শরীরে পুষ্টির ঘাটতি পূরনের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। ভিটামিন ও মিনারেল এর ঘাটতি থাকলে তা পুরনের জন্য পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহন জরুরী। প্রয়োজনে ঔষধ সেবনের মাধ্যমে ঘাটতি পুরন করতে হবে।
# পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন জাপনের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
# নমনীয় ঘাড় এবং নরম ব্রিসল যুক্ত টুথব্রাশ ব্যবহার করলে, টুথব্রাশিং এর সময় খোঁচা খাওয়ার ভয় অনেকাংশেই থাকে না। এভাবেও Aphhous Ulcer এর ঝুঁকি কিছুটা কমানো যায়।
# মচমচে ও কোনা বিশিষ্ট খাবার খাওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন করলে, তা থেকে এই ধরনের ক্ষত কিছুটা এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
# সাইট্রিক এসিড এর কারনে যদি এইধরনের ক্ষত দেখা দেয় তবে, সাইট্রিক এসিড সমৃদ্ধ ফল যেমনঃ লেবু, কমলা এগুলো না খাওয়াই ভালো। তবে যেহেতু এই ধরনের ফল গুলো ভিটামিন-সি এর ও খুব ভালো উৎস, তাই ভিটামিন-সি এর ঘাটতি রোধ করার জন্য, যে সব খাবারে ভিটামিন-সি এর পরিমান বেশি কিন্তু সাইট্রিক এসিড এর পরিমান কম ,সেগুলো বেছে নেয়া যেতেপারে যেমনঃ আম, তরমুজ, বাঙ্গি, আপেল ইত্যাদি।
# অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা খাবার খাওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। মাত্রাতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা খাবার না খাওয়াই ভালো।
# কোন বিশেষ খাবারের প্রতি এলার্জি জনিত কারনে যদি এই ধরনের ক্ষত দেখা দেয়, তবে সেই খাবারটি এড়িয়ে চলাই ভালো।
# Dental appliance যেমনঃ Dental Braces এর কারনে প্রায়ই এই ধরনের ক্ষতের সৃষ্টি হয়। তাই Dental Braces ব্যবহার করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সবচাইতে ভালো হয় Braces টি যদি মোম দিয়ে ঢেকে দেয়া যায়।
এতোসব সাবধানতা অবলম্বনের পরও যদি Aphthous Ulcer প্রতিরোধ করা সম্ভব না হয় তবে প্রতিকার এর জন্যে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরী। আপনার ডেন্টিস্টই আপনাকে সঠিক নির্দেশনা দিতে পারবেন।
প্রতিকার-
# সাধারনতো, যেসব কারনে ক্ষতের সৃষ্টি হচ্ছে সেটি যদি সনাক্ত করা সম্ভব হয় তবে সেই কারন গুলো অপসারন জরুরী।
# ঝাল-মসলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলার মাধ্যমে মুখের জ্বালাপোড়া/ ব্যাথা থেকে অনেকখানি মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে।
# যদি ভিটামিনের ঘাটতি জনিত কারনে এটি হয়ে থাকলে, ভিটামিন-বি১২ সেখানে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।
# এছাড়া এলকোহল মুক্ত মাউথ ওয়াশ দিয়ে কুলকুচি করলে ও আরাম পাওয়া যাবে।
# যেসব টুথপেস্টে Sodium Lauryl Sulfet নেই সেই টুথপেস্ট ব্যবহারে ও Aphthous Ulcer জনিত ক্ষতের প্রকোপ কমে এবং ব্যাথা উপশমেও সাহায্য করে।
# তাছাড়া, সিলভার নাইট্রেট জাতীয় পেস্ট ক্ষতের উপর ব্যবহার করলে তাৎক্ষনিক ভাবে জ্বালাপোড়া ও ব্যাথার সাময়িক উপশম হয়।
# Steroid জাতিয় ঔষধ গুলো এই ধরনের ক্ষতের প্রকোপ কমাতে এবং লক্ষন গুলো প্রশমনে বেশ কার্যকর। কিন্তু Steroid এর নেতিবাচক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারনে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়।
সবশেষে একটি আশার কথা বলি। যদিও কোন কোন সমীক্ষায় দেখা গেছে ৩০% থেকে ৪০% ক্ষেত্রে রোগীদের মধ্যে ফ্যামিলি হিস্ট্রি পাওয়া যায়। অর্থাৎ একই পরিবারের একাধিক সদস্য আক্রান্ত হয়ে থাকে। কিন্তু Aphthous Ulcer রোগটি ছোঁয়াচে নয়।
আমাদের সাথেই থাকুন।
পরবর্তি পরামর্শের জন্য চোখ রাখুন, আমাদের পরবর্তি পোস্টে।