Mindset Counseling & Psychotherapy Center

Mindset Counseling & Psychotherapy Center for mental health wellbeing

((((((((((((((((((((মুড সুইং (Mood Swing)/মেজাজের আকস্মিক পরিবর্তন))))))))))))))))))))))))))))))))))মুড সুইং (Mood Swing...
17/04/2026

((((((((((((((((((((মুড সুইং (Mood Swing)/মেজাজের আকস্মিক পরিবর্তন))))))))))))))))))))))))))))))))))

মুড সুইং (Mood Swing) বলতে সাধারণত মানুষের মনের আবেগের হঠাৎ এবং তীব্র পরিবর্তনকে বোঝায়। সহজ কথায়, এই ভালো লাগছে, আবার কিছুক্ষণ পরই কোনো কারণ ছাড়াই মন খারাপ হওয়া, বিরক্ত লাগা বা রাগ অনুভূত হওয়াকে আমরা মুড সুইং বলি।

​​🔷🔷 মুড সুইং-এর প্রকারভেদ (Types of Mood Swings)
​সব মুড সুইং এক নয়। একে মূলত তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:

◼️​স্বাভাবিক (Normal): দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো ঘটনা বা হরমোনের সাধারণ ওঠানামার কারণে যা হয়। এটি কয়েক ঘণ্টা বা ১-২ দিন পর ঠিক হয়ে যায়।

◼️সাইক্লোথাইমিক (Cyclothymic): এটি অনেকটা বাইপোলারের ছোট সংস্করণ। এখানে মেজাজের পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হয় কিন্তু খুব বেশি মারাত্মক হয় না।

◼️ক্লিনিক্যাল (Clinical): এটি বাইপোলার ডিসঅর্ডার বা মেজর ডিপ্রেশনের অংশ। এখানে ব্যক্তি চরম উত্তেজনা (Mania) এবং চরম বিষাদ (Depression) এর মধ্যে যাতায়াত করে।

🔷🔷মুড সুইং হবার পিছনে কি কি কারণ থাকতে পারে?

🧿মেজাজ পরিবর্তনের মনস্তাত্ত্বিক ও জৈবিক ভিত্তি (Psychological & Biological Basis)ঃ
​আমাদের মেজাজ মূলত মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেম (Limbic System) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

🧿​সেরোটোনিন ও ডোপামিন: এই দুটি নিউরোট্রান্সমিটার আমাদের সুখ ও স্থিতিশীলতার অনুভূতি দেয়। যখন এদের ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখনই মুড সুইং দেখা দেয়।

🧿​প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স: মস্তিষ্কের এই অংশটি আমাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে। অতিরিক্ত স্ট্রেস বা ক্লান্তির কারণে যখন এই অংশটি শিথিল হয়ে পড়ে, তখন মানুষ হুটহাট রেগে যায় বা কেঁদে ফেলে।

🧿​শারীরিক অসুস্থতা: পুষ্টির অভাব, থাইরয়েডের সমস্যা বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন (কফি/চা) গ্রহণ করলেও মুড সুইং হতে পারে।

🧿নারীদের ক্ষেত্রে:নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চক্রের সময়, গর্ভাবস্থায় বা মেনোপজের সময় হরমোনের ওঠানামা মুড সুইং-এর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

🔷🔷 মুড সুইং-এর প্রধান ক্ষতিকারক দিকগুলো :

​🎆 আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্কের অবনতি
​তীব্র মুড সুইং-এর ফলে মানুষের আচরণ অনেক সময় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। হুটহাট রাগ বা বিরক্তি প্রকাশ করার কারণে পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং জীবনসঙ্গীর সাথে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং একাকীত্বের জন্ম দেয়।

​🎆পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব
​কর্মক্ষেত্রে মনোযোগের অভাব এবং মেজাজের ভারসাম্যহীনতা কাজের গুণমান কমিয়ে দেয়। সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, যা ক্যারিয়ারের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করে এবং অনেক ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের ঝুঁকি তৈরি করে।

​🎆 শারীরিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি
​দীর্ঘদিন মুড সুইং-এর মধ্য দিয়ে গেলে শরীরের ওপর প্রচণ্ড ধকল যায়। এর ফলে:
--​-অনিদ্রা: ঘুমের চক্র নষ্ট হয়ে যাওয়া।
---​ক্লান্তি: সারাক্ষণ অবসাদগ্রস্ত অনুভব করা।
---​পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা: হজমে সমস্যা বা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন হওয়া।

​🎆 ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা
​আবেগের চরম পর্যায়ে (যেমন: প্রচণ্ড উত্তেজিত বা অত্যন্ত বিষণ্ণ অবস্থায়) মানুষ অনেক সময় হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়। আর্থিক ক্ষতি, আইনি জটিলতা বা ভুল মানুষের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার মতো ঘটনাগুলো এই সময়েই বেশি ঘটে।

​🎆 মানসিক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি
​মুড সুইং যদি দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা করা না হয়, তবে এটি জটিল মানসিক রোগের রূপ নিতে পারে। যেমন:
---Clinical Depression
---Anxiety Disorder
​---Bipolar Disorder

​🎆 আত্মবিশ্বাসের অভাব
​বারবার মেজাজ পরিবর্তন হওয়ার ফলে ব্যক্তি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে বলে মনে করে। এতে করে আত্মমর্যাদাবোধ (Self-esteem) কমে যায় এবং এক ধরণের অপরাধবোধ কাজ করতে শুরু করে।

🔷🔷মুড সুইং নিয়ন্ত্রণের কৌশলগুলোকে নিম্নে চারটি ভাগে ভাগ করে দেখানো হল-

🌌(1)জীবনযাত্রায় পরিবর্তন
🌌(2) মনস্তাত্ত্বিক কৌশল
🌌(3)তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা
🌌(4)চিকিৎসা সেবা

নিচে বিস্তারিত কৌশলগুলো আলোচনা করা হলো:

🌌(1)জীবনযাত্রায় পরিবর্তন (Lifestyle Adjustments):
​মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য ঠিক রাখতে শারীরিক সুস্থতা অপরিহার্য।

(i)​পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম: প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। ঘুমের অনিয়ম মেজাজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোকে বাধাগ্রস্ত করে।

(ii)​সুষম খাদ্যাভ্যাস: রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে নিয়মিত বিরতিতে পুষ্টিকর খাবার খান। অতিরিক্ত চিনি বা ক্যাফেইন (চা/কফি) এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো সাময়িক উদ্দীপনা দিলেও পরে মেজাজকে দ্রুত খিটখিটে করে দেয়।

(iii)​শারীরিক ব্যায়াম: নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা শরীরচর্চা করলে শরীর থেকে 'এন্ডোরফিন' হরমোন নিঃসৃত হয়, যা প্রাকৃতিকভাবেই মন ভালো রাখে।

🌌(​2)মনস্তাত্ত্বিক কৌশল (Psychological Strategies):
​মানসিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

(i)মুড ট্র্যাকিং (Mood Tracking): ডায়েরি বা ফোনে নোট রাখুন যে কখন আপনার মেজাজ খারাপ হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, পরিস্থিতি বা সময় এর জন্য দায়ী কি না তা চিহ্নিত করতে পারলে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।

(ii)কগনিটিভ রিফ্রেমিং (Cognitive Reframing): নেতিবাচক কোনো চিন্তা মাথায় এলে নিজেকে প্রশ্ন করুন।"আমি যা ভাবছি তা কি আসলেও সত্যি?" এভাবে চিন্তার ধরন পরিবর্তন করলে আবেগের তীব্রতা কমে আসে।

(iii)স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: কাজের চাপ বা ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচতে নিয়মিত বিরতি নিন। প্রয়োজনে নিজের পছন্দের কোনো শখের কাজে সময় দিন।

🌌(3) তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা (Immediate Coping Skills):
​যখন অনুভব করবেন মেজাজ খুব বেশি খারাপ হচ্ছে, তখন এই কৌশলগুলো প্রয়োগ করতে পারেন:

(i)​গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস (Deep Breathing): ৪ সেকেন্ড বুক ভরে শ্বাস নিন, ৪ সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং ৪ সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এটি আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে তাৎক্ষণিক শান্ত করবে।

(ii)৫-৪-৩-২-১ গ্রাউন্ডিং টেকনিক: আশেপাশে থাকা ৫টি দৃশ্যমান বস্তু, ৪টি শব্দ, ৩টি স্পর্শযোগ্য জিনিস, ২টি ঘ্রাণ এবং ১টি স্বাদের দিকে মনোযোগ দিন। এটি আপনাকে বর্তমান মুহূর্তে ফিরে আসতে সাহায্য করবে।

(iii)স্থান পরিবর্তন (Physical Distancing): যদি কোনো বিশেষ পরিবেশে বিরক্তি লাগে, তবে সাময়িকভাবে সেখান থেকে সরে গিয়ে একটু খোলা জায়গায় যান।এতে মানসিক চাপ কমে।

(iv​)প্রিয়জনের সাথে কথা বলা: বিশ্বস্ত কারো সাথে মনের কথা শেয়ার করলে মানসিক বোঝা হালকা হয়।

🌌(4)​চিকিৎসা সেবা (treatment process) :
যদি মুড সুইং আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দৈনন্দিন জীবনে বাধা সৃষ্টি করে, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

(i)কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি :
​যখন মুড সুইং আপনার মানসিক প্রশান্তি ও কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়, তখন সাইকোথেরাপি বা কাউন্সেলিং কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে:

🥊আবেগ নিয়ন্ত্রণে অক্ষমতা: যদি অনুভব করেন যে আপনি নিজের রাগ, দুঃখ বা উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না।

🥊সম্পর্কের অবনতি: মেজাজের কারণে যদি পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের সাথে বারবার ঝগড়া বা ভুল বোঝাবুঝি হয়।

🥊কাজে ব্যাঘাত: অফিসে বা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে সমস্যা হলে কিংবা উৎপাদনশীলতা কমে গেলে।

🥊অনিদ্রা বা অতিরিক্ত ঘুম: মুড সুইংয়ের কারণে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হলে।

🥊খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: মানসিক অবস্থার কারণে খিদে একদম কমে যাওয়া বা খুব বেশি বেড়ে যাওয়া।

🥊অতীতের কোনো ট্রমা: যদি পুরনো কোনো কষ্টদায়ক স্মৃতি বা ট্রমা থেকে বর্তমান মুড সুইংয়ের উৎপত্তি হয়।

(​ii)মেডিসিন:
​মুড সুইং যখন কোনো বড় ধরনের ক্লিনিক্যাল সমস্যার লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়, তখন ঔষধের প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণত নিচের পরিস্থিতিতে মেডিসিন কার্যকর।

🥊দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্ণতা: টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় মন খারাপ থাকা এবং কোনো কিছুতেই আনন্দ না পাওয়া।

🥊বাইপোলার ডিসঅর্ডারের লক্ষণ: যদি মুড সুইং অত্যন্ত তীব্র হয়—কখনো প্রচণ্ড এনার্জি ও আত্মবিশ্বাস (Mania), আবার কখনো চরম হতাশা বা আত্মহত্যার চিন্তা (Depression) দেখা দেয়।

🥊শারীরিক লক্ষণ: যদি মুড সুইংয়ের সাথে বুক ধড়ফড় করা, শ্বাসকষ্ট, হাত-পা কাঁপা বা তীব্র প্যানিক অ্যাটাক হয়।
​হরমোনাল সমস্যা: নারীদের ক্ষেত্রে থাইরয়েডজনিত গুরুতর সমস্যার কারণে মুড সুইং হলে গাইনোকোলজিস্ট বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের পরামর্শে ঔষধের প্রয়োজন হতে পারে।

🥊দৈনন্দিন কাজ স্থবির হয়ে পড়া: যখন থেরাপি বা কাউন্সেলিং করার মতো মানসিক শক্তিও অবশিষ্ট থাকে না, তখন ঔষধের মাধ্যমে মস্তিষ্ককে স্থিতিশীল করা হয়।

🔷🔷​এটি একটি সমন্বিত পদ্ধতি:

​মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপি এবং মেডিসিন অনেক সময় একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

(১)মনোবিজ্ঞানী (Psychologist)/সাইকোথেরাপিস্ট(Psychotherapist):
তিনি রোগীর চিন্তার ধরণ পরিবর্তন এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের কৌশল যেমন-CBT শেখাবেন।

(​২)মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist): তিনি রোগীর লক্ষণ দেখে যদি প্রয়োজন মনে করেন তবে ওষুধ দেবেন।
....ফৌজিয়া শারমীন হোসেন
অনার্স (মনোবিজ্ঞান),
এম.এস(কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞান),
সাইকোথেরাপি (ডি.এম.সি.এইচ,এন.আই.এম.এইচ, টি.এ,সি.বি.টি,টি.এস.সি,ডি.ইউ)
এস.এফ.এস.সি(লন্ডন)

★★প্রধান শাখাঃ
মাইন্ডসেট সাইকোথেরাপি এন্ড কাউন্সেলিং সেন্টার।
ঠিকানা -৬৯/বি গ্রীনরোড, পূর্ব পান্থপথ(মানোয়ারা প্লাজা-নাদিয়া ফার্নিচারের বিল্ডিং)(পানি ভবনের ঠিক উল্টো পাশে এবং সুবাস্তু টাওয়ারের পাশের বিল্ডিং) ঢাকা-১২০৫.

★★দ্বিতীয় শাখাঃ
৫১/এফ হামিদ উদ্দিন রোড(কলেজ রোড)
কাচিজুলি, ময়মনসিংহ।

মোবাইল:01711345291,01991333503

(((((((((Anxious Rumination /দুশ্চিন্তার চক্র)))))))Anxious Rumination হলো এমন একটি মানসিক অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি ভব...
17/04/2026

(((((((((Anxious Rumination /দুশ্চিন্তার চক্র)))))))

Anxious Rumination হলো এমন একটি মানসিক অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি ভবিষ্যতে ঘটতে পারে এমন কোনো সম্ভাব্য বিপদ বা নেতিবাচক ফলাফল নিয়ে অবিরত চিন্তা করতে থাকেন। একে সহজ ভাষায় আমরা " ভবিষ্যতের জন্য জাবর কাটা" বলতে পারি।

​Anxious Rumination মূলত ভবিষ্যতের ভয় এবং অনিশ্চয়তা নিয়ে আবর্তিত হয়।

🌉🎆এই অবস্থায় ব্যক্তির চিন্তার ধরণ সাধারণত নিচের বিষয়গুলো দ্বারা প্রভাবিত হয়-

◾"What If" বা "যদি এমন হয়" চিন্তা: মাথায় সবসময় কাজ করে— "যদি আমি পরীক্ষায় ফেল করি?"
◾"যদি ইন্টারভিউতে ভুল কিছু বলে ফেলি?"
◾"যদি প্রিয়জন আমাকে ছেড়ে চলে যায়?"

♣️বিপর্যয়মূলক চিন্তা (Catastrophizing): ছোট কোনো সমস্যাকে বিশাল বড় বিপদে রূপ দিয়ে কল্পনা করা। যেমন: সামান্য মাথাব্যথা হলে ভাবা যে এটি বড় কোনো রোগ।

♣️অনিশ্চয়তা সহ্য করতে না পারা: ভবিষ্যতে কী হবে তা নিশ্চিতভাবে জানার জন্য তীব্র ব্যাকুলতা কাজ করে, যার ফলে মস্তিষ্ক সম্ভাব্য সব খারাপ পরিস্থিতির কথা ভাবতে থাকে।

♣️একই চক্রে আটকে থাকা: ব্যক্তি বারবার সমাধানের কথা ভাবেন, কিন্তু কোনো কার্যকরী সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন না। একই ভয়ের চিন্তা চক্রাকারে ঘুরতে থাকে।

🌉🎆​এর ক্ষতিকারক দিকগুলো কী কি?
​Anxious Rumination দীর্ঘস্থায়ী হলে তা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।যেমন-

🧿মানসিক অবসাদ ও ক্লান্তি: সবসময় দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকায় মস্তিষ্ক কখনো বিশ্রাম পায় না, যা একজন ব্যক্তিকে মানসিকভাবে পুরোপুরি নিঃশেষ করে দেয়।

🧿শারীরিক সমস্যা: অতিরিক্ত উদ্বেগের ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, হজমের সমস্যা, মাথা ধরা এবং ঘুমের ব্যাঘাত (Insomnia) দেখা দেয়।

🧿মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা হ্রাস: বর্তমানের কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত চিন্তার কারণে সাধারণ সিদ্ধান্ত নিতেও অনেক সময় লাগে (Decision Paralysis)।

🧿আত্মবিশ্বাসের অভাব: সবসময় খারাপ কিছু ঘটার ভয় কাজ করায় ব্যক্তি নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নিতে ভয় পান এবং নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন।

🧿সম্পর্কের অবনতি: অনেক সময় নিজের অস্থিরতা বা অহেতুক ভয়ের কারণে আশেপাশের মানুষের সাথে ভুল বোঝাবুঝি বা খিটখিটে মেজাজ তৈরি হতে পারে।

​সংক্ষেপে, Anxious Rumination একজন মানুষকে বর্তমান মুহূর্ত থেকে সরিয়ে নিয়ে কাল্পনিক এক ভয়ের জগতে আটকে রাখে, যা তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে।

🌉🎆 Anxious Rumination বা দুশ্চিন্তার চক্র ভাঙার উপায়গুলো সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হলো:

◼️সচেতনতা: দুশ্চিন্তার চক্র শুরু হওয়া মাত্রই তা চিহ্নিত করুন এবং নিজেকে বলুন যে এটি কেবল একটি মানসিক চক্র, বাস্তব কোনো সমাধান নয়।

◼️নির্দিষ্ট সময় (Worry Time): সারাদিন দুশ্চিন্তা না করে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় (যেমন ১৫ মিনিট) বরাদ্দ রাখুন।

◼️গ্রাউন্ডিং (৫-৪-৩-২-১): বর্তমান মুহূর্তে ফিরতে ৫টি দৃশ্যমান বস্তু, ৪টি স্পর্শ, ৩টি শব্দ, ২টি ঘ্রাণ এবং ১টি স্বাদের দিকে মনোযোগ দিন।

◼️চিন্তাকে প্রশ্ন করা: ভয়ের স্বপক্ষে প্রমাণ খুঁজুন এবং নিজেকে প্রশ্ন করুন— "আমি কি এমন কিছু নিয়ে ভাবছি যা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই?"

◼️গ্রহণযোগ্যতা (Acceptance): ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ও যা আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই, তা মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করুন।

◼️সুস্থ জীবনযাপন: নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত (৭-৮ ঘণ্টা) ঘুম নিশ্চিত করুন, যা মস্তিষ্কের অস্থিরতা কমায়।

◼️পেশাদার সাহায্য: সমস্যাটি প্রকট হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে CBT বা কাউন্সিলিং গ্রহণ করুন।

​এক কথায়— সচেতনতা, বর্তমান মুহূর্তে থাকা এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরের বিষয়গুলো মেনে নেওয়াই এর প্রধান সমাধান।

-----ফৌজিয়া শারমীন হোসেন
অনার্স (মনোবিজ্ঞান),
এম.এস(কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞান),
সাইকোথেরাপি (ডি.এম.সি.এইচ,এন.আই.এম.এইচ, টি.এ,সি.বি.টি,টি.এস.সি,ডি.ইউ)
এস.এফ.এস.সি(লন্ডন)

(কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট ও সাইকোথেরাপিস্ট)

14/04/2026
।।।।।।।পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার ।।।।।।।।পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার  বা ব্যক্তিত্বের বিকৃতি হল এক ধরণের মানসিক রোগ, যা আপনার চি...
13/03/2026

।।।।।।।পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার ।।।।।।।।

পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার বা ব্যক্তিত্বের বিকৃতি হল এক ধরণের মানসিক রোগ, যা আপনার চিন্তা-ভাবনা এবং আচরণকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে একজন ব্যক্তির সামাজিক ক্রিয়াকলাপে অসন্তুষ্টি, কর্মে বাধা এবং সম্পর্কে অবনতি সৃষ্টি হয়।

ব্যক্তিত্বের বিকৃতিগুলি সাধারণত কিশোর বয়সে বা যৌবনের প্রথম দিকে শুরু হয়। ব্যক্তিত্বের এই বিকৃতিগুলোকে সাধারণত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলোকে বলা হয় ‘ক্লাস্টার’।যথা-

১) ক্লাস্টার ‘এ’
২)ক্লাস্টার ‘বি’
৩)ক্লাস্টার ‘সি’

আবার

ক্লাস্টার ‘এ’> ৪ টি ভাগ
ক্লাস্টার ‘বি’ >৩ টি ভাগ
ক্লাস্টার ‘সি'>৪ টি ভাগ

★নিম্নে তা সাজানো হল।



[প্যারানয়েড PD
১) ক্লাস্টার ‘এ’ ---|সিজয়েড PD
[সিজোটাইপালPD

|অ্যান্টিসোশ্যাল PD
|বর্ডারলাইনPD
২)ক্লাস্টার ‘বি’ |হিস্ট্রিয়োনিকPD
[ নার্সিসিস্টিকPD

[অবসেসিভ-কমপালসিভ PD
৩) ক্লাস্টার ‘সি' ---|এভয়ডেন্টPD
[ডিপেনডেন্টPD

★বর্ণনা★

১) ক্লাস্টার ‘এ

i)প্যারানয়েড পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারঃ

এই ধরনের ব্যক্তিত্বের লোকেরা অহেতুক সন্দেহপ্রবণ (কাউকে সহজে বিশ্বাস করতে চায় না), পরশ্রীকাতর, অনুভূতিপ্রবণ, অন্যের প্রতি প্রায়ই বিরক্ত এবং অসন্তুষ্ট থাকে। এরা সব সময় অন্যদের থেকে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে থাকে। এ ধরনের ব্যক্তিত্ব সাধারণত নারীর তুলনায় পুরুষের মধ্যেই বেশি দেখা যায়।

ii)সিজয়েড পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারঃ

এই ধরনের ব্যক্তিত্বের লোকদের আবেগ কম থাকে,এরা একা থাকতে পছন্দ করে,এদের মধ্যে আনন্দের অনুভূতি কম থাকে তবে এদের অন্তর্দৃষ্টি অন্যদের চাইতে বেশি থাকে।এরা নিজেদেরকে নিয়ে সব সময় খুব কনফিডেন্ট থাকে। যে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে অন্যের হস্তক্ষেপ নেয়া এরা পছন্দ করেনা। সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের ব্যাপারে এরা সর্বদাই উদাসীন।

iii)সিজোটাইপাল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারঃ

এ ধরনের ব্যক্তিত্বের লোকেরা সামাজিকতা এড়িয়ে চলে এবং সামাজিক উদ্বিগ্নতায় ভোগে।তারা মনে করে অনেক সময় যে তারা অন্যের মনের কথা বুঝতে পারে। এছাড়াও মনে করে যে,অন্যেরা তাকে নিয়ে সমালোচনা করে।তারা অনেকটাই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে থাকে। তাদের কথোপকথনে অসামঞ্জস্যতা থাকতে পারে। নিজেদের অন্যের সামনে তুলে ধরতে তারা বেশ অপ্রস্তুত থাকে।

২)ক্লাস্টার ‘বি’

i)অ্যান্টিসোশ্যাল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারঃ

এ ধরনের ব্যক্তিত্বের বিকৃতি সাধারণত আঠারো বছরের আগে হয় না। এই ডিসঅর্ডারের আক্রান্ত ব্যক্তির আচরণ খুব খারাপ হয়, মেজাজ হয় খিটখিটে।অন্যের প্রতি এদের কোনো সহানুভূতি থাকে না।এরা যত অপরাধই করুক না কেন, এদের মধ্যে কোনো অপরাধবোধ কাজ করে না। এরা পারিবারিক ও সামাজিক সকল দায়- দায়িত্ব এড়িয়ে চলতে পছন্দ করে।

ii)বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারঃ

বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার সাধারণত শৈশবকাল থেকেই শুরু হয়।এ ধরনের ব্যক্তিত্বের লোকেরা একাকীত্বকে ভয় পায়।এরা থাকে অস্থির প্রকৃতির।এদের মধ্যে মুড সুইং (ঘন মেজাজের পরিবর্তন)খুব বেশি পরিমাণে হয় যার দরুন প্রিয়জনও তার কাছ থেকে দূরে সরে যেতে পারে। এরা প্রায়ই বিভিন্ন উপায়ে নিজের ক্ষতি করে ফেলে।যেমন -এরা আবেগ দমন করতে পারে না, ব্লেড দিয়ে নিজের হাত কেটে ফেলে।


iii)হিস্ট্রিয়োনিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারঃ

এ ধরনের ব্যক্তিত্বের লোকেরা অন্যের মনোযোগ
পেতে ভালোবাসে।শারীরিক সৌন্দর্যকে এরা বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে।অন্যকে প্রভাবিত করার একটি দারুণ ক্ষমতা এদের আছে আর সেটি ইতিবাচক বা নেতিবাচক উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে। তবে এ ধরনের ব্যক্তিত্বের লোকেট অনুভূতিগুলো খুব একটা গভীর নয়।তবে এরা খুব সহজেই অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়। যে কোনো আলোচনার মধ্যমনীতে নিজেকে রাখার জন্য এরা সব কিছু করতে পারে।এই ব্যক্তিত্বের অধিকারী বেশিরভাগই নারী।

iv)নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারঃ

নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারের নামটি শুনলেই গ্রীক পুরাণের আত্মপ্রেমি এক যুবক নার্সিসাস এর কথা মনে পড়ে যায়।এ ধরনের ব্যক্তিত্বের লোকেরা নিজেকে সবার চেয়ে বেশি ভালোবাসে।নিজেকে এরা অনেক বড় মনে করে এবং অন্যদের চেয়ে আলাদা ভাবে। এরা কিছুটা স্বার্থপর ও হিংসুটে স্বভাবের হয়ে থাকে।নিজেদের ক্ষমতা সম্পর্কে এরা অনেক উচ্চ ধারণা পোষণ করে।অন্যের মতামতের মূল্য এদের কাছে নগণ্য।বর্তমান জেনারেশনে নার্সিসিজম খুবই কমন একটা বিষয় কিন্তু তারপরেও একে পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার বলা হয়ে থাকে।
এরা সর্বদা অন্যের কাছে প্রশংসা চায়।

৩) ক্লাস্টার ‘সি'

i)অবসেসিভ-কমপালসিভ পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারঃ
এ ধরনের ব্যক্তিত্বের লোকেরা নিয়মনীতি কঠোরভাবে মেনে চলতে চায়। এরা সবকিছুতে পারফেকশন খুঁজে বেড়ায় এবং এদের স্বভাব থাকে খুঁতখুঁতে। এ ধরনের ব্যক্তিত্বের লোকেরা কাজ করতে বেশি পছন্দ করে। অন্যকে সন্দেহ করা এবং নিজেকে সতর্ক রাখাও এদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এরা চায়,অন্যেরা তার নির্দেশনা অনুযায়ী চলবে। নিজের চিন্তাভাবনা ও যুক্তি সঠিক না হলেও তারা তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অটল থাকে।

ii)এভয়ডেন্ট পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারঃ

এ ধরনের ব্যক্তিত্বের লোকেরা সব সময় টেনশনে ভুগে থাকে।এদের মধ্যে প্রচুর হীনমন্যতা কাজ করে।এরা সর্বদা ভাবে, অন্যরা তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। অনেকের মধ্যে থাকলেও এরা নিজেদেরকে একা ভাবে। নিজের দায়িত্ব নিতে এরা সব সময় ভয় পায়।সামাজিক কর্মকাণ্ডে এরা সাধারণত সংযুক্ত হয় না এবং যেকোন নতুন কাজে যুক্ত হবার ঝুঁকি নিতেও এরা ভয় পায়।

iii)ডিপেনডেন্ট পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারঃ

এ ধরনের ব্যক্তিত্বের লোকেরা অন্যের উপর অতিরিক্ত নির্ভর করে থাকে অর্থাৎ এরা ভীষণ পরনির্ভরশীল হয়।তাদের মধ্যে বিশ্বাস জাগ্রত হয় যে তারা অন্যের সাহায্য ছাড়া একেবারে চলতে পারবে না। অন্যের সাহায্য ছাড়া কিভাবে চলা সম্ভব তারা এই জাতীয় সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যার সম্মুখীন হয়।

ভাল করে দেখুনতো আপনি কোন শ্রেনীতে আছেন কি??

ফৌজিয়া শারমীন হোসেন
অনার্স (মনোবিজ্ঞান),
এম.এস(কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞান),
সাইকোথেরাপি (ডি.এম.সি.এইচ,এন.আই.এম.এইচ, টি.এ,সি.বি.টি,টি.এস.সি,ডি.ইউ)
এস.এফ.এস.সি(লন্ডন)

(কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট ও সাইকোথেরাপিস্ট)

√√প্রধান শাখা-ঢাকার সেন্টারের ঠিকানাঃ
মাইন্ডসেট সাইকোথেরাপি এন্ড কাউন্সেলিং সেন্টার,
৬৯/বি গ্রীনরোড,পান্থপথ(মনোয়ারা প্লাজা -৫ম তলা), ঢাকা-১২০৫।

√√আমাদের দ্বিতীয় শাখাঃ
মাইন্ডসেট সাইকোথেরাপি এন্ড কাউন্সেলিং সেন্টার
৫১/এফ হামিদ উদ্দিন রোড(কলেজ রোড)
কাচিজুলি, ময়মনসিংহ।

সাইকোথেরাপির জন্য সিরিয়াল নিতে যোগাযোগ করুনঃ-01991333503,01405757678

সোমাটােফ্রম ডিজঅর্ডার:মানসিক রোগে যেখানে শারীরিক রোগের আবির্ভাব ঘটে: ৩ মে,২০১৩। ৩১০ নং ওয়ার্ড।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল...
15/02/2026

সোমাটােফ্রম ডিজঅর্ডার:মানসিক রোগে যেখানে শারীরিক রোগের আবির্ভাব ঘটে:

৩ মে,২০১৩। ৩১০ নং ওয়ার্ড।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাইকিয়াট্রি বিভাগের ৩১০ নং ওয়ার্ড -এ দাঁড়িয়ে আমি ।রোগীর নাম পেয়ারা বানু(ছদ্ম নাম),বয়স -৫০।বাড়ি- চাঁদপুর।১৪ দিন যাবৎ মহিলাটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।যেহেতু ঐ মহিলার সাইকোথেরাপির দায়িত্বটা আমার হাতে পড়েছে,তাই তার সম্পর্কে জানাটা ছিল একান্তই জরুরী।হাসাতালে উপস্থিত ছিল তার স্বামী -মজিদ মিয়া ও তার মেয়ের জামাই।আমি তার ফাইলটা হাতে নিলাম।

★It was a case of somatoform disorder/somatic symptom disorder/somatization disorder ....

সোমাটিক সিম্পটম ডিজঅর্ডার এমন এক ধরনের মানসিক রোগ, যেখানে ব্যক্তির মধ্যে কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় কিন্তু মেডিক্যাল টেস্ট আসে স্বাভাবিক। ফলে তা দিয়ে কোন রোগ ব্যাখ্যা করা যায় না।এর দরুন, সে কোন শারীরিক রোগে আক্রান্ত কিনা তাও চিহ্নিত করা যায় না।

√√Chief Complain(প্রধান সমস্যাসমূহ)ঃ

Sleep-Normal(ঘুম-স্বাভাবিক)
Appetite-Normal..(ক্ষুধা -স্বাভাবিক)
Feeling headache... (মাথা ব্যথা)
Restlessness..... (অশান্তি)
Neck pain....(ঘাড় ব্যথা)
joint pain(গিড়ায় ব্যাথা)
Forgetfulness (ভুলে যাওয়া)

√SpeechঃNormal(স্বাভাবিক)
√MoodঃDepressed(বিষন্ন)
√ThoughtঃSuicidal Ideation(আত্মহত্যা প্রবণতা)

নিয়ম অনুযায়ী সমানুভূতি দিয়ে আমি তার সাথে পরিচয় পর্ব শেষ করে নিলাম।কথা বলার সময়ও মহিলাটি তার মাথা,গলা,চাপা ও ঘাড়ে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করছিল।আমি প্রথমেই তাকে দশবার শ্বাস এর ব্যায়াম করিয়ে নিলাম। এতে সে কিছুটা ভাল বোধ করল।অতঃপর বিষন্নতা ও উদ্ধিগ্নতার স্কেল মেপে দেখি দুটোই ছিল সর্বোচ্চে।


হিস্ট্রি নিতে গিয়ে দেখা গেল-১৯৭৫ সালে পেয়ারা বানুর বিয়ে হয়।সংসার জীবনের প্রথম দিকে সে মোটামুটি সুখী ছিল।পেয়ারা বানুর ছিল চার মেয়ে এবং এক ছেলে । তার বয়স যখন আট বছর, সেই সময় তার বাবা মারা গিয়েছিল। দেড় বছর আগে সে তার মাকে হারিয়েছে।সন্তানদের সাথে তার সম্পর্ক ভালোই ছিল।গত সাতটি বছর ধরে তার স্বামী তাকে মানসিকভাবে প্রচন্ড অত্যাচার করছে।একই পাড়ার এক ভাবীর বাসায় (ভাবীর স্বামী বিদেশ থাকতো) সে তার স্বামীকে যেতে সর্বদাই বারণ করতো।তবু মজিদ মিয়া ঐ বাসায় প্রচুর আসা-যাওয়া করতো।পেয়ারা বানু কিছু বললে তাকে বাপ-মা তুলে গাল-মন্দ করা হতো এবং নানান ভাবে মানসিক নির্যাতন করত।যখন পেয়ারা বানুর একমাত্র ছেলে বিয়ে করে বাড়ি ছেড়ে দূরে চলে গেল,এরপর থেকে তার উপর শারীরিক নির্যাতন করা শুরু হল।মেয়েরাও শত চেষ্টা করে বাবাকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি।ধীরে ধীরে মজিদ মিয়া সংসারের সকল দায়-দায়িত্ব ছেড়ে দিল। এরপর থেকে পেয়ারা বানুর প্রায়ই আত্মহত্যা করতে মন চাইতো।সে খুব বেশি একাকীত্ব অনুভব করতো।আরো মনে হতো, সহযোগীতা করার মত তার কেউ নেই।যে আসে তার কাছে, মন থেকে আসে না-আসে স্বার্থের জন্য।গত সাড়ে ছয় বছর ধরে পেয়ারা বানুর মধ্যে এই রোগের লক্ষ্মণগুলো দেখা যাচ্ছে।প্রথমদিকে এই লক্ষ্যণগুলো এত তীব্রাকারে ছিল না।ধীরে ধীরে এগুলো তীব্রাকার ধারণ করেছে।

((((((সোমাটােফ্রম ডিজঅর্ডারের লক্ষণ/উপসর্গ))))))

★মাথাব্যথা
★ শারীরিক দুর্বলতা
★ ক্লান্তি
★বুকব্যথা
★পিঠে ব্যাথা
★গিড়ায় ব্যাথা
★বমিভাব
★ পেটে অস্বস্তি
★হাত পা অবশ লাগা
★চোখে ঝাপসা দেখা
★কানে শব্দ হওয়া
★গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি
★শ্বাসকষ্ট
★হাতের তালু-পায়ের তালুতে জ্বালা-পোড়া
★খাওয়ার অরুচিবোধ
★পায়খানায় রাস্তায় ব্যাথা
★প্রসাবের রাস্তায় ব্যাথা
★যৌন মিলনের সময় ব্যাথা
★ঢোক গিলতে অসুবিধা হওয়া
★অলীক কিছু দেখা বা শুনা
★স্মৃতি লোপ পাওয়া
★চোখে দুইটা করে জিনিস দেখা
★মাঝে মাঝে অজ্ঞানের মত হওয়া
★অনিয়মিত অতিরিক্ত রক্তস্রাব
★যৌন চাহিদা কমে যাওয়া

উপরোক্ত উপসর্গগুলোর সবগুলোই একাধারে একজনের মধ্যে থাকে না।একজন ব্যক্তির মধ্যে একাধারে ৬-৮ টা উপসর্গ বিদ্যমান থাকে। এসব উপসর্গের স্থায়ীত্ব ৬ মাস বা তার বেশি সময় ধরে দেখা গেলে তা সোমাটাইজেশন ডিজঅর্ডার হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে উপসর্গ হিসেবে ব্যথার অবস্থান সবার প্রথমে। আবার অল্পবয়সীদের বেশি হয় পেটে ব্যথা, নারীদের ক্ষেত্রে বেশি হয় তলপেটে ব্যথা।

((((((((((সোমাটাইজেশন ডিজঅর্ডারের কারণ))))))))

√পারিবারিক ইতিহাস
√দীর্ঘমেয়াদী কোন শারীরিক বা মানসিক রোগ
√অতীতের কোন আঘাত
√নিম্ন স্তরের শিক্ষা
√সামাজিকভাবে কোন চাপের শিকার
√সমস্যা-পূর্ণ শৈশবের ইতিহাস
√অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা
√তিলকে তাল মনে করা

(((((((((((((এ রোগের ক্ষতিকর দিক))))))))))))))))))))

চিকিৎসা না করালে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব এবং সারাজীবনব্যাপী এর জন্য পস্তানো লাগতে পারে। এর সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিকগুলো হচ্ছে --

★রোগীর ব্যক্তিগত,পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের স্বাভাবিকতা মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়।

★বার বার ভুল অপারেশন ও ঔষধ প্রয়োগের কারণে অবস্থা জটিল থেকে জটিলতর হতে পারে।

★চরম আর্থিক ক্ষতি হয়।

★ক্ষেত্র বিশেষে ডিভোর্সের ঘটনাও ঘটে থাকে।

★অনেক সময় রোগী যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

(((((((((((((((((এ রোগের চিকিৎসা)))))))))))))))))))))

1)মেডিসিন

2)সাইকোথেরাপি

2-i)রোগীর মধ্যে যেসব ভ্রান্ত ধারণা থাকে কিংবা রোগীর আচরণগত কোন ত্রুটি থাকলে তা দূর করার জন্য Cognitive Behavioural Therapy ব্যবহার করা হয়। ।

2-ii)ট্রান্জেক্সনাল এ্যানালাইসিস করে রোগীর অতীত আর বর্তমান সম্পর্কে জানা যায়।

2-iii)বর্তমানের সাথে যাতে রোগী খাপ খেয়ে যেতে পারে, এর লক্ষ্যে রেশনাল ইমোটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি ব্যবহার করা হয়।

2-iv) মানসিক চাপ দূর করতে রোগীকে কাউন্সেলিং করা হয়।

2-v)রোগীকে Relaxation Training শেখাতে হয়।

2-vi)রোগীর পরিবারের সদস্যদের এ রোগ সম্পর্কে সাধারণ ধারণা দেওয়া হয়, যাতে তারা রোগীকে এ ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করতে পারেন। একে বলে Family Therapy.

------ফৌজিয়া শারমীন হোসেন
অনার্স (মনোবিজ্ঞান),
এম.এস(কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞান),
সাইকোথেরাপি (ডি.এম.সি.এইচ,এন.আই.এম.এইচ, টি.এ,সি.বি.টি,টি.এস.সি,ডি.ইউ)
এস.এফ.এস.সি(লন্ডন)

(কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট ও সাইকোথেরাপিস্ট)

ঠিকানাঃ
মাইন্ডসেট সাইকোথেরাপি এন্ড কাউন্সেলিং সেন্টার

★★প্রধান শাখাঃ

৬৯/বি গ্রীনরোড,পান্থপথ(মনোয়ারা প্লাজা -৫ম তলা), ঢাকা-১২০৫।
(প্রতি মাসের ১ম,৩য় ও ৪র্থ সপ্তাহে রোগী দেখা হয়)

★★দ্বিতীয় শাখা ঃ
৫১/এফ হামিদ উদ্দিন রোড(কলেজ রোড)
কাচিজুলি, ময়মনসিংহ।
(প্রতি মাসের ২য় সপ্তাহে রোগী দেখা হয়)

Call for appointment :
01711345291,01991333503

Address

69/B GreenRoad, East Panthapath(Monowara Plaza-4th Floor)
Dhaka
1205

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mindset Counseling & Psychotherapy Center posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share