28/12/2025
শীতকাল আমাদের দেশে খুব বেশি ঠান্ডা না। ইনফ্যাক্ট, এটা কোনো ঠান্ডাই না।বরফ পড়া শীত বা মাইনাস টেম্পারেচার হয় না বাংলাদেশে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে। আমাদের দেশে যেই হালকা শীত পড়ে তা সহজে সামাল দেওয়া যায়। কিছু চালাকি আছে সামাল দেয়ার জন্য যেটা অনেকের জানা নেই।
💥 এই পাতলা শীত সামাল দিবেন যেভাবে -
১. গ্রীন টি খাবেন। দুই কাপ। গ্রীন টি শরীরকে গরম রাখে তাই তাপ মাত্র নামলেও আপনার শরীর অ্যাডজাস্ট করতে থাকবে ঠান্ডার সাথে। শরীর গরম থাকবে। 👍
২. বুট জুতা বা জুতা আর লম্বা মুজা যদি পায়ে রাখেন শুধু স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে ঘুরে না বেড়ায়, তাহলে অর্ধেক শীত নাই হয়ে যাবে। 👍
৩. এটা করতেই হবে = ব্যায়াম করতে হবে বেশি করে, অলস লাগলেও। কারণ ব্যায়াম করলে একে তো ক্যালোরি পুড়েই, আবার শরীর গরম থাকে। শীত গায়ে কম লাগবে। এর পাশা পাশি অন্যান্য কাজ করবেন। মোট কথা, এক্টিভ থাকলে শীত ধরবেনা আপনাকে। 👍
৪. এটা খুব জরুরি - সকালে আর সন্ধ্যায় ঠান্ডা পানি দিয়ে হাত, পা আর মুখ ধুবেন। প্রথমে কষ্ট হলেও ঠান্ডা ঠান্ডা পানিতে অভস্থ হলে আপনার শীত কম লাগবে।
কিন্তু গোসল করবেন কুসুম গরম পানি দিয়ে। 👍
৫. বাইরে সূর্যের আলো আর শীতের বাতাস গায়ে মাখবেন। প্রতিদিন করবেন একটু করে। হয় আপনার ছাদে বা বারান্দা অথবা রাস্তা বা পার্ক, যেখানে সুবিধা হয়। শীত কালে ভিটামিন ডি নিয়ে বেশি জরুরি তাই রোদ পোহানো অবশ্যক। এর পাশা পাশি ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিবেন। 👍
৬. এটা খুব কার্যকর - শীতে দুই বেলা নরমাল পানিতে ২-৩ তা বরফ কিউব দিয়ে ধীরে ধীরে বরফ পানি খাবেন। এই ঠান্ডা খেলে আপনার শরীর নিজস্ব তাপ মাত্র ঠান্ডা আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নিবে। কিছুদিন এই প্রাকটিস করেন। দেখবেন আপনার শীতের কাপড় কম লাগতেসে। 👍
৭. রাস্তায় যখন চলবেন, ধীরে না হেটে জোরে হাঁটবেন। এতে শরীর গরম থাকবে, ঠান্ডা কম লাগবে, আপনি জমে যাবেন না। 👍
৮. গোসল মিস দিবেন না। আর ফিশ অয়েল খাবেন প্রতিদিন। 👍
৯. শীত উপযুক্ত কাপড় গায়ে দিবেন। অনেকে লুঙ্গি বা শাড়ি বা শুধু কামিজ পড়ে বাইরে ঘুরে আর থর থর করে কাঁপতে থাকে। চেষ্টা করেন দুই তিন লেয়ারের জামা পড়া অবশ্যক। 👍
১০. ঘর গরম রাখেন। ঘরে মোমবাতি জ্বালাতে পারেন আরামের জন্য। যাদের সামর্থ আছে তারা হিটার বা লাইট থেরাপির ব্যবস্থা করেন। রুম টেম্পারেচার ২০ ডিগ্রী থাকা উচিত স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার, বাংলাদেশের বাড়ি ঘর শীত আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুত করে বানানো হয়না, আর টিনের ঘর তো প্রশ্নই আসেনা। 👍
১১. বাইরের তাপমাত্রা আর আপনার ঘরের ভিতরে তাপমাত্রার খবর রাখবেন। আপনার ঘর বাইরের থেকে গরম থাকতে হবে। চেষ্টা করবেন ২০ ডিগ্রী করে রাখতে যেমনেই হোক। গুগল থেকে টেম্পারেচার app ইন্স্টল্ করে টেম্পারেচার, বাতাসের স্পিড, হিউমিডিটি চেক করবেন। 👍
১২. ভিক্স, স্যালাইন নাসাল স্প্রে সাথে রাখবেন। নাকে দিবেন যদি লাগে। গায়ে শীত উপযোগী ক্রিম লোশন বা তেল মাখবেন। আর সম্ভব হলে বাড়িতে আরামের জন্য গরম সুপ খাবেন। 👍
১৩. ঘরের জন্য এয়ার হিউমিডিফাইয়ার কিনে রাখবেন। যদি হিউমিডিটি কমে যায় তাহলে শুস্ক হয়ে যাবে বাতাস আর চামড়া ফাটবে। এই শুস্কতা এড়াতে ঘর হিউমিড রাখবেন। 👍
১৪. ফ্লু ইনজেকশন নিয়ে নিবেন জ্বরের ঘন ঘন আসার প্রবণতা থাকলে। 👍
🌹 আশা করি এগুলো মানলে অনেকটা কাজে দিবে। আমি নিজে এগুলো মেনে চলি।