16/02/2026
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু,
আলহামদুলিল্লা-হ, আমাদের কাঙ্খিত রমাদান মাস শুরু হতে যাচ্ছে । পরিচিত অপরিচিত কত মানুষ এই এক বছরে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের অশেষ দয়ায় আমরা এখনও জীবিত আছি। চলুন আমরা এই রমাদান মাসকে কিভাবে সুন্দর ভাবে কাটানো যায় তার একটা প্ল্যান করি, প্ল্যান না করলে রমাদান মাসের মতো মূল্যবান মাসকে আমরা অবহেলা করে কাটিয়ে দিবো, যে মাসে আল্লাহ্ রাব্বুলআলামীন প্রত্যেকটা ইবাদতের নেকি অনেক গুন বাড়িয়ে দেন(সোবহান আল্লাহ্)।
⭐ *সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে দো'য়া করতে হবে, এবং নিজের সাথে ওয়াদা করতে হবে, যেন এই রমাদান মাসটা আমাদের জীবনের সবচেয়ে উত্তম রমাদান মাস হয়।*
⭐ *বিনয় ও আন্তরিকতার সাথে প্রথম ওয়াক্তে নামাজ পড়া:* বিনয় ও পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে এবং ধির স্থিরভাবে যত্ন সহকারে, অর্থ বুঝে বুঝে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।
⭐ *কুরআন পড়া:* যেহেতু এই মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে, সেজন্য কুরআনের সাথে বেশি সময় দিতে হবে, যেমন অর্থসহ বুঝে বুঝে কুরআন পড়া, শুদ্ধ করে কুরআন শিখার চেষ্টা করা। একটি হরফ পড়লে ১০টি নেকি, আর রমাদান মাসে এর নেকি অনেক অনেক গুন বাড়িয়ে দেয়া হবে ইন শা-আল্লাহ্।
⭐ *তাফসির শোনা:* তাফসির শুনার জন্য এই রামাদানে কুরআনের শেষের পারার, ছোট ছোট সূরাগুলো মধ্যে প্রত্যেক দিন একটা করে সুরার তাফসির ইউটিউবে ভালো কোন স্কলারের কাছ থেকে শুনলে মাস শেষে কিছুটা হলেও কোরআন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হবে ইন শা-আল্লাহ্।
⭐ *সূরা ইখলাস পড়া:* আমরা হাদীস থেকে জানি ১০বার সূরা ইখলাস পাঠ করলে জান্নাতে একটা ঘর তৈরি করা হয়, আর রমাদানে আমরা কতগুন যে বেশি পাবো, সেটা এখন বুঝবো না। সেজন্য আমরা প্রত্যেক নামাজের পর যদি কমপক্ষে ১০বার এই সূরা পড়ি, তাহলে প্রত্যেকদিন ৫০বার সূরা ইখলাস পড়া হয়ে যাবে ইন শা- আল্লাহ্।
⭐ *দৈনিক দান করা:* প্রত্যেক দিন সামান্য হলেও দান করার চেষ্টা করা। রাসূল (সাঃ) এই মাসে খুব বেশি দান খয়রাত করতেন। আমরা দান করার সময় যেন নিয়্যাত করি এই দানটা করছি নিজের জন্য, নিজের মা-বাবা, আত্নীয় স্বজন পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য। এই নিয়্যাতের জন্য আল্লাহ তা'য়ালা খুশি হবেন এবং সবাইকেই সওয়াব দিবেন ইন শা--আল্লাহ। তিনিতো আল ওয়াহ্হাব (সবচেয়ে বড় দাতা)।
⭐ *দোহা, ইশরাক, তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া:* দোহা, ইশরাক, তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার চেষ্টা করা, এই নামাজ গুলো অনেক ফজিলত পূর্ণ। এই মাসে বেশি বেশি নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা।
⭐ *দৈনন্দিনের যিকির ও সকাল সন্ধ্যার আযকার:* নিয়মিত সকাল সন্ধ্যার আযকারগুলো পড়া এবং ফযিলতপূর্ণ যিকির করা।
⭐ *পরিবারের সাথে, এবং সকল সৃষ্টির সাথে ভালো ব্যবহার করা এবং ক্ষমা করা:* যদি আমরা চাই আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া পেতে, তাহলে পরিবারের সাথে এবং আল্লাহর সকল সৃষ্টির সাথে সুন্দর ব্যবহার এবং দয়া দেখাতে হবে এবং মানুষকে ক্ষমা করে দিতে হবে, তাহলে আমাদের রবও আমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন ইন শা-আল্লাহ্।
⭐ *দুরুদ পড়া:* রাসূল(সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে আল্লাহ তা’আলা তাঁর উপর দশবার রহমত নাযিল করবেন, তাঁর দশটি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে এবং তাঁর জন্য দশটি মর্যাদা উন্নীত করা হবে। সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ১২৯৭।
⭐ *সকল সময় আলহামদুলিল্লাহ বলে অন্তর থেকে শুকরিয়া আদায় করা:*
শুকুর আদায়কারীকে আল্লাহ তা'য়ালা খুবই ভালোবাসেন। একবার যখন কেউ শুকরিয়া আদায় করে আলহামদুলিল্লা-হ বলে, মিযানের পাল্লা নেকিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায় (সোবহান আল্লাহ্), আর রমাদান মাসে এই নেকিটা অনেক অনেক গুন বাড়িয়ে দেয়া হবে ইন শা-আল্লাহ্।
⭐ *বেশি বেশি ইসতিগফার করা:* যেহেতু এই মাসে আল্লাহ্ রাব্বুলআলামীন বান্দাদের মাফ করে দেন, সেজন্য বেশি বেশি ইসতেগফার করা এবং চেষ্টা করা ঘুমানোর আগে দুই রাকাত নামাজ পড়ে তাওবা করা ও গুনাহের জন্য মাফ চেয়ে আল্লাহ্ তায়ালার কাছে অনুনয় বিনয় করে কান্নাকাটি করা।
⭐ *ঘুমানোর আগে সূরা মূলক এবং সূরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পড়া:* হাদীসে এসেছে "যে সূরা মূলক রাতে পড়বে, সেই ব্যক্তির জন্য সূরা মূলক কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে" এবং "যে সূরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত রাতে পড়বে, এটা তার জন্য যথেষ্ট হবে।"
⭐ *আত্ন সমালোচনা করা:* প্রত্যেক দিন ঘুমানোর আগে নিজের দোষ ত্রুটি নিয়ে চিন্তা করতে হবে এবং কিভাবে আরো ভালো মুসলিম হওয়া যায়, তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে।
⭐ *প্রতিটি মূহুর্তকে কাজে লাগানো:* কোন কাজের সময় আল্লাহর যিকির করা, ইসতিগফার করা, দরুদ পড়া।
⭐ *সময় নষ্ট না করা:*
টিভি, ফেইসবুক, ইউটিউবে সময় নষ্ট না করা এবং ফোনে কথা বলে সময় নষ্ট না করা। এখন ফোন একটা বড় ফিতনা, এই ফোন থেকে দুরে থাকার চেষ্টা করা।
⭐ *আমাদের মনে রাখতে হবে, আমল করে নেকি অর্জন করা অনেক সহজ, কিন্তু সেই নেকি ধরে রাখা হচ্ছে অনেক কঠিন। সেজন্য আমল ধ্বংসকারী কাজ, যেমন মিথ্যা, গীবত, চোখলখোরী, হিংসা বিদ্বেষ, গালাগালি, কাউকে কষ্ট দেয়া এগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে এবং অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।*
*রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্যায় কথা বার্তা এবং অন্যায় কাজ ( গুনাহের কাজ) ছেড়ে না দেয়, তার পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহ্র কোন প্রয়োজন নেই। সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৯০৩।*
*আমরা সবাই যেন এই রামাদান মাসে ইবাদত করে, আল্লাহ্ রব্বুলআলামীনের ক্ষমা, রহমত এবং সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি, আমিন।*
*শেয়ার করে আপনিও সওয়াবের ভাগীদার হোন।*