01/11/2025
২০০১ সাল।
আফগানিস্তানের মাত্র ৯ বছরের ছোট মেয়ে জুবাইদা রান্নার চুলায় কেরোসিন ঢালছিল।
চুলাটা তখনও গরম। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায় তার কাপড়ে।
চোখের পলকে আগুন জ্বলে ওঠে মুখে, গলায়, বুকে আর হাতে।
আগুন নিভলেও শেষ হয়ে যায় তার শৈশব, হাসি আর চেহারা।
বাবা দৌড়ে নিয়ে যায় স্থানীয় হেলথ সেন্টারে
ওরা শুধু মলম দেয়, কিন্তু আগুনে পোড়া শরীরের ভেতরের ক্ষত তো দেখা যায় না!
অবস্থা খারাপ হতে থাকলে বাবা তাকে নিয়ে ইরান যায় চিকিৎসার আশায়।
সেখানে চিকিৎসকেরা হতাশ হয়ে বলেন,
“তাকে বাড়ি নিয়ে যান… হয়তো বাঁচবে না।”
কিন্তু জুবাইদা বেঁচে যায়।
তবে বেঁচে থাকা মানেই তো জীবন না…
তার মুখ বিকৃত, ঠোঁট আর চোখ টান টান হয়ে গেছে,
মাথা ঘুরাতে পারে না, কথা বললে ঠোঁট ফেটে যায়।
আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায় একদম।
এক বছর পর এক দাতব্য সংস্থা জেনে যায় এই মেয়েটির কথা।
তারা তাকে নিয়ে আসে আমেরিকার Grossman Burn Center-এ।
সেখানে ১২টি বড় অপারেশন হয় এক বছরের মধ্যে।
আর ঘটলো এক অলৌকিক রূপান্তর।
আগুনে গলে যাওয়া মুখ ফিরে পেল নতুন জীবন।
যে মেয়েটাকে একসময় ‘মরে যাবে’ বলা হয়েছিল,
সেই মেয়েই এখন হাসে, স্বপ্ন দেখে,
বলে “আমি বড় হয়ে শিশুদের ডাক্তার হতে চাই,
আর আমার দেশের মানুষকে সুস্থ করতে চাই।”
ছবির এক পাশে আগুনে ঝলসানো মুখ,
অন্য পাশে এক অনুপ্রেরণার প্রতীক জুবাইদা।
তিন বছরের মধ্যে তার রূপান্তর প্রমাণ করে,
চিকিৎসা শুধু শরীর না, মনকেও সারিয়ে তোলে।
এই গল্পটা শুধু আফগানিস্তানের এক মেয়ের নয়,
এটা প্রতিটি মানুষের গল্প
যে আগুনে পুড়ে গেছে, কিন্তু হাল ছাড়েনি।
শেয়ার করো — যেন কেউ নিজের পোড়াকে ভাগ্যের দোষ না ভেবে চিকিৎসা নেয়,
যেন বাবা-মায়েরা বুঝে — সময়মতো সঠিক চিকিৎসা মানেই জীবনের নতুন সুযোগ।
Dr-Abdur Rahman
World Vision ( বিশ্ব দর্শন )