ডক্টরস ডায়েরী - Doctors' Diary

ডক্টরস ডায়েরী - Doctors' Diary ডাক্তারদের জীবনের গল্প... অভিজ্ঞতার ঝুড়ি আর ভালো লেখার প্রচার- এই নিয়েই আমরা "ডক্টরস ডায়েরী"

মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পর দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে বহু চড়াই- উতরাই পেরিয়ে আপনি নামের আগে ডাক্তার কথাটি লিখতে পারবেন । সেখানে আইটেম, কার্ড, টার্ম, প্রফ এর মত হাজার হাজার পরীক্ষা এর চাপে অতিষ্ঠ জীবনের মাঝেও ঘটে মজার কিছু ঘটনা । ইন্টার্নি বা ডাক্তারি জীবনেও ঘটে মজার মজার অনেক ঘটনা । সেসব নিয়েই আমাদের এ আয়োজন...

ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য....

আপনি যেই নেতার পেছনে মিছিল দেন, যেই নেতার জন্য অন্য মানুষের মাথা ফাটান, সেই নেতা ও তার পরিবার সন্তানরা সবাই বিদেশে চিকিৎ...
06/11/2025

আপনি যেই নেতার পেছনে মিছিল দেন, যেই নেতার জন্য অন্য মানুষের মাথা ফাটান, সেই নেতা ও তার পরিবার সন্তানরা সবাই বিদেশে চিকিৎসা নেয়।

বাংলাদেশের কোন এমপি কোনদিন উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে?
বাংলাদেশের কোন মন্ত্রী কোনদিন জেলা সদর হসপিটালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে?
এমপি মন্ত্রীদের স্ত্রী পুত্র কন্যা পরিজনরা কোনদিন উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে?

নেতারা চিকিৎসা নিবেন বিদেশে, নেতারা লুটপাট করবেন, আর আপনার সন্তানকে সরকারি হাসপাতালে ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হবে, আপনি আবার সেই নেতার জন্য গলা ফাটান।...
©নাফিস শাহরিয়ার।

😭😭😭
05/11/2025

😭😭😭

ক্লাস টেন। প্রথম পার্সোনাল মোবাইল ফোন পেলাম। নোকিয়া এগারোশো।তবে নতুন না। সেকেন্ড হ্যান্ড। আব্বার বাতিল করা ফোন। তখন আব্...
05/11/2025

ক্লাস টেন। প্রথম পার্সোনাল মোবাইল ফোন পেলাম। নোকিয়া এগারোশো।
তবে নতুন না। সেকেন্ড হ্যান্ড। আব্বার বাতিল করা ফোন।
তখন আব্বা একটা নতুন কালার ডিসপ্লে ফোন কিনেছেন, তাই নোকিয়া এগারোশো বাতিল।

বাতিল হয়েই সেই ফোন আমার হাতে চলে এলো। আমার প্রথম ফোন। পার্সোনাল ফোন। আহ্!
কিন্তু শর্ত একটাই। রাত এগারোটায় আব্বার কাছে মোবাইলটা জমা দিয়ে তারপর ঘুমাতে হবে। রাত্রে আমার কাছে ফোন রাখা যাবে না কোনো ভাবেই।

এই শর্তে আমি রাজি হলাম ঠিকই। কিন্তু 'আত্ম-অধিকারবোধে' হালকা আঘাত লাগলো।

একে তো এই জিনিস আব্বার বাতিল করা মাল, তার উপর আবার রাত্রে আমার অধিকার নাই সেই জিনিস পুরোপুরি আমার হয় কিভাবে!

কিন্তু তবুও রাত এগারোটা বাজলেই আব্বার কাছে ফোন দিয়ে দিতাম। কোনো হাংকি পাংকি করতাম না।

আব্বার হাতে ফোনটা দিয়ে বলতাম, আমার গেম খেলা শেষ। গুড নাইট।
নোকিয়া এগারোশোতে সাপের গেম খেলা ছাড়া আমার আর অন্য কোনো কাজও ছিলো না, অনেস্টলি।
আবার সকাল হলেই আম্মার ড্রেসিং টেবিলের উপর থেকে ফোনটা নিয়ে আসতাম।
এই ছিলো আমার রেগুলার রুটিন।

এই পর্যন্ত সব রুটিন মাফিকই আগাচ্ছিল।
কিন্তু সমস্যা বাঁধলো যখন আম্মার মোবাইল ফোনটা নষ্ট হয়ে গেলো। আমি আবার আত্ম-অধিকারহীনতায় ভোগা শুরু করলাম।
কারণ, ওয়ারিশ অনুযায়ী নোকিয়া এগারোশোর মালিক এখন আম্মা! 🙂

সমস্ত সত্ব ত্যাগ করে ফোনটা আম্মাকে হস্তান্তর করে দিতে হবে ভেবে বেশ খারাপ লাগছিল।

কিন্তু আমাদের সবাইকে অবাক করে আব্বা এক কান্ড করে বসলেন। এই যুগে যেটাকে সারপ্রাইজ বলে, আর ওই যুগে ছিলো পাগলামি!
সেদিন বিকেলেই আব্বা একটা টাচ স্ক্রিন ফোন কিনে আনলেন আম্মার জন্য।
কি একটা অবস্থা, কোনো বাটন নেই! শুধু আঙুল দিয়েই কাজ হয়ে যায়। ভাবা যায় নাকি?

আমি আম্মার উপর জেলাস ফিল করা শুরু করলাম।
এই বাসায় টেকনোলজিক্যালি সব থেকে সলভেন্ট আমি। টাচ স্ক্রিন ফোনটা আমার হাতেই সব থেকে বেশি মানাতো!🙄

আফসোস করতে করতেই খেয়াল করলাম, আব্বাও ফোনটার দিকে কেমন কেমন করে যেনো তাকাচ্ছেন!
আমি বুঝে গেলাম এই ফোনের দিকে আব্বারও নজর পড়েছে। 😑

সেই থেকে শুরু এক ফোন, দুই লোভী!
কিন্তু টাচ ফোন নিয়ে আব্বা আর আমি যতটা এক্সসাইটেড, আম্মাকে ততটা এক্সসাইটেড লাগলো না।

কয়েকদিন পরই আম্মা ঘোষণা করলেন তিনি এই ফোন চালাতে পারবেন না। তাকে যেনো নরমাল (বাটনওয়ালা) ফোন দেওয়া হয়।

সমস্যা বেঁধে গেলো। কারণ, আম্মাকে বাটন ফোন আমিও দিতে চাই, আব্বাও দিতে চান।
টাচ ফোনের দাবীদার এখন আমরা দুইজন। আব্বা আর আমি!
আব্বাও টাচ স্ক্রিন ফোনটা চায়, আর আমি তো চাইই।

আব্বার লজিক হচ্ছে, উনি যেহেতু এই ফোন কিনেছেন, ফোনটা ওনারই প্রাপ্য।
আর আমার লজিক, আব্বা টাচ স্ক্রিন ফোন চালাতে পারবেন না। টেকনোলজির দিক থেকে আমিই এগিয়ে। সুতরাং, ওটা আমারই হওয়া উচিত। হুহ।

দুইজনই আম্মার কাছে আমাদের বক্তব্য পেশ করলাম।
সন্ধ্যায় আম্মা তার মূল্যবান রায় দিয়ে সেই টাচ স্ক্রিন ফোন আমার হাতে তুলে দিলেন।

আমার জীবনের অন্যতম 'তোমাকে পাইলাম আমি'ময় আনন্দের দিন।
অনেক খুশি হলাম ঠিকই, তবে সেখান থেকেই সমস্যার শুরু।
টাচ স্ক্রিন ফোন পাওয়ার পরেও আমার উপর সেই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকলো রাত এগারোটার পর আব্বাকে ফোন দিয়ে দিতে হবে।

আব্বা এক ভিলেনী হাসি দিয়ে আমাকে বললেন, এগারোটার সময় আমার ঘরে ফোন রেখে যাবে। আমার কথার যেনো কোনো নড়চড় না হয়।

এই নিষেধাজ্ঞা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারলাম না।
আবার সেই সময় আব্বার মুখের উপর কথা বলার সাহসও আমার ছিলো না।
তাই, অনিচ্ছাসত্ত্বেও আমি রাত এগারোটায় আব্বার কাছে ফোন রেখে আসতাম।

সারাদিন ফোন আমার কাছেই থাকতো, কিন্তু রাত্রে আব্বার কাছে।
আমি প্রচণ্ড হতাশা নিয়ে ঘুমাতে যেতাম। আর রাত্রে ফোন আমার কাছে থাকলে আমার পড়াশোনায় যে কত উন্নতি হবে সেটা আব্বাকে কিভাবে বুঝাবো ভাবতে থাকতাম।
এভাবে বেশ কিছু দিন চললো।

আমি যখন প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছি তখন আম্মা একদিন আমার কাছে এসে নালিশ দিলেন। তোর বাপ রাত জেগে মোবাইল গুতায়। অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকে। এটা আমার ভালো লাগে না।
অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ যেনো বোঝা না যায় তাই আমি আম্মাকে জিজ্ঞেস করলাম, তাতে কি হয়েছে? মোবাইল চালালে কি হয়?

আম্মা বললেন, হয় অনেক কিছু হয়। তুই সব বুঝবি না।
যেহেতু বুঝবো না বলেছেন, তার মানে আসলে বুঝবো। ক্লাস টেনের ছেলে আবার বুঝে না কেমনে!
আমি বুঝলাম আব্বা ইজ ডুইং সামথিং ফিশি।

আমি আম্মাকে বললাম, আব্বা কি রাত্রে ফোনে কারো সাথে কথা বলে?
আম্মা আমাকে ঝাড়ি মেরে বললেন, বাজে কথা বলিস কেন? একটা চড় মেরে দেবো। ও কারো সাথে কথা বলে না।

আমি একটু হতাশ হয়ে গেলাম এই কথায়। আব্বা যদি কারো সাথে কথা বলতেন, তাহলেই তো ফোনটা আমার হয়ে যেত। ইশশ!

হতাশ হলেও আমি মুখে হাসি রেখে আম্মাকে জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে করেটা কি?
আম্মা বললেন, এই গেম খেলে, রিংটোন চেঞ্জ করে, আবার ডাউনলোড করে। গান শোনে, রেডিও শোনে। এইসব।
আমি আম্মাকে বললাম, করুক না। সমস্যা কোথায়?
আম্মা বললেন, সমস্যা আছে। রাত জেগে সকালে দেরি করে ওঠে। আর আমার সাথে খিটখিট করে। তুই আজকে থেকে আর মোবাইল রেখে যাবি না।

আমি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারলাম না। তবে কি সত্যি মেঘ না চাইতেই ফোনটা আমার হয়ে যাচ্ছে! স্বপ্নের মত লাগছিল।

আব্বা একটু গাইগুই করলেও আম্মার রায়ই ছিলো চূড়ান্ত। আজকে থেকে টাচ স্ক্রিন ফোন আমার কাছেই থাকছে।
আব্বার সামনে এমন একটা ভাব দেখালাম যে আমার কোনো ইচ্ছা নেই, কিন্তু আম্মার কথা আমি কিছুতেই ফেলতে পারবো না।

সেই রাত্রেই আমার ফোন প্রথম আমার কাছে। বালিশের পাশে মোবাইল রেখে ঘুমানোর যে কি তৃপ্তি সেটা আপনারা কখনো বুঝবেন না। আমার কাছে ওই ফিলিংটা ছিলো একদম আনরিয়েল!

তারপর তো অনেক বছর কেটে গেছে। সবার হাতে এন্ড্রোয়েড ফোন চলে এসেছে। বিয়ে শাদী করেছি, বাচ্চা কাচ্চা হয়েছে। আব্বা, দাদা হয়ে গেছেন। কিন্তু ঘটনা সেটা না।
এতক্ষণ ধরে এতো কিছু বলার পেছনে আরেকটা ঘটনা আছে।

ঘটনা হলো, গতকাল নাস্তার টেবিলে সবাই বসে চা খাচ্ছিলাম। আব্বার এক হাতে চায়ের কাপ, আরেক হাতে মোবাইল।
আমরা সবাই গল্প করলেও আব্বার কানে তখন ছিলো হেডফোন।
এইটা একটা রেগুলার সিন। কিন্তু গতকাল আম্মা হঠাৎ করে বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে বসলেন।

আব্বার কান থেকে টান দিয়ে হেডফোনটা বের করে ফেললেন। পাইসো কি তুমি? সারাদিন ফোন হাতে থাকে কেন তোমার?

আব্বা সহজ স্বীকারোক্তি করে বললেন, খবর দেখছিলাম।
আম্মা বললেন, আজকে থেকে তোমার মোবাইলে খবর দেখা বন্ধ। টিভিতে খবর দেখবে।
আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, সারা রাত ইউটিউবে ভিডিও দেখে। দুইটা কথা বলা যায় না তোর বাপের সাথে।

আমি চুপ করে থাকলাম। এমন সিচুয়েশনে কোনো সাইড না নেওয়াই ভালো।

আম্মা আবার বললেন, আজকে থেকে রাত্রে পৃথুলের কাছে ফোন জমা দিয়ে তারপর শুতে যাবে।

আমি বললাম, আমার কাছে কেনো রাখা লাগবে আম্মা? আপনার কাছে রাখলেই তো হয়।

না, আমার কাছে রাখলে ও আবার নিয়ে নিবে। তোর কাছেই রাখতে হবে।

আপনারা তো জানেনই, আমি আম্মার কথা কিছুতেই ফেলতে পারি না।
রাত এগারোটায় আব্বাকে মেসেঞ্জারে নক দিয়ে বললাম, আব্বা, এগারোটা বেজে গেছে, ফোনটা আমার কাছে দিয়ে যান।

এই মেসেজ পাঠায়ে একটা ভিলেন মার্কা প্রতিশোধের হাসি দিলাম।
স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললাম, বুঝলা, লাইফ একটা বুমেরাং! ফিরে ফিরে আসে।😁

ও বললো, এতো হাইসো না। তোমারও কিন্তু একটা ছেলে আছে। আর তুমি তো জানোই লাইফ একটা বুমেরাং! 🙃

©Nishad R Prithul

ত্যাগ, আদর্শ আর সততার প্রতীক গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি আজ এই দিনে...
03/11/2025

ত্যাগ, আদর্শ আর সততার প্রতীক
গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি
আজ এই দিনে...

এমন এক দেশ, ২মিনিটও মন খারাপ করে থাকা যায় না!এতো এতো প্লট টুইস্ট, নেটফ্লিক্সের ডিরেক্টরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি!
28/10/2025

এমন এক দেশ, ২মিনিটও মন খারাপ করে থাকা যায় না!
এতো এতো প্লট টুইস্ট, নেটফ্লিক্সের ডিরেক্টরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি!

মেট্রোরেলের ত্রুটিপূর্ণ ব্রেকপ‍্যাড খুলে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার আবুল কালাম আজাদের পরিবারকে ৫লক্ষ টাকা সহায়তার সরকারী ঘ...
27/10/2025

মেট্রোরেলের ত্রুটিপূর্ণ ব্রেকপ‍্যাড খুলে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার আবুল কালাম আজাদের পরিবারকে ৫লক্ষ টাকা সহায়তার সরকারী ঘোষণা, কতবড় রাষ্ট্রীয় মকারি সেটা একটু আপনাদের জানা প্রয়োজন।
সরকার প্রধানের জুন ২০২৫ যুক্তরাজ্য সফরের (যা অনেকেই তাঁর ব্যক্তিগত সফর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন) হোটেল বিলের সাথে তুলনা করলে আমরা যা দেখতে পাই তা হলোঃ

প্রধান উপদেষ্টার লন্ডনে ১ রাতের রুম ভাড়া ছিলোঃ ৯৬৭,০০০ টাকা, ৪ রাতের জন্যে প্রদান করা হয়েছে ৩৮ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা।

নিরাপত্তা উপদেষ্টার লন্ডনে রুম ভাড়া বাবদ প্রতিদিন খরচ হয়েছে ৮০০,০০০ টাকা অর্থাৎ ৪ রাতে ৩২ লক্ষ টাকা।

তাঁর সিনিয়র পদ মর্যাদার সফর সঙ্গীদের জন্যে ভাড়া করা স‍্যুটের ভাড়া ছিলো যথাক্রমে প্রতিরাতে, ৩৮১,০০০ টাকা ৪ রাতে ১৫ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা , ৩৫২,০০০ টাকা ৪ রাতে ১৪ লক্ষ ৮ হাজার টাকা এবং ১৭৬,০০০ টাকা যা ৪ রাতে দাঁড়ায় ৭ লক্ষ চার হাজার টাকা।

দেখেন যা ভালো মনে করেন।

©জুলকারনাইন সায়ের

আগে এইসব দেখলে গেঞ্জিরা উগ্রবাদীরা পাকিপ্রেমীরা চিল্লায়া উঠতো যে,"দেশ ভারতের কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।"এখন ইহাদের খুঁজিয়া ...
26/10/2025

আগে এইসব দেখলে গেঞ্জিরা উগ্রবাদীরা পাকিপ্রেমীরা চিল্লায়া উঠতো যে,"দেশ ভারতের কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।"
এখন ইহাদের খুঁজিয়া পাওয়া যায় না।
আজ্ঞে হ্যাঁ,এইটাই সুবিধাবাদীতা। 😀

ঢাকা একটা চলমান মৃত্যুপুরী৷ এখানে বায়ু বিষাক্ত। খাবারে ভেজাল। বাচ্চাদের খেলার জায়গা নাই। ধুলা। ময়লা। ম্যানহোলের ঢাকনা না...
26/10/2025

ঢাকা একটা চলমান মৃত্যুপুরী৷ এখানে বায়ু বিষাক্ত। খাবারে ভেজাল। বাচ্চাদের খেলার জায়গা নাই। ধুলা। ময়লা। ম্যানহোলের ঢাকনা নাই। রাস্তায় বের হলে জীবিত বাসায় ফেরা একটা এচিভমেন্ট প্রতিদিনের। এরপরেও বের হলে ফ্লাইওভার এ চাপা পড়ে আপনি কারা যেতে পারেন। ফিটনেস বিহীন গাড়ী ব্রেক ফেল হয়ে আপনাকে পিষে ফেলতে পারে। ড্রাগ এডিক্ট ড্রাইভার আপনাকে পিষে দিতে পারে।

ঢাকায় বসবাস একটা চলমান জুয়া খেলা। জীবনের সাথে জুয়া খেলা। এখানের মানুষ গুলো বোবা। কেউ কিছু বলে না। এখানে জীবনের কোন মূল্য নেই।

কেউ কেউ আমাকে নৈরাশ্যবাদী ভাবতে পারেন।। অথবা যারা নব্য আর্থার স্কোপেনহাওয়ার ভক্ত হলে আপনিও সহমত দিতে পারেন। কিন্ত এই শহরে সব কিছুর ওয়ারেন্টি গ্যারান্টি থাকলেও মানুষের নাই।

জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা।বুধবার রাত ১১ টা। হঠাৎ করে হাসপাতালের সিসিইউ রুমের গেটের দিকে শোরগোল। দ...
21/10/2025

জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা।
বুধবার রাত ১১ টা।

হঠাৎ করে হাসপাতালের সিসিইউ রুমের গেটের দিকে শোরগোল। দ্রুত ট্রলি নিয়ে ছুটলেন কয়েকজন সেদিকে। তাতে তুলে আনা হল মাঝবয়েসি এক যুবককে। পরনের জামা-কাপড় দেখে বুঝা গেল দরিদ্র ঘরের সন্তান। হার্ট অ্যাটাক করেছে তার। মৃত্যুর একেবারে কাছাকাছি সে। ডাঙায় পড়ে যাওয়া পুটি মাছের মতো তরপাচ্ছিল সে। বাঁচবে যে, তেমন আশাও নেই।

ইতোমধ্যে স্বজনরাও মহাকান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে। নার্স-ডাক্তাররা কয়েকজন রুম থেকে বের করে দিলেন সেই স্বজনদের। এরপর যা শুরু হল, তা দেখে একজন সুস্থ্য মানুষও অজ্ঞান হবার দশা। একজন জওয়ান পুরুষ নার্স তার বুকের ওপর ইয়া শব্দ করে আঘাত শুরু করলেন। একজন সুস্থ মানুষকে ওভাবে আঘাত করলে সে নির্ঘাত দম বন্ধ হয়ে মারা যেতো।
যাই হোক, এই ধুরুমধারুম আঘাত চলল মিনিট দশেক। এরপর কাজ না হওয়াতে নিয়ে আসা হল কাপড় ইস্ত্রি করার মতো দুটি শক দেবার যন্ত্র। এই জিনিস আমি শুধু সিনেমাতেই দেখেছি। এরপর সেটি দিয়েও চলল ‘’নির্যাতন’’। একদিকে যমে টানছে যুবককে, আরেক দিকে বাংলাদেশের হাসপাতালের কয়েকজন অসহায় নার্স। তাদের নেতৃত্বে একজন ডাক্তার।

এ কাজ করতে গিয়ে ঘেমে নেয়ে একাকার সবাই। বাইরে পাল্লা দিয়ে চলল যুবকটির পরিবারের কান্না।

আমি অনেক শক্ত মানসিকতার মানুষ। কিন্তু তারপরও বারবার ভেতরে ভেতরে চুরমার হচ্ছিলাম। কিন্তু বুঝতে দিচ্ছিলাম না। কারণ আমার পাশেই আমার নিজের রোগি আছে। তিনি আমার শ্বাশুড়ি। তিনি যদি বুঝতে পারেন আমার নিজেরই এই অবস্থা, তিনি ভেঙে পড়বেন। তাকে সাহস যোগালাম।

এদিকে শুনতে পেলাম নার্সরা বলাবলি করছে, এ যাত্রা বেঁচে গেলো ছেলেটি। আমিও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম।

আমি তখন চিকিৎসক ভলান্টিয়ার দলটির দিকে তাকালাম। দেখলাম সবার মুখে বিজয়ের হাসি চিকচিক করছে। মনে হচ্ছিল তারা এই মাত্র এভারেস্টের চূড়া জয় করে ভোরের তাজা আলোর আভা সারা মুখে মেখেছে। জানতে পারলাম এভাবেই সারারাত ধরে নতুন কোনো রোগির সেবায় দৌড় শুরু করে তারা।

[আমরা যারা প্রতিদিন মজা করে ঘুমাই, ঠিক সেই মূহুর্তে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিইউতে প্রতি রাতে চলে জীবন-মৃত্যু নিয়ে ’’দরকষাকষির এই খেলা’’। প্রতিরাতে গড়ে কমপক্ষে চারজন মারা যায়। আমরা কখনো কখনো সে কথা পত্রিকায় পড়ি। কিন্তু আমাদের ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমে যে আরও ২০/৩০ জন বেঁচে যায়, তাদের কথা কীভাবে যেন পত্রিকার পাতায় ঠাঁই পায় না।]

ভালোবাসা এ সমস্ত নিবেদিত প্রান ডাক্তার নার্সদের প্রতি..

( বাস্তবিক ঘটনা একজন ডাক্তারের লেখা অনূভুতি, নাম খুজে পাওয়া যায়নি)

19/10/2025

এক অস্থির জেনারেশন বেড়ে উঠতে দেখছি আমরা। বিলিভ অর নট, এই জেনারেশনের স্পেসিফিক কোনো লক্ষ্য নাই। এদের আদর্শিক কোনো এমবিশান নাই। পবিত্র কোনো মিশন নাই।

এরা বই পড়ে না, নিউজপেপার পড়ে না। আউটডোর খেলাধুলায়ও এদের অনীহা। Exercise করে না!

এরা রৌদ্রে হাঁটতে পছন্দ করে না। বৃষ্টিতে ভিজতে চায় না। কাঁদামাটি, ঘাস, লতাপাতায় এদের এলার্জি। এরা আধা কিলোমিটার গন্তব্যে যেতে আধা ঘন্টা রিক্সার জন্য অপেক্ষা করে।
এরা অস্থির। প্রচণ্ডরকম অস্থির এক জেনারেশন।

এরা অপরিচিত সিনিয়রদের সালাম দেবে না। পাশ কাটিয়ে হনহন করে চলে যাবে। অথবা গা ঘেষে পা পাড়া দিয়ে চলে যাবে। সরি বলার টেণ্ডেন্সি এদের মধ্যে নাই। এরা অনর্থক তর্ক জুড়ে দেবে। না পাবেন বিনয়ী ভঙ্গি, না পাবেন কৃতজ্ঞতাবোধ। এদের উদ্ধত আচরণ, সদম্ভ চলাফেরায় আপনি ভয়ে কুকড়ে যাবেন। সংযত হওয়ার উপদেশ দিতে চাইলেই বিপদ, নাজেহাল হওয়ার সম্ভাবনা অধিক।

আপনি পাব্লিক বাসে চড়ছেন, দেখবেন খালি সীটটায় জায়গা পেতে সবচেয়ে জুনিয়র ছেলেটা বেশি প্রতিযোগিতা করবে। আপনাকে ধাক্কাটাক্কা দিয়ে সটান বসে পড়বে। তার বয়সের দ্বিগুন এই আপনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া তেমন কিছু করার থাকে না।

বলছিলাম এই জেনারেশনের কথা। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো যেখানে এই জেনারেশন দাঁড়িয়ে থাকার কথা, সেখানে তারা নিজের জন্য চেয়ার খোঁজ করে। যেখানে চুপ থাকার কথা, সেখানে জ্ঞান দিতে চেষ্টা করে।

সারা রাত ধরে অনলাইনে থাকে, সারা সকাল ঘুমায়। এরা সূর্যোদয় দেখে না, সূর্যাস্ত দেখে না। সূর্যোদয়ে বিছানায় থাকে, সূর্যাস্তে মোবাইলে থাকে।

এরা ফার্স্টফুডে আসক্ত।
এরা আউটডোর খেলা অপছন্দ করে। এরা ইনডোরে স্বস্তি পায়। নির্দিষ্ট করে বললে মূলত অনলাইন গেম, ফেইসবুক স্ক্রলিং, ইউটিউব দেখা, মুভি, নাটক দেখা তাদের ফার্স্ট প্রায়োরিটি।

এরা ইতিহাস পড়ে না। সাহিত্য বুঝে না। এরা নজরুল চিনে না, রবীন্দ্রনাথ চিনে না, ফররুখ চিনে না। সাদী, রুমি, হাফিজ ত বহু অচেনা প্রসঙ্গ। এরা বই বুঝে না, বই পড়ে না, বই কিনে না৷

এরা নন-স্কিলড। এরা হাঁটতে পারে না, দৌড়াতে পারে না, গাছে চড়তে জানে না, সাতার কাটতে পারে না। সাগর পাড়ি দেওয়ার সেই দু:সাহসিকতা নাই, পাহাড় কেটে পথ তৈরি করার সেই অদম্য মনোবল নাই। এদের উচ্ছ্বাস নাই। আবেগ নাই। সৎ সাহস নাই। এদের একটাই স্কিল- স্মার্ট ফোন দ্রুত স্ক্রল করতে পারা৷

এদের না আছে মূল্যবোধ, না আছে শ্রদ্ধাবোধ, না আছে শৃঙ্খলাবোধ।
কখন চলতে হবে, কখন থামতে হবে, কখন বলতে হবে, কখন শুনতে হবে এরা জানে না। এরা কি যে জানেনা সেইটাও জানেনা।

#যাপিতজীবন

বিল্ডিং এর এক আন্টি বাসায় এসেছেন মরিচ নিতে। আমি তখন মাত্র প্রতি ঘরের ফ্যান মুছে ফ্যানের নিচে বসেছি।কাঁচা মরিচ উনাকে একটা...
18/10/2025

বিল্ডিং এর এক আন্টি বাসায় এসেছেন মরিচ নিতে।
আমি তখন মাত্র প্রতি ঘরের ফ্যান মুছে ফ্যানের নিচে বসেছি।
কাঁচা মরিচ উনাকে একটা বাটিতে দেয়ার পর উনি চলে যাওয়ার সময় বললেন - সকাল থেকে ঘর ই গুছাইছো? রান্না করো নাই?
আমি বললাম করছি আন্টি। এখন জুবিনকে গোসল করিয়ে খাওয়াবো। তারপর আমি গোসল করে খাবো।

আন্টি থেমে গেলো।
দরজার হাতল ধরে বলল - এইটা ভুল মা।

আমি একটু থতমত খেয়ে গেলাম।

আর জিজ্ঞেস করলাম - কেন আন্টি?
তিনি বলল - তোমার খিদা লাগে নাই?

আমি বললাম - লেগেছে। কিন্তু ওকে না খাওয়ায় তো আমি খাই না।

তিনি বলল - এটাই ভুল। আমরা সব মায়েরা এই ভুল করি। বাচ্চাকে এই অভ্যাসে অভ্যস্ত করি যে তুমি আমার প্রথম প্রায়োরিটি। এই অভ্যাস টা থেকেই যায়। বড় হলে ছেলে যখন তোমাকে একটুও ছিটাফোঁটা কোন অবহেলা আঘাত করবে তখন তুমি এই দিনের কথা মনে করে কষ্ট পাবে। ভাববে ওকে না খাইয়ে আমি খাই নাই। কত কষ্ট করছি। কিন্তু উচিৎ হচ্ছে ছোট থেকেই বুঝানো ক্ষুধা তোমারও লাগে। আর একসাথে খেতে হয়। বাড়ির একজন কাজ করলে আরেকজনের অপেক্ষা করতে হয়। কারণ এটা ফ্যামিলি। সবাই একসাথে খাওয়ার অভ্যাস না করলে ও যখন বড় হবে তখন নিজের পরিবারের সাথেও একই কাজ করবে। ভাববে আমাকে আমার বৌ আগে খেতে দিবে। যেভাবে আমার আম্মু করতো। এরপর সে খাবে। ক্ষুধা শুধু তার একা লাগে না। সবার লাগে। এটা তোমাকে আস্তে আস্তে ওকে বুঝাতে হবে। দুইজন গোসল করে একসাথে খেতে বসো। এক নলা ওকে দিবা এক নলা নিজে খাবা। আর খাওয়ার সময় বলবা - আম্মু আজকে অনেক কাজ করেছি। তুমি যে আম্মুর কাজ শেষ হওয়ার জন্য ওয়েট করেছো এইজন্য থ্যাংকিউ। দেখবা ও উৎসাহ পাবে। সবসময় একসাথে খাবা। খাওয়ার সময় গল্প করবা। এতে বন্ডিং বাড়বে। আগেও খেতে বসবা না আবার পরেও না।আর এটাতেই ও অভ্যস্ত হবে।

আমি শুধু শুনলাম। কিছু বললাম না।
নরমালি আমার আলগা উপদেশ খুব বেশি পছন্দ না। কিন্তু আজকে উনি এতো সুন্দর করে বুঝিয়ে গেলেন যা সত্যিই আমাকে ভাবাচ্ছে। এভাবে তো কোনদিন ভেবে দেখি নাই।

আমি উনাকে শুধু থ্যাংকিউ বললাম।

সত্যিই কত কিছু শেখার বাকি জীবনে।

©জাকিয়া তৃষা

18/10/2025

সন্ধ্যায় সিএনজিতে করে সৈয়দপুর থেকে নীলফামারী ফিরছি। ড্রাইভারসহ মোট ছয়জন মানুষ। গাড়ি চলছে, আর সাথে চলছে একটা অসাধারণ আলোচনা সভা। আলোচ্য বিষয়- 'বাংলাদেশের ডাক্তাররা খারাপ।'

ড্রাইভারসহ মোট তিনজন এখানে মূখ্য আলোচক। আমিসহ বাকি দুইজন দর্শক+ সমর্থক বলা যায়। আমরা শুধু হা হু করছিলাম। মাঝে মাঝে দুই একটা প্রশ্ন।

আলোচনা শুরু করেন ড্রাইভার সাহেব। প্রসঙ্গ তার গলার টনসিল অপারেশন৷ উনি রংপুর মেডিকেলে দেখিয়েছিলেন। কিন্তু ডাক্তার বলেছিল ১০-১৫ দিন ভর্তি থাকা লাগবে। অথচ সেই ডাক্তার ওইদিনই তার অপারেশন করেন প্রাইভেট ক্লিনিকে। প্যাকেজ মাত্র ১২ হাজার টাকা। তিনি জানান ওইদিন ওই ডাক্তার মোট ১০৬ টা অপারেশন করেছেন। কারণ একেকটা টনসিল কাটতে তার ৬-৮ মিনিট করে লাগছে। আমরা সবাই অবাক হয়ে তার গল্প শুনছিলাম।

ড্রাইভারের পাশের আলোচক যোগ করলেন,' ডাক্তারগুলো এমনই। সরকারিতে অপারেশন করবে না। সব রোগী ভাগায় নিবে প্রাইভেটে।'

আমরাও বলে উঠলাম 'ঠিক বলেছেন।'

এবার আমার পাশে বসা আলোচক খিকিয়ে উঠলেন,' অপারেশন না লাগলেও তো ডাক্তাররা অপারেশন করে। পেটের ব্যথা নিয়ে যান,সাথে সাথেই বলবে এপেন্ডিসাটিস,অপারেশন লাগবে। উনার ১০ হাজার,ক্লিনিকের ১০ হাজার। সবই ধান্দা। '

ড্রাইভারের পাশের আলোচক বললেন, 'আমার তো মনে হয়, যেই জায়গায় অপারেশন করে ওটা পরে ফাকা হয়ে থাকে। নাড়ও প্যাচায় যায় ওই জায়গায়। এরা না লাগলেও সব নাড় কাইটা ফালায়।'

এবার ড্রাইভার ঝেড়ে কাশলেন,' শোনেন,আমার বাড়িওয়ালীকে নীলফামারিতে দেখাইলাম, লাভ হইলো না। রংপুর গেলাম। চেম্বারে ডাক্তার খালি ওজন আর প্রেসার মেপেই টেস্ট লিখা শুরু করল। আমি বললাম, স্যার একটা কথা বলি.... এই যে আপনি এতো বছর পড়াশুনা করলেন,এতো ডিগ্রি লাগাইলেন। কি লাভ হইলো। এতোই যদি টেস্ট দিবেন। তাইলে পড়াশুনার দরকার কি?'

ড্রাইভারের চোখে মুখে বিজয়ের হাসি। উনি যোগ করলেন,' এর পর আমার কথা শুইনা তো ডাক্তার ঘেমে গেল। এক গ্লাস পানি খেয়ে বলল, আপনিই প্রথম এই কথা আমাকে বললেন। এর আগে কেউ এমন করে বলে নাই। এর পর ডাক্তার কোনো টেস্ট না দিয়ে ওষুধ লিখে দিল দুই মাসের। বিশ্বাস করেন, বাড়িওয়ালী ৭ দিন ওষুধ খেয়েই সুস্থ।'

আমরা সবাই মনে মনে আলহামদুলিল্লাহ পড়লাম।

এবার ড্রাইভারের পাশের আলোচক বলে উঠলেন," ডাক্তাররা ইচ্ছা কইরাই বেশি ওষুধ দেয়। যাতে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়। পরে আবার তার কাছে আসে। আর ওষুধ কোম্পানি,ক্লিনিকের কমিশন তো আছেই।'

উনার এক রোগীকে নাকি ৭-৮ লাখ টাকার টেস্ট আর অপারেশনের কথা বলা হইছিল ঢাকায়। সেই রোগী মাত্র ৮০ হাজার টাকা দিয়েই ইন্ডিয়া থেকে ভাল হয়ে আসছে। সেই গল্প আমরা বিষ্ময়ের সাথে শুনলাম।

এবার আমার পাশে বসা আলোচক আলোচনা শুরু করলেন। 'উনার পরিচিত এক রোগীর নাকের পশম নাকি হাঁচি দেয়ার সময় মাথায় মগজে ঢুকে যায়। ঢাকায় ডাক্তারের পর ডাক্তার,টেস্টের পর টেস্ট দেয়া হলেও কোনো কূল কিনারা করা যায় নাই। সিটি,এমআরআই সব করাইছে।

এর পর রোগী ইন্ডিয়ায় গেছে। ওখানে ব্যবস্থা অনেক উন্নত৷ কম্পিউটার দিয়েই রোগীর লোকদের দেখায় দিছে যে পশম মাথায় ঢুকছে। নিছে মাত্র সাড়ে তিন হাজার রুপি। এর পর ওইদিনই নাকি পশম বের করে দিছে।

আমি বিষ্ময়ের সাথে জিজ্ঞেস করলাম,'মগজ থেকে বের করল কিভাবে?

উনি বললেন, ' ওদের হিসাবই আলাদা। কম্পিউটার দিয়েই বের করে দিছে।'

আমার পাশের আরেক নীরব দর্শক এবার বলে উঠলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন অনেক উন্নত। বাংলাদেশের ডাক্তাররা ইচ্ছা কইরাই এগুলা বাংলাদেশে আনে না।'

আমরাও সবাই বললাম, ঠিক!!!!

এভাবেই ডাক্তারদের গালি দিতে দিতে কখন নীলফামারী চলে এসেছি টের পাই নি। তবে একটা বিষয় অনুধাবন করলাম,"ডাক্তারদের গালি দিলে খুব ভালো লাগে। মনটা খুশিখুশি থাকে। সময় কোন দিক দিয়ে চলে যায় টের পাওয়া যায় না।"

তাই সবার আনন্দটাকে নষ্ট করার জন্য আমি নিজের ডাক্তার পরিচয়টা আর দেই নি। তবে যা বুঝলাম, সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে আমার জন্য।😎

✍️ডা. নাজমুস সাকিব বাপ্পি
#নীলফামারীর_দিনগুলো।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ডক্টরস ডায়েরী - Doctors' Diary posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share