17/03/2026
আপনারা যারা ভাবেন পরকীয়া করা অনেক সোজা, আপনারা ভুল ভাবেন। একটা বিবাহিত মানুষের জন্য পরকীয়া করার মত কঠিন কাজ জগতে খুব কমই আছে।
সারাদিন অফিস করা লাগে, ফ্রি সময় পাওয়া যায় না। অফিস শেষে বাসায় যাওয়ার পথে ক্লান্ত দেহ নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকার সাথে দেখা করা লাগে। এরমধ্যেও অশান্তির শেষ নাই। বাসা থেকে বউটা ফোন দিয়ে বলবে, "বাসার তেল শেষ, আসার সময় নিয়ে আইসো।"
সাথে দিয়ে দেয় একটা লিস্ট, যাতে থাকে শশা, গাজর, রুই মাছ আর টয়লেট পেপার।
আপনি যে পরকীয়া প্রেমিকার সাথে একটা রেস্টুরেন্টে বসে একটু রঙঢঙ করবেন, সেই ভাইবটাই নষ্ট। গার্লফ্রেন্ডের মুখে আইসক্রিম তুলে দিতে দিতে আপনার মাথায় ঘুরবে টয়লেট পেপারের টেনশন। বসুন্ধরারটা কিনবেন নাকি ফে কিনবেন?? দুইটার কোনোটাই যদি না পাওয়া যায়, তাহলে ফ্রেশেরটা কিনতে হবে। কিন্তু ফ্রেশের টয়লেট পেপার আপনার বউ আবার পছন্দ করে না।
বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে অনলাইনে গার্লফ্রেন্ডকে সময় দিতে যাবেন, দেখবেন বউটা এসে পাশে বসে সুখ দু:খের কথা বলেই যাচ্ছে। কথা বলতে বলতে আপনার ফোনে উঁকি দিচ্ছে। এইসব যন্ত্রণায় আদরের গার্লফ্রেন্ডের নাম্বার আপনি সেইভ করে রেখেছেন অফিসের ড্রাইভারের নামে।
আপনার সুন্দরী গার্লফ্রেন্ডের নাম মাশিয়াত, কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপে তার নাম খালেক ভাই। কি দু:খজনক ঘটনা!!
এরপরে আপনার বউ বাহারি রান্না করে আপনার সামনে রাখবে, কিন্তু আপনি খেতে পারবেন না। কারণ আপনার কুচুপুচু মাশিয়াত নিজের হাতে রান্না করা অখাদ্য মুরগী এনে আপনাকে সন্ধ্যায় খাইয়েছে। সেই কুৎসিত মুরগী খাওয়ার পর থেকেই আপনার বমি বমি ভাব হচ্ছে, মুখে সামান্য রুচিও নাই।
বউটা ঘুমিয়ে গেলে গার্লফ্রেন্ডের সাথে একটু ফোনে কথা বলবেন, সেই উপায়ও নাই। আপনার বাচ্চা আপনাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমায়। আপনি বিছানা থেকে উঠলেই বাচ্চাটা এলার্ম ক্লকের মত ট্যাঁও ট্যাঁও করে উঠে। অথচ জানোয়ারটা রাতে হিসু করে ডেইলি বিছানা ভিজিয়ে ফেলে, তখন তার ঘুম ভাঙে না।
এসব কষ্টই শেষ কষ্ট না। ডেইলি এক হাজারটা মিথ্যা কথা বলা লাগে। নতুন মিথ্যা বলার সমস্যা হলো, আগে কোন কোন মিথ্যা বলেছিলেন, সেগুলোও মনে রাখতে হয়। নতুন মিথ্যা আর পুরাতন মিথ্যা যদি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, সাথে সাথে বউয়ের কাছে কট। এইভাবে মিথ্যার যেই মাল্টিভার্স তৈরী হয়, সেটা দিয়ে এভেঞ্জার্সের নতুন স্ক্রিপ্ট লেখা যাবে।
এলাকায় একটু পরিচিত মুখ হলে তো আরও সমস্যা। গার্লফ্রেন্ড নিয়ে পরিচিত কোনো জায়গায় ঘুরতে যাওয়া যায় না, এলাকার শপিংমলে নিয়ে যাওয়া যায় না। কেউ যাতে চিনতে না পারে, এজন্য সবসময় মুখে লাগিয়ে রাখতে হয় মাস্ক। পরিচিত কেউ দেখে ফেলতে পারে, এই টেনশনে গার্লফ্রেন্ডের কোমড়ে হাত রেখে হাঁটাও যায় না।
দেশের বাইরে ট্যুরে গেলে গার্লফ্রেন্ডের আবদারের লিস্ট মনে রাখতে গেলে বউয়েরটা ভুলে যাবেন, বউয়ের আবদার মনে রাখতে গেলে গার্লফ্রেন্ডেরটা ভুলে যাবেন। আলাদা আলাদা শপিং আবার আলাদা লাগেজে ঢুকাইতে হবে। একটার মধ্যে আরেকটা ঢুকলেই কিয়ামত। আপনার বউয়ের জন্য আনা লাগেজের ভেতর থেকে লঞ্জেরি বের হচ্ছে, গার্লফ্রেন্ডের জন্য আনা লাগেজ থেকে বের হচ্ছে ভাইব্রেটর... কে সামলাবে এতদিকের বিপদ??
এইসবের যন্ত্রণায় আমার পরিচিত কয়েকজন পরকীয়া করাই বাদ দিয়ে দিয়েছে। তাদের চোখে আজ ক্লান্তি, মুখে শুধুই মলিনতা।
আপনারা যারা পরকীয়া করেন ভাই, আপনারা আসলেই অনেক সংগ্রামী। এক জীবনে সাধনা করা ছাড়া খাস নিয়্যতে এসব কর্মকান্ড আয়ত্বে আনা সম্ভব না। অল অফ ইউ হ্যাভ মাই আটমোস্ট রেসপেক্ট।
আই ক্যান ফিল ইউ ব্রাদার্স, আই ক্যান ফিল ইউ।
✍️Hazat Sabbir