08/04/2026
পান্তাভাতঃ ঐতিহ্য থেকে বৈজ্ঞানিক পুষ্টির উৎস
পান্তাভাত আমাদের ঐতিহ্যবাহী একটি খাবার, যা একসময় প্রধানত গ্রামীণ ও খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি শহুরে মধ্যবিত্তের মধ্যেও নতুনভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, বিশেষ করে বাংলা নববর্ষ বা পয়লা বৈশাখ উদ্যাপনের মাধ্যমে। অনেকের কাছে এটি একদিনের উৎসবের খাবার হলেও, বাস্তবে পান্তা একটি সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর খাদ্য। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের একদল গবেষকের গবেষণায় এই সাধারণ খাবারের অসাধারণ কিছু স্বাস্থ্যগুণ নতুন করে সামনে এসেছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী Food and Humanity-তে প্রকাশিত এক গবেষণার প্রতিবেদনে উল্লেখিত হয় তাদের মূল লক্ষ্য ছিল পান্তাভাতের পুষ্টিমান, অণুজৈবিক উপাদান এবং রক্তে শর্করার ওপর এর প্রভাব নির্ণয় করা। গবেষণায় দেখা গেছে, পান্তাভাত খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা সাধারণ ভাতের তুলনায় ধীরে বৃদ্ধি পায়, যা এটিকে সম্ভাব্যভাবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযোগী একটি খাবারে পরিণত করে।
পান্তাভাত মূলত ফারমেন্টেশন বা গাজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। রান্না করা ভাতকে পরিষ্কার পানিতে ডুবিয়ে প্রায় ১০–১২ ঘণ্টা রেখে দিলে স্বাভাবিকভাবেই এতে ফারমেন্টেশন ঘটে। গবেষণায় ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এই সময়ের মধ্যে ভাতে বিভিন্ন উপকারী অণুজীব জন্ম নেয়, বিশেষ করে প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া, যা হজমশক্তি উন্নত করতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
এছাড়া গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পান্তাভাতে সাধারণ ভাতের তুলনায় অনেক বেশি অণুপুষ্টি উপাদান থাকে। যেমন—লৌহ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক ও পটাশিয়াম উল্লেখযোগ্য। ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ার কারণে ভাতে থাকা আঁশ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সহজে অবমুক্ত হয়, ফলে শরীর এগুলো দ্রুত শোষণ করতে পারে। একই সঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় কিছু উপকারী মেটাবোলাইট তৈরি হয়, যা শরীরের জন্য অতিরিক্ত উপকার বয়ে আনে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পান্তাভাত শুধু একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার নয়, বরং এটি একটি বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত পুষ্টিকর খাদ্য। সহজলভ্যতা, কম খরচ এবং বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতার কারণে এটি আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টি মোকাবিলা এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে এটি একটি কার্যকর ও প্রাকৃতিক সমাধান হতে পারে।
🩺 ডায়েটিশিয়ান ইসরাত জাহান ডরিন
কনসালটেন্ট অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান
📞 অ্যাপয়েন্টমেন্ট: 01930-694120
🏥 বিডিএন পল্লবী ডায়াবেটিস সেন্টার
📍 ১/১১ পল্লবী, সেতারা টাওয়ার (নিচতলা), মিরপুর, ঢাকা–১২১৬
#ডায়েটিশিয়ান #পুষ্টি #সুষমখাদ্য
#ডায়াবেটিস #স্বাস্থ্যকরজীবন #মিরপুর #ঢাকা