21/05/2026
🍏 ফল খেলে কি সত্যিই ডায়াবেটিস বাড়ে?
ডায়াবেটিস ধরা পড়লেই আমাদের অনেকের মনে প্রথম যে ভয়টি কাজ করে, তা হলো— "এখন থেকে কি সব ফল খাওয়া বন্ধ?" অনেক সময় দেখা যায়, রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ার ভয়ে রোগীরা পুষ্টিকর ফল খাওয়া একেবারেই ছেড়ে দেন।
কিন্তু সব ফল ক্ষতিকর নয়, পরিমাপটাই আসল! ফল প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি হলেও এর মধ্যে রয়েছে শরীরের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। তাই সঠিক নিয়ম ও পরিমাপ জেনে ফল খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখেও ফলের স্বাদ নেওয়া পুরোপুরি সম্ভব।
🔍 ডায়াবেটিসে ফল খাওয়ার মূল চাবিকাঠি:
• গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI): ফল নির্বাচনের ক্ষেত্রে 'গ্লাইসেমিক ইনডেক্স' বা GI বোঝা খুবই জরুরি। যে ফলের GI যত কম, তা রক্তে তত ধীরে চিনি বাড়ায়। যেমন— আপেল, পেয়ারা এবং নাশপাতি কম GI সম্পন্ন ফল। এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয় না।
• ফাইবারের জাদুকরী ভূমিকা: ফলে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক ফাইবার বা আঁশ থাকে। এই ফাইবার আমাদের শরীরে চিনি বা গ্লুকোজ শোষণের গতিকে ধীর করে দেয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
💡 কিছু জরুরি পুষ্টি পরামর্শ
1️⃣ জুস না খেয়ে আস্ত ফল খান: ফল ব্লেন্ড বা জুস করে ফেললে তার ভেতরের উপকারী ফাইবার নষ্ট হয়ে যায় এবং লিকুইড সুগার দ্রুত রক্তে মিশে যায়। তাই ফল সবসময় কামড়ে বা আস্ত খাওয়ার অভ্যাস করুন।
2️⃣ মিষ্টি ফলের ক্ষেত্রে সতর্কতা: আম, কাঁঠাল বা পাকা কলার মতো উচ্চ মিষ্টি ও উচ্চ GI যুক্ত ফলগুলো খাদ্যতালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এগুলো একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী অত্যন্ত সীমিত ও নির্দিষ্ট পরিমাপে গ্রহণ করতে হবে।
3️⃣ সঠিক সময়: বিকেল বা সকালের হালকা নাস্তার সময় (Snacks Time) ফল খাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। ভারী খাবারের সাথে সাথে ফল না খাওয়াই শ্রেয়।
ভয় পেয়ে ফল খাওয়া বন্ধ না করে, সচেতন হোন এবং পরিমাপ বজায় রাখুন।
🩺 অনলাইন বা অফলাইন সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন:
📞 01333165169
তসিবা বিনতে রহমান তোড়া ডায়েটিশিয়ান, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল
নিউট্রিশন কনসালটেন্ট অ্যান্ড ডায়েটিশিয়ান, SPED