09/03/2015
লতিফা লুৎফে আরা খানম, বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত লেখিকা, তাঁর অনেকগুলো বই বাজারে এসেছে, তিনি পান্না চৌধুরী সম্পর্কে একটি আর্টিকেল লিখেছেন সেটা সবার উদ্দেশ্যে দেয়া হলো....
এবং লতিফা লুৎফে আরা খানম এর কিছু বইয়ের প্রচ্ছদ ছবি আকারে পোস্ট করা হলো...
" শ্রদ্ধেয় পান্না চৌধুরী- অনন্য এক ব্যক্তিত্ব।"
লতিফা লুৎফে আরা খানম।
মানব জতির সৃষ্টির পর থেকে বিশেষ বিশেষ কিছু মানব যুগে-যুগে তাঁদের অন্তর্নিহিত গভীর এক বোধ থেকে নিরন্তর স্রষ্টাকে খুঁজে ফিরছেন।
স্রষ্টাকে খোঁজার আকুতিই তাঁদের এক অতিন্দ্রীয় ধ্যানের গভীরতম প্রদেশে পৌঁছে দেয়।
আর এমনিভাবেই, পৃথিবীর তাবৎ মুনি, ঋষি, ধ্যানী-তাপস, গাউস, কুতুব, পীর পয়গম্বরগন সবাই-ই তাঁদের আত্মীক এই অনুসন্ধানের গভীরতায় নিমগ্ন। ধ্যানের মাধ্যমে নিজেরই অজান্তে মহান সত্বার নৈকট্য অনুধাবন করেন।
সেই মহান সত্বা-যিনি এই চির সম্প্রসারিত বিশ্বজগতের যতো জড়-অজড়, দৃশ্য এবং অদৃশ্যমান সকল কিছুরই স্রষ্টা।
তিনি এক, অদ্বিতীয়, অনাদি-অনন্ত। তাঁরই সৃষ্ট, পরমানু এবং বিশাল এই মহাবিশ্বকেও ধারন করে রেখেছেন একা।
মহান এই পরমাত্মাকে খুঁজে পাবার একমাত্র পথই হচ্ছে আত্মমগ্নতা। মগ্নতায় নিমগ্নরাই এক পর্যায়ে স্রষ্টাকে খুঁজে পান। তাঁদের মাধ্যমেই স্রষ্টা, তাঁর অপরাপর মানবজাতির কাছে তাদের জীবন যাপনের পথ ও পন্থাদি সম্পর্কে নির্দেশনা পাঠিয়েছেন সময়ে সময়ে।
যুগে-যুগে পৃথিবীর প্রত্যেক অঞ্চলেই স্রষ্টা তাঁর নির্দেশ পাঠিয়েছেন মানুষের কাছে। সময় ও অবস্থার প্রেক্ষাপটে স্রষ্টাকর্তৃক প্রেরিত নির্দেশনাসমূহ, পরিবর্তিত, পরিবর্ধিত, পরিমার্জিতও হয়েছে তার নিজেরই দ্বারা।
সর্বশেষ পূর্নাঙ্গ- জীবন ব্যবস্থা কোরআনুল করিম, তিনি শেষ নবী আমাদের প্রিয় হযরত মুহাম্মদ (দ:) এর উপর জীব্রাইল ফেরেশতা কর্তৃক প্রেরণ করেছেন। এই কোরআনুল করিমের কোন তুলনা নেই। আর কোন নবীও পৃথিবীতে আসবেননা।
ঈসা আলাইহিয়াসাল্লাম পুনরায় আসবেন পৃথিবীতে।
আসবেন, তাঁর ফেলেরেখে যাওয়া কিছু ডিভাইন কাজ সম্পন্ন করে যেতে।
প্রশ্ন দাঁড়ায়- তবে মানব জাতিকে পথ প্রদর্শনের জন্য কেয়ামত পর্যন্ত কেউ কি আর থাকবেন না...?
উত্তর হলো... থাকবেন।
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে সূর্যদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত গোলাকার এই বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলে স্থানীয় সময় তারতম্যের মধ্যদিয়ে স্রষ্টার বান্দাগন তাঁকে প্রতি মূহুর্তই সিজদা করে চলেছেন। সৃষ্টির কী অভূতপূর্ব এই নিয়মানুবর্তিতা।
সৃষ্টিকর্তা তাঁর প্রেরিত নবী-রাসুলগনের পর, নায়েবে রাসুলগন- শেষ ধর্মগ্রন্থে সন্নিবেশিত জীবনদর্শন সম্পর্কে মানুষকে জ্ঞান দান করে যাবেন।
পবিত্র কোরআনে ৪১ নাম্বার সূরা হা-মিম সিজদার ৩৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্ তায়ালা বলেছেন “যে ব্যক্তি আল্লাহ্র দিকে মানুষকে ডাক দেয়, সৎকাজ করে, তার চেয়ে উত্তম কথা আর কার?”
যুগে-যুগে স্রষ্টাকে খুঁজে ফেরেন যারা তাঁদেরই মধ্য থেকে স্রষ্টারই ইচ্ছেতেই নায়েবে রাসুলগন এ গুরু দায়িত্ব পালন করছেন এবং করে যাবেন।
আমরা সবাই জানি- মক্কা শরীফ পৃথিবীর মূলভাগের কেন্দ্র বিন্দু। এ কেন্দ্র বিন্দুতেই হযরত মুহাম্মদ (দ:) জন্ম গ্রহন করেন। মক্কা শরীফেই তাঁর উপর আল্লাহ তায়ালা কোরআন শরীফ প্রথম নাজিল করেন। পর্য্যাক্রমে কোরআনুল করিমের অব্যাক্ত সূরা গুলোও মক্কা ও মদীনা শরীফেই নবীজীর উপর নাজিল হয়। আর মক্কা-মদীনা শরীফের ভাষা আরবী।
সে ভাষাতেই কোরআনুল করিম শিক্ষা বঞ্চিত হযরত মুহাম্মদ (দ:) উপর নজিল হয়েছে।
বাংলা ও আরবী ভাষাতে ভিন্নতা বিদ্যামান। আরবী শিক্ষা গ্রহনকারী বাংলাদেশী মুসলমানগন, সে কারনে কোরআন শরীফের মর্মার্থ খুব একটা বোঝেন্ না। মর্মার্থ না বোঝার কারণে বাংলাদেশী মুসলমানগনের সিংহভাগই মূল কোরআনে আল্লাহ্ তায়ালা প্রদর্শিত জ্ঞানের সন্ধান যেমন পান্না- তেমনি, কোরআনকে নিয়ে যে গবেষণা করবেন তাও হয়ে ওঠেনা। কোরআনের বানী অনেক ক্ষেত্রে শুধু ঘরের কোনে রেহেল বন্দী হয়েই থাকে।
অথচ কোরআনুল করিমেই বারবার কোরআনকে- বুঝে এবং উপলদ্ধি করে পড়তে বলা হয়েছে।
ইতোমধ্যে, বহুবার বাংলা ভাষা সহ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় কোরআনুল করিম অনুবাদিত হয়েছে।
কোরআন শরীফ মূলত: ক্লাসিকধর্মী ও অলঙ্কার বহুল বলে বহুবার বহু বিশিষ্ট জন কর্তৃক কোরআন শরীফ অনুবাদিত হলেও এর মর্মার্থে পৌঁছা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
ডিভাইন উইজডোম সোসাইটির কর্ণধার শ্রদ্ধেয় পান্না চৌধুরী সে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। সুদীর্ঘ বার বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম আর অদম্য মনেবলে উজ্জিবিত হয়ে তিনি পবিত্র কোরআনুল করিমকে ছন্দোবদ্ধ বাংলা কোরআনে রূপান্তরিত করেছেন। যা ইতিপূর্বে কেউ কোথাও করেননি। অর্থাৎ মূল কোরআনুল করিম ছন্দোবদ্ধ ভাবে আর কোথাও কেউ কোন ভাষাতেও অনুবাদ করেননি, করতে পারেননি। তাঁর এ কাজে, তাঁরই আত্মার আত্মীয় তাঁর সহধর্মিনী তাঁকে সব রকমের শক্তি, সাহস ও সহযোগিতা দিয়েছেন এবং অদ্যবধি দিয়ে আসছেন।
শ্রদ্ধেয় পান্না চৌধুরী মূলত: ফিজিক্সে পড়াশোনা করেছেন। দীর্ঘ ত্রিশ বছর কানাডাতে বিভিন্ন ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে সনাক্তে থেকেও তিনি মুসলমানদের এককালীন গৌরবোজ্জল ইতিহাস কে ভোলেননি, ভুলতে পারেননি। ইসলাম, ধর্ম, কোরআন সহ মানুষের পৃথিবীতে আগমনের রহস্য তাঁকে প্রতিনিয়ত তাড়িত করেছে।
একদিন তিনি মক্কা শরীফ থেকে কানাডায় আগত ড: আবদুল্লাহ্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন- “কোরআন শরীফকে আমাদের ভাষায় অনুবাদ করেও এর মর্মার্থ অনেক ক্ষেত্রেই আমরা বুঝিনা। তুমি কি বলতে পার কেন?”
ড: আবদুল্লাই তাঁকে বলেছিলেন (বলে তিনি আমাদের বলেছেন।) কোরআনুল করিম নাজিল হয়েছে ছন্দের মাধুর্যে্। ছন্দবদ্ধ ভাবে তোমরা যদি কোরআনুল করিমকে অনুবাদ করে নিতে পারো, তবে, তোমাদরে মর্মার্থে গিয়ে কথা বলবে কোরআন। কথাটা শ্রদ্ধেয় পান্না চৌধুরীকে যেন পথের দিশা দেখালো। কোরআনুল করিমকে ছন্দোবদ্ধভাবে অনুবাদ করার এক অদম্য স্পৃহা তাঁর মধ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করে যেতে থাকলো- যে স্পৃহার ফসল তাঁর রচিত ছন্দোবদ্ধ কোরনুল করিম।
বিনয়ী পান্না চৌধুরী বলেন- এত বড় এমন একটা কাজ, আমি কি আর করেছি- আল্লাহ্ তায়ালাই আমাকে দিয়ে করিয়ে নিয়েছেন।
একটি পাতা ঝরাও যেখানে আল্লাহ্র নজর এড়ায়না, সেখানে কোরআনুল করিমকে ছন্দোবদ্ধভাবে বারটা বছরের সাধণায় যে তিনি অনুবাদ করেছেন সেটা যে মহান আল্লাহ্ তায়ালার ইচ্ছেয় করতে পেরেছেন- তা সহজেই অনুমেয়। তিনি যে করেছেন সেটাই বড়কথা।
এবং যে কাজ তিনি করেছেন তাতে তিনি নায়েবে রাসুলের সমতুল্য। তিনি শুধু ছন্দোবদ্ধ কোরঅন শরীফই অনুবাদ করেননি। সেখানেই থেমে থাকেননি। তিনি সপরিবারে তাঁর অনুবাদিত কোরআন শরীফের প্রকাশনার জন্যে বাংলাদেশে সাতদিনের জন্যে এসে আর কানাডা ফিরে যেতে পারেরনি। কী এক ঐশ্বরিক শক্তি তাঁকে এখন পর্যন্ত আর কানাডা ফিরতে দিচ্ছেনা। সুদীর্ঘ ত্রিশ বছরের ব্যবসায়িক সাফল্য সব পেছনে ফেলে তিনি এখন নিবেদিত হয়েছেন মানুষের কল্যানে।
সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছের কাছে পারাভব মেনে তিনি নিজ দেশে বসে মুসলিমদের হারানো ঐতিহ্যকে ফিরে পাবার এক অদম্য স্পৃহা নিয়ে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন।
কোরআন শরীফের বাংলা ক্যাসেট বের করা, তাতে নিজের কণ্ঠে যথাযথভাবে কথা বলা, নামাজ, মিলাদ-শরীফের ক্যাসেট বের করা, কোরানিক সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে ভিডিও চিত্র দিয়ে মানুষকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করে চলেছেন।
কোরানিক পদ্ধতিতে হিলিং কোর্স করার ব্যপারেও তার প্রচেষ্টা সফলতা পেয়েছে।
আমি মাত্র পাঁচ মাসে তাঁকে যেটুকু জেনেছি তাতে এ লেখাটা লিখথে গিয়ে বার-বার আমার মনে হচ্ছে তার কর্ম ও চিন্তা চেতনার যে গভীরতা, লেখার যে দক্ষতা, ভাষার যে যথার্থ প্রয়োগ করেছেন তার গভীরে গিয়ে তাঁকে পরিমাপ করার মতো আমার কোন মাপ কাঠি নেই। তাই, কী ভাবে আমি পরিপূর্ন একজন পান্না চৌধুরীকে নিয়ে লিখবো ?
শ্রদ্ধেয় পান্না চৌধুরী একজন সজ্জন ব্যক্তি। মানুষের প্রতি তার সহযোগিতা, সহমর্মিতার হাত সর্বদাই প্রসারিত। মানুষ ও প্রকৃতির সবকিছুকেই তিনি ভালোবাসেন।
তাঁর নিজস্ব বোধ দিয়ে তিনি মুসলিম জাগরণ ও কল্যানের জন্যে তিনি ডিভাইন উইজডোম সোসাইটি নামক কল্যানধর্মী একটি কোরানিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।
ঢাকার গুলশান-১ এ প্রতিষ্ঠিত তাঁর ডিভাইন উইজডোম সোসাইটি পরিচালিত মাইন্ড হিলিং কোর্স-এ তিনি শিক্ষা দিয়ে চলেছেন। তাঁর মনে বৃদ্ধাশ্রম করারও একটা ইচ্ছে কাজ করছে। আল্লাহ্ তায়ালা তাকে সে তৌফিক দান করুন।
তিনি এবং তার পরিবার পরিজন দীর্ঘজীবী হোন। আল্লাহতালা তাঁর মঙ্গল করুন।