07/10/2025
"হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া/রক্তশূন্যতা"
হিমোগ্লোবিন কমে গেলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে, কারণ হিমোগ্লোবিন রক্তে অক্সিজেন পরিবহনের মূল কাজটা করে। যখন হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়, তখন শরীরের কোষগুলিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না, যার ফলে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেয়।সাধারণত পুরুষদের তুলনায় মহিলারা রক্তশূন্যতায় বেশি ভুগে থাকে।
★হিমোগ্লোবিন কমে গেলে যে সমস্যাগুলো হয় (রক্তশূন্যতার লক্ষণ):-
১.অতিরিক্ত দুর্বলতা ও ক্লান্তি: সামান্য কাজ করলেই হাঁপিয়ে যাওয়া বা সারাক্ষণ দুর্বল ও অবসন্ন অনুভব করা।
২.ফ্যাকাশে ত্বক ও চোখ: ত্বক, ঠোঁট, নখ এবং চোখের ভেতরের অংশ ফ্যাকাশে বা বিবর্ণ হয়ে যাওয়া।
৩.শ্বাসকষ্ট: অল্প পরিশ্রমেও শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা হাঁপিয়ে যাওয়া।
৪.মাথা ঘোরা ও মাথাব্যথা: প্রায়ই মাথা ঘোরা বা হালকা মাথাব্যথা অনুভব করা।
৫.দ্রুত হৃদস্পন্দন (বুক ধড়ফড়): হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত হওয়া বা বুক ধড়ফড় করা।
৬.হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া: শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশেষ করে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া।
৭.মনোযোগের ঘাটতি: কোনো কাজের প্রতি আগ্রহ বা মনোযোগের অভাব দেখা দেওয়া।
৮.নখ ভঙ্গুর হওয়া ও চুল ঝরে পড়া: নখ সহজে ভেঙে যাওয়া এবং চুল অতিরিক্ত ঝরে যাওয়া।
**তীব্র ক্ষেত্রে জটিলতা: যদি রক্তশূন্যতা তীব্র হয়, তবে বুকে ব্যথা এবং হার্ট ফেইলিওর (Heart Failure)-এর মতো গুরুতর জটিলতাও দেখা যেতে পারে।
**গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কম থাকলে গর্ভবতী মা এবং ভ্রূণের স্বাস্থ্যের জন্য এটি ক্ষতিকারক হতে পারে এবং প্রসবের সময় জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
★দ্রুত হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে এমন খাবার:-
রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ানোর জন্য খাদ্যতালিকায় আয়রন, ভিটামিন সি, এবং ফলিক অ্যাসিড (ভিটামিন বি৯) সমৃদ্ধ খাবার যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
১. আয়রন (লৌহ) সমৃদ্ধ খাবার:-
আয়রন হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য।
▪️মাংস ও কলিজা: লাল মাংস (যেমন: গরুর মাংস, খাসির মাংস) এবং কলিজা (মুরগি বা অন্যান্য প্রাণীর)। এগুলি হিম আয়রনের খুব ভালো উৎস, যা শরীর সহজে শোষণ করতে পারে।
▪️সবুজ শাকসবজি: পালং শাক, ব্রকোলি, সরিষার শাক।
ফল: বেদানা/ডালিম, আপেল, খেজুর, কিশমিশ, ডুমুর।
▪️ডাল ও বীজ: মসুর ডাল, শিমের বিচি, কুমড়োর বীজ।
▪️অন্যান্য: ডিম, সামুদ্রিক খাবার (যেমন: ঝিনুক)।
২. ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার:-
▪️ভিটামিন সি (Vitamin C) শরীরকে খাদ্যের আয়রন শোষণ করতে সাহায্য করে, তাই আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের সাথে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত।
▪️ফল: কমলালেবু, লেবু, আমলকি, স্ট্রবেরি, পেঁপে, তরমুজ।
▪️সবজি: টমেটো, সবুজ ফুলকপি (ব্রকোলি), গোলমরিচ।
৩. ফলিক অ্যাসিড (ভিটামিন বি৯) সমৃদ্ধ খাবার
ফলিক অ্যাসিড লাল রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে।
▪️সবুজ শাকসবজি: সবুজ পাতাযুক্ত সবজি।
▪️ডাল ও বীজ: শিমের বিচি, বাদাম।
▪️অন্যান্য: কলা, কলিজা, ভাত (ফোর্টিফাইড চাল)।
৪. অন্যান্য সহায়ক খাবার:-
▪️বিটরুট (বীট): এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি ও সি থাকে। বিটরুটের জুস খাওয়া খুবই উপকারী।
▪️ডুমুর, কিশমিশ ও খেজুর: এই শুকনো ফলগুলিতে আয়রন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে।
যেকোনো সমস্যায় অবশ্যই ডাক্তার দেখাবেন এবং ডাক্তারের পরামর্শমতো খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ করবেন।
#রক্তশূন্যতা