26/11/2025
যে খাবারগুলো ক্যান্সারের ঝুকি বাড়ায় !
ক্যান্সার আসলে কোনো একটাই রোগ নয়, বরং ২০০+ ধরনের রোগের একটি গ্রুপ। আমাদের শরীরের কোষগুলো সবসময় তৈরি হয় ও নষ্ট হয় এবং এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কখনও কখনও কিছু কারণে কোষগুলো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খুব দ্রুত বাড়তে থাকে এবং আশেপাশের স্বাস্থ্যকর কোষ দখল করতে শুরু করে। এই অস্বাভাবিক কোষগুলো যখন শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে, তখনই তাকে ক্যান্সার বলা হয়।
ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার পেছনে অনেক কারণ কাজ করে যেমন - জীবনযাপন, খাবার, পরিবেশ দূষণ, রাসায়নিক পদার্থ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, বংশগত কারণ সবকিছু মিলেই ঝুঁকি তৈরি হয়। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট কারণ নয়, বরং দীর্ঘদিনের অভ্যাস + পরিবেশ এই দুটো প্রধান ভূমিকা রাখে।
১। প্রসেসড মাংস (Processed Meat) যেমন - সসেজ, সালামি, হটডগ, প্যাকেটের বিফ/চিকেন স্লাইস। এগুলো সংরক্ষণ করার জন্য নাইট্রেট-নাইট্রাইট নামের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এই রাসায়নিকগুলো দীর্ঘদিন খেলে শরীরের কোষে ক্ষতিকর পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে কোলন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এদের ভূমিকা বেশি।
২। অতিরিক্ত পোড়া বা চিটচিটে ভাজা খাবার। যেমন - খুব বেশি আগুনে পোড়া বারবিকিউ, গ্রিল, তেল ঝরা কাবাব, বারবার ভাজা তেলে রান্না। খাবার খুব বেশি পোড়া বা চারকোলে পরিণত হলে PAH ও HCA নামের ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হয়। এগুলো শরীরের কোষের ভেতরের ডিএনএ-তে প্রভাব ফেলতে পারে, যা ঝুঁকি বাড়ায়।
৩। জাঙ্ক ফুড, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস ও ফাস্টফুড। যেমন - চিপস, পিজা, বার্গার, ফ্রাইড চিকেন প্রভৃতি। এগুলোতে থাকে ট্রান্স ফ্যাট, কৃত্রিম রং, কেমিক্যাল, অতিরিক্ত লবণ ও চিনি - যেগুলো শরীরে প্রদাহ (inflammation) বাড়ায়। দীর্ঘদিন প্রদাহ থাকা মানেই কোষ পরিবর্তনের সম্ভাবনা বেশি।
৪। অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি খাবার। যেমন - সফট ড্রিংক, কেক, ডোনাট, আইসক্রিম, অনেক বেশি মিষ্টি চা–কফি। চিনি সরাসরি ক্যান্সার তৈরি করে না, কিন্তু অতিরিক্ত চিনি → ওজন বাড়ায় → ফ্যাট জমে হরমোনের সমস্যা করে → দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। অর্থাৎ, পরোক্ষভাবে এটি ঝুঁকি বাড়ানোতে ভূমিকা রাখে।
৫। প্লাস্টিকের গরম বক্স/কাপে রাখা খাবার। যেমন - গরম ভাত, ঝাল, দুধ/চা প্লাস্টিকে রাখা। গরম অবস্থায় প্লাস্টিক গলে খাবারের সাথে মিশে Bisphenol-A (BPA) বা অন্যান্য রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এগুলো হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং দীর্ঘদিনে ঝুঁকি বাড়ায়।
৬। অতিরিক্ত লবণযুক্ত ও সংরক্ষিত খাবার। যেমন - আচার, সস, প্যাকেটজাত নোনতা খাবার, শুকনো সংরক্ষণ করা মাছ/মাংস। খুব বেশি লবণ পাকস্থলীর আস্তরণে ক্ষতি করে এবং কিছু ক্ষেত্রে পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
৭। সোডা, কোলা, এবং রঙিন কার্বোনেটেড ড্রিংক। এগুলোতে থাকে অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম রং, প্রিজারভেটিভ, অ্যাসিড - যেগুলো রক্তে প্রদাহ বাড়ায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয়। দুর্বল ইমিউন সিস্টেম মানেই রোগের ঝুঁকি বেশি।
৮। বারবার ব্যবহৃত ভাজা তেল। তেল বারবার গরম করলে তেলের গঠন বদলে যায় এবং তাতে free radicals তৈরি হয়। এগুলো কোষের ওপর সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।