05/05/2026
আমাদের চারপাশে একটা প্রচলিত ধারণা আছে যে, গাছগাছালি বা হার্বাল জিনিসের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এই বিশ্বাসের ওপর ভর করে অনেকেই লিভারের রোগ, জন্ডিস কিংবা সাধারণ শারীরিক দুর্বলতায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বিভিন্ন ভেষজ বা কবিরাজি ওষুধ খেয়ে থাকেন। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, লিভার হচ্ছে শরীরের প্রধান ফিল্টার বা ল্যাবরেটরি। আপনি ভালো-মন্দ যাই খান না কেন, তা প্রসেস করার দায়িত্ব এই লিভারের। প্রসেস করতে গিয়ে যখন লিভার অতিরিক্ত টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদানের মুখোমুখি হয়, তখন এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রকৃতি থেকে পাওয়া সব কিছুই যেমন উপকারী নয়, তেমনি সব ভেষজ ওষুধও লিভারের জন্য নিরাপদ নয়। বিশেষ করে যখন এসব ওষুধ কোনো নির্দিষ্ট মাত্রা বা বৈজ্ঞানিক ফর্মুলা ছাড়া তৈরি করা হয়, তখন তা উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। আজ আমরা আলোচনা করব কেন হার্বাল ওষুধের ক্ষেত্রে আপনার বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন।
অনেক লতা-পাতা বা গাছের মূলে এমন কিছু অ্যালকালয়েড থাকে যা সরাসরি লিভারের কোষ বা হেপাটোসাইট ধ্বংস করে ফেলে। দ্রুত কার্যকারিতার আশায় অনেক সময় অসাধু উপায়ে হার্বাল ওষুধের সাথে ভারী ধাতু (যেমন- সিসা, পারদ, আর্সেনিক) বা স্টেরয়েড মিশিয়ে দেওয়া হয়, যা লিভার ও কিডনির জন্য অত্যন্ত মারাত্মক। সাধারণ ওষুধের মতো হার্বাল পণ্যের অনেক ক্ষেত্রেই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা ডোজ নির্ধারণ করা থাকে না। ফলে অতিরিক্ত সেবনে লিভারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। আপনি যদি অন্য কোনো রোগের (যেমন- ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ) নিয়মিত ওষুধ খেয়ে থাকেন, তবে তার সাথে ভেষজ উপাদানের বিক্রিয়ায় লিভার ফেইলিউর হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
প্রকৃতি আমাদের অনেক নিয়ামত দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সঠিক জ্ঞান ছাড়া তার ব্যবহার বিপদ ডেকে আনতে পারে। আপনার লিভার অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি অঙ্গ, তাই কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এতে অচেনা কোনো রাসায়নিক প্রবেশ করাবেন না। সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন।
লিভারের যত্নে আমরা,
লিভার রোগ প্রতিরোধে সচেতন থাকুন।
ডাঃ আনহারুর রহমান
সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারি)
কনসালটেন্ট ল্যাপারোস্কপিক, পরিপাকতন্ত্র, হেপাটোবিলিয়ারি, ও প্যানক্রিয়াটিক সার্জারি।