10/03/2026
আমাদের দেশে শিক্ষার হার বাড়ছে—এটা সত্য।
কিন্তু একটা প্রশ্ন কি কখনো ভেবেছেন?
শিক্ষা বাড়লেও কেন বুদ্ধি, যুক্তি আর বাস্তবিক জ্ঞান বাড়েছে না? কেন আমরা জ্ঞান-বিজ্ঞানী পিছিয়ে ?
স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও ক্ষমতায় থাকা সকলের ব্যাংক ব্যালেন্স, বাড়ি, গাড়ি সব কিছুর উন্নতি হয়েছে কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি এখনো হয়নি কেন?
আজকের সমাজে মানুষের কাজকর্ম, যুক্তি-তর্ক এবং আচরণ দেখলে মনে হয়—আমরা ডিগ্রিধারী হচ্ছি, কিন্তু সত্যিকারের জ্ঞানী হচ্ছি না। যেখানে শিক্ষা আছে কিন্তু বোধ নেই ।
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে লেখা হয়েছে দুটি ব্যতিক্রমধর্মী বই—“শিক্ষিত ভোদাইদের বাংলাদেশ: তাইতো সব হচ্ছে শেষ” এবং “শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থা বাঙালির জ্ঞান-শূন্যতা”।
প্রথম বইটি একধরনের ব্যঙ্গাত্মক আয়না, যেখানে আমরা দেখতে পাই আমাদের সমাজের সেই মানুষগুলোর মুখ—যাদের আমরা প্রতিদিন দেখি কিন্তু চিনতে পারি না। এখানে দেখানো হয়েছে সেই শিক্ষিত নামধারী মানুষদের কথা, যাদের জ্ঞান ডিগ্রিতে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সার্টিফিকেটে বন্দী, আর চিন্তাশক্তি প্রায় অনুপস্থিত। এই বইয়ে ব্যঙ্গের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে সমাজের নানা বাস্তবিক বিশ্লেষণ।
দ্বিতীয় বইটি আরও গভীর একটি প্রশ্ন তোলে—আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কি সত্যিই আমাদের জ্ঞানী করে তুলছে, নাকি শুধু ডিগ্রিধারী বানাচ্ছে?
এই বইয়ে আলোচনা করা হয়েছে কীভাবে আমাদের শিক্ষা-ব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ধীরে ধীরে আমাদের চিন্তাশক্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে, কৌতূহলকে কমিয়ে দিচ্ছে এবং আমাদেরকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে পিছিয়ে রাখছে। এখানে বিশ্লেষণ করা হয়েছে কেন আমরা অনেক সময় মুখস্থবিদ্যার চক্রে আটকে যাই এবং কেন বাস্তব জ্ঞান ও সৃজনশীল চিন্তা বিকশিত হতে পারে না।
এই দুইটি বই মূলত একই প্রশ্নের ভিন্ন দুই দিক তুলে ধরে— একদিকে সমাজের আচরণ ও মানসিকতার সমালোচনা, অন্যদিকে সেই মানসিকতার পেছনে থাকা শিক্ষা-ব্যবস্থার বাস্তবতা।
এই বইগুলো কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণ করার জন্য নয়; বরং একটি মানসিকতা, একটি সামাজিক সমস্যাকে চিনিয়ে দেওয়ার জন্য লেখা। যারা নিজের সমাজকে বুঝতে চান, যারা বিশ্বাস করেন সমালোচনা মানে ঘৃণা নয় বরং সংশোধনের আহ্বান—তাদের জন্যই এই বই।
এই বইগুলো পড়ে আপনি হয়তো হাসবেন, আবার ভাবতেও বাধ্য হবেন। কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা সমাজকে নিয়ে নয়—প্রশ্নটা আমাদের নিজেদের চিন্তা ও বোধশক্তিকে নিয়ে।
একটি কথা স্পষ্ট করে বলা দরকার—
এই বই লেখা বা প্রকাশ করার উদ্দেশ্য হলো বাংলার বাঙালিদের চিন্তা ও মানসিকতায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান জানানো।
আমরা যেন নিজেদের ভুলগুলোকে চিনতে পারি, সমাজকে নতুনভাবে ভাবতে শিখি এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও যুক্তির পথে এগিয়ে যেতে পারি—এই লক্ষ্য নিয়েই এই বই দুটি লেখা হয়েছে।
যেদিন আমরা সত্যিকার অর্থে নিজেদের পরিবর্তন করতে পারব, যেদিন আমাদের সমাজকে যুক্তি, জ্ঞান ও সচেতনতার পথে এগিয়ে নিতে পারব, এবং অজ্ঞতা ও চিন্তার অন্ধকার দূর করতে সক্ষম হব—সেদিন এই দুইটি বইয়ের আর কোনো প্রয়োজন থাকবে না।
সেদিন আনন্দের সাথেই এই বই দুটি প্রকাশ বন্ধ করে দেওয়া হবে, কারণ তখনই প্রমাণ হবে যে আমাদের সমাজ সত্যিই পরিবর্তনের পথে এগিয়ে গেছে।
লেখকঃ আব্দুল জব্বার
#বাংলাবই #বইপড়ুন #সমাজেরআয়না #শিক্ষাব্যবস্থা #বাংলাদেশেরসমাজ #চিন্তারবিপ্লব #সচেতনসমাজ #শিক্ষিতসমাজ #বাস্তবকথা #বইপ্রেমী