03/11/2019
হৃদরোগ বলতে সাধারণত হৃৎপিন্ড, মস্তিষ্ক, রক্তবাহী ধমনী ও শিরা, মস্তিষ্ক ও বৃক্ক সম্পর্কিত রোগ বোঝায়।
অনেক রকম হৃদেরাগ আছে। যেমন : করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হার্টের পেশি রোগ (কার্ডিও মায়োপ্যাথি), উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদেরাগ, হার্ট ফেইলিউর, ফুসফুসজনিত কারণ (কোর পালমোনাল), অনিয়মিত হৃদস্পন্দন (অ্যারিথমিয়া), জন্মগত হৃদেরাগ, বাতজ্বরে হৃদেপশি ও ভাল্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া (রিউম্যাটিক হৃদেরাগ), হৃদ্যন্ত্রের দেয়ালগুলো ঘন হওয়া (হাইড্রোট্রফিক কার্ডিও মায়োপ্যাথি), হার্টের ঝিল্লির প্রদাহ, বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ বা প্রদাহ অথবা ক্যান্সার (পেরিকার্ডিয়াল ইফিউশন) ইত্যাদি।
হৃদেরাগের সবচেয়ে সচরাচর উপসর্গ হলো বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে তীব্র শ্বাসকষ্ট, পাকস্থলীর ওপরের দিকে অসহনীয় ব্যথা অনুভব করা, মাথা হালকা লাগা, শরীরের ওপরের অংশে যেমন : পিঠ, পেট, গলা, বাঁ বাহুতে ব্যথা, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে। তবে যাদের হার্টের সমস্যা রয়েছে, তারা অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠে, সিঁড়ি ভাঙলে বা হাঁটলে বুকে চাপ দেয়। আবার যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের বুকের ব্যথা দৃশ্যমান না-ও থাকতে পারে। অনেক সময় হৃত্স্পন্দন কম থাকলে মাথা ঘুরে পড়ে যেতে পারে।
হৃদেরাগের জন্য অনেক কিছুই দায়ী। বয়স, লিঙ্গ, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ লিপিড, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ, পারিবারিক ইতিহাস, স্থূলতা, কম কায়িক পরিশ্রম, বায়ুদূষণ প্রভৃতি কারণে হৃদেরাগ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তবে জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন, ওষুধ সেবন, সঠিক কোলেস্টেরল লেভেল বজায় রাখা, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হৃদেরাগের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব।
হৃদরোগের চিকিৎসায় যে সার্জারিগুলো বর্তমানে যে খুব বেশি প্রচলিত এবং ফলপ্রসূ সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ
১) এনজিওপ্লাস্টিঃ করোনারি এনজিওপ্লাস্টিকে সংক্ষেপে PTCA। এই চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর সরু হয়ে যাওয়া ধমনি খুলে দেওয়া হয়। যার ফলে রক্ত চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়, এতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি, বুকেব্যথা, শ্বাসকষ্ট কমে আসে।
২) করোনারি আর্টারি বাইপাস সার্জারিঃ এই পদ্ধতিতে চিকিৎসায় শরীরের যেসব অংশে রক্তনালী বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং এনজিওপ্লাস্টির মাধ্যমে চিকিৎসা করা সম্ভব হয় না সেসব অংশে রক্তের যোগান নিশ্চিত করা হয়। এই বাইপাস করার জন্য সাধারণত রোগীর নিজের পা, হাত, অথবা বুকের রক্তনালি ব্যবহার করা হয়।
৩) পিসমেকার বা ইলেকট্রনিক মেশিনঃ অ্যা রিথমিয়া রোগীদের হার্টবিট রেইট স্বাভাবিক করার জন্য পিসমেকার বা ইলেকট্রনিক মেশিন ব্যবহার করা হয়।
হৃদরোগের চিকিৎসায় প্রথমত রোগীর অবস্থা বুঝে মেডিকেশন দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনে সার্জারির ব্যবস্থা করা হয়।
হৃদরোগের চিকিৎসায় বর্তমান বিশ্বে ভারত উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করেছে। ভারতের বিভিন্ন প্রসিদ্ধ ডাক্তার এবং হাসপাতেলে চিকিৎসা করাতে চাইলে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
Hospals Bangladesh আপনার ভিসা প্রসেসিং থেকে শুরু করে ডাক্তার এবং হাসপাতালের এপয়েন্টমেন্ট, থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় সব বিষয়েই করবে আপনাকে সার্বিক সহযোগিতা।