13/12/2022
# # সদ্যজাত শিশুর সূর্যালোকের প্রভাব
আগের দিনের নানী-দাদীরা সদ্যজাত শিশুকে সূর্যালোকে রেখে গায়ে তেল মাখাতেন। কিন্তু বর্তমানে দালাল-কোঠার যুগে বাসাবাড়ি থেকে সূর্যের আলো দেখাটাই সমস্যা। তাছাড়া বর্তমানে আমাদের জীবনযাত্রার ধরনও পাল্টে গেছে। মে কারণে এসময়ের শিশুরা বাইরের তুলনায় ঘরের ভেতরে থেকেই বেশি অভ্যস্ত। আর তাই বর্তমান শিশুদের মধ্যে ভিটামিন ডি এর অভাবও বেশি দেখা যায়। সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে সাহায্য করে। জন্মের প্রথম ছয় মাস শিশুকে প্রতিদিন নিয়ম করে সূর্যালোকে রাখলে তাদের শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরি হয়। এতে শিশুকে আর আলাদা করে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ দুধ দেয়ার প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণেও সহায়তা করে, শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখে, হাড়ের গঠন ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
শিশুর ছয় মাস বয়স পর্যন্ত ত্বকে খুবই কম পরিমাণ মেলানিন থাকে। এরপর আস্তে আস্তে মেলানিনের পরিমাণ বাড়তে থাকে। মেলানিন হল পিগমেন্ট বা রন্জক যা ত্বক, চুল ও চোখের রঙ প্রদান করে। ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ বেশি হলে ত্বকের রঙ গাঢ় হয়। এই মেলানিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। তবে শিশুর ছয় মাসের আগে মেলানিন সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয় না। আবার যেহেতু এসময় শিশুর চোখ অনেক নাজুক থাকে তাই ছয় মাসের কম বয়সী শিশুকে সরাসরি সূর্যালোকে রাখা ঠিক নয়। ঘরের ভেতরে সূর্যের আলো পৌঁছায় এমন স্থানে শিশুকে রাখতে হবে। তবে শিশুর চোখে যাতে সরাসরি সূর্যের আলো না লাগে সেদিকে নজর দিতে হবে। সকালের মিষ্টি রোদ শিশুর ত্বকের জন্য খুবই ভালো। সেক্ষেত্রে সকাল ৭ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত যেকোন সময় শিশুকে রোদে রাখা যেতে পারে। প্রতিদিন ৩০ মিনিট সূর্যালোক শিশুর জন্য যথেষ্ট। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যেনো রোদ থেকে শিশুর পানি স্বল্পতা দেখা না দেয়। সাধারণত শিশু ছয় মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধই পান করে। তাই আর আলাদা করে পানির প্রয়োজন নেই। সেক্ষেত্রে শিশুকে রোদে রাখলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিমাণে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। তবে যেসব শিশু মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি কৌটার দুধ পান করে তাদের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
আর মাঝে মাঝে অবশ্যই শিশুর শরীরে হাত দিয়ে তাপমাত্রা খেয়াল করতে হবে। শিশুর শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে সূর্যালোক থেকে দূরে রাখতে হবে। তাছাড়া হালকা শেডের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। গরমের সময় হালকা সুতির কাপড় পরাতে হবে। আর চারপাশের বাতাস ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। তবে শিশুকে যদি একেবারেই সকালের রোদে রাখা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে দিনের যে সময়টা সূর্যালোক পাওয়া যাবে সেই সময় শিশুকে নিয়ম করে রোদে রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে শিশুকে রোদে রাখার নিয়ম কানুন গুলো মাথায় রাখতে হবে।