07/04/2026
দlজ্জlলি মিশনে জাদুর গুরুত্ব
দlজ্জlলের জন্ম হয়েছে অনেক আগেই। রাসুলুল্লাহ সা.-এর সময়েই সে ছিল বর্তমান। দlজ্জlল এই পৃথিবীতেই রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে তার আত্মপ্রকাশ ঘটবে। এর আগে সে ঘুমিয়ে থাকবে বা হাত-পা গুটিয়ে নিভৃতে বসে থাকবে, এমন কোনো প্রমাণ নেই। চূড়ান্ত আত্মপ্রকাশের আগে নেপথ্যে থেকে খলনায়কের ভূমিকা পালন করা খুবই স্বাভাবিক বিষয়।
ফিরআউনও নিজেকে রব দাবি করেছিল। দlজ্জlলও নিজেকে রব দাবি করবে। পার্থক্য হলো, ফিরআউন নিজে সেহের (জাদু) জানত না। মুসা আ.-এর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য সে বিভিন্ন শহর থেকে জাদুকর আনিয়েছিল। পক্ষান্তরে দlজ্জlল নিজেই হবে জাদুকর। এ ছাড়াও ফিরআউন দlজ্জlলের মতো অলৌকিক ক্ষমতার আধার ছিল না। আর প্রকাশ থাকে যে, দlজ্জlলের জাদু হবে ভয়াবহ, ক্ষমতা হবে অনন্য। সাধারণ রাক্বিরা কিছুতেই রুকইয়াহ করে তা প্রতিরোধ করতে না পারারই কথা। দlজ্জlল সরাসরি নিজে কারও ওপর সেহের করলে তাকে বাঁচানো আদতে দুরূহই মনে হয়।
ইসলামগ্রহণের পূর্বে দlজ্জlলের সঙ্গে সাহাবি তামিম দারি রা.-এর সাক্ষাৎ হয়েছিল। এ থেকে অনুমেয় যে, দlজ্জlলের সঙ্গে সাক্ষাৎ সম্ভব। হ্যাঁ, সে কার সঙ্গে দেখা দেবে, সেটা একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়। তামিম দারি রা. ও তার সঙ্গীরা দlজ্জlলের পূজারী ও অনুসারী ছিলেন না। এতদসত্ত্বেও তাদের সঙ্গেই যখন দlজ্জlল সাক্ষাৎ করেছে, আর যেই দুর্যোগে পড়ে তাদের নৌকা সেই দ্বীপে গিয়ে উঠেছিল, সেই দুর্যোগও যে দlজ্জlল কর্তৃক সৃষ্ট ছিল না, তা-ও নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। তো অন্যদের সঙ্গেই যদি সে সাক্ষাৎ করতে পারে তাহলে তার অনুসারী ও অনুচর যারা, যারা দুনিয়াতে দlজ্জlলি মিশন বাস্তবায়ন করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে, তাদের সঙ্গে দাজ্জালের নিয়মিত বা অনিয়মিত সাক্ষাৎ বা অন্তত যোগাযোগ মোটেও অসম্ভব কিছু নয়।
কিছু দিনে আগের এপস্টেই ফাইল তারই বহিঃপ্রকাশ
এই বিষয় গুলো এখন দিবালোকের ন্যায় পরিস্কার
তারা মূলত দlজ্জlলেরই ইবাদত করে।
নির্দিষ্ট সময়ে তার আত্মপ্রকাশ ঘটবে। তার আত্মপ্রকাশ ঘটবে প্রচণ্ড রাগ থেকে। এ থেকেও অনুমান করা যায়, কুফরের ধ্বজাধারী এই ইহুদি দlজ্জlল আগে থেকেই পৃথিবীর খবরাখবর সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট থাকবে। সে গায়েব জানে না। কোনো মাধ্যম ব্যবহার করেই তাকে আপডেট থাকতে হবে। এবং এর মাধ্যমেই সে তার আত্মপ্রকাশের ক্ষণ জানতে পারবে। অবশেষে ইমান ও কুফরের সংঘাতে মুমিনদের প্রতি চরম ক্রোধ থেকে সে আর আপন অবস্থায় স্থির থাকতে পারবে না; বরং গোপন ষড়যন্ত্রের ইতি টেনে এই পৃথিবীতে সরাসরি আত্মপ্রকাশ করবে।
দlজ্জlল প্রকাশ্যভাবে কাজ করবে নির্ধারিত সময়ে। কিন্তু সে তার অনুসারী মানুষ ও জিনদের দ্বারা, সেহের ও শাইত্বানি শক্তির দ্বারা পূর্ব থেকেই হয়তো মুমিন সৈনিকদের বিরুদ্ধে তার অদৃশ্য লড়াই চালিয়ে যাবে। আমার ধারণা, আল্লাহর দলের সৈনিকরা লড়াইয়ের ময়দানে হয়তো এর কিছু কিছু বিষয় প্রত্যক্ষভাবে আঁচ করতে পারেন। আর অনুমিত হয় যে, শাইত্বানের পূজারীরা দাজ্জাল কর্তৃক বিভিন্ন মদদ লাভ করে থাকে।
বর্তমান পৃথিবীতে শুধু যে রণাঙ্গনে লড়াই হয় বা বসতিতে এসে অতর্কিত আক্রমণ চালানো হয়, বিষয়টা এমন নয়। বরং ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে পরিচালিত বর্তমানকালের লড়াইসমূহকে আমরা মৌলিক তিন ভাগে ভাগ করতে পারি।
(ক) দৃশ্যমান লড়াই। যার মধ্যে সম্মুখযুদ্ধ, গণহত্যা, গেরিলা এটাক, গুপ্তহত্যা, আত্মঘাতী হামলা, আকাশপথে বা নৌপথে আঘাত থেকে শুরু করে সবকিছু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
(খ) সাইবার এটাক। এই এটাক সরাসরি দৃশ্যমান না হলেও এর প্রভাব সুগভীর। এই যুগে এই উভয় প্রকার এটাকের সঙ্গে সবাই মোটামুটি পরিচিত। সুতরাং এ নিয়ে আমাদের নতুন করে আলোচনা করার কিছু নেই।
(গ) জাদু ও শাইত্বানের অদৃশ্য আক্রমণ। বর্তমান বিশ্বে জাদুর চর্চা অনেক। শাইত্বানপূজারীরা শাইত্বানের সাহায্যে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভয়াবহ আক্রমণ চালায়। তাদের এসকল আক্রমণের ঝুঁকি থেকে কেউই মুক্ত নয়। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সা.-এর ওপর গুরুতর জাদু করা হয়েছিল; যার প্রভাবে তাঁকে অনেক কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। সিরাতের গ্রন্থাদিতে এর বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়।
জাদুকর ও শাইত্বানপূজারীরা তাগুতের পক্ষে লড়াই করে। কেউ করে অর্থের লোভে, আর কেউ করে আদর্শগত কারণে। তবে এ লড়াই নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলমান। বিশেষ করে উম্মাহর জন্য চিন্তাশীল আলিমগণ ও আল্লাহর পথের বীর শার্দূলগণ তাদের বিশেষ টার্গেট। বিভিন্ন দেশ সরকারিভাবে এসকল জাদুকরের পৃষ্ঠপোষকতা করে; যাতে করে তারা তাগুতের সুরক্ষা দেয় এবং তাওহিদপন্থীদেরকে ক্ষতির সম্মুখীন করতে পারে। সৌদির কারাগারে থাকা আলিমগণের জীবনী বা সাক্ষাৎকার জানতে পারলে এ বিষয়টি আরও অধিক স্পষ্ট হবে। সেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে সাহিরদের মাধ্যমে তাওহিদবাদী শাইখগণ ও তাদের অনুসারীদের ওপর ব্ল্যাক ম্যাজিক প্রয়োগ করা হয়; যাতে করে নির্যাতনের প্রভাবে আদর্শ ত্যাগ না করলেও এই গোপন যুদ্ধে পরাজিত হয়ে তারা যেন আদর্শ ত্যাগ করে এবং সৌদি হুকুমতের আজ্ঞাবহ হয়ে যায়।
আমাদের এই সমস্ত দেশেও ব্ল্যাক ম্যাজিকের চর্চা কোন দিক দিয়ে কম নয় । এখানেও আল্লাহর পথের সৈনিকদের ওপর যথারীতি এই সেহের প্রয়োগ করা হয়। হাতে মারতে না পেরে ভাতে মারার চেষ্টা আর কি। এভাবে তারা পৃথিবী থেকে আল্লাহর নুরকে নিভিয়ে দিতে চায়। আল্লাহর বাহিনীকে পরাজিত করে ইব লিসের বাহিনীকে বিজয়ী করতে চায়।
ইহুদিরা জাদুবিদ্যায় বেশ পারঙ্গম। যা ইজরlইলী যুদ্ধে আমরা দেখেছি, এদের ধর্মের একজন অনুসারীই তো প্রিয়নবি সা.-কে জাদু করেছিল। দlজ্জlলি মিশনের বাস্তবায়নে সারা দুনিয়ার ওপর জাদুবিদ্যা প্রয়োগ করে তারা ভালোই খেলছে। হয়তো-বা পরোক্ষভাবে দlজ্জlলের থেকেও তারা সহযোগিতা পাচ্ছে। আর এটা কোনোই অসম্ভব ব্যাপার নয়। এ ছাড়াও খ্রিষ্টান, হিন্দু ও বৌদ্ধরাও এই জাদুবিদ্যাকে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে কাজে লাগিয়ে থাকে। ভারতের কথাই বলি কিংবা বলি চীন বা বার্মার কথা, কোথায় তারা এই শাইত্বানি শক্তিকে প্রয়োগ করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করছে না? কোনো কোনো রাক্বিও তাদের জাদু রোধের অদৃশ্য লড়াইয়ে নেমে অবশেষে শাহাদাত বরণ করেছেন। যদিও এ বিষয়গুলো পৃথিবীবাসীর অগোচরেই থেকে যাচ্ছে প্রায়শই।
কেউ জাদু প্রয়োগ করছে পুরো এশিয়ার ওপর। কেউ করছে আরাকান বা বাঙাল মুলকের ওপর। কেউ করছে গোটা হিন্দুস্তানের ওপর। কারও উদ্দেশ্য হিন্দুত্ববাদের বিজয়। কারও উদ্দেশ্য ক্ষমতা রক্ষা। একেকজন একেক উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তবে সবগুলোর ফায়দাই চূড়ান্ত পরিণামে দাজ্জাল ভোগ করবে। খোদ ভ্যাটিকান সিটি থেকেই যখন সেহের প্রয়োগ করা হয় তখন এর দৌড় কতটুকু, তা সহজেই অনুমান করা যায়।
বিদআতিরাও জাদুবিদ্যার চর্চা করে। সরাসরি নিজেরা বা কাফির তান্ত্রিকের সহযোগিতা নিয়ে হকপন্থী আলিম ও ব্যক্তিগণকে জাদু করে। কখনো তা করে কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর। আশঙ্কা করা হয়, খতিবে আজম হাবিবুল্লাহ মিসবাহ রহ.-এর ওপর এই বিদআতিরাই জাদু করেছিল; যার প্রভাবে অল্প বয়সেই তার ইনতিকাল হয়ে যায়। শাইখুল হাদিস ইমরান মাজহারি (শাফাহুল্লাহ)-ও জাদুর প্রভাবে মারাত্মক অবস্থার মধ্যে দিনাতিপাত করছিলেন তবে বর্তমানের বাস্তবতা আমার জানা নেই। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জাদুতে আক্রান্ত হয়ে বিরাট ঝক্কির মধ্য দিয়ে দিন গুজরান করছে। দেখা যাচ্ছে, অনেক মেহনত সত্ত্বেও সেখান থেকে আলিম বেরোচ্ছে না। অথবা মাদরাসার আয়ের ব্যবস্থা হচ্ছে না।
ডক্টর শহীদুল্লাহ ফজলুল বারী (রঃ) কেও যাদুর মাধ্যমে
যাদুকরে হরিণের চামড়ায় বিশেষ যাদুর পদ্ধতিতে উনার ছবি অংকন করে এহার উপর যাদুকরে আঘাত করেছে,
অপর দিকে সেই আঘাতে উনি মৃত্যু বরণ করেছেন।
এর প্রমাণাদি আমার কাছে রয়েছে কারণ উনার পরিবারের
রুকইয়াহ আমিই করে থাকি।
জাদু করা হয় কতকিছুর ওপর! সব জাদুর প্রকাশ একভাবে ঘটে না। কারও খাওয়াদাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। কারও স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। কারও অন্যদের সঙ্গে সম্পর্কে ভাটা পড়ে। এমনকি কেউ-বা সহবাসের সামর্থ্য পর্যন্ত হারিয়ে ফেলে। দুনিয়ার ডাক্তাররা যার কোনো কার্যকর সমাধানই বলতে পারে না, আর না পারে কোনো রোগ চিহ্নিত করতে। সবকিছু ঠিক থাকার পরও বিভিন্ন মিশন ব্যর্থ হয়ে যায়। বিজয়ের পরিবর্তে কোমর ভাঙার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে যায়। এমনকি কখনো-বা পারস্পরিক কোন্দল সৃষ্টি হয় নিজেদের প্রতাপ হারিয়ে যায়। কেউ যদি এভাবে ভাবে যে, বৌদ্ধদের পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ শাইত্বানকে রোহিঙ্গা মুকাতিলদের বিরুদ্ধে অদৃশ্য লড়াই করার জন্য পাঠানো হয়েছে তাহলে সে সহজেই উপলব্ধি করতে পারবে রোহিঙ্গা মুহাজিরগণের ব্যর্থতা, গাদ্দারি, অনৈক্য ও চূড়ান্ত পরাজয়ের একটি কারণ।
যে উম্মাহর নবিকেই গুরুতর জাদু করা হয়েছিল, সেই উম্মাহ জাদুর ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক হবে-এটাই স্বাভাবিক যুক্তির দাবি ছিল। কিন্তু হয়েছে তার পুরো উল্টো। মিডিয়া সন্ত্রাস সম্পর্কে এই উম্মাহ মোটামুটি সচেতন হলেও জাদু সম্পর্কে একেবারেই যেন গাফেল ও বেখবর। এটা বড়ই হতাশা ও দুঃখের কথা।
__✍️Raqi Sultan Mahmud
Senior Raqi & Consultant - Nabawi Life
সুস্থতার পথে অন্যকে সহায়তা করতে সদাকায়ে জারিয়ার নিয়তে পোস্টটি শেয়ার করুন।
☎️01706685576
☎️01618901150
Raqi Sultan Mahmud
Md. Sultan Mahmud Ashraf