13/12/2025
কনুইয়ে ব্যথার চিকিৎসা কী?
কনুই ব্যথা বা টেনিস এলবো অনেকেরই হয়। এর আধুনিক চিকিৎসা এ দেশেই সম্ভব। আমরা যেকোনো রোগের দুই ধরনের চিকিৎসা দিই। একটি হলো প্রতিরোধক, আরেকটি হলো প্রতিষেধক। প্রতিরোধ করতে পারলে আগে থেকেই ভালো। তবে একবার হয়ে গেলে কেন হচ্ছে, সেটা নির্ণয় করব। হয়তো বা যে ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়, তার ব্যাডমিন্টনটি বড় হতে পারে। একে সমন্বয় করতে হবে। এ ছাড়া বেশি ভারী যন্ত্রপাতি নিয়েও খেলাধুলা করলে এ সমস্যা হয়ে থাকে।
এ ছাড়া এর কিছু চিকিৎসা আছে, যেমন—আমরা কিছুদিন বিশ্রাম দিয়ে থাকি। এর পর এখানে একটি ব্রেস দিই, যাকে বলে টেনিস এলবো ব্রেস। এখানে কাপড়ের একটি ব্যান্ডের মতো। যে জায়গায় ব্যথা হয়, সেখানে নিচে কাভার করে রাখে। তখন পেশিটা একটু বিশ্রাম পায়।
তিন নম্বরে আমরা ব্যথার ওষুধ দিই। চার নম্বরে ওয়ার্ম থেরাপি বা ফিজিওথেরাপি দিই।
পাঁচ নম্বরে এখানে লোকাল স্টেরয়েড ইনজেকশন দেওয়া হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, স্টেরয়েড ইনজেকশনের আগেই ৯৫ ভাগ লোক ভালো হয়ে যায়। যাদের ভালো না হয়, তাদের ক্ষেত্রে হয়তো সার্জারির প্রয়োজন পড়ে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সার্জারির প্রয়োজন পড়ে।
কখন সার্জারির সাহায্য দরকার হয়।
সাধারণত যদি দেখা যায় যে অন্যান্য চিকিৎসা নেওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে ভালো হচ্ছে না, তার দৈনন্দিন জীবনযাপন, খেলার জীবনযাপন যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সে ক্ষেত্রে ছয় মাস বা এক বছর কনজারভেটিভ চিকিৎসা দেওয়ার পর সার্জারির জন্য বলি।
সার্জারি চিকিৎসার ধরন। দুই ধরনের সার্জারি করা হয়। একটি হলো ওপেন মেথড, যেটা কি না কেটে করা হয়। আরেকটি রয়েছে আর্থোস্কোপিক মেশিনের সাহায্যে। মূলত দুই সার্জারির ক্ষেত্রে ফলাফল খুব বেশি আলাদা নয়। তবে আর্থোস্কোপিক সার্জারির ক্ষেত্রে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই আমরা সাধারণ সার্জারি পদ্ধতিতেই আসতে বলি।
ফিজিওথেরাপি ট্রিটমেন্টের ভূমিকা থেরাপির মধ্যে শর্ট ওয়েভ ডায়াথারমিটার বেশ ভালো কাজ করে। আমরা জানি, যেখানেই ভাঙে সেখানেই গড়ে। আমার উদ্দেশ্য ইন্সট্রুমেন্টাল মাইক্রোট্রমা সৃষ্টি করা। এখান থেকে রক্ত চলাচল বেড়ে আবার নিরাময় হয়ে যায়। এ ছাড়া আলট্রাসাউন্ড থেরাপি দেওয়া হয়। কিছু ব্যায়াম দেখানো হয়। যেই পেশিতে সমস্যা হয়, এটি শক্ত করার জন্য আমরা কিছু ব্যায়াম দিয়ে থাকি।
এই চিকিতসাটার মেয়াদ নির্ভর করে যদি প্রাথমিক অবস্থায় শুরু করা যায়, দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ঠিক হয়। যেহেতু বারবার এটি হতে পারে, তাই ওই পেশার পরিবর্তন না হলে আবারও এটি হতে পারে।
যারা ব্যায়ামের মধ্যে থাকে, তাদেরও যখন এই সমস্যা হয়, তাদেরও কি এই পরামর্শ থাকে : তাদের ক্ষেত্রে আমরা দুই থেকে তিন সপ্তাহ বিশ্রাম দিই। ফিজিওথেরাপি তাদের ক্ষেত্রে পরামর্শ দিই। কারণ, একজন ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়কে যদি বলি মোটেও খেলা করা যাবে না, সে কোনোরকমেই এটা মেনে নেবে না। সাময়িকভাবে হয়তো এই পেশিটা দুর্বল হয়ে যায়, তবে প্রদাহের চিকিৎসা করার পর, পেশিকে স্ট্রেচিংয়ের মাধ্যমে তার শক্তিটা ফেরানোর চেষ্টা করি। এতে দেখা যায়, সমস্যা থেকে প্রতিকার পেয়ে সে তার কাজে ফিরতে পারে।
প্রতিরোধের জন্য কী পরামর্শ: যেসব যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করে বা ঘরে যেসব কাজ করে, এগুলো উপযুক্ত হওয়া উচিত। কারো যদি এলবো জয়েন্টের বাইরের দিকে ব্যথা হয়, তাহলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। প্রাথমিক অবস্থায় এর চিকিৎসা করা অনেক সহজ। তবে দীর্ঘমেয়াদি হয়ে গেলে এটি চিকিৎসা করা সমস্যা। সে ক্ষেত্রে সার্জারি লাগার আশঙ্কা বেশি থাকে।
টেনিস এলবোর এমন অদ্ভুত নাম হওয়ার কারণ : আসলে টেনিস এলবো বলতে আমরা বুঝি এলবো জয়েন্টের বাইরের দিকে প্রদাহ বা ব্যথা। আসলে টেনিস খেলোয়াড়দের এই সমস্যা বেশি হতো বলে মনে করা হতো। তবে পরে দেখা গেছে, শুধু টেনিস খেলোয়াড় নয়, হাতের বেশি ব্যবহার করে, এমনকি আমরা যাঁরা সার্জন ও বেশি অস্ত্রোপচার করি, তাঁদেরও এ সমস্যা হতে পারে। এটা শুধু যে টেনিস খেলোয়াড়দের হয়, সেটি নয়। যখন শুরু হয়েছিল তখন মনে করা হতো, টেনিস খেলোয়াড়দের এটা বেশি হয়। যারা হাত দিয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করে, সেটা খেলাধুলা হোক বা হাতে কাজ হোক, এটা হতে পারে।
আসলে এই অসুখ কেন হয়? আমরা আগেই বলছি, হাত দিয়ে কাজ করার সময় কনুইয়ে একটি প্রদাহ হয়। তিন-চারটি পেশির মধ্যে ইসিআরবি বলে একটি পেশি রয়েছে, যেটা কনুইয়ের জয়েন্টের বাইরের দিকে একটি অংশে লাগানো থাকে। ওই পেশির মধ্যে কোনো ক্ষত হলেই ব্যথাটা হয়। এই ব্যথা হলো প্রধান কারণ। এ ছাড়া এখানে সামান্য ফোলা থাকতে পারে বা হাত দিয়ে কাজ করার সময় খুব কষ্ট হবে। এমনকি পুরোপুরি শক্তি থাকে না। অনেক কমে যায়।
ব্যথা কি এলবোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়ে : কনুইয়ের জয়েন্টের বাইরের দিকে একটি নির্দিষ্ট জয়েন্টের দিকে সীমাবদ্ধ থাকে। ক্লিনিক্যালি আমরা বিষয়টি বুঝতে পারি। ৯০ ভাগ ক্লিনিক্যালিই নির্ণয় করি।
এ ক্ষেত্রে আমরা এক্স-রে করি। আর অন্য কোনো রোগের সঙ্গে জড়িত কি না, এ জন্য ঘাড়ের এমআরআই করি। ঘাড় থেকেও অনেক সময় ব্যথা এখানে আসে। তবে এর জন্য ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা ও এক্স-রে যথেষ্ট। তথ্য সূত্র ইন্টারনেট।
ডাঃ ইমরান চৌধুরী
রিকনস্ট্রাকটিভ প্লাস্টিক সার্জন
এমবিবিএস, এফসিপিএস প্লাস্টিক সার্জারি
ডাঃ ইমরান চৌধুরী,
অধ্যাপক ও রিকনস্ট্রাকটিভ প্লাস্টিক সার্জন
আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ধানমন্ডি, রোড নং ৮, ব্লক - এফ, রুম নং- ৬৩০৫, ৩য় তলা।
কনট্যাক্ট পারসন: জনাব মিজান
এপয়েনটমেনট নিতে ফোন করুন এই মোবাইল নম্বর গুলোতে: 01706401952 ও 01806420515