06/04/2015
কিভাবে বুঝবেন মেডিকেল কোন ইয়ার :
#ফার্স্ট ইয়ার ফিটাস - সকালের ক্লাসে মাথায় তেল দিয়ে আসে, যেখানেই দেখবেন এদের এপ্রোন পরিহিত অবস্থায় পাবেন,কেউ বাসা থেকে, কেউবা আবার হোস্টেল থেকেই এপ্রোন পড়ে কলেজে ঢুকে। লাইব্রেরী থেকে চায়ের দোকান সবখানেই এপ্রোন। মা বাবার গর্বে বুক ফুলে উঠে এই সন্তানদের দেখলে। ঘুমালেও এদের মুখে একটাই কথা " কখন আইটেম দিব "
#সেকেন্ড ইয়ার ফেয়ার এন্ড
হ্যান্ডসাম - একটু একটু বুঝতে শুরু করে,মেডিকেল মানেই এপ্রোন না, সকালে উষ্ক শুষ্ক হয়ে ক্লাসে প্রবেশ, একটু বেশিই চঞ্চল হয়ে উঠে স্মার্টনেস দেখাতে গিয়ে। প্রফ আসে, টেনশান কি জিনিস প্রথম
ফিল করে লাইফে। এদের মধ্যেও কারো কারো তখনো এপ্রনের বাতিক। লাইব্রেরীতে পড়ালেখা শুরু হয়।
#থার্ডইয়ার টেরিফিক- জীবনে
প্রথম ফার্স্ট প্রফের দূর্যোগময় পরিস্থিতি কাটিয়ে প্রেম কিংবা ডাক্তারী ভাব দেখানোর জন্য
এই ইয়ার টেরিফিক ইয়ার। হাতে দেখবেন স্টেথো, পড়নে
আবার সেই ওয়াশিং পাউডার নির্মাতে ধোয়া এপ্রোন, পায়ে শো জুতা। প্রথম প্রথম ওয়ার্ড করা,
স্যার বলেছে ওয়ার্ডে আসলে
ডাক্তার হয়ে আসতে হবে তাই এই অবস্থা। এই সময় কারো কারো OT তে ওটিফি নামক
সেলফি ফেইসবুকে দেখা যায়,
নিজেকে সার্জন ভাবা শুরু।
#ফোর্থ ইয়ার ফিয়ারফুল - ততদিনে আবারো বুঝে যায়, ওয়ার্ড মানেই ডাক্তারী না, এটা
আরেক প্যারাময় জীবন। সবই লোক দেখানো TRAP এ ফেলে নির্যাতন. সার্জন হওয়ার তখনো ফিটাস অবস্থা, এদের ইয়ারলি সম্মেলন RFST, দেখলেই
বুঝবেন ফোর্থ। এরা এপ্রোন হাতে রাখে খুব বেশী হলে। মাথায় আবারো সেকেণ্ড প্রফের টেনশানের ছাপ, লাইব্রেরীতে এদের দেখা বেশী মিলে।
#ফিফথ ইয়ার ফসিল'স- ছেলেদের সামান্য ভূরি, মেয়েদের হাতে রংগিন চূড়ি,
অথবা ছেলেটার মাথায় সামান্য টাক, মেয়েটার মুখে আন্টি আন্টি ডাক -- ধরে নিবেন
আপনি একজন মেডিকেল ফিফথ ইয়ার স্টুডেন্ট দেখছেন।
এরা এপ্রোন বেগে রাখে। বুঝতেই পারবেন না তারা মেডিকেল স্টুডেন্ট,কাওকে
কাওকে দেখে মনে হবে মাওলানা কিংবা বুযুর্গ। এরা
জেনে গেছে আসলে ডাক্তারী কি, তাই এই সন্ন্যাসী বেশ।
এরা জানে না আইটেম কি, পরীক্ষা কি, সবই তাদের কাছে এখন মাছ দিয়ে ভাত খাওয়ার মত ব্যাপার। মা বাবার মুখের কথা পাল্টে যায়
ততদিনে -
" ডাক্তারী পইড়া কি করলি
আর জীবনে, চুল দাড়ি পেকেঁ গেল, অমুকের পোলা তো
ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটি পইড়া এখন দুনিয়াজয় করে ফেলাইলো "