Dr.mozahedul hoque repon

Dr.mozahedul hoque repon CARDIOLOGIST
MBBS, FCPS (MED), FACC (USA) MD(CARD) FESC,
DM, FELLOW ASIA PACIFIC HEART ASSOCIATION. ASSOCIATE PROFESSOR OF CARDIOLOGY

শীতকালীন এ্যালার্জী কারণ ও প্রতিকার শীতকালীন অ্যালার্জি হলো শীতকালে হওয়া এক ধরনের এলার্জি যা সাধারণত ঠান্ডা, ধুলো, ধুলোর...
23/11/2025

শীতকালীন এ্যালার্জী কারণ ও প্রতিকার

শীতকালীন অ্যালার্জি হলো শীতকালে হওয়া এক ধরনের এলার্জি যা সাধারণত ঠান্ডা, ধুলো, ধুলোর মাইট, ছাঁচ এবং পোষা প্রাণীর খুশকির মতো কারণগুলোর জন্য হয়ে থাকে। এর লক্ষণের মধ্যে ঘন ঘন হাঁচি, নাক দিয়ে জল পড়া, নাক বন্ধ থাকা, চোখ চুলকানো এবং গলা খুসখুস করা অন্তর্ভুক্ত। শীতকালে বাতাসের গুণগত মান কমে যাওয়ায় এবং ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ রাখার কারণে এটি বেশি হয়।

কারণসমূহ

ধুলো ও অন্যান্য অ্যালার্জেন:

শীতকালে ধুলো, ধুলোর মাইট, এবং ছাঁচ (mold) জাতীয় অ্যালার্জেন বেশি সক্রিয় থাকে।

ঘরের ভেতরের অ্যালার্জেন:

শীতকালে আমরা বাড়ির ভিতরে বেশি সময় কাটাই, যেখানে ধুলো ও পোষা প্রাণীর খুশকির মতো অ্যালার্জেন জমে থাকে।

শুষ্ক বাতাস:

শীতের শুষ্ক বাতাস ত্বক এবং নাকের ঝিল্লিকে শুষ্ক করে তোলে, যা অ্যালার্জির লক্ষণ বাড়িয়ে দেয়।

লক্ষণসমূহ

ঘন ঘন হাঁচি, নাক দিয়ে জল পড়া বা নাক বন্ধ থাকা, চোখ দিয়ে জল পড়া বা চোখ চুলকানো, গলা খুসখুস করা বা গলা ব্যথা, ত্বকে সংক্রমণ বা ফুসকুড়ি.

করণীয়

ধুলোবালি থেকে দূরে থাকুন:

ঘরে ধুলো জমা এড়ানোর জন্য নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করুন।

আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করুন:

ঘরের ভেতরের আর্দ্রতা স্বাভাবিক রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন।

গরম ভাপ নিন:

গরম জলের ভাপ নাক পরিষ্কার করতে এবং বন্ধ নাক খুলতে সাহায্য করে।

ডাক্তারের পরামর্শ নিন:

যদি অ্যালার্জির লক্ষণগুলো গুরুতর হয়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একজন ডাক্তার আপনাকে সঠিক চিকিৎসা এবং ঔষধের মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারেন।

ডা. মোজাহিদুল হক
মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।

আজকের টপিক হলো "বুক জ্বালা "বা হার্ট বার্ণ।বুক জ্বালা এক ধরনের অস্বস্থিকর অনুভূতি যা অধিকাংশ সময় বুকে বা বুকের উপরের দিক...
12/10/2025

আজকের টপিক হলো "বুক জ্বালা "বা হার্ট বার্ণ।

বুক জ্বালা এক ধরনের অস্বস্থিকর অনুভূতি যা অধিকাংশ সময় বুকে বা বুকের উপরের দিকে, গলায় বা গলার মাঝামাঝি খাদ্যনালীতে হয়ে থাকে। সাধারনত পাকস্থলী এর এসিড নিঃসরন এবং এসিড সমৃদ্ধ উপাদান গুলো পাকস্থলী থেকে অনবরত উপরের দিকে চলে আসার প্রবনতা থেকে বুকজ্বালার সৃষ্টি হয়।

বুক জ্বালার লক্ষণ ঃ
♥বুকের ঠিক মাঝখানে হাঁড়ের নিচে শিরশিরে ব্যথা অথবা জ্বালা জ্বালা অনুভূত হওয়া।
♥পাকস্থলী থেকে প্রতিনিয়ত খাবার উপরের দিকে চলে আসার প্রবনতা।
♥ খাবারের আগে বা পরে বমি বমি ভাব অনুভূত হওয়া।
♥খাবার মুখে ও গলায় আটকে যাওয়া অনুভূত হওয়া।
♥হঠাৎ হঠাৎ বা সব সময় মুখে বা গলায় তিতা ভাব বা স্বাদ লাগা।
♥অ্যাজমার মত শ্বাস কষ্ট হওয়া।
♥ঘুমানোর সময় সবচেয়ে বেশি বুক জ্বালার লক্ষন গুলো পরিলক্ষিত হয় এবং ঘুমের ব্যঘাত ঘটে।

বুক জ্বালার কারণ

♥প্রচুর পরিমানে গ্যাস তৈরী করে এমন খাবার বেশী খাওয়া যেমন ঃ ভাজা পোড়া, আলু, সফট ড্রিংকস।
♥বারে বারে বেশী পরিমানে খাওয়া যা পাকস্থলীর উপর চাপ তৈরী করে।
♥বেশী টাইট পোশাক পরিধান করা যা পেটের উপর চাপ তৈরী করে।
♥কিছু কিছু ব্যাথার ঔষধ সেবনের পর পাকস্থলীতে এসিড নিঃসরন বেড়ে যায়।
♥গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালার লক্ষন দেখা দেয়।
♥পেটের অন্ত্রের অনুজীবের পরিমান বৃদ্ধি পাওয়া, যা অন্ত্রে মিথেন গ্যাস তৈরী করে এবং পাকস্থলীর খাবার কে উপরের দিকে চাপ দেয় এবং বুক জ্বালা সৃষ্টি হয়।
♥অতিরিক্ত ব্যয়াম করলে পাকস্থলীতে এসিড নিঃসরন বেড়ে যায়, ফলে বুক জ্বালা সৃষ্টি হয়।
♥অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে ও বুক জ্বালা সৃষ্টি হয়।

বুক জ্বালা প্রতিরোধে সহায়ক খাবার ঃ

♥ফাইবার জাতীয় খাবার যা শরীর খুব সহজে গ্রহন করতে পারে সেগুলো বেশী পরিমানে খাওয়া যেমন ঃ সবুজ ফল ও শাক সবজি।
♥যে সকল খাবার হজমে সহায়তা করে সেগুলো বেশী খাওয়া যেমনঃপেঁপে, আনারস, অ্যালোভেরা।
♥শরীরকে সতেজ ও রোগমুক্ত রাখে এবং এসিড প্রতিরোধে সহায়ক খাবার খাওয়া যেমনঃরসুন, আদা,হলুদ।
♥ কিছু মাছ যা এসিড এবং বুকজ্বালা কমায় যেমনঃশিং, মাগুর,টুনা, স্যালমন।

বুক জ্বালা প্রতিরোধ খাওয়ার নিয়মঃ

♥খাবার ভাল করে চিবিয়ে খেতে হবে।

♥খাবার খাওয়ার সময় পানি পানের প্রয়োজন হলে সামান্য গরম পানি অল্প পরিমানে পান করতে হবে। গরম পানি হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

♥খাবারের পরপরই পানি পান না করে ৫থেকে ১০ মিনিট পরে পানি পান করতে হবে।

♥রাতের খাবার কম পরিমানে গ্রহন করতে হবে।

♥চুইং গাম টাইপ এর গাম ব্যবহার করতে হবে যা খাদ্য রস বাড়ায় ও হজমে সহায়তা করে।

বুক জ্বালা প্রতিরোধে ও নিয়ন্ত্রনে জীবন যাত্রার পরিবর্তন ঃ

♥ঘুমানোর সময় শরীরের উপরের অংশ বিছানা থেকে একটু উপরে রেখে ঘুমাতে হবে।

♥ ঘুমানোর কমপক্ষে ৩ঘন্টা আগে খেতে হবে।

♥ হতাশা ও দুশ্চিন্তা কম করতে হবে।

♥ধুমপান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

♥রাতে ঘুমাবার আগে ঢিলে ঢালা জামা পরিধান করতে হবে।

♥খাবার পর সামান্য একটু হাঁটতে হবে।

♥প্রত্যহ হালকা ব্যায়াম করতে হবে।

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করুন ও নিয়ম মেনে চলুন।

ডা. মোজাহিদুল হক
মেডিসিনও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।

09/05/2025

হাই ব্লাড প্রেশার ও কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে ব্রেইন স্ট্রোকের লক্ষ্মন গুলো জেনে রাখুন --

এইচএমপিভি নিয়ে কি আতংকের কিছু আছে? লক্ষণ আর প্রতিকারের ব্যবস্থা কী?করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পাঁচ বছর পর চীনের উত্তর অঞ্...
12/01/2025

এইচএমপিভি নিয়ে কি আতংকের কিছু আছে? লক্ষণ আর প্রতিকারের ব্যবস্থা কী?

করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পাঁচ বছর পর চীনের উত্তর অঞ্চলে হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস সংক্ষেপে এইচএমপিভি ভাইরাস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।কোভিড ১৯ ভাইরাসের সংক্রমণে বিশ্বব্যাপী মহামারী ছড়িয়ে পড়ার ঠিক পাঁচ বছর পর এ ঘটনা ঘটলো। চীনে ১৪ বছর ও তার কম বয়েসীদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে।সম্প্রতি ভারতেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এইচএমপিভি কি নতুন ভাইরাস?

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, ২০০১ সালে প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত হয়।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হয়ত আরো অনেক যুগ আগে থেকেই এ ভাইরাসের অস্তিত্ব ছিল পৃথিবীতে।
তবে এটা নিয়ে এখনই ঘাবড়াবার কিছু নেই।
কেননা চীনের সরকার বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও কেউই এখনও আনুষ্ঠানিক সতর্কতা জারি করেনি।
এই ভাইরাস ভয়াবহ আকার ধারণ করবে কী-না সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরাও কোনো সতর্কবার্তা দেননি।
তবে, রোগটি যাতে না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এইচএমপিভি সংক্রমিত হলে সাধারণ জ্বর বা ফ্লুর মত উপসর্গ দেখা যায়।সাথে কাঁশি, জ্বর, নাক বন্ধ এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে। সাথে চামড়ায় র‍্যাশ বা দানা দানা দেখা দিতে পারে।তবে, কারো কারো জন্য এসব উপসর্গ মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে যে কোন বয়েসী মানুষের ব্রংকাইটিস বা নিউমোনিয়ার মত অসুখ হতে পারে।কিন্তু এখন পর্যন্ত এটি শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং যাদের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল তাদের মধ্যেই বেশি দেখা গেছে।
আক্রান্ত হওয়ার পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে তিন থেকে ছয় দিন সময় লাগে।কিন্তু আক্রান্ত হলে ঠিক কতদিন ভুগবেন একজন মানুষ তা নির্ভর করে সংক্রমণের তীব্রতা ও আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতার ওপর।

কীভাবে ছড়ায়?

এইচএমপিভি সাধারণতঃ আক্রান্ত মানুষের হাঁচি বা কাঁশি থেকে ছড়ায়।

এছাড়া স্পর্শ বা করমর্দনের মত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এইচএমপিভি ছড়াতে পারে।

এইচএমপিভি রয়েছে এমন বস্তু বা স্থান স্পর্শ কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাঁশির ড্রপলেট লেগে থাকা স্থান যেমন দরজার হাতল, লিফটের বাটন, চায়ের কাপ ইত্যাদি স্পর্শ করার পর সে হাত চোখে, নাকে বা মুখে ছোঁয়ালে এইচএমপিভি ছড়াতে পারে। অনেকটা কোভিডের মতো।
এইচএমপিভির সংক্রমণ সাধারণত শীতের সময় বাড়ে, যখন মানুষ দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতর সময় কাটায়।

শিশু ও বয়স্করা কেন বেশি আক্রান্ত হন?

একজন মানুষ একাধিকবার এইচএমপিভি আক্রান্ত হতে পারেন। এর মধ্যে প্রথমবারের সংক্রমণের তীব্রতা বেশি থাকে।এরপর শরীরে এক ধরণের ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, যার ফলে পরবর্তী সংক্রমণের তীব্রতা তত বেশি হয় না।তবে এর ব্যতিক্রম হতে পারে যদি আক্রান্ত ব্যক্তির ক্যান্সার বা এইচআইভির মত দীর্ঘমেয়াদী অসুখ থাকে।

আতঙ্কিত হওয়ার কিছু আছে?

এইচএমপিভি নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।এর বড় কারণ হচ্ছে, এটি কোভিডের মতো নতুন কোনো ভাইরাস নয়।২০০১ সালে প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত হয়, এবং বাংলাদেশে ২০১৬ বা ২০১৭ সালের দিকে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল।

ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশে ইনফ্লুয়েঞ্জা ধাঁচের এই ভাইরাসে আগেও মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এর অর্থ হলো মানুষের মধ্যে কিছুটা হলেও এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে ইমিউনিটি গড়ে উঠেছে।মানে কেউ ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একে মোকাবিলা করতে পারবে বলে আশা করা যায়।
কোভিড ১৯ ফুসফুসের যতটা ক্ষতিগ্রস্ত করে, এইচএমপিভিতে ততটা ক্ষতি হয় না।
শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী বা কঠিন কোনো রোগে আক্রান্তদের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ তীব্র হতে পারে।কেননা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অপেক্ষাকৃত দুর্বল থাকে। সেক্ষেত্রে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে ।

এইচএমপিভি ভাইরাস কী ?

এইচএমপিভি কোভিড-১৯ এর মতোই একটি আরএনএ ভাইরাস। অর্থাৎ এর জিনের গঠন একই। এই ভাইরাসও শ্বাসযন্ত্রে আক্রমণ করে।তবে এরা একই পরিবারের ভাইরাস নয়।অর্থাৎ কোভিডের টিকা নেয়া থাকলে বা আগে কখনো কোভিড হলেও আপনার এইচএমপিভির সংক্রমণ হতে পারে।কোভিডের ইমিউনিটি আপনাকে এইচএমপিভি থেকে সুরক্ষা দেবে না।

নেদারল্যান্ডসের গবেষকরা শিশুদের শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের নমুনা পরীক্ষা করার সময় প্রথম এই ভাইরাসের ব্যাপারে জানতে পারেন। ভাইরাসটি অন্তত ৬০ বছর আগেই ছড়িয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এইচএমপিভিকে 'শীতজনিত স্বাস্থ্যগত সমস্যা' হিসেবে অভিহিত করেছে।
সাধারণ ফ্লুর লক্ষণ যা সাধারণত দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়।
তবে লক্ষণ তীব্র হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি হতে পারে।

ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথের ২০২১ সালের এক প্রতিবেদনে তথ্য অনুযায়ী, তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে মারা যাওয়া পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের এক শতাংশের মৃত্যুর জন্য দায়ী এইচএমপিভি।

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি জটিলতা বা ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগ আক্রান্তরা, সেইসাথে সিওপিডি, অ্যাজমা ও পালমোনারি ফাইব্রোসিসের মধ্যে শ্বাসযন্ত্রের রোগীদের মাঝে সংক্রমণের লক্ষণগুলো গুরুতর আকারে দেখা দিতে পারে।এমনকি তাদের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।তাই জটিল রোগের আক্রান্তদের এমন লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করা যাবে না।

প্রতিরোধের ব্যবস্থা কী?

করোনা মোকাবিলায় যেসব সতর্কতা নেয়া হয়েছিল, একই ধরনের পদক্ষেপে এই ভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেমন:

বাইরে গেলেই মাস্ক পরা।

২০ সেকেন্ড ধরে সাবান-পানি দিয়ে ঘন ঘন হাত ধোয়া।

হাত দিয়ে নাক-মুখ স্পর্শ না করা।

আক্রান্তদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জনসমাগমস্থল এড়িয়ে চলা।

হাঁচি কাশি দেয়ার সময় মুখ টিস্যু দিয়ে ঢেকে নেওয়া এবং ব্যবহৃত টিস্যুটি সাথে সাথে মুখবন্ধ করা ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে হাত সাবান পানিতে ধুয়ে ফেলা।

যদি টিস্যু না থাকে তাহলে কনুই ভাঁজ করে সেখানে মুখ গুঁজে হাঁচি দেওয়া।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি ও শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করা।

সর্দিকাশি, জ্বর হলেও অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর এই ভাইরাস প্রতিরোধে কয়েকটি টিকা তৈরি করা হলেও এইচএমপিভি প্রতিরোধ এখনও সে ধরনের কোনো টিকা নেই।তাই সতর্ক থাকার ওপরেই জোর দিতে হবে ।

চিকিৎসা কী?

এই ভাইরাসের জন্য বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ নেই বা বিশেষ কোনো চিকিৎসা পদ্ধতিও নেই৷চিকিৎসকরা সাধারণত লক্ষণ বুঝে তা উপশমের চেষ্টা করে থাকেন। যেমন জ্বর হলে তাপমাত্রা কমানোর ওষুধ দেন।সর্দি গলাব্যথা বা শ্বাস নিতে সমস্যা হলে সে অনুযায়ী চিকিৎসা বা ওষুধ দেয়া হয়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগীকে বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি জাতীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

তবে এই ভাইরাসের চিকিৎসায় অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ ব্যবহার করার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। কোনও এন্টি ভাইরাল প্রয়োগ করা যাবে না।

ডা. মোজাহিদুল হক
মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।

সনাক্ত  হওয়া  রিও ভাইরাস লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়বিশ্বে প্রথম রিওভাইরাস (রেসপিরেটরি এন্টারিক অরফান ভাইরাস) শনাক্ত হয় ১৯৫০...
10/01/2025

সনাক্ত হওয়া রিও ভাইরাস
লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

বিশ্বে প্রথম রিওভাইরাস (রেসপিরেটরি এন্টারিক অরফান ভাইরাস) শনাক্ত হয় ১৯৫০ সালে। তবে দেশে এই প্রথম পাঁচজনের শরীরে রিওভাইরাস শনাক্ত করেছে ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলোজি ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর)। তবে কারও ক্ষেত্রে তেমন কোনো জটিলতা দেখা যায়নি।

রিওভাইরাস এমন একটি ভাইরাস, যা সাধারণত প্রাণী বা মানুষের মধ্যে অন্ত্রের সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে। শীতকালে রিওভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। পানির মাধ্যমে ছড়াতে পারে এই ভাইরাস; যা শিশুদের ডায়রিয়া বা জ্বরের সৃষ্টি করে। ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের ৩-৬ দিনের মধ্যেই উপসর্গ দেখা দেয়। তবে এ ভাইরাস তুলনামূলকভাবে কম ভয়াবহ ও সাধারণত সহজেই চিকিৎসা করা যায়।


যেসব লক্ষণে চেনা যাবে রিওভাইরাস:


ডায়রিয়া: পানিজাতীয় পাতলা মল, যা শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

জ্বর: শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়।

বমি: বমি করা, বিশেষ করে খাবার খাওয়ার পর।

পেটে ব্যথা: অন্ত্রের অস্বস্তি বা পেটের ব্যথা।

শক্তি কমে যাওয়া: শরীর দুর্বল অনুভূতি বা ক্লান্তি।


কতটা মারাত্মক?

রিওভাইরাস সাধারণত মারাত্মক নয়। তবে এটি গুরুতর ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। সেক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসা না পেলে এটি জীবনহানির কারণ হতে পারে। তবে এটি সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে ভালোভাবে নিরাময়যোগ্য।

এ ভাইরাস সংক্রমণ কারও কারও ক্ষেত্রে মারাত্মক হতে পারে। সেক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, এমনিক এনকেফালাইটিস বা মস্তিষ্কের প্রদাহও দেখা দিতে পারে। বেশি আক্রান্ত হয় শিশু ও বয়স্করা।

প্রতিরোধের উপায় কী?

রিওভাইরাস প্রতিরোধের জন্য টিকা (রিওভাইরাস ভ্যাকসিন) আছে, যা শিশুদের জন্য দেয়া যেতে পারে। এ ছাড়া হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, মাস্ক ব্যবহার ও খাবারের সুরক্ষা এ ভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে সহায়ক।

ব্যাট রিওভাইরাস কতটা মারাত্মক?

বিশ্বে প্রথমবার রিওভাইরাস শনাক্ত হয় ১৯৫০ সালে। এই ভাইরাসটি শিশু ও বয়স্কদের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রাণঘাতীও হতে পারে।

নতুন রিওভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক নয়, বরং সতর্ক ও সচেতন হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে ।

রিওভাইরাসের সাধারণত ৯টি ধরণ হয়। এর মধ্যে ৪টি ধরণ মানবদেহে পাওয়া যায়। আর বাকিগুলো অস্তিত্ব এখন পর্যন্ত মানবদেহে পাওয়া যায়নি। এই রিওভাইরাসেরই একটি ধরণ ব্যাট-রিওভাইরাস প্রথমবারের মতো দেশে মানবদেহে শনাক্ত হয়েছে।

তবে রিওভাইরাসের উপস্থিতি বাংলাদেশে অনেক আগে থেকেই আছে , রোটা ভাইরাসও রিওভাইরাসের একটি ধরণ, যেটি আক্রান্তের কথা দেশের সচরাচরই শোনা যায়। তবে ব্যাট রিওভাইরাস দেশে প্রথম। এ ভাইরাসের উপস্থিতি সাধারণত বাদুড়ে পাওয়া যায়।

ব্যাট রিওভাইরাসটির বিষয়ে শীত মৌসুমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে । পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের যত্ন নেয়ারও ওপর জোর দিতে হবে।

ডা.মোজাহিদুল হক
মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।

10/09/2024
এনজাইনা সম্পর্কে জানুনএনজাইনা কি?  আপনার হার্ট যদি সঠিক পরিমানে রক্ত বা অক্সিজেন না পায় তবে বুক এবং বুকের আশে পাশের অংশে...
03/10/2022

এনজাইনা সম্পর্কে জানুন

এনজাইনা কি?
আপনার হার্ট যদি সঠিক পরিমানে রক্ত বা অক্সিজেন না পায় তবে বুক এবং বুকের আশে পাশের অংশে (হাত, ঘাড়, পিঠ গলা বা চোয়াল) এক প্রকারের চাপা ব্যাথা অনুভূত হয় যাকে এনজাইনা বলে। এটি কোন রোগ নয় তবে করোনারী হৃদরোগ (coronary heart disease) এর একটি উপসর্গ।

করোনারী ধমনী কি?
যে রক্তনালীর মাধ্যমে হৃদপিন্ডের মাংসপেশী সমূহ রক্ত এবং অক্সিজেন গ্রহন করে তাদের করোনারী ধমনী বলে।

করোনারী হৃদরোগ কি?

একজন সুস্থ মানুষের করোনারী ধমনী বাধাহীন ভাবে খুব সহজে হৃদপিন্ডের পেশী সমূহে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে। করোনারী হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই ধমনীসমূহের দেয়ালে অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় পদার্থ (এথেরোমা) জমা হবার কারনে ধমনীসমূহ শক্ত এবং সরু হয়ে যায় ফলে এর ভিতর দিয়ে প্রবাহিত রক্তের পরিমান সীমিত হয়ে যায় এবং হৃদপিন্ডের মাংসপেশী সমূহ পর্যাপ্ত রক্ত এবং অক্সিজেন গ্রহন করতে পারে না।

এনজাইনা কখন হয়?

সাধারণত ব্যায়াম, আবেগীয় মানসিক চাপ, বিরুপ আবহাওয়া (অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম), অতিরিক্ত খাওয়া -এই সকল ক্ষেত্রে দেহে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যায়। সীমিত রক্তপ্রবাহের কারনে করোনারী হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর হার্ট এই অতিরিক্ত চাহিদা পূরন করতে পারেনা এবং তখনই এনজাইনার ব্যাথা সৃষ্টি হয়।

এনজাইনার লক্ষন সমূহ কি কি?

এনজাইনার লক্ষন সমূহ নারী এবং পুরুষের ক্ষেত্রে আলাদা হতে পারে। তবে অধিকাংশ মানুষের মধ্যে যে লক্ষন সমূহ দেখা যায় সেগুলো হলো -
*বুক, হাত, ঘাড়, পিঠ, গলা অথবা চোয়াল এ ব্যাথা বা চাপা অস্বস্থি ভাব
*শ্বাসকষ্ট
*ক্লান্তি
*মাথা হালকা অথবা ফাঁকা লাগা
*বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া
*অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
*দূর্বল ভাব

এনজাইনা কত প্রকারের হয়ে থাকে?

এনজাইনা মূলত তিন প্রকারের হয়ে থাকে। স্টেবল এনজাইনা, আনস্টেবল এনজাইনা এবং ভ্যারিয়েন্ট এনজাইনা।

★যে এনজাইনা শারীরিক বা মানসিক কোন চাপের কারনে সৃষ্টি হয় এবং নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে বা বিশ্রাম নেবার পর কমে যায় সেটি স্টেবল এনজাইনা।
★যে এনজাইনা কোন প্রকারের চাপ ছাড়া এমনিই বিশ্রামরত অবস্থায় আরম্ভ হয় এবং ৫মিনিট পরও সর্ব্বোচ্চ তিনবার নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে প্রয়োগ করার পরও ব্যথা কমে না তাকে আনস্টেবল এনজাইনা বলে। এ ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভর্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।
★করোনারী ধমনীর কোন অংশ কোন কারনে সংকুচিত হলে যে এনজাইনা সৃষ্টি হয় তাকে বলে ভ্যারিয়েন্ট এনজাইনা। ধূমপায়ীদের মধ্যে এ প্রকারের এনজাইনা বেশী দেখা যায়।

কোন কোন ক্ষেত্রে এনজাইনা হবার ঝুঁকি বেড়ে যায়?

*ডায়বেটিস
*ধূমপান
*উচ্চরক্তচাপ
*রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল
*শারীরিক পরিশ্রম না করা
*অতিরিক্ত ওজন।

এনজাইনা এবং হার্ট এটাকের মধ্যে পার্থক্য কি?

এনজাইনা আক্রান্ত হবার অর্থ হার্ট এটাকে আক্রান্ত হওয়া নয়। হার্টএটাকে ব্যাথা অনেকক্ষন দীর্ঘস্থায়ী হয়। নাইট্রোগ্লিসারিন ও বিশ্রামেও কমেনা। এবং এটি হার্টের দীর্ঘস্হায়ী ক্ষতি সাধন করার ক্ষমতা রাখে।আনস্টেবল এনজাইনা পরবর্তীতে হার্ট এটাকের দিকে ধাবিত হয় যখন হার্টের কোন অংশের করোনারী ধমনী সম্পূর্ণ ব্লক হয়ে যায়।

হার্ট এটাকের লক্ষন সমূহ কি কি?

বুকে কেন্দ্রীভূত ব্যাথা, ব্যাথা বামহাতে ছড়াতে পারে, ব্যাথা ঘাড় বা চোয়ালে ও ছড়িয়ে পড়তে পারে,খুব অসুস্হ বা শ্বাসকষ্ট অনুভব করা।

এনজাইনা কিভাবে নির্ণয় করা হয়?

বুক ব্যাথা অর্থই এনজাইনা ব্যাথা নয়। এনজাইনা সনাক্ত করার জন্য চিকিৎসক গন আপনাকে ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইকেজি),ইটিটি,এক্সরে, রক্তপরীক্ষা এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে করোনারী ধমনীর ছবি পর্যবেক্ষন (এনজিওগ্রাম) করতে দিতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী এনজাইনার চিকিৎসা কিভাবে করা হয়?
বিভিন্ন পদ্ধতিতে দীর্ঘমেয়াদী এনজাইনার চিকিৎসা করা যেতে পারে -
★এন্টি-এনজাইনা ঔষধ সেবন।
★জীবন পদ্ধতির পরিবর্তন।
★এনজিওপ্লাস্টি /পিসিআই(পারকিউটেনিয়াস করোনারী ইন্টারভেনশন) (বন্ধ হয়ে যাওয়া ধমনীকে একটি ছোট টিউব বা স্টেন্ট স্থাপনের মাধ্যমে খোলা রাখা)।
★বাইপাস সার্জারী।

দীর্ঘমেয়াদী এনজাইনা চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হল এনজাইনার লক্ষনসমূহ দূর করে রোগীকে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেয়া।

কি ধরনের এন্টি-এনজাইনা ঔষধ ব্যবহার করা হয়ে থাকে?

বিটা ব্লকার, ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার, রক্তনালীর দেয়াল প্রসারনকারী ঔষধ যেমন নাইট্রোগ্লিসারিন, এনজাইনার চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিশেষায়িত ঔষধ যেমন -ট্রাইমেটাজিডিন, রেনোলাজিন, ইভাব্রাডিন ইত্যাদি।

এনজাইনা কি এড়ানো সম্ভব?

পরিমিত পরিমানে খাবার গ্রহন করতে হবে কারন ভারী খাবার অতিরিক্ত পরিমানে খেলে এনজাইনায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

নিজেকে চাপ মুক্ত রাখা।

প্রতিদিনেরখাদ্য তালিকায় চর্বিযুক্ত এবং মিষ্টি খাবারের পরিমান নিয়ন্ত্রন করা।

ধূমপান না করা।

শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখা।

ব্যায়াম করা।

নিয়মিত ঔষধ সেবন করা।

বুকে ব্যাথা উঠলে করনীয় কি?

★যে কাজ কররছিলেন সেটি বন্ধ করে সঙ্গে সঙ্গে বসে বিশ্রাম নিবেন।

★জিহ্বার নীচে নাইট্রোগ্লিসারিনের একটি স্প্রে দিবেন।

★৫মিনিট পরে ব্যথা না গেলে আবার ১টি স্প্রে একই পদ্ধতিতে নিবেন।
★পুনরায় ৫মিনিটের মধ্যে ব্যথা না গেলে আবারও ১টি স্প্রে একই পদ্ধতিতে নিবেন।
★এর ৫মিনিট পর ও যদি ব্যাথা না কমে তাহলে সঙ্গেসঙ্গে কারো সাহায্যে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে যাবার ব্যবস্থা করুন।
★সম্ভব হলে একটি এসপিরিন ৩০০মি.গ্রা.ট্যাবলেট অথবা এসপিরিন ৭৫ মি.গ্রা ৪টি ট্যাবলেট একসাথে খেয়ে নিন।

ডা.মোজাহিদুল হক
মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।

04/09/2022

শিশুর জামা কাপড় কেমন হওয়া উচিত?

★সুতির হালকা রঙ্গের পাতলা জামাই বাচ্চার পক্ষে আরামদায়ক।
★জামার রঙ্গের কোয়ালিটি যেন ভালো হয়। রং খারাপ হলে তার থেকে বাচ্চার ত্বকের ইনফেকশনের আশন্কা থাকে।
★বাচ্চাকে খুব বেশী সময় খালি গায়ে রাখবেন না। সবসময় একটা হালকা জামা গায়ে দিয়ে রাখবেন।
★শীতে অবশ্যই বাচ্চাকে গরম জামা কাপড় পরাতে হবে। তবে অনেক মায়ের শীতে বা বৃষ্টির দিনে বাচ্চাকে অতিরিক্ত কাপড়ে মুড়িয়ে রাখার প্রবণতা থাকে। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। অতিরিক্ত জামা কাপড় পরানো বাচ্চা ছটফট করলে বোঝার চেষ্টা করুন ও কোন অবস্থায় স্বস্থি বোধ করছে ঠিক ততটা জামা কাপড় আপনার সোনা মনিকে পরান।
★বাচ্চার বোতাম দেওয়া জামার বদলে ফিতে দেওয়া কাপড় পরান। জামায় পুঁতি, সেকুইন, জরি ও লেস না থাকা ভালো। বোতাম, সেকুইন ছিড়ে বাচ্চার মুখ দিয়ে পেটে ও চলে যেতে পারে।
★পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে বাচ্চার জামা অ্যান্টিসেপটিক লোশনে ডুবিয়ে রাখা খুব একটা জরুরী নয়। বরং বাচ্চার প্রতিদিনের জামা সাবান দিয়ে কেচে ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিন।
★নতুন কেনা জামা বাচ্চাকে পরানোর আগে অবশ্যই ভালো করে ধুয়ে নিন।
★জামা কাপড় পরানোর সময় বাচ্চার হাতে পায়ে যেন আঘাত না লাগে সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন।
★ডায়াপার ভিজে গেলেই বদলে দিন। ডায়াপারের বদলে অনেকে কাপড় ব্যবহার করেন। তবে কাপড় সহজেই ভিজে যায় এবং বেশীক্ষণ পরানো থাকলে বাচ্চার ঠান্ডা লেগে যেতে পারে অথবা ত্বকে রাশ হতে পারে।

ডা.মোজাহিদুল হক
সহযোগী অধ্যাপক
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে ঃযে কোন নারীই স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে...
30/08/2022

আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে ঃ

যে কোন নারীই স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। নারীদের যেসব ক্যান্সার হয় সেসবের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ সবচেয়ে বেশী। অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যাওয়া, অধিক পরিমানে চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া, অত্যধিক বিলম্বে সন্তান ধারন, সন্তানদের দুধপান না করানো ও বন্ধ্যাত্ব স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। বাংলাদেশে প্রতি বছর বিভিন্ন ক্যান্সারে প্রায় ২০০০০০ (দুই লক্ষ) মানুষ আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে শুধু স্তন ক্যান্সারেই আক্রান্ত হয় প্রায় ২২০০০ (বাইশ হাজার) মহিলা। যার মধ্যে বিনা চিকিৎসায় মারা যায় প্রায় ১৫০০০ (পনের হাজার) অর্থ্যাৎ চিকৎসার অভাবে স্তন ক্যান্সারে মৃত্যু বরন করে শতকরা ৭০ ভাগ। সার্বিক সচেতনতা, বাস্তব পদক্ষেপ এবং সঠিক রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার নিরাময় সম্ভব।
প্রাথমিক পর্যায়ে যথাযথ রোগ নির্ণয় ও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উপযুক্ত চিকিৎসায় স্তন ক্যান্সার নিরাময়ের সম্ভাবনা প্রায় ১০০ ভাগ। আবার চিকিৎসা না করালে মৃত্যুর ঝুঁকি ও ১০০ ভাগ।
বৃহৎ আকৃতির স্তন সম্পন্ন মহিলারা আশংকা করেন যে তাদের স্তনে টিস্যুর পরিমান বেশী, যা স্তন রোগের জন্য উচ্চ মাত্রায় ঝুঁকি পূর্ন। তবে এ ধারনা পুরোপুরি সঠিক নয়।
এক সময় গবেষকগন বলতেন গর্ভনিরোধক বড়ি স্তন ক্যান্সারের জন্য ঝুঁকিপূর্ন। বর্তমানে গবেষক গন স্তন রোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ইতিহাসকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

স্তন ক্যান্সারের লক্ষন সমূহ ঃ

♥স্তনের বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তনের মাধ্যমে স্তন ক্যান্সারের লক্ষন প্রকাশ পায়। এ সবের মধ্যে রয়েছে স্তনের ভেতরে পিন্ড সৃষ্টি, স্তনের চামড়া মোটা হওয়া, খসখসে হয়ে যাওয়া, স্তন ফুলে যাওয়া, গর্তের মত হওয়া, স্তনের বোঁটা ভেতরে ঢুকে যাওয়া, স্তন ত্বকে জ্বালা করা ইত্যাদি।

♥স্তনবৃন্তের চারপাশের রঞ্জক এলাকার নাম এরিওলা। যদি স্তনের যে কোন অংশ বাইরের দিকে ঠেলে ওঠে অথবা ভেতরের দিকে ঢুকে যায় তাহলে তা ক্যান্সারের সংকেত হতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। স্তন বৃন্ত থেকে স্বল্প পরিমান তরল পদার্থ নিঃসৃত হলে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু ক্ষরনের বর্ণ যদি লাল বাদামী হয় তাহলে ক্যান্সারের লক্ষন হতে পারে। বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় স্তনে ব্যাথা অনুভব করলে, পাশাপাশি জ্বর থাকলে এবং স্তনের চামড়া লাল রং এ পরিবর্তিত হলে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত।

♥স্তনের বেশীরভাগ পিন্ড বা চাকাগুলো মারাত্নক ঝুঁকিপূর্ন নয়। দুধ উৎপাদন কোষ বা নালিকা উভয় স্তনে সুবিন্যস্ত অবস্থায় থাকে। মাসিক চক্রের সময় তা বেড়ে যায়। এ সময়ে হরমোনের উঠানামা এবং স্তন টিস্যু সমূহ ফুলে যাওয়ায় ব্যথা অনুভব হয়। এই অবস্থাকে বলে ফাইব্রোসিসটিক স্তন রোগ। সিস্ট এবং ফাইব্রোএডোনোমা এ দুধরনের পিন্ড বা চাকা প্রানঘাতি নয়। মারাত্নক ঝুঁকিপূর্ন বা প্রানঘাতি পিন্ড বা চাকা সমূহ শক্ত ধরনের এবং এক জায়গায় স্থায়ী থাকে। এ ধরনের LUMP বা চাকা দেখা দিলে সংগে সংগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর উপায় ঃ
যে সকল মহিলা নিয়মিত ব্যায়াম করেন ও পরিমিত পানাহার করেন তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কম। যে সকল মহিলা নিজের সন্তান কে বুকের দুধ খাওয়ান তাদের ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে কম।

স্তনের সুক্ষন পরিবর্তন গুলো মেমোগ্রাফীতে ধরা পড়ে। তাই অতি সহজেই এর সাহায্যে ক্যান্সার নির্ণয় করা যায়।
মেমোগ্রাফী হচ্ছে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে স্বল্প বিকিরনের মাধ্যমে স্তনের এক্স-রে পরীক্ষা যা সাধারন এক্স-রে মেশিন হতে ভিন্ন ধরনের। বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত টেকনিশিয়ানের নির্দশনা অনুসারে দুটি প্লাস্টিক প্লেটের মাঝখানে স্তন রাখতে হয়। কয়েক সেকেন্ডের জন্য একটু চাপ দিয়ে ছবি তোলা হয়।
মেমোগ্রাফী করতে সময় লাগে মাত্র ১৫ মিনিট। বিশেষজ্ঞ রেডিওলজিস্ট মেমোগ্রাফ পরীক্ষা করে স্তনের কোনো জায়গায় সন্দেহ জনক কিছু আছে কিনা সে বিষয় নিশ্চিত হন এবং যথাযথ পরামর্শ প্রদান করেন।

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি ও ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট দ্রুত ও প্রাথমিক অবস্থায় স্তন ক্যান্সার শনাক্তকরনের জন্য নিম্নোক্ত সুপারিশ করেন ঃ
♦১৯-২০ বছর বয়স থেকে সকল মহিলারই অন্তত একবার নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করা উচিত।
♦৩৫-৪০ বছর বয়সে প্রত্যেক মহিলারই অন্তত একবার Baseline memohram করানো উচিত, যাতে পরবর্তী সময়ে কোন সমস্যা দেখা দিলে এর সাথে তুলনা করা যায়।
♦যাদের বয়স ৪০-৪৯ তাদের প্রত্যেকের অন্তত ২বছর পর পর একবার মেমোগ্রাম করানো কর্তব্য।
♦৫০ বছর উর্ধব প্রত্যেক মহিলার বছরে একবার অবশ্যই মেমোগ্রাম করানো উচিত।
♦ স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া মানেই মৃত্যু নয়। এর চিকিৎসা আমাদের দেশেই আছে। কেবল নিজে সতর্ক থাকুন এবং প্রাথমিক অবস্থাতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ডা.মোজাহিদুল হক
সহযোগী অধ্যাপক
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

শরীরে ইউরিক এসিডের সমস্যা থাকলে দেখে-বেছে খেতে হয়। কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো খেলে দেহে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। বে...
27/08/2022

শরীরে ইউরিক এসিডের সমস্যা থাকলে দেখে-বেছে খেতে হয়। কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো খেলে দেহে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। বেশি চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়া যাবে না। যেমন: গরুর মাংস, খাসির মাংস, ভেড়ার মাংস, মহিষের মাংস ইত্যাদি। ** কলিজা, মগজ, জিহ্বা ইত্যাদি। ** খোসাযুক্ত প্রাণী পরিহার করতে হবে। যেমন: চিংড়ি মাছ, শামুক। এ ছাড়া সামুদ্রিক মাছ, ডিমের কুসুম এগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।
** সব রকমের ডাল, বাদাম, মটরশুঁটি, শিমের বিচি, কাঁঠালের বিচি ইত্যাদি পরিহার করতে হবে।
** কিছু কিছু শাকসবজি খাওয়া যাবে না। যেমন: পালংশাক, পুঁইশাক, ফুলকপি, মিষ্টিকুমড়া, ঢ্যাঁড়স, পাকা টমেটো।
** অ্যালকোহল, ক্যাফেইন-জাতীয় পানীয়, যেমন: চা, কফি, কোমল পানীয় খাওয়া যাবে না।
** মিষ্টি ফলে ফ্রুকটোস থাকে, যা ইউরিক অ্যাসিড স্ফটিকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্ফটিককে বড় করে দেয়। তাই মিষ্টি ফল পরিহার করাই ভালো।

যেসব খাবারে বাধা নেই

** চর্বিহীন মাংস খেতে হবে। যেমন: ছোট মুরগির মাংস। মাছ, কুসুম ছাড়া ডিম পরিমাণ মতো খাওয়া যাবে।

** বেশি আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে। যেমন: সবজি, শাক ইত্যাদি। এই আঁশ স্ফটিকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শরীর থেকে মল আকারে বের হয়ে যায়। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার খেতে হবে। যেমন: লেবু-চা, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল (পেয়ারা, আমলকী, কমলা, মাল্টা), গ্রিন-টি ইত্যাদি খেতে হবে।

** এই সময় চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণ পানি পান করতে হবে। প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করতে হবে।

কারা আক্রান্ত হয় বেশি?

** যাদের বংশে বাতের সমস্যা আছে, তারা এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
** যারা প্রোটিন-জাতীয় খাবার চাহিদার তুলনায় বেশি খেয়ে থাকেন এবং শাকসবজি কম খায়।

** যারা অ্যালকোহল গ্রহণ করে।
** উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা, হৃদ্রে সমস্যা থাকলে তাদের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে।
** কিছু কিছু ওষুধ রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
** যাদের ওজন বেশি, তারাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
** যারা পানি কম পান করে, তাদের এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা আছে।
** ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Address

Begum Rokeya Sarani
Kazipara
1216

Telephone

+8801627664159

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr.mozahedul hoque repon posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr.mozahedul hoque repon:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram