09/12/2024
The Rime of The Ancient Mariner Bangla Summary
সুদীর্ঘ সমুদ্র ভ্রমণ শেষ হয়েছে। একজন বৃদ্ধ নাবিক ফিরে এসেছেন এই সমুদ্র যাত্রা শেষে। তার সমুদ্র যাত্রার অভিজ্ঞতার বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে এই কবিতায়।
১. বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়া অতিথিদের থামানো: প্রাচীন মেরিনার বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছে এমন কয়েকজন অতিথিকে থামিয়ে একটা গল্প বলতে চাইলেন। কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠানটি প্রায় শুরু হতে চলেছে। তাই প্রথমে অতিথিরা প্রাচীন মেরিনার এর গল্প শুনতে চাইলেন না। কিন্তু মেরিনার বারবার বলতে চাওয়ার কারণে তাদের একজনকে মেরিনারের ঝলমলে চোখ মুগ্ধ করে। তাই তিনি গল্পটি শুনতে শুরু করেন।
২. জাহাজ ঝড়ের কবলে পড়া: মেরিনার তার গল্পটি শুরু করেছিল এভাবে যে, কীভাবে তাদের জাহাজটি নাবিকদের হাসিখুশি মানসিক অবস্থায় বন্দর থেকে যাত্রা করেছিল। তবে তাদের একটি সুন্দর যাত্রা হয়েছিল স্বল্প সময়ের জন্য। এর কিছু সময় পরে একটি ঝড় তাদের জাহাজটিকে দক্ষিণ দিকে এন্টারটিকার তুষার এবং কুয়াশার দিকে চালিত করে। তখন জাহাজটি একসময় বরফে আটকে যায়।
৩. আলবাট্রস পাখির আগমন: এই সময়ে একটি আলবাট্রস পাখি কুয়াশার ভিতর দিয়ে উড়ে আসে। আলবাট্রস এর আগমনে তুষারে ফাটল ধরে জাহাজ আবারও যাত্রা শুরু করে। তাই এই পাখিটিকে একটি মহৎ আত্মা বা ঈশ্বরের দূত হিসাবে গণ্য করছিল সব নাবিকরা। পবিত্র এই পাখিটি জাহাজের সাথে সাথে উড়ে আসছিলো। নাবিকেরা তাকে খাবার দিচ্ছিল। একসময় দক্ষিণা বাতাস বইতে শুরু করে, যা জাহাজটিকে বরফ এবং কুয়াশার অভিশপ্ত জায়গা থেকে বের করে নিয়ে যায়। নাবিকেরা পাখিটিকে ধন্যবাদ জানায়।
৪. অতিথির দ্বারা মেরিনার এর চেহারা পরিবর্তন লক্ষ্য করা: এরপর বিবাহের অতিথি লক্ষ্য করেন যে, গল্পের বর্ণনা করতে করতে এই সময়ে মেরিনারের মুখ কালো হয়ে যায়। মেরিনার তার কৌতূহলের জবাব দিলেন যে, মুহুর্তের এক উদ্দীপনায় তিনি তাঁর তীর দিয়ে পাখিটিকে হত্যা করেছিলেন।
৫. পাখিকে হত্যা এবং দুর্ভোগ: তাঁর সহযোগী নাবিকেরা পবিত্র পাখিটি হত্যার জন্য তাকে দোষ দিয়েছিল এবং তাকে অভিশাপ দিয়েছিল। কিছু সময় জাহাজটি উত্তর দিকে স্বাভাবিকভাবে চলার পর আবারও কুয়াশার ভিতরে ডুকে যায়। এবার বাতাস বন্ধ হয়ে জাহাজটি সাগরের মাঝে স্থির হয়ে যায়। এ সময় নাবিকেরা ভাবতে লাগলো যে, এই পাখিটিই এই কুশায়া এনেছে এবং পাখিটিকে মেরে মেরিনার ঠিক কাজটিই করেছিল।
ধীরে ধীরে তাদের পানির মজুদ শেষ হয়ে যায়। চারপাশে পানি থাকলেও তাদের পান করার জন্য একটি ফোঁটাও পানি নেই। সমুদ্রটি এতটাই শান্ত ছিল যে, দেখে মনে হচ্ছিল, এটি পচে গেছে, এবং বিচিত্র ধরনের প্রাণীগুলি পচা পানির উপরে ভাসছে। নাবিকেরা এবার ভাবতে লাগলো যে, পাখির আত্মা প্রতিশোধ নিতে তাদের অনুসরণ করছে। পানির অভাবে তাদের মুখ এতো শুকনো ছিল যে, নাবিকরা কথা বলতে পারছিলেন না। সকল নাবিকেরা ঘৃণার সাথে মেরিনারের দিকে তাকিয়ে রইলো। নাবিক তার ঘাড়ে যে ক্রসটি পরেছিল, তা সেই নাবিকরা সরিয়ে ফেললো। বৃদ্ধ নাবিক মে পাপ করেছে, তা বোঝাতে মৃত আলব্যাট্রস পাখিকে তার গলায় ঝুলিয়ে দেয়।
৬. প্রাচীন নাবিকের ভুল বুঝতে পারা: এরপর একে একে দুইশত জন নাবিক মারা যায়। প্রাচীন নাবিক একাই বেঁচে থাকে এবং মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করতে থাকে। সে নিজের ভুল বুঝতে পারে। তার আশেপাশে সব নাবিকদের মৃত লাশ পড়েছিল। একসময়ে আকাশে চাঁদ উঠে এবং সে সমুদ্রের পানির সাপগুলোকে দেখে তাদের আশীর্বাদ করে। সে প্রার্থনা করতে সফল হয় এবং তার গলা থেকে মৃত আলবাট্রস খসে পড়ে। আর সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যায়।
৭. ঈশ্বরের কাছ থেকে ক্ষমা প্রাপ্তি: এরপর প্রাচীন নাবিক ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সে যখন জেগে ওঠে, তখন বৃষ্টি হচ্ছিল। সে তার তৃষ্ণা নিবারণ করে। এরপর সেই মৃত নাবিকদের জেগে উঠতে দেখেন। জেগে উঠেই তারা প্রাচীন নাবিকের সাথে কথা না বলে কাজে লেগে পরে। একসময় তারা আবারও প্রাণহীন হয়ে যায়। তবে এবার জাহাজ চলতেই থাকে। প্রাচীন নাবিক তখন অজ্ঞান হয়ে যায়। এবার সে যখন জাগা পায় তখন দেখে দুইটা আত্মা তার পাপ নিয়ে কথা। একজন বলছে আলবাট্রস কে হত্যা করে প্রাচীন নাবিক অমার্জনীয় অপরাধ করেছে। আরেকজন বলছে, প্রাচীন নাবিক যথেষ্ট প্রায়শ্চিত্ত করেছে এবং আরো করবে।
৮. প্রাচীন নাবিকের পুনরায় নিজ দেশে আগমন: এরপর নাবিক জেগে ওঠেন। মৃত নাবিকেরাও জেগে উঠেছে। একটু পরেই জাহাজ উপকূলে প্রবেশ করে। সে চিনতে পারে, এটা তারই দেশ। এরপর সে দেখতে পায়, মৃত নাবিকদের প্রত্যেকের পাশে একজন করে দেবদূত দাঁড়িয়ে আছে। শীঘ্রই সে দেখতে পায়, একটি নৌকা তার দিকে এগিয়ে আসছে। নৌকায় একটা মাঝি তার ছেলে এবং একজন সন্ন্যাসী ছিলেন। প্রাচীন নাবিক এই ভেবে খুশি হন যে, এই সন্ন্যাসী তার সকল পাপ ধুঁয়ে দেবেন।
নৌকাটি তার কাছে আসার আগেই বজ্রপাতের মতো শব্দ হয়ে জাহাজটি ডুবে যায়। তবে নৌকার মাঝি তাকে উদ্ধার করেন। তবে নাবিকের চেহারা দেখে মাঝি অনেক ভয় পেয়ে যান। মাঝির ছেলেও প্রায় পাগলের মতো হয়ে যায়। অবশেষে নাবিক তার দেশের মাটিতে পা রাখেন। এরপর তিনি সন্ন্যাসীর কাছে অনুরোধ করেন, যাতে সন্ন্যাসী তার পাপ ধুঁয়ে দেন। সন্ন্যাসী তার পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে প্রাচীন নাবিক তার ভৌতিক এমন চেহারার পেছনের কাহিনী বর্ণনা করেন।
এরপর থেকে প্রাচীন নাবিকের যখনি তার পাপের কথা মনে পড়তো, তখনি তিনি কারো কাছে তার পাপের কাহিনী বর্ণনা করতেন। এতে তিনি হৃদয়ে প্রশান্তি অনুভব করতেন। প্রাচীন নাবিক এবার বলেন, রাতের বেলা সে এভাবেই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুড়ে গল্প শোনাতেন। কে তার গল্প শুনবে, তা তিনি মানুষের চেহারা দেখেই বুঝে ফেলতে পারেন। অবশেষে সে বলে, ছোট বড় সব সৃষ্টিকেই সে ভালোবাসে। এরপরেই প্রাচীন নাবিক হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায়।