24/06/2023
লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা-------------------
চিরসবুজ লবঙ্গগাছের ফুলের কুঁড়িই হলো লবঙ্গ বা লং।
এতে থাকা 'ইউজেনল' নামের উপাদানের জন্য লবঙ্গ থেকে মিষ্টি সুগন্ধ পাওয়া যায়।
এই মসলাটি ঔষধি হিসেবে বেশ উপকারী হলেও কখনো কখনো এটিই বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
সর্দি কাশির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অনেকটাই শক্তিশালী করে তোলে লবঙ্গ। দাঁত, মাড়ির সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এটি শীতল আবহাওয়ায় শরীরে তাপমাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
শরীরের যত্ন নেয়ার পাশাপাশি রান্নায়ও স্বাদ বাড়াতে পারে লবঙ্গ। কিন্তু বেশি পরিমাণে লবঙ্গ খেলে আপনার হতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা
----------------------------------
লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা অনেক রয়েছে। যেমন, রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে লবঙ্গের নাইজেরিসিন উপাদানটি দারুণ কাজ করে। তাই ডায়াবেটিসের রোগীরা এই রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য লবঙ্গ খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন।
সাইনাসের মাথাব্যথায় বেশ কার্যকরী লবঙ্গের তেল। এ ছাড়া বুকের ব্যথায় এর তেল মালিশে বেশ উপকার পাওয়া যায়। এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়া ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণের জন্য দাঁতের ব্যথায় এটি খুব উপকারী।
দাঁত ও মাড়ি ব্যথায় লবঙ্গ পানির কুলকুচি নিয়মিতই করতে পারেন। এ ছাড়া অনেক কারণে পাকস্থলীতে আলসারের সমস্যা যেকোনো কারণেই হতে পারে।
এ সমস্যা থাকলে প্রতিদিন দুটি করে লবঙ্গ খেতে পারেন। কেননা, এই লবঙ্গ পাকস্থলীতে মিউকাস উৎপাদনে সাহায্য করে। এই মিউকাসই সংক্রমণের হাত থেকে পাকস্থলীকে রক্ষা করতে ঢাল হিসেবে কাজ করে।
অপকারিতা
----------------
তবে লবঙ্গের উপকারিতা পেতে বেশি পরিমাণে লবঙ্গ খাওয়া একদমই উচিত নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, অকারণে লবঙ্গ অনেকেই মুখে পুরে রাখেন, যা শরীরে উপকারের চেয়ে অপকারই ডেকে আনবে আপনার জীবনে।
যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা কম, তাদের কখনোই বেশি পরিমাণে লবঙ্গ খেতে নেই। কেননা, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লবঙ্গ সেবন হাইপারগ্লাইসিমিয়ার কারণ হতে পারে।
অনেক চিকিৎসকই মনে করেন, যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে লবঙ্গ সেবনে র্যাশ বা চুলকানির সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে লবঙ্গ সেবন করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিশেষে আমরা এটা বলতে পারি প্রতিদিন ৩/৪ টার বেশি লবঙ্গ না খাওয়াই উত্তম।।