22/12/2025
শীতে কি সাদা স্রাব বেড়ে যায়?
শীত এলেই অনেক নারী ধীরে ধীরে একটা অস্বস্তি অনুভব করতে শুরু করেন।ব্যথা নয়, জ্বর নয়,শীতে কেন যেন সাদা স্রাবটা বেশি হচ্ছে!লজ্জা, দ্বিধা আর ভয়ের কারণে বেশিরভাগ নারী বিষয়টা চেপে যান।
কিন্তু শীতে সাদা স্রাব বেড়ে যাওয়া খুবই সাধারণ একটি ঘটনা।শীতকালে শরীরের হরমোনাল কার্যক্রমে সামান্য পরিবর্তন আসে। পাশাপাশি আমরা গরম কাপড় বেশি পরি, টাইট লেগিংস বা সিনথেটিক অন্তর্বাস ব্যবহার করি, পানি খাওয়াও কমে যায়। এসব মিলেই যোনি অঞ্চলে আর্দ্রতা জমে, বাতাস চলাচল কমে যায়।ফলে স্বাভাবিক সাদা স্রাবের পরিমাণ একটু বেড়ে যেতে পারে।
এই ধরনের স্রাব সাধারণত-
-গন্ধহীন হয়,
-চুলকানি বা জ্বালাপোড়া থাকে না,
-রং স্বচ্ছ বা দুধের মতো হয়।
এ অবস্থায় ভয় পাওয়ার কিছু নেই।এটা শরীরের স্বাভাবিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অংশ।
কিন্তু যখন এই স্রাবের সঙ্গে দুর্গন্ধ, চুলকানি, জ্বালাপোড়া, হলুদ বা সবুজ রঙ, দইয়ের মতো ঘন ভাব, সহবাসে ব্যথা বা প্রস্রাবে জ্বালা,এগুলো থাকে, তখন সেটা স্বাভাবিক নয়। শীতকালে অনেক সময় এসব উপসর্গ হালকা থাকে, তাই নারীরা গুরুত্ব দেন না। অথচ ভেতরে ভেতরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে।ফাঙ্গাল বা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন নীরবে ক্ষতি করে যায়।
এই অবস্থায় নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে রোগীরা যা অবশ্যই করবেনঃ
প্রথমত, পানি।শীতে পিপাসা কম লাগে,কিন্তু শরীরের প্রয়োজন কমে না। পানি কম খেলে যোনির স্বাভাবিক pH ও self-cleansing ক্ষমতা নষ্ট হয়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি না খেলে ইনফেকশন হওয়ার রাস্তা নিজেই খুলে দেন।
দ্বিতীয়ত, অন্তর্বাস ও পোশাকের বাছাই।
টাইট লেগিংস, সিনথেটিক অন্তর্বাস, সারাদিন একই কাপড়,এগুলো শীতে সবচেয়ে বড় শত্রু। বাতাস চলাচল বন্ধ হলে ফাঙ্গাস বাড়ে। কটন অন্তর্বাস ব্যবহার করবেন, ভিজে গেলে সঙ্গে সঙ্গে বদলাবেন।
তৃতীয়ত, অতিরিক্ত পরিষ্কার করা বন্ধ করুন।
বারবার সাবান, ফেমিনিন ওয়াশ, ডুচিং এসব যোনিকে পরিষ্কার করে না, বরং প্রাকৃতিক সুরক্ষা ধ্বংস করে। বাইরে হালকা পানি যথেষ্ট। ভেতরে কিছু ঢোকানোর দরকার নেই।
চতুর্থত, নিজে নিজে ওষুধ নয়।
একবার ভালো হয়েছে বলে আগের ওষুধ আবার খাওয়া,এটা ঠিক নয় । এতে ইনফেকশন লুকিয়ে যায়, পরে আরও জটিল হয়ে ফিরে আসে।
পঞ্চমত, লক্ষণকে ছোট করে দেখবেন না।
চুলকানি, দুর্গন্ধ, রঙ বদল,গুলো শরীরের সতর্ক সংকেত।শীত বলে এমন হচ্ছে,ভেবে এড়িয়ে গেলে ক্ষতিটা আপনারই।
শীত হোক বা অন্য কোনো ঋতু আসুন নিজের শরীরকে অবহেলা নয়, যত্ন দেই ।
ডাঃ রুখসানা মমতাজ (লিজা)
আবাসিক সার্জন (গাইনী)
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল,
সদর, দিনাজপুর।
চেম্বারঃ
মাইক্রোল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টার
আইন কলেজ গেট,বালুবাড়ি
দিনাজপুর।
সিরিয়ালের জন্য 01755-305253.