06/11/2024
আমি ছিলাম কনজেনিটাল ক্লাব ফুটের রোগী। অর্থাৎ জন্মগতভাবেই আমার পা ছিল বাঁকা। ১৯৭২ সালে আমার পায়ে অপারেশন হয়। সার্জন ছিলেন ডা. রোনাল্ড জে. গার্স্ট। তাঁকে আমরা সবাই চিনি নিটোরের(তৎকালীন পঙ্গু হাসপাতাল) প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে। সেই ছোটবেলাতেই ডা. গার্স্টের ব্যক্তিত্বে আমি এতটাই মুগ্ধ হই যে তিনিই আমার শৈশবের নায়কে পরিণত হন। আমার ডাক্তার হবার প্রেরণা মূলত এসেছে ওনার কাছ থেকেই।
আমার দ্বিতীয় আদর্শ হলেন প্রফেসর এসজিএম চৌধুরী। বাংলদেশে বর্তমানে যত মেডিসিনের ডাক্তার আছেন,তাঁদের প্রায় সবারই দীক্ষাগুরু কোন না কোনভাবে এসজিএম চৌধুরী স্যার। ওনার হাত ধরেই আমার কার্ডিওলজিতে আসা। আমার নাড়াচাড়া হলো মানুষের হৃদপিন্ডের অসুখ নিয়ে। এটি এমন একটি বিষয়, যেখানে হয়ত সর্বোচ্চ সাবধানতার সাথে একজনের চিকিৎসা করতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমি যেসব রোগী পাই,তারা এমন সময়ে আসেন যখন তারা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। একজন কার্ডিওলজিস্ট যে পরিমাণ মানুষকে মৃত্যর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনে,একই সাথে তাকে প্রায় সমপরিমাণ রোগীর মৃত্যুর সাক্ষী হতে হয়। একটি জীবন বাঁচানো আমাদের জন্য যতটুকু আনন্দের,চোখের সামনে একটি জীবন প্রদীপ নিভে যেতে দেখা ততটাই কষ্টের। সিসিইউতে আমি প্রত্যেকটা রোগীকে নিজের আপনজন হিসেবে চিকিৎসা দেই। রোগীর প্রতি এই অনুভূতিটা থাকলেই আমরা পারি সে যে বিশ্বাস নিয়ে আমার হাতে তার জীবন তুলে দিয়েছে তার যথাযথ মর্যাদা দিতে।
চিকিৎসক হবার আরেকটি সুবিধা হল আমরা একই সাথে শিক্ষকও। আমার যখনই মন খারাপ থাকে,আমি ছাত্র পড়াই। এক ঝাঁক তরুণ ডাক্তারদের সান্নিধ্যে থাকলেই আমার মন ভাল হয়ে যায়। একজন শিক্ষকের মূল দায়িত্ব হল বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করা, সেটি পড়িয়ে দেয়া নয়। শিক্ষকের আরেকটি দায়িত্ব হল একজন ছাত্রকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারা। পরীক্ষা নেয়াটাও একটা আর্ট। এমনভাবে পরীক্ষা নেয়া উচিত যেন পরীক্ষার্থী ভয় না পায় বরং পরীক্ষা উপভোগ করে। একজন সাধারণ পরীক্ষার্থী থেকে অসাধারণ উত্তর বের করে আনাই একজন শিক্ষকের সার্থকতা।
👉Follow our another page Channel H1
~ Professor Dr. Abdul Wadud Chowdhury
DMC K-41
Director, NICVD-National Institute Of Cardiovascular Diseases