19/11/2025
ডিসেম্বর নিয়ে ভাবনা : অধিকাংশ স্কুলে বাচ্চাদের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে I কিছু কিছু ক্লাসের পরীক্ষা ২-১ দিনের মধ্যেই শুরু হবে I পরীক্ষার পরের ছুটির সময়ের প্লান অনেকেই হয়তো করতে শুরু করেছেন I হয়তো নিজের ইচ্ছায় কিংবা বাচ্চাদের চাপে I এ বিষয়ে আমার কয়েকটি পরামর্শ I একটু ভেবে দেখতে পারেন :
১. প্রথম চাওয়া বাচ্চাদের যেটা থাকে সেটা হল দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া I সময়ের সাথে সাথে চাওয়াটাও পাল্টে গেছে I আমাদের ছোটবেলায় অধিকাংশই চাইতাম নানা বাড়িতে যেতে I যদিও আমার পছন্দের তালিকায় থাকতো আমার বড় ফুফুর বাড়ি I এখন অধিকাংশ অভিভাবক বা বাচ্চারা কোন রিসোর্ট বা সমুদ্র সৈকত এ বেড়াতে যেতে চায় I যাদের সামর্থ্য আছে তারা হয়তো অনেকেই যাচ্ছেন আর যাদের নেই ? ফেসবুকের যুগ I কেন নিয়ে যাচ্ছি না এই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে হয়তো ক্লান্ত কিংবা কখনো কখনো মন খারাপ হচ্ছে I কিংবা যদি গিয়েও থাকেন তার উপরে বিশাল এক আর্থিক চাপ তৈরি করছে I এক সময় আমরা যৌথ পরিবারে মানুষ হয়েছি I এখন তো পরিবার ভাঙতে ভাঙতে , ছোট হতে হতে কোন কোন পরিবার হয়তো দুই বা তিন সদস্যের পরিবারে পরিণত হয়েছে I আমাদের ছোটবেলায় অধিকাংশ বাবা-মায়ের তিনজন, চারজন বা আরো বেশী সন্তান সন্ততি থাকতো I সকালের নাস্তা , দুপুরের খাবার থেকে শুরু করে জামা কাপড় , জুতা ,স্যান্ডেল , গামছা, চিরুনি এমনকি বিছানা, কি শেয়ার করা হতো না তখন ? আর এখন ? কারো কারো তো শুধু একটাই বাচ্চা I পুরো বাসাটাই তার একার I এতে হচ্ছে কি ? বাচ্চাদের মধ্যে সহনশীলতা, সহমর্মিতা কিংবা অন্যের বিপদ আপদে এগিয়ে আসার মানসিকতা কম তৈরি হচ্ছে বলে আমার মনে হয় I তাহলে পরামর্শ কি ? আমরা কি পারিনা আমাদের প্লানটা একটু অন্যরকম করতে I একদিন বা দুই দিনের জন্য রিসোর্ট এ রাত্রিযাপন করতে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয় সেই টাকা দিয়ে এর চেয়ে অনেক সুন্দর , মানবিক প্লান করা যেতে পারে I যেমন চাচাতো , মামাতো বা ফুপাতো ভাই বোনদের নিয়ে একটা গেট টুগেদার করা যেতে পারে I যাদের গ্রামে বাড়ি আছে তারা বাচ্চাদেরকে কয়েকটি দিনের জন্য গ্রামে নিয়ে যেতে পারেন প্রকৃতির সান্নিধ্য ওরা পাবে I গরিব আত্মীয়-স্বজন কিংবা নিকট প্রতিবেশী কে এই বাজেট থেকে কয়েকটি শীতের কাপড় কিনে উপহার দিতে পারেন I এতে করে আপনার বাচ্চাদের মধ্যে মানবিকতা , দায়িত্ববোধ , অন্যের বিপদ আপদে পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ তৈরি হবে I
২. বাচ্চাদের ক্লাস শুরু হওয়ার আগে লম্বা একটা সময় পাবেন I এই লম্বা সময়টা বাচ্চারা যেন ডিভাইস নির্ভর হয়ে না পরে সেদিকে একটু খেয়াল রাখতে পারেন I বাচ্চাদেরকে ফুলের বাগান করতে উৎসাহিত করতে পারেন I যাদের বাসায় পর্যাপ্ত জায়গা নেই, তারা ফুলের টবে গাছ লাগাতে পারেন I বাবা মায়ের সাথে একটা বাচ্চা ফুলের বাগান করছে, গাছের যত্ন নিচ্ছে , ওর মধ্যে সুন্দর কিছু স্মৃতি তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে ওকে মানবিক হতে সাহায্য করবে I
৩. এই ছুটিতে বাচ্চাদেরকে গল্পের, ছড়ার , কবিতার, বৈজ্ঞানিক গল্প কাহিনী কিংবা মনীষীদের জীবনীর বই কিনে দেন I অবশ্যই সেটা ওর বয়স উপযোগী হতে হবে I ভালো রেজাল্টের পুরস্কার হিসেবেও বই উপহার দিন I আমরা কি পারিনা জন্মদিনের উপহার লিস্টে বইটাকে এক নাম্বারে রাখতে ? বাস্তবে ও একা একা বড় হলেও কল্পনার জগতে ও অনেকের সঙ্গে বেড়ে উঠুক I আমার বিশ্বাস যে বাচ্চাটা ছোট সময় থেকেই বইয়ের সঙ্গে বেড়ে উঠবে , ফুলের সঙ্গে বেড়ে উঠবে, সেই বাচ্চাটা পরবর্তীতে কখনো পরিবার বিরোধী, সমাজবিরোধী কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী হবে না I
বিশেষ দ্রষ্টব্য : ডিসেম্বর উপলক্ষে আমি এবং আমার পরিবার একটি সুন্দর সিদ্ধান্ত নিয়েছি I সেটা অন্য একদিন লিখব I আল্লাহ হাফেজ I