01/03/2014
# মন ভালো নেই, তবু এই লেখা...
যারা এফ-১৫ ব্যাচের ডাঃ মাফফুজকে চেনেন না, তাদের জন্য কয়েকটি লাইন।
# মাহফুজকে আমি চিনি সেই রেসিডেনসিয়ালে পড়ার সময় থেকে, এরপর নটরডেম কলেজে দুজনই এক সাথে গ্রুপ-ওয়ানে ছিলাম। প্রথম থেকেই মাহফুজ একজন শান্ত-শিষ্ট, বিনয়ী আর পরোপকারী একটা ছেলে। ব্যক্তিজীবনে খুবই ধর্মপ্রাণ এবং মেডিকেল কলেজে ভর্তির আগে থেকেই তাবলীগ জামায়াতের সাথে জড়িত। সবসময় নামাজের টুপি থাকে ওর মাথায়। এতোদিনের পরিচয়ে কখনো ওকে দেখিনি কারো সাথে উঁচু স্বরে কথা বলতে, আর মেয়েদের সাথে কথা বলতো চোখ নামিয়ে। ক্যাম্পাসে কোনদিন কারো সাথে ওর মনোমালিন্য হয়েছে শোনা যায়নি। টকটকে ফর্সা গায়ের রঙের জন্য আমরা অনেকেই ওকে ডাকতাম ‘সুন্দর হুজুর’ বলে।
রোগীর আত্মীয়ের হাতে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হলো এই শান্ত ছেলে ডাঃ মাহফুজ
ওর অপরাধ একটাই – ও একটি সরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন নিরীহ কর্তব্যরত ডাক্তার যে হাসপাতালটি ২ দিন আগেই দ্বিতীয় সেরা টারশিয়ারী হাসপাতালের খেতাব পেয়েছে!
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বিকাল ৫.০০টায়।
লেবার ওয়ার্ডে একজন রোগী ভর্তি হন induced abortion with shock নিয়ে অর্থাৎ কোন কারনে রোগী নিজের ইচ্ছায় তার পেটের বাচ্চাটি নষ্ট করে ফেলেছেন এবং এরই প্রতিক্রিয়াস্বরুপ রোগীর শারীরিক অবস্থা এখন সঙ্কটাপন্ন, ব্লাড প্রেসার পাওয়া যাচ্ছে না, হার্টবিট স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দ্রুত এবং রোগীর অবস্থা মুমুর্ষু। ডাঃ মাহফুজ রোগী পরীক্ষা করেই রোগীর সংকটাপন্ন অবস্থা বুঝে ফেলেন এবং তা রোগীর লোকজনকে জানান তিনি। এবং রোগী আনতে দেরী হয়ে যাওয়ায় যেকোন সময় বিপদ হতে পারে বলেও তাদের সচেতন করেন। প্রোটোকল ফলো করে বন্ডেও সই নেওয়া হয় রোগীর লোকের। ডাঃ মাহফুজ তার সিনিয়র ডাক্তার অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্টার ডাঃ ফারহানাকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং রোগীর তড়িত চিকিতসা চলতে থাকে।
কিন্তু ভাগ্য সাথে ছিলো না কারোরই, রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে এবং এক সময় অনেক চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে মারা যান রোগী।
এমন সময় রোগীর এক আত্মীয় শোনান তার ক্লাসিকাল সেই অমিয় ‘বাণী’ যে ডাক্তারে ভুল চিকিতসায় রোগী মারা গেছে। তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ডাঃ মাহফুজের ওপর হামলা চালান। মারধর করেন। সাথে ডাঃ ফারহানাকে হুমকে দিয়ে যান হাসপাতাল থেকে বের হলে তাকেও দেখে নেওয়া হবে।
কোন পত্রিকায় কোন ছাংবাদিক হলুদ রঙ না মিশিয়ে এ খবর ছাপাবেন কিনা আমি জানিনা।
এরপরো কিছুই বদলাবে না।
আর অনেক ‘মাহফুজ’ এরকম অনেক অনেক শারীরিক লাঞ্ছনা হজম করে নিয়েছে।
বাংলাদেশের বুকে কতো জুনিয়র ডাক্তার এরকম লাঞ্ছনা বুকে নিয়ে নিজের ঘরে ফিরে ক্লান্তি, কান্না, বিষন্নতায় ঘুমিয়ে গেছে তার হিসাব কোন স্বাস্থ্যমন্ত্রীই রাখতে পারেন নি
কি আর করবো?
অপেক্ষায় রইলাম, আরো কোন মাহফুজের লাঞ্ছিত হওয়ার খবরের জন্য...
শেয়ার দেবো, লাইক করবো, কমেন্ট করবো – এই তো, আর কি!!
- ডাঃ মাহফুজের একজন ব্যাচ-মেইট