21/01/2026
৩১ ডিসেম্বর রাতে, চারদিকে যখন আতশবাজি আর পটকা ফাটছিল,ঠিক সেই সময় তানিয়া নিখোঁজ হয়।
সেই রাতে এলাকায় মানুষের আনাগোনা বেশি ছিল,
আর এই সুযোগেই ভয়ংকর ঘটনা ঘটে।
সম্রাট নামের একজন লোক তখন নিয়মিতই এই এলাকায় ঘোরাফেরা করত।এলাকার মোটামুটি সবাই তাকে চিনত,
তানিয়াও তাকে চিনত।এই পরিচিতির কারণেই তানিয়াকে
ভুলিয়ে–ভালিয়ে, মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া সহজ হয়েছিল।পরিবার তানিয়াকে অনেক খুঁজেছে।
দক্ষিণখান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি)ও করা হয়েছিল,
কিন্তু কোনো খোঁজ মেলেনি।
কিছুদিন আগে 2024 stroke তানিয়ার বাবা মারা যান।
পরিবারটি ছিল চরমভাবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল।
তানিয়ার মা মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন।
ছয় ভাই–বোনের মধ্যে তানিয়া ছিল তৃতীয়—
এক ভাই ও পাঁচ বোনের একজন।
একদিন তানিয়ার মা একটি বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে একটি ভিডিও দেখতে পান,সেখানেই তিনি নিজের মেয়েকে শনাক্ত করেন।সেই মুহূর্ত থেকেই তিনি শোকের ভারে প্রায় পাগল হয়ে গেছেন।কাঁদতে কাঁদতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন,আর বলছেন—
“আমার আগে আমার মেয়েটা এই দুনিয়া থেকে চলে গেছে।”
ভিডিওতে তানিয়া যা যা বলেছে,সেগুলো ছিল আগে থেকেই তাকে শিখিয়ে দেওয়া কথা।একজন নিষ্পাপ, মানসিকভাবে অসুস্থ শিশুকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল—এটাই তার প্রমাণ।
তানিয়া জীবনে কত কষ্ট সহ্য করেছে,তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।অনেক সময় খাবার চাইলে কিছু দোকান থেকে তাকে খাবার না দিয়ে গরম তেল ছিটানো হতো, কখনো খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হতো।তানিয়ার শরীরে কত যে পোড়া দাগ ছিল,
তা শুধু তার মা জানেন আর জানেন একমাত্র আল্লাহ।
এই নিষ্পাপ শিশুকে সাভারে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়
এবং পরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
এর আগেও তৌফাজ্জল নামের আরেকটি ছেলেকে কিছু তথাকথিত “সুস্থ” মানুষ খাবার খাইয়ে, মারধর করে হত্যা করেছিল।এই সমাজে দুর্বল শিশুদের জন্য কি কোনো নিরাপত্তা নেই?
বাবাহারা মেয়েটার মা ও ভাই শোকে নির্বাক।
নির্বাক আমরা সবাই—এলাকাবাসী, প্রতিবেশী, পরিচিতজন।
তানিয়ার মা কাফনের জন্য কারও কাছ থেকে কোনো অনুদান নেননি।বরং তানিয়াকে যারা সাহায্য করেছিলেন,
তাদের দেওয়া ৭ হাজার টাকা দিয়েই কাফন ও কবরের ব্যবস্থা করেছেন।
অথচ সেই অসহায় মাকে নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলা হচ্ছে—তিনি নাকি সৎ মা!একজন শোকাহত, নিঃস্ব মায়ের ওপর
এমন মিথ্যা অপবাদ কীভাবে মানুষ দিতে পারে?
অভিযুক্ত ব্যক্তি বারবার নিজেকে মানসিক অসুস্থ দাবি করে পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।কিন্তু একজন নিষ্পাপ শিশুর রক্ত
কখনো মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না।
হে আল্লাহ,
আপনি সবচেয়ে ন্যায়বিচারক।এই ফেরেশতার মতো নিষ্পাপ শিশু তানিয়াকে আপনি জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে কবুল করে নিন।
আর যারা এই অমানবিক জুলুম করেছে,তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে কঠিন বিচার নিশ্চিত করুন।
আমিন।