04/06/2025
।।।।।।।।।। সেপারেশন এংজাইটি ডিজঅর্ডার।।।।।।।।।
শিশু-কিশোরদের মধ্যকার বিশেষ এক ধরনের মানসিক সমস্যা হল সেপারেশন এংজাইটি ডিজঅর্ডার।একটি শিশুকে যখন কোনো কারণে মা-বাবা কিংবা কেয়ার গিভার(এটাচমেন্ট ফিগার) থেকে আলাদা হতে হয়, কিংবা বাড়ি থেকে দূরে কোথাও যাবার প্রয়োজন হয়, তখন তাদের মাঝে হঠাৎ করেই এক ধরনের অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা যায়।
এভাবে পরিবারের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া অথবা প্রিয়(এটাচমেন্ট ফিগার) কারো কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হবার ফলে শিশুটির মাঝে এক ধরনের ভয় বা উদ্বেগের জন্ম নেয় যার ফলে শিশুটি ভয়ে কুঁচকে থাকে,কান্না শুরু করে দেয়,হীনমন্যতায় ভুগে এমনকি খাওয়া দাওয়াও বন্ধ করে দিতে পারে।একেই সেপারেশন এংজাইটি ডিজঅর্ডার (SAD) বলা হয়।
সেপারেশন এংজাইটি কতটা ক্ষতিকর???
সেপারেশন এংজাইটি এমনিতে ক্ষতিকর কিছু নয়। তবে যদি এমন সমস্যা একটানা ছয় মাস চলতে থাকে তখনই সেটা ডিজঅর্ডারে রূপান্তরিত হবে। একটি শিুশুর ব্যক্তিগত, পারিবারিক, একাডেমিক এমনকি শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর এটি মারাত্মক প্রভাব ফেলে। সাধারণত কম বয়সী শিশু-কিশোরদের মাঝে বেশি হয়ে থাকলেও ১৮ বছর বয়সের আগে যে কোনো সময় এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
♦♦♦♦♦♦সেপারেশন এংজাইটি তৈরির পেছনে যে সব বিষয় দায়ী♦♦♦♦♦♦♦
কথাটা শুনতে খারাপ লাগলেও এটা সত্যি যে কখনো জেনে-শুনে, কখনোবা মনের অজান্তে, আবার কখনোবা অনিচ্ছাসত্ত্বে বাধ্য হয়ে পিতা-মাতা তাদের সন্তানদের সাথে এমন কিছু আচরণ করেন যার মাধ্যমে সন্তানেরা নির্যাতিত হয়।এ নির্যাতন কখনো শারীরিক আবার কখনোবা মানসিক।
★পিতামাতার কলহপূর্ণ পারিবারিক পরিবেশ।
★ বিবাহবিচ্ছেদ/ সেপারেশন।
★ পিতা-মাতার প্রত্যাখ্যান(Parental Rejection)
★বাবা-মার অতিরক্ষণশীল মনোভাব।
★সন্তানের প্রতি উদাসীনতা ও অনীহা।
★সন্তানের প্রতি পক্ষপাতিত্ত্বমূলক আচরণ।
★সন্তানের মতামতকে অগ্রাহ্য করা।
★কোন বিষয়ে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ।
★পিতা-মাতার অসত্ চরিত্র।
♦♦সেপারেশন এংজাইটি ডিজঅর্ডারের ক্ষেত্রে এটাচমেন্ট ও এটাচমেন্ট ফিগারের গুরুত্ব♦♦♦♦♦
একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে, শিশুর প্রতিক্রিয়ার বেশিরভাগ অংশই তাকে ঘিরে থাকে, যার সাথে তার এটাচমেন্ট গড়ে উঠে। শিশুটি তাকে ছাড়তে চায় না, তাকে সর্বদা ধরে রাখতে চায় এবং তার সাথেই সবখানে যেতে চায়।
√যার সাথে এটাচমেন্ট গড়ে উঠে (এটাচমেন্ট ফিগার) তার সান্নিধ্যে থেকে শিশুরা নিজেদেরকে নিরাপদ মনে করে।
√যার সাথে এটাচমেন্ট গড়ে উঠে (এটাচমেন্ট ফিগার) তার সান্নিধ্যে থেকে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
√এর ফলে শিশুদের মানসিক অবস্থা এমনকি মস্তিষ্কের গঠনেরও উন্নতি হয় বলে ধারণা করা হয়।
♦♦♦♦সেপারেশন এংজাইটি ডিজঅর্ডারের চিকিৎসাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।♦♦♦♦
১)সাইকোথেরাপি
√কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT)
√ডায়ালেকটিক্যাল বিহেভিয়ারাল থেরাপি (DBT)
√ফ্যামিলি থেরাপি।
২)মেডিসিন
লেখক:ফৌজিয়া শারমীন হোসেন
( কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট ও সাইকোথেরাপিস্ট)
মাইন্ডসেট সাইকোথেরাপি এন্ড কাউন্সেলিং সেন্টার,
পান্থপথ, ঢাকা।
★কাচিজুলি, ময়মনসিংহ (দ্বিতীয় শাখা)
মোবাইল:01711345291,01991333503