DR. BIPUL CHOWDHURY

DR. BIPUL CHOWDHURY All types of Severe Chronic Disease & Cancer
2. All types of Male & Female Disease
3. All types of Child Disease
4. All types of Severe Acute Disease
(1)

All types of Male & Female diseases & ...


Brain-Nerve, ENT, Thyroid, Heart, Liver, Kidney, Pancreas, Stomach, Urology, Gyne & Obs, Infertility, Sexual Disorder, Sexual Disease, Skin Disease, Rheumatism, Bones-Orthopedics, CHRONIC DISEASES & CANCER CARE. 𝗗𝗥. 𝗕𝗜𝗣𝗨𝗟 𝗖𝗛𝗢𝗪𝗗𝗛𝗨𝗥𝗬
Registered Homeopathic Consultant Physician

𝗚𝘂𝗶𝗱𝗲, 𝗛𝗮𝗵𝗻𝗲𝗺𝗮𝗻𝗻 𝗖𝗼𝗹𝗹𝗲𝗴𝗲 𝗼𝗳 𝗛𝗼𝗺𝗲𝗼𝗽𝗮𝘁𝗵𝘆, 𝗟𝗼𝗻𝗱𝗼𝗻, 𝗨𝗞.

𝗟𝗲𝗰𝘁𝘂𝗿𝗲𝗿, 𝗖𝗵𝗮𝗻𝗱𝗽𝘂𝗿 𝗛𝗼𝗺𝗲𝗼𝗽𝗮𝘁𝗵𝗶𝗰 𝗠𝗲𝗱𝗶𝗰𝗮𝗹 𝗖𝗼𝗹𝗹𝗲𝗴𝗲 & 𝗛𝗼𝘀𝗽𝗶𝘁𝗮𝗹, 𝗕𝗮𝗻𝗴𝗹𝗮𝗱𝗲𝘀𝗵.

𝗠𝗮𝗻𝗮𝗴𝗶𝗻𝗴 𝗗𝗶𝗿𝗲𝗰𝘁𝗼𝗿 & 𝗦𝗲𝗻𝗶𝗼𝗿 𝗖𝗼𝗻𝘀𝘂𝗹𝘁𝗮𝗻𝘁 :
𝗖𝗛𝗢𝗪𝗗𝗛𝗨𝗥𝗬 𝗛𝗢𝗠𝗘𝗢 𝗠𝗘𝗗𝗜𝗖𝗔𝗟 𝗖𝗘𝗡𝗧𝗘𝗥
(A Center for Specialized Classical Homoeopathy. Art of Science and Art of Healing).

𝗔𝗱𝗱𝗿𝗲𝘀𝘀 :
Opposite of Swadesh Hospital, Birmuktijoddha Habibur Rahman Sarak (Barotopa Road), Mawna Chowrasta, Sreepur, Gazipur 1740

𝗖𝗲𝗹𝗹 𝗡𝗼 :
01735-204491, 01820-574465, 01981-644001,

𝗘𝗺𝗮𝗶𝗹 :
drbipulchowdhury@gmail.com, chowdhury.bipul@yahoo.com

𝗦𝗽𝗲𝗰𝗶𝗮𝗹𝗶𝘁𝘆 :
1.

26/01/2026

আমাদের চিকিৎসায় কোন প্রকার সার্জারির প্রয়োজন নেই। ঔষধের মাধ্যমে রোগ স্থায়ীভাবে আরোগ্য হয়।

1. পাইলস (Hemorrhoids)
- মলদ্বারে রক্তস্রাব
- ব্যথা বা চুলকানি
- বাইরে ঝুলে থাকা অংশ

2. ফিশার (A**l Fissure)
- মলত্যাগের সময় তীব্র ব্যথা
- মলের সঙ্গে অল্প রক্ত
- মলদ্বার ফাটা

3. ফিস্টুলা (A**l Fistula)
- মলদ্বারে ছোট ছিদ্র, যা দিয়ে পুঁজ বা মল বের হয়
- দীর্ঘস্থায়ী ইনফেকশন

4. রেক্টাল প্রোলাপ্স (Re**al Prolapse)
- মলদ্বার দিয়ে রেকটাম বেরিয়ে আসা
- বয়স্ক বা শিশুরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ

5. রেক্টাল পলিপ (Re**al Polyp)
- ছোট টিউমার জাতীয় বৃদ্ধি
- কখনো রক্তপাত বা ক্যান্সারে রূপান্তর হতে পারে

6. রেক্টাল ক্যান্সার (Re**al Cancer)
- মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত
- ওজন হ্রাস, দুর্বলতা
- বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, ব্যাথা

7. IBS (Irritable Bowel Syndrome) এর লক্ষণ
- পেটে ব্যথা বা অস্বস্তি (বিশেষ করে পায়খানা করার আগে বা পরে)
- ফোলাভাব বা গ্যাস হওয়া
- ডায়রিয়া (পাতলা পায়খানা), কোষ্ঠকাঠিন্য বা কখনো
- কখনো দুটোই পালাক্রমে হওয়া
- অমসৃণ বা অসম্পূর্ণ মলত্যাগের অনুভূতি
- মল ত্যাগের পরেও পুরোপুরি খালি না হওয়ার অনুভব

8. ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (IBD)
- যেমন আলসারেটিভ কোলাইটিস (Ulcerative Colitis)
এবং ক্রোন’স ডিজিজ (Crohn’s Disease)
- রেকটাম ও কোলন অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ।

সাধারণ IBD লক্ষণ:
- দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া (রক্ত থাকতে পারে)
- পেট ব্যথা বা ক্র্যাম্প
- ওজন হ্রাস
- দুর্বলতা বা ক্লান্তি
- জ্বর বা নিম্নমাত্রার তাপমাত্রা
- অ্যানিমিয়া (রক্তস্বল্পতা)

9. Crohn's Disease এর লক্ষণ:
Crohn's disease হলো IBD-এর একটি ধরন, যা পাচনতন্ত্রের যেকোনো অংশে (মুখ থেকে মলদ্বার পর্যন্ত) হতে পারে।

- পেটের নীচের অংশে বা পাশে ব্যথা
- দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া (রক্ত বা মিউকাস সহ)
- ক্লান্তি ও ওজন হ্রাস
- জ্বর
- মলত্যাগের সময় ব্যথা
- ফিস্টুলা, অ্যানাল ফিশার বা পেরিয়ানাল সমস্যা

Crohn’s রোগের প্রদাহ স্তরগুলো গভীর হতে পারে এবং চিকিৎসার সময় একটু দীর্ঘ হতে পারে।

10. ODS (Obstructed Defecation Syndrome) এর লক্ষণ:

ODS হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে মলত্যাগ করতে কষ্ট হয়, যদিও কোষ্ঠকাঠিন্য সবসময় থাকে না।

- মলত্যাগ করতে প্রচুর চাপ দিতে হয়
- মল অসম্পূর্ণভাবে বের হয় এমন অনুভূতি
- একাধিকবার টয়লেটে যেতে হয়
- আঙ্গুল দিয়ে রেকটাম চাপ দিলে বা সহায়তা করলে মলত্যাগ হয় (manual evacuation)
- রেকটাল ফাঁপাভাব বা বাল্ব অনুভব

NB : ODS মূলত পেলভিক ফ্লোর ডিসফাংশনের সাথে সম্পর্কিত।

DR. BIPUL CHOWDHURY











26/01/2026

🔴 ভেরিকোসেল (Varicocele) ও ইপিডিডাইমাল সিস্ট (Epididymal Cyst)

🟢 ভেরিকোসেল (Varicocele) কী?

ভেরিকোসেল হলো অণ্ডকোষের (Te**is) আশপাশে থাকা শিরাগুলোর অস্বাভাবিক ফোলা বা প্রসারণ।
এটি অনেকটা পায়ের ভ্যারিকোজ ভেইনের মতোই, তবে এটি স্ক্রোটাম (অণ্ডথলি)-এর ভেতরে হয়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি বাম অণ্ডকোষে বেশি দেখা যায়।

🟢 ভেরিকোসেল কেন হয়?

* শিরার ভালভ দুর্বল বা অকার্যকর হলে
* অণ্ডকোষের রক্ত ঠিকমতো হৃদয়ে ফিরে যেতে না পারলে
* দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা বা ভারী কাজ
* জন্মগত শিরাগত দুর্বলতা

🟢 ভেরিকোসেলের লক্ষণসমূহ
অনেক সময় লক্ষণ নাও থাকতে পারে, তবে থাকলে দেখা যায়—

🟢 শারীরিক লক্ষণ
* অণ্ডকোষে ভারী ভাব বা টান অনুভূতি
* দাঁড়িয়ে থাকলে বা দিনের শেষে ব্যথা বাড়ে
* শুয়ে পড়লে ব্যথা কমে যায়
* অণ্ডথলিতে কেঁচোর ঝাঁকের মতো শিরা দেখা বা অনুভূত হওয়া
* অণ্ডকোষের আকার ছোট হয়ে যাওয়া (Atrophy)

🟢 প্রজনন সম্পর্কিত সমস্যা
* শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া
* শুক্রাণুর গতি ও গুণমান খারাপ হওয়া
* বন্ধ্যাত্ব বা সন্তান হতে দেরি হওয়া

🔴 ইপিডিডাইমাল সিস্ট (Epididymal Cyst) কী?

ইপিডিডাইমাল সিস্ট হলো ইপিডিডাইমিসে (যেখানে শুক্রাণু জমা থাকে) তৈরি হওয়া একটি তরলভর্তি ছোট থলি। এটি সাধারণত নিরীহ (Benign) এবং ক্যান্সার নয়।

🟢 ইপিডিডাইমাল সিস্ট কেন হয়?

* ইপিডিডাইমিসের নালীতে তরল জমে গেলে
* পুরনো সংক্রমণ বা প্রদাহের পর
* আঘাত বা দীর্ঘদিনের চাপ
* অনেক সময় কারণ অজানা

🟢 ইপিডিডাইমাল সিস্টের লক্ষণসমূহ

সাধারণ লক্ষণ
* অণ্ডকোষের ওপর বা পেছনে নরম, গোলাকার ফোলা
* স্পর্শ করলে ব্যথা না থাকা
* ধীরে ধীরে আকার বাড়তে পারে

কিছু ক্ষেত্রে
* অণ্ডকোষে ভারী ভাব
* হাঁটাচলা বা দীর্ঘক্ষণ বসলে অস্বস্তি
* বড় হলে হালকা ব্যথা অনুভূত হতে পারে

🟢 ভেরিকোসেল ও ইপিডিডাইমাল সিস্টের পার্থক্য

বিষয় | ভেরিকোসেল | ইপিডিডাইমাল সিস্ট
---------- | ----------------------------- | -----------------------------
প্রকৃতি | শিরার ফোলা | তরলভর্তি থলি
অনুভূতি | কেঁচোর ঝাঁকের মতো | গোল নরম গাঁট
ব্যথা | দাঁড়ালে বাড়ে | সাধারণত ব্যথাহীন
প্রভাব | বন্ধ্যাত্বে প্রভাব ফেলতে পারে | সাধারণত বন্ধ্যাত্বে প্রভাব কম |

কখন অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাবেন?

* অণ্ডকোষে হঠাৎ ব্যথা বা দ্রুত ফোলা
* অণ্ডকোষ শক্ত বা অসমান হয়ে গেলে
* সন্তান না হওয়ার সমস্যা থাকলে
* সিস্ট দ্রুত বড় হল

🔴 আমাদের চিকিৎসায় ভেরিকোসেল ও এপিডিডিম্যাল সিস্ট অপারেশন ছাড়াই চিকিৎসার মাধ্যমে স্থায়ী ভাবে ভালো হয়ে যায়।

DR. BIPUL CHOWDHURY
17 January 2026

25/01/2026

জেনে নিন হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীরের কিছু সতর্ক সংকেত

সাধারণত হার্ট অ্যাটাকের আগেই শরীর কিছু সংকেত দেয়, যা দ্রুত চিনতে পারলে বড় ধরণের বিপদ এড়ানো সম্ভব। অনেক সময় এগুলো অবহেলা করা হয়, কিন্তু সচেতন থাকলে জীবন রক্ষা করা যেতে পারে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক হার্ট অ্যাটাকের পূর্ববর্তী কিছু লক্ষণ বা সতর্ক সংকেত—

💔 বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি: এটি হৃদরোগের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ। এটি চাপ, জ্বালাপোড়া বা সংকোচনের মতো অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে, যা মাঝে মাঝে দীর্ঘস্থায়ীও হতে পারে।

💔 অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা: স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, এমনকি বিশ্রামের পরও স্বাভাবিক অনুভব না করা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। নারীদের ক্ষেত্রে এ লক্ষণটি বেশি দেখা যায়।

💔 শ্বাসকষ্ট: ব্যায়াম ছাড়াই শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বুক ভরে শ্বাস নিতে না পারা। এটি শুধুমাত্র ফুসফুসের সমস্যা নয়, বরং হার্ট অ্যাটাকের ইঙ্গিতও হতে পারে।

💔 কাঁধ, বাহু, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা: বিশেষত বাম হাতে ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে। ঘাড় ও চোয়ালে চাপ অনুভূত হতে পারে এবং ব্যথা সময়ের সাথে বাড়তে পারে।

💔 মাথা ঘোরা ও বমিভাব: সামান্য পরিশ্রমেই মাথা ঝিমঝিম করা, ভারসাম্য হারানোর অনুভূতি। বুক ব্যথার সঙ্গে বমিভাব থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

💔 ঠান্ডা ঘাম: বিনা কারণে ঘাম হওয়া বা শরীর ঠান্ডা অনুভব করা। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।

💔 অনিয়মিত হার্টবিট: হৃদস্পন্দন দ্রুত বা ধীর হওয়া, বুক ধড়ফড় করা, কখনো কখনো শ্বাস বন্ধ হয়ে আসার অনুভূতি।

💔 পেটের সমস্যা ও হজমের অসুবিধা: পেটে ব্যথা, গ্যাস, বুক জ্বালাপোড়া, হঠাৎ পেট ভারী লাগা বা খাবার ঠিকমতো হজম না হওয়া। অনেকেই একে সাধারণ অ্যাসিডিটি মনে করে ভুল করেন। এগুলো হতে পারে হার্ট অ্যাটাকের সংকেত।

যদি একাধিক উপসর্গ একসাথে দেখা দেয়। ব্যথা বা অস্বস্তি ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়। বিশ্রাম বা ওষুধ খাওয়ার পরও স্বস্তি না পাওয়া যায়। তবে দ্রুত অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

❤️ প্রতিরোধের উপায়

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন (প্রচুর শাকসবজি ও কম চর্বিযুক্ত ও উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার খান)। নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করুন। ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করুন। স্ট্রেস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।


সতর্কতা ও সচেতনতাই পারে হৃদরোগ থেকে রক্ষা করতে।

🟢 আমাদের চিকিৎসায় কার্ডিয়াক ব্লকেজ এ কোন প্রকার হার্টে রিং বসানো বা বাইপাস সার্জারির প্রয়োজন নেই। ঔষধের মাধ্যমে কার্ডিয়াক ব্লকেজ স্থায়ী ভাবে ভালো হয়ে যায়।

DR. BIPUL CHOWDHURY
25th January 2027

For foreign patient (Abroad) only.Holistic Healing for Body and MindDiscover the power of Classical Homoeopathy, where w...
24/01/2026

For foreign patient (Abroad) only.

Holistic Healing for Body and Mind

Discover the power of Classical Homoeopathy, where we treat the individual, not just the disease. Through our holistic approach, we aim for the permanent restoration of health for all your physical and mental ailments.

Experience the Art of Science and the Art of Healing.

Contact us today for a healthier tomorrow.

DR. BIPUL CHOWDHURY
MPH (ADUST), PG (HOM) LONDON, DHMS (GHMCH) DHAKA,
Clinical Psychology (Dhaka University)
Lecturer, Chandpur Homoeopathic Medical College & Hospital.
Guide, Hahnemann College of Homoeopathy, London, UK.

Contact :
Phone / WhatsApp +8801820574465

NB:
Consultation & Medication Fees : $150
For any kind of chronic diseases.

23/01/2026

🔴 ইউরিন বা ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার (Urethral Stricture) হলো মূত্রনালীর একটি সমস্যা যেখানে নালীর কোনো অংশ সরু হয়ে যায়। এটি মূলত মূত্রনালীর ভেতরের দেয়ালে স্কার টিস্যু (Scar tissue) বা ক্ষতচিহ্ন তৈরির কারণে ঘটে, যা প্রস্রাবের স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে।

একজন চিকিৎসক হিসেবে আমার বাস্তবিক ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় আমরা জানি যে, এটি রোগীর জন্য কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। নিচে এর কারণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার বিস্তারিত বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

🟣 ১. ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার কেন হয়?

মূত্রনালীর টিস্যুতে আঘাত বা প্রদাহের ফলে যখন সেখানে ক্ষত (Fibrosis) তৈরি হয়, তখনই স্ট্রিকচার দেখা দেয়। প্রধান কারণগুলো হলো:

🟢 সংক্রমণ : গনোরিয়া বা ক্ল্যামিডিয়ার মতো যৌনবাহিত রোগ (STI) বা বারবার মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI)।

🟢 আঘাত : পড়ে গিয়ে বা কোনো দুর্ঘটনায় মূত্রনালীতে চোট পাওয়া (বিশেষ করে সাইকেল বা বাইক দুর্ঘটনা)।

🟢 চিকিৎসাজনিত কারণ : ক্যাথেটার ব্যবহার, এন্ডোস্কোপি বা প্রস্টেট সার্জারির পর সৃষ্ট ক্ষত।

🟢 প্রদাহ : লাইকেন স্ক্লেরোসাস' নামক চর্মরোগের কারণেও অনেক সময় নালী সরু হয়ে যায়।

🔴 ২. অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা (Allopathic Treatment)

অ্যালোপ্যাথিতে এর চিকিৎসা মূলত যান্ত্রিক বা অস্ত্রোপচার ভিত্তিক। প্রধান পদ্ধতিগুলো হলো:

🟢 ডাইলেটেশন (Dilatation) : একটি সরু তার বা টিউবের সাহায্যে আস্তে আস্তে নালীটিকে প্রসারিত করা হয়। এটি সাময়িক সমাধান এবং বারবার করতে হতে পারে।

🟢 ইউরেথ্রোটমি (Urethrotomy) : এন্ডোস্কোপের মাধ্যমে লেজার বা ছুরি ব্যবহার করে সরু হয়ে যাওয়া অংশটি কেটে দেওয়া হয়।

🟢 ইউরেথ্রোপ্লাস্টি (Urethroplasty) : এটি সবচেয়ে কার্যকর স্থায়ী সমাধান। এখানে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি কেটে ফেলে দেওয়া হয় অথবা শরীরের অন্য অংশ (যেমন গালের ভেতরের টিস্যু) থেকে গ্রাফট নিয়ে নালীটি পুনর্গঠন করা হয়।

🟢 স্টেন্টিং : নালী খোলা রাখার জন্য একটি স্থায়ী বা অস্থায়ী টিউব (Stent) বসানো।

🟢 নেগেটিভ সাইড : বারবার রোগ ফিরে আসে।

🔴 হোমিওপ্যাথিক এপ্রোচ :হোমিওপ্যাথিতে ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার বা মূত্রনালী সরু হয়ে যাওয়ার সমস্যায় কোনো প্রকার সার্জারি বা যান্ত্রিক হস্তক্ষেপ (যেমন ডাইলেটেশন) ছাড়াই রোগ নিরাময়ের যে দাবি করা হয়, তার পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক ভিত্তি রয়েছে।

একজন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষক হিসেবে আমি আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি যে হোমিওপ্যাথি শুধুমাত্র অঙ্গের চিকিৎসা করে না, বরং পুরো শরীরের জীবনীশক্তিকে (Vital Force) উদ্দীপিত করে। নিচে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হলো কীভাবে এটি কোনো প্রকার অস্ত্রোপচার ছাড়াই কাজ করে:

🟢 ১. স্কার টিস্যু বা ফাইব্রোসিস দ্রবীভূতকরণ (Dissolution of Scar Tissue)

অ্যালোপ্যাথিতে সার্জারি করে স্কার টিস্যু কেটে ফেলা হয়, যা অনেক সময় পুনরায় সেখানে ক্ষত সৃষ্টি করে এবং স্ট্রিকচার ফিরে আসে। কিন্তু হোমিওপ্যাথিতে এমন কিছু ঔষধ আছে যা Anti-fibrotic হিসেবে কাজ করে। এই ঔষধগুলো শরীরের নিজস্ব বিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অতিরিক্ত তন্তুযুক্ত টিস্যু বা স্কার (Fibrous tissue) ধীরে ধীরে নরম করে এবং এক সময় তা শোষিত হয়ে যায়। ফলে নালীটি প্রাকৃতিকভাবেই প্রসারিত হয়।

🟢 ২. মায়াজমেটিক চিকিৎসা (Miasmatic Approach)

ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচারের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় সাইকোটিক (Sycotic) মায়াজম দায়ী থাকে। হোমিওপ্যাথি দর্শনে বিশ্বাস করা হয় যে, যতক্ষণ না শরীরের ভেতর থেকে এই মায়াজমেটিক প্রভাব দূর করা হচ্ছে, ততক্ষণ রোগটি বারবার ফিরে আসবে। গভীর ক্রিয়াশীল ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে যখন এই মূল কারণটি নির্মূল করা হয়, তখন শরীর তার স্বাভাবিক গঠন ফিরে পায়।

🟢 ৩. প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ ও টিস্যু মেরামত

বারবার সংক্রমণ বা আঘাতের ফলে মূত্রনালীর ভেতরে যে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ (Chronic Inflammation) থাকে, তা হোমিওপ্যাথি ঔষধের মাধ্যমে প্রশমিত হয়। এতে টিস্যুর ইলাস্টিসিটি বা স্থিতিস্থাপকতা ফিরে আসে।

🟣 কেন রোগীরা সার্জারির চেয়ে একে বেছে নেয়?

🟢 পুনরাবৃত্তি রোধ : সার্জারিতে স্ট্রিকচার ফিরে আসার (Recurrence) হার অনেক বেশি, কিন্তু সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় এটি স্থায়ীভাবে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

🟢 ব্যথাহীন প্রক্রিয়ান: ক্যাথেটারাইজেশন বা ইউরেথ্রোটমির মতো যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় না।

🟢 নিরাপদ : সার্জারি পরবর্তী ইনফেকশন বা রক্তপাতের কোনো ঝুঁকি থাকে না।

🟣 ৩. হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা (Homeopathic Treatment)

হোমিওপ্যাথিতে স্ট্রিকচারের চিকিৎসা করা হয় রোগীর শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ এবং মায়াজমেটিক ব্যাকগ্রাউন্ড বিচার করে। আমরা জানি যে সঠিক ঔষধ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবুও এখানে সাধারণত ব্যবহৃত কিছু ঔষধ উল্লেখ করা হলো:

🟢 Clematis Erecta : ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচারের জন্য এটি অন্যতম প্রধান ঔষধ। প্রস্রাব শুরু করতে দেরি হওয়া বা ফোঁটা ফোঁটা পড়ার লক্ষণে এটি কার্যকর।

🟢 Thuja Occidentalis : যদি স্ট্রিকচারটি পূর্বের কোনো চাপা পড়া সংক্রমণ (যেমন গনোরিয়া) স্ট্রিকচারের কারণ হয়, তবে থুজা সেই বিষক্রিয়া দূর করে নালীটিকে স্বাভাবিক করে। গনোরিয়া বা সাইকোটিক মায়াজমের কারণে হলে এটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

🟢 Cantharis : যদি প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালাপোড়া এবং বারবার প্রস্রাবের বেগ থাকে।

🟢 Sulphur Iodatum : দীর্ঘস্থায়ী বা পুরনো স্ট্রিকচারের ক্ষেত্রে যখন নালীর দেয়াল শক্ত হয়ে যায়, তখন এটি ভালো কাজ করে।

🟢 Silicea & Graphites : এই দুইটি ঔষধ স্কার টিস্যু বা ক্ষতচিহ্ন কে গলিয়ে নালীটি স্বাভাবিক করতে এদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এগুলো স্কার টিস্যু গলানোর জন্য সুপরিচিত, শক্ত হয়ে যাওয়া টিস্যুকে নরম করে নালীটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

🟤 বিশেষ দ্রষ্টব্য : যদি কখনো দেখেন রোগীর সম্পূর্ণ (Complete) স্ট্রিকচার বা মূত্রনালী পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা আসে, তখন দ্রুত নিরাময় নিশ্চিত করতে আপনার অভিজ্ঞতালব্ধ উচ্চ শক্তির (High Potency) ঔষধের পাশাপাশি নিম্ন শক্তির মূল আরক (Mother Tincture) প্রয়োগ হয়তো কখনো কখনো বেশি কার্যকর হয়।

DR. BIPUL CHOWDHURY
23rd January 2026

23/01/2026

🔴 থাইরয়েড আমাদের শরীরের মাস্টার কন্ট্রোলার হিসেবে কাজ করে। থাইরয়েড গ্রন্থি এবং এর হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতা বর্তমান সময়ে খুব সাধারণ একটি স্বাস্থ্য সমস্যা।

এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো:
🟣 ১. থাইরয়েড ও এর হরমোনসমূহ (TSH, T4, T3)

🟢 থাইরয়েড হলো গলার সামনের দিকে অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির একটি এন্ডোক্রাইন (অন্তঃক্ষরা) গ্রন্থি। এটি শরীর পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরি করে যা আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি শরীর পরিচালনার জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোনের ওপর নির্ভরশীল।

🟢 TSH (Thyroid Stimulating Hormone): এটি তৈরি হয় মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে। এটি থাইরয়েড গ্রন্থিকে সংকেত দেয় যে কখন কতটা ও রক্তে ছাড়তে হবে। এর কাজ হলো থাইরয়েড গ্রন্থিকে হরমোন তৈরির নির্দেশ দেওয়া।

🟢 T4 (Thyroxine) ও T3 (Triiodothyronine) এগুলো হলো থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে সরাসরি নিঃসৃত হরমোন। এগুলো আমাদের বিপাক প্রক্রিয়া (Metabolism), হৃদস্পন্দন, তাপমাত্রা এবং ক্যালরি পোড়ানোর হার নিয়ন্ত্রণ করে। হলো -এর সক্রিয় রূপ।

🟢 T4 (Thyroxine): এটি থাইরয়েড থেকে নিঃসরণ হওয়া প্রধান হরমোন, যা রক্তে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে এবং পরে টিস্যুতে গিয়ে T3 তে রূপান্তরিত হয়।

🟢 T3 (Triiodothyronine): এটি হলো হরমোনের সক্রিয় রূপ যা বিপাক ক্রিয়া, হৃৎস্পন্দন এবং শরীরের তাপমাত্রা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে।

🟣 ২. হাইপো থাইরয়েডিজম , হাইপার থাইরয়েডিজম ও থাইরয়েডিটিস।

🟢 হাইপো-থাইরয়েডিজম : থাইরয়েড গ্রন্থি যখন পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করতে পারে না। ফলে শরীরের গতি ধীর হয়ে যায়। লক্ষণ: ওজন বেড়ে যাওয়া, সবসময় ক্লান্ত লাগা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ত্বক খসখসে হওয়া, ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা এবং বিষণ্ণতা।

রক্তের রিপোর্ট: সাধারণত TSH বেশি এবং T4/T3 কম থাকে।

🟢 হাইপার-থাইরয়েডিজম : গ্রন্থি অতিরিক্ত হরমোন তৈরি করে। ফলে শরীরের মেটাবলিজম অস্বাভাবিক দ্রুত হয়ে যায়।

লক্ষণ: হুট করে ওজন কমে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, দুশ্চিন্তা বা অস্থিরতা এবং চোখের মণি বড় হয়ে যাওয়া।

রক্তের রিপোর্ট: সাধারণত TSH কম এবং T4/T3 বেশি থাকে।

🟢 থাইরয়েডিটিস : এটি মূলত থাইরয়েড গ্রন্থির প্রদাহ (Inflammation)। এটি ভাইরাস সংক্রমণ বা অটো-ইমিউন ডিজিজ (যেমন: হাসিমোটো) থেকে হতে পারে।

🟣 ৩. গ্রন্থি ফুলে যাওয়া (Goiter), সিস্ট ও ক্যান্সার, থাইরয়েড গ্ল্যান্ড কেন বড় হয় (Swelling)?

গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়াকে 'গয়টার' বলা হয়। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

🟢 আয়োডিনের অভাব : খাদ্যে আয়োডিনের অভাবে গ্ল্যান্ড বড় হয়ে যায়।

🟢 নোডিউল : গ্রন্থির ভেতরে ছোট ছোট পিণ্ড তৈরি হওয়া।

🟢 অটো-ইমিউন : যখন শরীর নিজের গ্রন্থিকেই আক্রমণ করে।

🟣 থাইরয়েড সিস্ট কেন হয়?
থাইরয়েড টিস্যু যখন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং তার ভেতর তরল পূর্ণ হয়, তখন তাকে সিস্ট বলা হয়। এগুলো সাধারণত বিনাইন (অ-ক্যান্সারাস) হয়। দীর্ঘস্থায়ী থাইরয়েড প্রদাহ বা জেনেটিক কারণেও এটি হতে পারে।

🟣 কখন ক্যান্সার হয়?
বেশিরভাগ থাইরয়েড নোডিউল ক্যান্সার নয় (মাত্র ৫-১০%)। তবে যদি নোডিউলটি খুব শক্ত হয়, দ্রুত বড় হয়, বংশে ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে বা গলার স্বর পরিবর্তন হয়ে যায়, তবে বায়োপসি (FNAC) করে ক্যান্সারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।

🟣 ৪. চিকিৎসা পদ্ধতি: বিস্তারিত বিশ্লেষণ

কনভেনশনাল (অ্যালোপ্যাথিক) চিকিৎসা

🟢 ড্রাগ থেরাপি : হাইপো-এর জন্য লেভোথাইরক্সিন এবং হাইপার-এর জন্য অ্যান্টি-থাইরয়েড ওষুধ (যেমন: মেথিমাজোল)।

🟢 রেডিও-আয়োডিন: অতিরিক্ত হরমোন নিঃসরণ কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।

🟢 সার্জারি: বড় সিস্ট বা ক্যান্সারের ক্ষেত্রে গ্রন্থি কেটে ফেলা হয়। তবে এতে আজীবন সাপ্লিমেন্ট নিতে হয়।

🔴 হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

🟢 হোমিওপ্যাথি মতে, থাইরয়েড সমস্যা কেবল কোনো অঙ্গের সমস্যা নয়, বরং এটি একটি সিস্টেমিক ডিসঅর্ডার বা শরীরের অভ্যন্তরীণ জীবনীশক্তির ভারসাম্যহীনতা।

🟢 ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসা: এখানে কেবল হরমোনের রিপোর্ট দেখে নয়, বরং রোগীর মেজাজ, ঘাম, খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক লক্ষণ বিচার করে ওষুধ নির্বাচন করা হয়। রোগীর মায়াজম (Miasm) এবং কন্সটিটিউশন বিচার করে ওষুধ দেওয়া হয়। এটি শরীরের নিজস্ব নিরাময় ক্ষমতাকে উদ্দীপিত করে।

🟢 সার্জারি বিহীন সমাধান : হোমিওপ্যাথিক সিস্টেম অব মেডিসিন অনুসারে যদি সিস্ট বড় বা ক্যান্সারযুক্ত না হয়, তবে উপযুক্ত 'কন্সটিটিউশনাল মেডিসিন' (Constitutional Medicine) ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রন্থির কার্যকারিতা স্বাভাবিক করা এবং সিস্টটি ধীরে ধীরে শরীরেই মিলিয়ে দেওয়া (Absorption) সম্ভব।

🟢 সঠিক চিকিৎসায় অনেক ক্ষেত্রে রোগী সারাজীবনের জন্য হরমোন সাপ্লিমেন্ট বা কনভেনশনাল রিমেডি গ্রহণের হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

🔴 স্থায়ী সমাধান : হোমিওপ্যাথি কেবল হরমোনের লেভেল ঠিক করে না, বরং কেন হরমোন কম-বেশি হচ্ছে সেই মূল কারণটি দূর করার চেষ্টা করে।

DR. BIPUL CHOWDHURY
Gazipur, Bangladesh
23rd January 2026

22/01/2026

🔴 প্রোস্টেট এনলার্জমেন্ট (Prostate Enlargement) — যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Benign Prostatic Hyperplasia (BPH) বলা হয় — এটি মধ্যম বয়সী ও বয়স্ক পুরুষদের একটি খুবই সাধারণ সমস্যা। চলুন সহজ, পরিষ্কার ও ক্লিনিক্যালভাবে এটি দেখি

🔴 প্রোস্টেট এনলার্জমেন্ট কী?
প্রোস্টেট হলো একটি ছোট গ্রন্থি, যা মূত্রথলির ঠিক নিচে থাকে এবং মূত্রনালিকে (urethra) ঘিরে রাখে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই গ্রন্থির অস্বাভাবিক কিন্তু ক্যান্সারবিহীন বৃদ্ধি হলে তাকে প্রোস্টেট এনলার্জমেন্ট বা BPH বলা হয়।

🟢 এটি ক্যান্সার নয়, তবে উপসর্গগুলো জীবনযাত্রাকে ভীষণভাবে ব্যাহত করতে পারে।

,🔴 প্রোস্টেট এনলার্জমেন্ট কেন হয়?
(Root Causes) প্রধান কারণগুলো হলো—

🔴 1. বয়সজনিত হরমোনাল পরিবর্তন

🟢 টেস্টোস্টেরন কমে গিয়ে DHT (Dihydrotestosterone) বেড়ে যায়

🟢 DHT প্রোস্টেট কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে উদ্দীপিত করে

🔴 2. দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ

🟢 ক্রনিক স্ট্রেস → সিম্প্যাথেটিক নার্ভ ও হরমোনাল ডিসব্যালেন্স

🟢 মূত্রত্যাগের সময় স্নায়ু নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়

🔴 3. জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস

🟢 অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার
🟢 অ্যালকোহল, ধূমপান
🟢 দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা (sedentary lifestyle)

🔴 4. মেটাবলিক সিন্ড্রোম

🟢 ডায়াবেটিস
🟢 স্থূলতা
🟢 উচ্চ রক্তচাপ

🔴 5. পারিবারিক প্রবণতা (Genetic predisposition)

সাধারণ লক্ষণসমূহ
🟢 প্রস্রাব শুরু করতে দেরি হওয়া
🟢 প্রস্রাবের ধারা দুর্বল বা ছেঁড়া ছেঁড়া ও চিকন বা সরু
🟢 ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ (বিশেষ করে রাতে – Nocturia)
🟢 প্রস্রাবের পরও সম্পূর্ণ খালি না হওয়ার অনুভূতি
🟢 হঠাৎ তীব্র প্রস্রাবের চাপ (Urgency)

🟣 হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা কেমন?

হোমিওপ্যাথিতে প্রোস্টেট এনলার্জমেন্টকে একটি সিস্টেমিক ও ফাংশনাল ডিসঅর্ডার হিসেবে দেখা হয়, শুধু গ্রন্থির আকার নয়—রোগীর শারীরিক, মানসিক ও হরমোনাল অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসা করা হয়।

🟣 চিকিৎসার লক্ষ্য

🟢 প্রোস্টেটের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ
🟢 মূত্রনালীর চাপ কমানো
🟢 মূত্রত্যাগের ক্ষমতা স্বাভাবিক করা
🟢 অপারেশনের কোন প্রয়োজন হয় না, অপারেশন ছাড়াই স্থায়ীভাবে ভালো হয়।

🟣 খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন নির্দেশনা

🟢 পর্যাপ্ত পানি (দিনে ২–২.৫ লিটার)
🟢 সবজি, টমেটো (Lycopene), কুমড়োর বীজ
🟢 রাতের বেলা অতিরিক্ত পানি/চা/কফি এড়িয়ে চলুন
🟢 নিয়মিত হাঁটা ও পেলভিক এক্সারসাইজ
🟢 মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ (ঘুম ও মেডিটেশন)

🟣 কখন সতর্ক হবেন?
যখন-
🟢 একেবারেই প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়
🟢 প্রস্রাবে রক্ত আসে
🟢 বারবার ইউরিন ইনফেকশন হয়

🔴 সময়মত একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথের চিকিৎসা নিলে প্রোস্টেটগ্ল্যান্ডের সমস্যা স্থায়ীভাবে ভালো হয় এবং ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা থাকে না।

21/01/2026

🔴 হাড়ক্ষয় (Degenerative changes, Osteoporosis, Osteoarthritis, Lumbar spondylosis, Cervical spondylosis, Knee osteoarthritis etc.)

হাড়ের ক্ষয়জনিত সমস্যা, বিশেষ করে কোমর এবং হাঁটুর ব্যথা বর্তমান সময়ে এক ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। আগে ধারণা করা হতো এটি কেবল বার্ধক্যজনিত সমস্যা, কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফলে এখন কম বয়সীদের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা দিচ্ছে।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের উৎকর্ষতার যুগেও এই সমস্যাটি অনেক ক্ষেত্রে কেবল ব্যথানাশক ঔষধ বা শল্যচিকিৎসার (Surgery) মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু হোমিওপ্যাথি এই রোগকে ভিন্ন আঙ্গিকে দেখে এবং এর মূল কারণ নির্মূলে বিশ্বাসী।

নিচে হাড়ক্ষয়, এর হোমিওপ্যাথিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্থায়ী আরোগ্য নিয়ে একটি বিস্তারিত ফিচার তুলে ধরা হলো।

🟢 হাড়ের ক্ষয়: কোমর ও হাঁটুর ব্যথার নীরব ঘাতক ও স্থায়ী হোমিওপ্যাথিক সমাধান

মানবদেহের কাঠামোর মূল ভিত্তি হলো হাড়। বয়সের সাথে সাথে বা বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া এবং হাড়ের সংযোগস্থলের কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি ক্ষয় হয়ে যাওয়াকে আমরা সাধারণ ভাষায় 'হাড়ক্ষয়' বলে থাকি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে অস্টিওপোরোসিস (Osteoporosis) বা অস্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis) বলা হয়। বিশেষ করে কোমর এবং হাঁটু এই সমস্যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়ায়, কারণ শরীরের সম্পূর্ণ ওজন এই দুটি জায়গার ওপরই নির্ভর করে।

১. হাড়ক্ষয় আসলে কী?
আমাদের হাড় প্রতিনিয়ত পুনর্গঠিত হয়। পুরানো হাড় ভেঙে যায় এবং নতুন হাড় তৈরি হয়। যখন নতুন হাড় তৈরির হারের চেয়ে পুরানো হাড় ভাঙার হার বেড়ে যায়, তখনই হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়। একে বলে অস্টিওপোরোসিস। আবার জয়েন্টের হাড়ের মাঝে যে পিচ্ছিল পদার্থ (Synovial Fluid) এবং কুশনের মতো তরুণাস্থি থাকে, তা শুকিয়ে গেলে হাড়ের সাথে হাড়ের ঘর্ষণ লাগে— একে বলে অস্টিওআর্থ্রাইটিস।

২. কেন কোমর ও হাঁটু বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
🟢 কোমর (Lumber Spondylosis): মেরুদণ্ডের নিচের অংশ বা লাম্বার স্পাইন শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, ভারী বস্তু তোলা বা মেরুদণ্ডের ডিস্কের সমস্যার কারণে এখানে ক্ষয় দ্রুত হয়।

🟢 হাঁটু (Knee Osteoarthritis): হাঁটু হলো শরীরের বৃহত্তম কব্জা বা জয়েন্ট। হাঁটাচলা, সিঁড়ি ভাঙা বা দৌড়ানোর সময় সমস্ত চাপ হাঁটুর ওপর পড়ে। বয়সের সাথে সাথে হাঁটুর গ্রিজ বা পিচ্ছিল পদার্থ কমে গেলে হাড়ক্ষয় শুরু হয়।

৩. হাড়ক্ষয়ের প্রধান কারণসমূহ
হাড়ক্ষয় হঠাৎ করে হয় না। এর পেছনে দীর্ঘদিনের কিছু কারণ কাজ করে:

🟢 ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর অভাব: হাড়ের প্রধান উপাদান হলো ক্যালসিয়াম। যদি শরীরে ভিটামিন ডি কম থাকে, তবে হাড় ক্যালসিয়াম শোষণ করতে পারে না।

🟢 হরমোনের পরিবর্তন: নারীদের মেনোপজ বা ঋতুস্রাব স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পর ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যায়, যা দ্রুত হাড়ক্ষয় ঘটায়।

🟢 অতিরিক্ত ওজন: শরীরের ওজন বেশি হলে তার পুরো চাপ পড়ে হাঁটু ও কোমরের জয়েন্টের ওপর।

🟢 অলস জীবনযাপন: শারীরিক পরিশ্রম না করলে হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে।

🟢 বংশগত: পরিবারের কারোর হাড়ক্ষয়ের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।

🟢 ধূমপান ও মদ্যপান: এই অভ্যাসগুলো হাড়ের টিস্যু পুনর্গঠনে বাধা দেয়।

৪. উপসর্গ বা লক্ষণসমূহ
অনেক সময় হাড়ক্ষয়কে 'নীরব ঘাতক' বলা হয় কারণ প্রাথমিক অবস্থায় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে সমস্যা বাড়লে নিচের লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়:

🟢 কোমর বা পিঠের নিচের দিকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা।
🟢 হাঁটু ভাঁজ করতে বা সোজা করতে কষ্ট হওয়া।
🟢 সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর জয়েন্ট শক্ত হয়ে থাকা।
🟢 হাঁটাহাঁটির সময় হাঁটু থেকে মড়মড় শব্দ হওয়া (Crepitus)।
🟢 উবু হয়ে বসতে না পারা বা সিঁড়ি দিয়ে উঠতে প্রচণ্ড যন্ত্রণা।
🟢 শরীরের উচ্চতা কিছুটা কমে যাওয়া বা সামনে ঝুঁকে যাওয়া।

🔴 হাড়ক্ষয়ের হোমিওপ্যাথিক কারণ (Homeopathic Etiology)

হোমিওপ্যাথি কেবল বাহ্যিক কারণ যেমন ক্যালসিয়ামের অভাব বা বয়সকে দায়ী করে না। হোমিওপ্যাথির জনক মহাত্মা হ্যানিম্যানের মতে, যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগের মূলে থাকে 'মায়াজম' (Miasm) বা অভ্যন্তরীণ রোগবীজ।

🔴 হাড়ক্ষয়ের ক্ষেত্রে প্রধানত তিনটি মায়াজম দায়ী হতে পারে:

🟢 সোরিক মায়াজম (Psora): এটি শরীরে পুষ্টির অভাব বা আত্তীকরণের সমস্যা তৈরি করে। ফলে খাবার খেলেও শরীর পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম বা খনিজ হাড়ের জন্য শোষণ করতে পারে না।

🟢 সাইকোটিক মায়াজম (Psychotic Miasm): এটি হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা জয়েন্টে ইউরিক এসিড জমা হওয়ার জন্য দায়ী। হাঁটুর জয়েন্টে যে হাড় বৃদ্ধি (Osteophytes) দেখা যায়, তা মূলত এই মায়াজমের ফল।

🟢 সিফিলিটিক মায়াজম (Syphilitic Miasm): এটি হাড়ের ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়ার জন্য দায়ী। হাড়ের ভেতরে ফুটো হওয়া বা হাড়ের ক্ষয় (Bone Degeneration) এই মায়াজমের প্রভাবে ঘটে।

একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক এই মায়াজমগুলোকে চিহ্নিত করে ঔষধ নির্বাচন করেন, যা স্থায়ী আরোগ্যের পথ প্রশস্ত করে।

৫. হোমিওপ্যাথিতে হাড়ক্ষয়ের স্থায়ী চিকিৎসা
অনেকেই মনে করেন হাড়ক্ষয় মানেই আজীবন পেইনকিলার খেয়ে যাওয়া বা শেষ পর্যন্ত অপারেশন (Knee Replacement)। কিন্তু হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিজ্ঞান এই সমস্যার মূলে গিয়ে কাজ করে এবং রোগীকে প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ করে তোলে।

🔴 কেন হোমিওপ্যাথি কার্যকর?
হোমিওপ্যাথি কেবল সাময়িকভাবে ব্যথা কমায় না, বরং এটি হাড়ের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং জয়েন্টের পিচ্ছিল পদার্থ ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।

৬. হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার বৈশিষ্ট্য

🟢 কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই: দীর্ঘদিন এলোপ্যাথিক পেইনকিলার খেলে কিডনি বা লিভারের ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু হোমিওপ্যাথির কোনো সাইড ইফেক্ট নেই।

🟢 রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: এটি শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় যাতে হাড়ের ক্ষয় রোধ হয়।

🟢 মানসিক ও শারীরিক সমন্বয়: রোগীর ধাতুগত লক্ষণ (Constitutional Treatment) বিচার করে ঔষধ দেয়া হয়, যা স্থায়ীভাবে কাজ করে।

৭. জীবনযাত্রায় পরিবর্তন ও সতর্কতা

শুধুমাত্র ঔষধ খেয়ে হাড়ক্ষয় রোধ করা সম্ভব নয়। এর সাথে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি:

🟢 সুষম খাবার: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দুধ, ছানা, ছোট মাছ, ডিম এবং সবুজ শাকসবজি রাখুন।

🟢 সূর্যস্নান: শরীরের ভিটামিন ডি-এর চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট রোদে থাকুন।

🟢 ওজন নিয়ন্ত্রণ: হাঁটুর ওপর চাপ কমাতে ওজন বিএমআই (BMI) অনুযায়ী স্বাভাবিক রাখুন।

🟢 ব্যায়াম: হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম করুন। তবে ব্যথা বেশি থাকলে ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।

🟢 ভুল শারীরিক পজিশন বর্জন: কুঁজো হয়ে বসা বা দীর্ঘক্ষণ একটানা দাঁড়িয়ে থাকা পরিহার করুন।

উপসংহার:
কোমর ও হাঁটুর হাড়ক্ষয় কোনো অভিশাপ নয়, বরং সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। হোমিওপ্যাথি বিজ্ঞানসম্মতভাবে হাড়ের কোষগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম। তাই যন্ত্রণাদায়ক সার্জারি বা আজীবন ব্যথানাশক ঔষধের ওপর নির্ভর না করে, একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রাকৃতিক নিরাময়ে বিশ্বাস রাখুন, সুস্থ থাকুন।

DR. BIPUL CHOWDHURY
20th January 2026
Bangladesh

20/01/2026

🔴 হাড়ক্ষয় (Degenerative changes, Osteoporosis, Osteoarthritis, Lumbar spondylosis, Cervical spondylosis, Knee osteoarthritis etc.)

হাড়ের ক্ষয়জনিত সমস্যা, বিশেষ করে কোমর এবং হাঁটুর ব্যথা বর্তমান সময়ে এক ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। আগে ধারণা করা হতো এটি কেবল বার্ধক্যজনিত সমস্যা, কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফলে এখন কম বয়সীদের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা দিচ্ছে।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের উৎকর্ষতার যুগেও এই সমস্যাটি অনেক ক্ষেত্রে কেবল ব্যথানাশক ঔষধ বা শল্যচিকিৎসার (Surgery) মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু হোমিওপ্যাথি এই রোগকে ভিন্ন আঙ্গিকে দেখে এবং এর মূল কারণ নির্মূলে বিশ্বাসী।

নিচে হাড়ক্ষয়, এর হোমিওপ্যাথিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্থায়ী আরোগ্য নিয়ে একটি বিস্তারিত ফিচার তুলে ধরা হলো।

🟢 হাড়ের ক্ষয়: কোমর ও হাঁটুর ব্যথার নীরব ঘাতক ও স্থায়ী হোমিওপ্যাথিক সমাধান

মানবদেহের কাঠামোর মূল ভিত্তি হলো হাড়। বয়সের সাথে সাথে বা বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া এবং হাড়ের সংযোগস্থলের কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি ক্ষয় হয়ে যাওয়াকে আমরা সাধারণ ভাষায় 'হাড়ক্ষয়' বলে থাকি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে অস্টিওপোরোসিস (Osteoporosis) বা অস্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis) বলা হয়। বিশেষ করে কোমর এবং হাঁটু এই সমস্যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়ায়, কারণ শরীরের সম্পূর্ণ ওজন এই দুটি জায়গার ওপরই নির্ভর করে।

১. হাড়ক্ষয় আসলে কী?
আমাদের হাড় প্রতিনিয়ত পুনর্গঠিত হয়। পুরানো হাড় ভেঙে যায় এবং নতুন হাড় তৈরি হয়। যখন নতুন হাড় তৈরির হারের চেয়ে পুরানো হাড় ভাঙার হার বেড়ে যায়, তখনই হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়। একে বলে অস্টিওপোরোসিস। আবার জয়েন্টের হাড়ের মাঝে যে পিচ্ছিল পদার্থ (Synovial Fluid) এবং কুশনের মতো তরুণাস্থি থাকে, তা শুকিয়ে গেলে হাড়ের সাথে হাড়ের ঘর্ষণ লাগে— একে বলে অস্টিওআর্থ্রাইটিস।

২. কেন কোমর ও হাঁটু বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
🟢 কোমর (Lumber Spondylosis): মেরুদণ্ডের নিচের অংশ বা লাম্বার স্পাইন শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, ভারী বস্তু তোলা বা মেরুদণ্ডের ডিস্কের সমস্যার কারণে এখানে ক্ষয় দ্রুত হয়।

🟢 হাঁটু (Knee Osteoarthritis): হাঁটু হলো শরীরের বৃহত্তম কব্জা বা জয়েন্ট। হাঁটাচলা, সিঁড়ি ভাঙা বা দৌড়ানোর সময় সমস্ত চাপ হাঁটুর ওপর পড়ে। বয়সের সাথে সাথে হাঁটুর গ্রিজ বা পিচ্ছিল পদার্থ কমে গেলে হাড়ক্ষয় শুরু হয়।

৩. হাড়ক্ষয়ের প্রধান কারণসমূহ
হাড়ক্ষয় হঠাৎ করে হয় না। এর পেছনে দীর্ঘদিনের কিছু কারণ কাজ করে:

🟢 ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর অভাব: হাড়ের প্রধান উপাদান হলো ক্যালসিয়াম। যদি শরীরে ভিটামিন ডি কম থাকে, তবে হাড় ক্যালসিয়াম শোষণ করতে পারে না।

🟢 হরমোনের পরিবর্তন: নারীদের মেনোপজ বা ঋতুস্রাব স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পর ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যায়, যা দ্রুত হাড়ক্ষয় ঘটায়।

🟢 অতিরিক্ত ওজন: শরীরের ওজন বেশি হলে তার পুরো চাপ পড়ে হাঁটু ও কোমরের জয়েন্টের ওপর।

🟢 অলস জীবনযাপন: শারীরিক পরিশ্রম না করলে হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে।

🟢 বংশগত: পরিবারের কারোর হাড়ক্ষয়ের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।

🟢 ধূমপান ও মদ্যপান: এই অভ্যাসগুলো হাড়ের টিস্যু পুনর্গঠনে বাধা দেয়।

৪. উপসর্গ বা লক্ষণসমূহ
অনেক সময় হাড়ক্ষয়কে 'নীরব ঘাতক' বলা হয় কারণ প্রাথমিক অবস্থায় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে সমস্যা বাড়লে নিচের লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়:

🟢 কোমর বা পিঠের নিচের দিকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা।
🟢 হাঁটু ভাঁজ করতে বা সোজা করতে কষ্ট হওয়া।
🟢 সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর জয়েন্ট শক্ত হয়ে থাকা।
🟢 হাঁটাহাঁটির সময় হাঁটু থেকে মড়মড় শব্দ হওয়া (Crepitus)।
🟢 উবু হয়ে বসতে না পারা বা সিঁড়ি দিয়ে উঠতে প্রচণ্ড যন্ত্রণা।
🟢 শরীরের উচ্চতা কিছুটা কমে যাওয়া বা সামনে ঝুঁকে যাওয়া।

🔴 হাড়ক্ষয়ের হোমিওপ্যাথিক কারণ (Homeopathic Etiology)

হোমিওপ্যাথি কেবল বাহ্যিক কারণ যেমন ক্যালসিয়ামের অভাব বা বয়সকে দায়ী করে না। হোমিওপ্যাথির জনক মহাত্মা হ্যানিম্যানের মতে, যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগের মূলে থাকে 'মায়াজম' (Miasm) বা অভ্যন্তরীণ রোগবীজ।

🔴 হাড়ক্ষয়ের ক্ষেত্রে প্রধানত তিনটি মায়াজম দায়ী হতে পারে:

🟢 সোরিক মায়াজম (Psora): এটি শরীরে পুষ্টির অভাব বা আত্তীকরণের সমস্যা তৈরি করে। ফলে খাবার খেলেও শরীর পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম বা খনিজ হাড়ের জন্য শোষণ করতে পারে না।

🟢 সাইকোটিক মায়াজম (Psychotic Miasm): এটি হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা জয়েন্টে ইউরিক এসিড জমা হওয়ার জন্য দায়ী। হাঁটুর জয়েন্টে যে হাড় বৃদ্ধি (Osteophytes) দেখা যায়, তা মূলত এই মায়াজমের ফল।

🟢 সিফিলিটিক মায়াজম (Syphilitic Miasm): এটি হাড়ের ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়ার জন্য দায়ী। হাড়ের ভেতরে ফুটো হওয়া বা হাড়ের ক্ষয় (Bone Degeneration) এই মায়াজমের প্রভাবে ঘটে।

একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক এই মায়াজমগুলোকে চিহ্নিত করে ঔষধ নির্বাচন করেন, যা স্থায়ী আরোগ্যের পথ প্রশস্ত করে।

৫. হোমিওপ্যাথিতে হাড়ক্ষয়ের স্থায়ী চিকিৎসা
অনেকেই মনে করেন হাড়ক্ষয় মানেই আজীবন পেইনকিলার খেয়ে যাওয়া বা শেষ পর্যন্ত অপারেশন (Knee Replacement)। কিন্তু হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিজ্ঞান এই সমস্যার মূলে গিয়ে কাজ করে এবং রোগীকে প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ করে তোলে।

🔴 কেন হোমিওপ্যাথি কার্যকর?
হোমিওপ্যাথি কেবল সাময়িকভাবে ব্যথা কমায় না, বরং এটি হাড়ের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং জয়েন্টের পিচ্ছিল পদার্থ ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।

৬. হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার বৈশিষ্ট্য

🟢 কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই: দীর্ঘদিন এলোপ্যাথিক পেইনকিলার খেলে কিডনি বা লিভারের ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু হোমিওপ্যাথির কোনো সাইড ইফেক্ট নেই।

🟢 রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: এটি শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় যাতে হাড়ের ক্ষয় রোধ হয়।

🟢 মানসিক ও শারীরিক সমন্বয়: রোগীর ধাতুগত লক্ষণ (Constitutional Treatment) বিচার করে ঔষধ দেয়া হয়, যা স্থায়ীভাবে কাজ করে।

৭. জীবনযাত্রায় পরিবর্তন ও সতর্কতা

শুধুমাত্র ঔষধ খেয়ে হাড়ক্ষয় রোধ করা সম্ভব নয়। এর সাথে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি:

🟢 সুষম খাবার: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দুধ, ছানা, ছোট মাছ, ডিম এবং সবুজ শাকসবজি রাখুন।

🟢 সূর্যস্নান: শরীরের ভিটামিন ডি-এর চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট রোদে থাকুন।

🟢 ওজন নিয়ন্ত্রণ: হাঁটুর ওপর চাপ কমাতে ওজন বিএমআই (BMI) অনুযায়ী স্বাভাবিক রাখুন।

🟢 ব্যায়াম: হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম করুন। তবে ব্যথা বেশি থাকলে ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।

🟢 ভুল শারীরিক পজিশন বর্জন: কুঁজো হয়ে বসা বা দীর্ঘক্ষণ একটানা দাঁড়িয়ে থাকা পরিহার করুন।

উপসংহার:
কোমর ও হাঁটুর হাড়ক্ষয় কোনো অভিশাপ নয়, বরং সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। হোমিওপ্যাথি বিজ্ঞানসম্মতভাবে হাড়ের কোষগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম। তাই যন্ত্রণাদায়ক সার্জারি বা আজীবন ব্যথানাশক ঔষধের ওপর নির্ভর না করে, একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রাকৃতিক নিরাময়ে বিশ্বাস রাখুন, সুস্থ থাকুন।

DR. BIPUL CHOWDHURY
20th January 2026
Bangladesh.

Address

CHOWDHURY HOMOEO MEDICAL CENTER, Barotopa Road (Birmuktijoddha Habibur Rahman Sarak), Opposite Of Swadesh Hospital, Mawna Chowrasta, Sreepur
Gazipur
1740

Opening Hours

Monday 09:00 - 22:00
Tuesday 09:00 - 22:00
Wednesday 09:00 - 22:00
Thursday 09:00 - 22:00
Friday 09:00 - 22:00
Saturday 09:00 - 22:00
Sunday 09:00 - 22:00

Telephone

+8801735204491

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when DR. BIPUL CHOWDHURY posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to DR. BIPUL CHOWDHURY:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram