23/02/2024
বাচ্চার খৎনা ইদানীং বাবা-মার জন্য আতংকের কারণ হয়ে গেছে! কিন্তু এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। কোন জটিল রোগে আক্রান্ত অথবা জটিল অপারেশনে বাচ্চা মারা যাওয়া ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু সুস্থ বাচ্চা খৎনা করতে গিয়ে মারা যাবে সেটা মেনে নেওয়া যায়না। তাই কিছু কথা বলতে চাই:
১. অপারেশন যত ছোটই হোক সেটা অপারেশন। এর জটিলতা হতে পারে এব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে। কোন ছোট অপারেশনকে অবহেলা করা যাবে না।
২. শিশুরা এডাল্টের ছোট ভার্সন নয়। শিশুদের ক্ষেত্রে ঔষধের ডোজ সম্পূর্ন ভিন্ন। শিশুদের চিকিৎসা এডাল্ট ডাক্তার দিয়ে করানোর আগে ভেবে দেখবেন ব্যাপারটা।
৩. অভিজ্ঞ সার্জন ও এনাস্থেশিয়া ডাক্তার নির্বাচন করতে হবে। এখন পর্যন্ত কোন শিশু সার্জন এবং শিশু এনাস্থেশিয়ার ডাক্তারের হাতে এরকম সুস্থ বাচ্চা মারা গেছে তার রেকর্ড নাই।
৪. খৎনা বিষয়ে হুটহাট সিদ্ধান্ত নিবেন না। অযথা তাড়াহুড়া করবেন না। যেমন আজ সকালে আপনার মনে হলো আজ ও আগামীকাল আপনার ছুটি। তাড়াহুড়া করে আজই করে ফেলতে চাইবেন না।
৫. খৎনা সহ সকল অপারেশনের ক্ষেত্রে প্রি-এনাস্থেশিয়া চেক আপ (পাকু) জরুরী। অপারেশনের আগে ডাক্তারের উচিত বাচ্চার বুক চেক করা। কিছু বেসিক পরীক্ষা নিরিক্ষা (সিবিসি, ক্রিয়েটিনিন, বিটি, সিটি) দেখে নেয়া।
৬. বাচ্চার কোন ঠান্ডা সর্দি, কাশি, জ্বর, পাতলা পায়খানা ইত্যাদি থাকলে এরকম রুটিন অপারেশন পিছিয়ে দিতে হবে।
৭. বাচ্চার কোন জানা রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানাতে হবে। বাচ্চার কোন এলার্জি থাকলে জানাতে হবে। পূর্বে কোন ঔষধে কোন রিয়াকশন হলে জানাতে হবে।
৮. অবশ্যই অবশ্যই খালি পেটে বাচ্চার অপারেশন করতে হবে। সলিড খাবার ৬ ঘন্টা আগে এবং তরল খাবার ৪ ঘন্টা আগে বন্ধ করতে হবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খাওয়ানোর কারণে অনেক বাচ্চা অপারেশন টেবিলে মারা যায়। বিষয়টা ব্যাখা করা জরুরী। এনাস্থেশিয়া ঔষধ দেয়ার ফলে খাদ্য নালীর পাকস্থলীর উপড়ের অংশে স্পিংটার ঢিলা হয়ে যায় এবং বাচ্চা শোয়া অবস্থায় থাকে। ফলে পাকস্থলি ভরা থাকলে সেখানের খাবার ব্যাক ফ্লো করে উপড়ে উঠে যায় এবং ফুসফুসে চলে গিয়ে শ্বাসনালী ব্লক করে ফেলে। ফলে বাচ্চা শ্বাসরোধ হয়ে মারা যায়।
৯. অজ্ঞান না করে লোকাল দিয়ে শুধু পেনিস অবশ করে খাৎনা করা যায়৷ ভাগ্য খুব খারাপ না হলে এবং সঠিক ভাবে লোকাল এনাস্থেশিয়ার ঔষধ দেয়া হলে সাধারণত রিয়্যাকশন হতে দেখা যায়না। তবে যেহেতু রিয়্যাকশনের সম্ভাবনা কাগজে কলমে আছে তাই তার জন্য ডাক্তারদের প্রস্তুত থাকতে হবে। লোকাল এনাস্থেশিয়া দেয়ার সময় অনভিজ্ঞ ডাক্তার সেটা মাংসে না দিয়ে শিরায় দিয়ে দিলে রিয়্যাকশন হতে পারে। তাই পুনরায় অভিজ্ঞ ডাক্তারের ব্যাপারটি চলে আসছে।
অপারেশন ছোট বড় যেমনই হোক উপড়ের বিষয় গুলো মাথায় রাখবেন। জীবণ মৃত্যু আল্লাহর হাতে। তবুও আমাদের সকলকে নিজ নিজ দায়িত্বের ব্যাপারে আরো সচেতন হতে হবে।
লিখেছেন.....
ডা: আদনান আল বিরুনী