Ansari Physiotherapy and Rehabilitation Care

Ansari Physiotherapy and Rehabilitation Care ফিজিওথেরাপি সেবা, রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ।

23/05/2024

হায়রে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সিরিজ হার ২-০...

10/04/2024

বুদ্ধিমান সেচ্ছায় বোকা সেজে থাকে। বোকারাই সুখি!🤗

04/08/2023

জুম্মা মোবারক

19/05/2023

১.
আমার বিয়ের জন্য যখন পাত্রী দেখা হতে লাগলো তখন হঠাৎ করে মায়ের আচরণ বদলে যেতে শুরু করলো। শান্ত শিষ্ট মা খিটখিটে মেজাজের হয়ে যেতে লাগলেন।

সকালে ঘুম থেকে উঠে চেঁচামেচি আরম্ভ করতেন।
চড়া গলায় বলতেন,"আমার মরণ হয় না কেনো? আল্লাহ প্রতিদিন এতো মানুষের মৃত্যু দেন, আমার দেন না কেনো? আমাকে কি তার চোখে পড়ে না? ঘেন্না ধরে গেলো জীবনের প্রতি। ঘেন্না, ঘেন্না..।"
বাবা তখন মাকে বলতেন,"সকাল সকাল কি তোমার মাথায় ভূত চাপে? শুধু শুধু চেঁচামেচি করো কেনো?"
জবাবে মা জ্বলে উঠে বলতেন,"সারাজীবন আমাকে জ্বালিয়ে শেষ করে এখন এসেছো ভালো সাজতে! তোমাকে আমার চেনা আছে। ঘেন্না, ঘেন্না...।"
বাবা আর কিছু বলতেন না। কিন্তু মা গজগজ করতেই থাকতেন।

দুপুরে ছোটো বোন যখন মাকে খেতে ডাকতো, মা তখন রাগী কণ্ঠে বলতেন,"তোর রান্না আমি খেতে পারি না। বমি আসে। ওয়াক থু!"
"আমার রান্না খেতে ভালো না লাগলে, বাহির থেকে খাওয়া নিয়ে আসি?"
"চুপ থাক। মুখে মুখে কথা বলিস। আমি খাবো না। আমার খিদে নেই।"

পরে মা'র মেজাজ কিছুটা কমলে ছোটো বোন মা'র রুমে খাবার দিয়ে আসতো।
মা সামান্য খেয়ে প্লেট সরিয়ে রেখে বিছানায় শুয়ে নাক কুঁচকে বলতেন,"জঘন্য রান্না। ওয়াক থু!"

রাতে হয়তো মাকে বললাম,"মা, আমার বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে যাবেন না?"
মা ক্ষিপ্ত হয়ে তখন বলতেন,"বিয়ে করবি, তাই আনন্দে উড়ছিস, তাই না? শয়তান ছেলে পেটে ধরেছি। যা এখান থেকে।"

মায়ের এই উত্তপ্ত আচরণে আমরা সবাই বিরক্ত হতাম। তাকে থামতে বললে থামতেন না। জোরে কথা বলতে বলতে এক সময় তার ফর্সা মুখ লাল হয়ে যেতো। পুরো শরীর ঘেমে যেতো।

শাড়ির আঁচল দিয়ে ঘাম মুছতে মুছতে মা তখন বলতেন,"সবাই কি অন্ধ হয়ে গেছিস? দেখছিস না ঘামে ভিজে গেলাম। ফ্যানের স্পিড বাড়িতে দিতে পারিস না?"
উত্তরে বলতাম,"ফ্যান ফুল স্পিডেই চলছে।"
"তাহলে এতো গরম লাগে কেনো?"
"সারাদিন চিৎকার করলে গরম তো লাগবেই।"
"চুপ কর। জ্ঞান দিতে এসেছিস! তোর চেয়ে আমি ভালো বুঝি।"
আমি তখন চুপ হয়ে যেতাম।

দিন দিন মায়ের আচরণ রুক্ষ হয়ে উঠতে লাগলো। অবশ্য সব সময় যে তিনি চিৎকার করতেন তা নয়। যে সময় তিনি চুপ থাকতেন, তখন তাকে দেখলে মনে হতো, এক পৃথিবী ক্লান্তি তাকে ঘিরে ধরেছে। কখনো কোনো কারণ ছাড়া কাঁদতেন।

মায়ের এই পরিবর্তনের কারণ আমরা বুঝতে পারতাম না।
কেউ বলতো,"তাবিজ করেছে।"
কেউ বলতো,"জিনে ধরেছে।"
কেউ আবার বলতো,"তাবিজ, জিন এসব কিছু নয়। আসল ব্যাপার হলো, নতুন বউ আসবে বাড়িতে। তখন সংসারের কর্তৃত্ব আর তার হাতে থাকবে না। বউয়ের হাতে চলে যাবে। এই ভেবে তার মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।"

মায়ের ব্যবহারের কারণে বিয়ে করতে ভয় লাগছিলো। পুত্রবধূর সাথে যদি তিনি এভাবে আচরণ করেন তাহলে তো সংসার করা কঠিন হবে। আমি তাই পাত্রী দেখা বন্ধ রাখলাম।

এদিকে মা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠতে লাগলেন। মায়ের চেঁচামেচিতে এক পর্যায়ে সবাই ত্যক্ত হয়ে গেলাম।

বাবা একদিন রেগে গিয়ে মাকে বললেন,"সুখে থাকতে ভূতে কিলায়, তাই না? সহ্যের একটা সীমা আছে। আমি শেষবারের মতো বলছি, তুমি যদি নিজেকে না শোধরাও, তাহলে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেবো।"

ছোটো বোন একদিন অস্থির হয়ে মাকে বললো,"আপনি আমাকে পাগল বানিয়ে দেবেন। যেভাবেই রান্না করি আপনার পছন্দ হয় না। শুধু ওয়াক থু, ওয়াক থু করেন। অন্য কারো রান্না খেয়ে ওয়াক থু করে দেখবেন, কী হয়? বসে বসে খাচ্ছেন তো তাই টের পাচ্ছেন না।"

আমি একদিন ফুঁসে উঠে মাকে বললাম,"আপনি কিন্তু বাড়াবাড়ি করছেন। আমাদের ভালো ব্যবহারের কোনো মূল্য নেই আপনার কাছে। ঠিক আছে, এখন থেকে আপনার সাথেও আমরা খারাপ আচরণ করবো।"

আমাদের রূঢ় ব্যবহারে মা আরো মরিয়া হয়ে উঠলেন। রাতে ঘুমান না, ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করেন না, বিষন্ন হয়ে থাকেন, নতুবা কাঁদেন, নতুবা খিটখিট করতেই থাকেন।

এভাবে চলতে চলতে মা এক সময় শারীরিক ভাবে খুবই অসুস্থ হয়ে পড়লেন। আমরা মাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। আর সেখানে গিয়ে ডাক্তারের কাছ থেকে জানতে পারলাম মায়ের আসলে কী হয়েছিলো।

ডাক্তার বললেন,"উনি দীর্ঘদিন থেকে মেনোপজ সমস্যায় ভুগছিলেন। মেনোপজ হলো, নারীদের একটা বয়সের পর মাসিক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া। এটা সাধারণত ৪৫ - ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে হয়। পৃথিবীর সকল নারীর জীবনে এটা ঘটে।"

তারপর বললেন,"মেনোপজ নারীর শরীরে মনে প্রচুর পরিবর্তন নিয়ে আসে। যেমন, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, হঠাৎ করে খুব গরম লাগতে থাকে, স্মৃতি শক্তি নষ্ট হয়ে যেতে থাকে, খুব ছোটোখাটো বিষয়ে আবেগ প্রবন হয়ে কেঁদে ফেলা, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় ইত্যাদি। এ সময় সঠিক যত্ন না নিলে অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ওনার ক্ষেত্রে ঠিক তাই হয়েছে।"

অপরাধ বোধে আমরা জর্জরিত হয়ে গেলাম।

আমাদের ভুলের কারণে মায়ের ভয়াবহ শারীরিক ক্ষতি হলো। মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে গেলো। হার্টের রোগে আক্রান্ত হলেন। এরপর মা বেশিদিন বাঁচেন নি।

মায়ের মৃত্যুর পর এই ভেবে কাঁদতাম যে, মায়ের সমস্যাটা বুঝতে না পেরে কতো বাজে আচরণ তার সাথে করেছি। আহারে!

২.
বিয়ের পঁচিশ বছর পর এক মাঝ রাতে আমার স্ত্রী ঘুম ভাঙিয়ে বললো,"আমার এতো গরম লাগে কেনো? ফ্যানের স্পিড বাড়িয়ে দাও।"
বললাম,"ফ্যান ফুল স্পিডে চলছে। আর বাড়ানো যাবে না।"
সে তখন ঘামতে ঘামতে বললো,"তাহলে আমার এতো গরম লাগে কেনো?"

তারপর খিটখিটে স্বরে বললো,"জীবনটা বরবাদ হয়ে গেলো আমার। কেউ আমার কথা শোনে না। অসহ্য অসহ্য! আল্লাহ এতো মানুষের মৃত্যু দেন, আমার মৃত্যু দেন না কেনো?..."

সে বকে যেতে লাগলো।

আমার তখন বুঝতে সমস্যা হলো না, স্ত্রীর মেনোপজ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। এখন অবহেলা নয়, বকাঝকা নয়, এখন তার প্রয়োজন সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, এবং অকৃত্রিম ভালোবাসা।

মায়ের সাথে যে ভুল করেছি, স্ত্রীর সাথে সেই একই ভুল করতে চাই না।

আমি তাই স্ত্রীর খিটখিটে মেজাজ অগ্রাহ্য করে তাকে জড়িয়ে ধরলাম। পরম মমতায়।
Collected

12/04/2023

স্ত্রী গর্ভবতী। জরুরী পাঁচ হাজার টাকা দরকার। সাতপাঁচ না ভেবে সঙ্গে সঙ্গে টাকাটা ধার দেই। এরপর পেরিয়ে গেছে ১১ মাসের বেশি। কম হলেও ত্রিশবার সেই টাকা ফেরত চেয়েছি। আজ না কাল এভাবে সময় যাচ্ছে।

বাবার প্রথম বিমান ভ্রমণ-সমুদ্র দর্শন। ফেসবুকে স্ট্যাটাস। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গতমাসে কক্সবাজার ঘুরে এলেন। রাগে-ক্ষোভে আর টাকাটা চাইনি। নিজের কাছেই নিজের লজ্জা লাগছে।

তখন তিন হাজার টাকা বেতন পাই। একজন কলিগ হঠাৎ হুড়মুড় করে আমাকে টেনে অফিসের ব্যালকনিতে নিয়ে গেলেন। কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বললেন- বাবা অসুস্থ এখনই বাড়ি যেতে হবে। সদ্য পাওয়া বেতনের তিন হাজার টাকাই তুলে দিলাম। এ পর্যন্ত একশবারের অধিক চেয়েছি। ফেসবুকের ইনবক্স ভর্তি অনুনয়-বিনয়। মন গলেনি। তেরো বছর পার হয়েছে। ফেরত দেয়নি। আমি ভুলিনি। আড্ডা মারি এখনও, গল্প হয়। একেকদিনে আড্ডার বিল দেয় সাত/আটশ টাকা।

এক বড় ভাই বছর দুই আগে বিপদে পড়েছিলেন। ৫০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিলাম বিনাবাক্যে। এরপর বেশ কয়েকবার ফেরত চেয়েছি, দেয়নি। কিছুক্ষণ আগে স্ট্যাটাসে দেখলাম-ইন্ডিয়াতে গেছেন। ইনবক্সে নক করলাম, বললো ঈদের শপিং করবেন। দিন তিনেক পর ফিরবেন।

কিছু বলিনি। নিজেকে বোকা বোকা লাগছে।

ইউনিভার্সিটির একটা ছেলে মায়ের অসুখ, ঘরে খাবার পর্যন্ত নেই। কাতরভাবে ইনবক্স করলো। খবর নিয়ে নিশ্চিত হলাম, আসলেই মায়ের অসুখ। ছয় হাজার টাকা দিলাম। বললো ভাইয়া ফেরত দিব। ৭/৮ মাস। রংবেরঙের ছবি দেখি ফেবুতে। টাকাটা দেয়না।

মধ্যবিত্ত শ্রেণিটা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অর্থে নয় চরিত্রে। স্রোতের সঙ্গে গা ভাসানোর আয়োজন। দশ টাকা থাকলে দশ হাজারের ফুটানি। ভাসাভি, ইল্লিইনের সামনে সিরিয়াল। বসুন্ধরা, যমুনায় জায়গা নেই। নিউমার্কেটে পা ফেলতে পারবেন না। মানুষ ছুটছে ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর।

হলফ করে বলতে পারি এই পিৎজা প্রজন্মের অনেকের পকেটে পরের দিনের খাবারের টাকা নেই। অনেকে লাখ টাকা বিলাসিতায় খরচ করছে। অথচ পরের মাসের বেতন নির্ভর। চাকরি বা উপার্জন না থাকলে হাত পাততে হয়। বড় চিকিৎসার দরকার হলে বন্ধু-পরিচিতজনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে। অথচ এখন রাজকীয় জীবন, একটু সঞ্চয় নেই। একটু খবর নিয়ে দেখেন, যারা নিজেদের ঢোল পিটাচ্ছে- ঐশ্বর্যের জয় গান গাচ্ছে, ভিতরটা পুরাই ফাঁপা।

শুক্রবার বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার করলাম কাঁটাবন মোড়ে। বাইকটা ফুটপাতের উপরে ঢাল ঘেষে রেখেছিলাম। যাতে মানুষের চলাচলে অসুবিধা না হয়। অফিসে ফিরতে হবে। ইফতার শেষে তাড়াহুড়া করে বাইক নামাতে গেলে স্লিপ কাটে। পড়ে যাই। আমার বাইক ঘেষেই দুটি কাপল দাঁড়ানো। আশেপাশেও কয়েকজন সিগারেট ফুঁকছে। পোশাক-আশাকে কেতাদুরস্ত। একটা মানুষ এগিয়ে এলোনা। উপর-নীচ বলে তুলতে কষ্ট হচ্ছিল। ভেবেছিলাম কেউ না কেউ দৌঁড়ে আসবে। নাহ, আমার ধারণা ভুল ছিল। বেশ কয়েকবার অনেকেই তাকিয়েছে।

খুব কষ্ট হচ্ছিল। এখনও ভুলতে পারিনি। অসহায় লাগছিল খুব।
এই আমাদের জেনারেশন। এটাই আমাদের মধ্যবিত্তের রূপ। সব বদলে গেছে। ভিতরে ফাঁপা, বাইরে ঝকঝকে। অথচ কিচ্ছু নেই। একটু বাতাসেই হালকা প্রলেপ খসে পড়বে।

‌ তাইতো আমি বলি ব্যয় না বাড়িয়ে আয় বাড়ান
আর আয় বাড়াতে উদ্যোক্তা হন

01/11/2022
What's up everybody
08/03/2022

What's up everybody

What's up everybody....
23/12/2021

What's up everybody....

01/12/2021

2k21 year slowly in our life

Address

কালিয়াকৈর বাজার, গাজীপুর
Gazipur
1750

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ansari Physiotherapy and Rehabilitation Care posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram