15/12/2025
ইসলামে জাদু একটি বাস্তব ও কঠিন ফিতনা। কোরআন ও সহীহ হাদিস থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে জাদু দ্বারা মানুষের দেহ, মন, সম্পর্ক ও ইবাদতে ক্ষতি হতে পারে। তবে কোরআন ও হাদিসে নির্দিষ্টভাবে “মাসিকের রক্ত দিয়ে করা জাদু” নামে আলাদা কোনো অধ্যায় নেই। এটি মূলত জাদুর একটি নিকৃষ্ট পদ্ধতি হিসেবে অভিজ্ঞতা ও বাস্তব ঘটনার আলোকে আলেমরা উল্লেখ করে থাকেন। নিচে কোরআন হাদিসের মূলনীতি ও রুকইয়াহ অভিজ্ঞতার আলোকে এর লক্ষণগুলো মানুষ যেমনভাবে বর্ণনা করে সেভাবেই তুলে ধরা হলো।
এ ধরনের জাদুতে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রথম লক্ষণ হিসেবে ইবাদতে অস্বাভাবিক ঘৃণা দেখা যায়। নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, যিকির বা দোয়া করতে গেলে হঠাৎ বুক ভারী হয়ে আসে, বিরক্তি লাগে বা মন সরে যায়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, শয়তান মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চায়। এই দূরত্ব হঠাৎ এবং অকারণ হলে তা জাদুর প্রভাব হতে পারে।
মানসিক অবস্থার দিক থেকে গভীর অস্থিরতা, অকারণ রাগ, কান্না, বিষণ্নতা ও ঘৃণার অনুভূতি দেখা যায়। বিশেষ করে স্বামী স্ত্রীর ক্ষেত্রে একে অপরকে ভালো লাগা বন্ধ হয়ে যাওয়া, কাছে গেলে অস্বস্তি হওয়া বা ঘৃণা অনুভব করা খুব সাধারণ লক্ষণ। কোরআনে সূরা বাকারায় বলা হয়েছে, জাদুর মাধ্যমে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো হয়।
শারীরিকভাবে অনেক সময় তলপেট, জরায়ু, কোমর বা গোপনাঙ্গে ব্যথা অনুভূত হয়, অথচ ডাক্তারি পরীক্ষায় স্পষ্ট কারণ ধরা পড়ে না। মাসিকের সময় অস্বাভাবিক ব্যথা, রক্তক্ষরণ বা অনিয়ম দেখা দিতে পারে। কিছু নারীর ক্ষেত্রে মাসিক চলাকালে প্রচণ্ড মানসিক অস্থিরতা বা ভয় বেড়ে যায়।
ঘুমের মধ্যে অস্বাভাবিক স্বপ্ন এ ধরনের জাদুর আরেকটি লক্ষণ। বারবার রক্ত, নোংরা পানি, সাপ, কুকুর, অন্ধকার জায়গা বা অচেনা নারীর স্বপ্ন দেখা যায়। অনেক সময় ঘুম ভেঙে বুক ধড়ফড় করা, শরীর ভারী লাগা বা কথা বলতে না পারার অভিজ্ঞতাও হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের শিখিয়েছেন যে খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে হয়।
রুকইয়াহ বা কোরআন পড়লে শরীরে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যেমন মাথা ঘোরা, বমি ভাব, তলপেটে ব্যথা, কান্না, রাগ বা অজ্ঞান হয়ে পড়ার মতো অবস্থা। কোরআন পড়া বন্ধ করলে কিছুটা স্বস্তি আসে আবার শুরু করলে কষ্ট বাড়ে। এটি জাদুর উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে রুকইয়াহকারীরা উল্লেখ করেন।
ব্যক্তিত্বের পরিবর্তনও একটি লক্ষণ। যে মানুষটি আগে শান্ত ছিল সে হঠাৎ সন্দেহপ্রবণ, নোংরা চিন্তায় আক্রান্ত বা আত্মসম্মানহীন আচরণ করতে শুরু করে। নিজের শরীর ও পবিত্রতা বিষয়ে অস্বাভাবিক উদাসীনতা দেখা দিতে পারে, যা স্বাভাবিক চরিত্রের সঙ্গে যায় না।
এগুলো মনে রাখা জরুরি যে প্রতিটি সমস্যা জাদু নয়। ইসলাম আমাদের প্রথমে বৈধ চিকিৎসা ও আত্মসমালোচনার নির্দেশ দেয়। তবে যখন সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়, ইবাদত থেকে দূরত্ব বাড়ে এবং কোরআন পাঠে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তখন কোরআন সুন্নাহভিত্তিক রুকইয়াহ গ্রহণ করা সুন্নত ও বৈধ পথ।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি কোরআন নাজিল করেছি যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত। তাই জাদু থেকে বাঁচার মূল উপায় হলো তাওহীদ শক্ত করা, নিয়মিত নামাজ, সকাল সন্ধ্যার যিকির, সূরা বাকারা তিলাওয়াত এবং শরিয়াহসম্মত রুকইয়াহ।
মারকাজ রোড ব্রীজ সংলগ্ন ঢালে, পূর্ব পাশে
মেইনরোড সংলগ্ন ৩ তলা বিল্ডিং এর ২য় তলায়।
যোগাযোগঃ 01780-609746